বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
:- কিছু গোলাপ ফুল হাতে
নিয়ে কলেজের সামনে
দাঁড়িয়ে অাছি, মায়া
কে প্রপোজ করার জন্য।
মায়া যাকে অামি তিন
মাস অাগে, এই একই
জায়গায় দাঁড়িয়ে
প্রপোজ করছিলাম,তখন
প্রপোজ করছিলাম মায়া
কে সবার সামনে
অপমান করার জন্য।
অপমান করার একটা
কারন ছিলো, মায়া
দেখতে একটু কালো
ছিলো,কালো হলেও, তার
নাম যেমন মায়া,
তেমনি তার চেহারায়
একটা মায়াবী ভাব
অাছে। কিন্তু মায়ার
সেই মায়াবী চেহারা
অামার চোখে কোন
দিনও পড়ে নাই, কারন
অামি ভালোবাসতাম
কলেজের সবচেয়ে সুন্দর
মেয়ে রিপা কে। রিপার
সাথে অামার সম্পর্ক
তিন বছরের।
--
:- একদিন অামার এক
বন্ধুর কাছে শুনলাম,
মায়া নাকি অামাকে
ভালোবাসে, অার এটা
নিয়ে অামার বন্ধুরা
সব সময় অামাকে নিয়ে
হাসাহাসি করতো। তাই
একদিন মায়া কে
অামার বন্ধুদের সামনে
অপমান করার কথা
ভাবলাম, যেমন ভাবা
তেমনি কাজ, পরের দিন
কলেজের সামনে কিছু
ফুল মায়া কে দিয়ে
বললাম, মায়া অামি
তোমাকে ভালোবাসি,
তখন মায়া মুচকি হেসে
বললো, অামিও তোমাকে
ভালোবাসি, তখনই
অামার বন্ধুরা সবাই
হেসে উঠলো। অামিও
হাসতে লাগলাম,
মায়ার অার বুঝতে
বাকি ছিলো না,, অামি
মজা করলাম তার সাথে,
অামি মায়া কে বলে
উঠলাম, তোমার মতো
কালো মেয়ে কে অামি
ভালোবাসবো, তুমি কি
করে ভাবলা, তুমি জানো
অামি কাকে
ভালোবাসি, অামি
ভালোবাসি রিপা কে,
সবার সামনে অনেক
অপমান করলাম। তখন
মায়ার চোখ দিয়ে
অঝোরে অশ্রু ঝরছিলো,
মায়া দাঁড়িয়ে কাঁদতে
লাগলো, মায়া কে
কাঁদতে দেখে অামি খুব
মজা পাইছিলাম, এর
পরে থেকে মায়া ২০
দিন কলেজে অাসে নাই,
তখন অামার নিজের
কাছে খারাপ
লাগছিলো, সবার
সামনে মায়া কে
অপমান করাটা ঠিক হয়
নাই অামার।তারপরেও
অামি মায়া কে সরি
বলা উচিত মনে করি
নাই ??
--
:- এই ঘটনার কিছু দিন
পরে অামি বাইক
এক্সিডেন্ট করি,
অামার পা এর হাড়
ভেঙ্গে যায়,ডাক্তার
বলছিলো এক মাসে
ভালো হয়ে যাবে, কিন্তু
অামি দেখতে চাইলাম
অামাকে কে কতো টা
ভালোবাসে। তাই
দুষ্টমি করে বললাম,
অামার পা অার কোন
দিন ভালো হবে
না,অামার এই অবস্থার
কথা শুনে, কলেজের সব
বন্ধুরা দেখতে অাসলো
অামাকে, অামি দেখতে
পেলাম সবার সাথে
মায়া ও এসেছে, অামি
অারো দেখতে পেলাম,
মায়ার চোখ দিয়ে
অাজও অঝোর অশ্রু ঝরছে।
মায়া কাঁদছে অামার
এই অবস্থা দেখে,
অাচ্ছা মায়া কাঁদছে
কেন মায়া কে তো খুশি
হবার কথা, যে ছেলে
তাকে অনেক কষ্ট দিছে,
তার ভালোবাসার কোন
দাম দেয় নাই, তাকে
সবার সামনে অপমান
করছে, সেই ছেলের জন্য
মায়া কাঁদছে কেন,
এটাকে কি ভালোবাসা
বলে?
--
:- অার অামি যাকে
জীবনের চেয়ে বেশি
ভালোবাসতাম, সেই
রিপা অামার
এক্সিডেন্ট এর কথা
শুনে অামাকে দেখতে
অাসে নাই, পরে অামি
রিপাকে ফোন করি, তখন
রিপা অামাকে বললো,
অামার সাথে অার
সম্পর্ক রাখতে পারবে
না, একজন পঙ্গুর সাথে
কোন সম্পর্ক রাখা তার
পক্ষে সম্ভব না। তিন
বছরের ভালোবাসা,
তিন মিনিটে শেষ করে
দেয়, তখন অামি বুঝতে
পারি মন ভাঙ্গার কষ্ট
কতোটা। তখন শুধু মায়ার
সেই কাঁন্নামাখা মুখটি
চোখের সামনে ভেসে
উঠছিলো,তখন বুঝতে
পারি অামাকে সত্যি
ভালোবাসে মায়া,
রিপা অামাকে কোন
দিনও ভালোবাসে নাই,,
তারপরেও প্রতিদিন
রিপার অাসায়
থাকতাম, অামি মনে
করতাম রিপা হয়তো
দুষ্টমি করে বলছে
অামার সাথে সম্পর্ক
রাখতে পারবে না।
রিপা অাসবে অামাকে
দেখতে, কিন্তু রিপা
অাসে নাই,, তবে মায়া
প্রতিদিন কলেজে
যাবার সময় অামাকে
দেখে যেতো, অামার
বন্ধুদের কাছে অামার
খবর নিতো, তখনই অামি
ঠিক করলাম, মায়া কে
অামি বিয়ে করবো,
হাসপাতাল থেকে
সম্পুন্য ভালো হয়ে
মায়া কে প্রপোজ
করবো ??
--
:- অাজ অামি সম্পুন্য
ভালো হয়ে, হাতে কিছু
গোলাপ ফুল নিয়ে, সেই
কলেজের সামনে, সেই
অামার সব বন্ধুদের
সামনে মায়া কে
প্রপোজ করার জন্য
দাঁড়িয়ে, এখন মায়ার
সাথে মজা করার জন্য
না, মায়া কে অপমান
করার জন্য না। মায়া
কে অামার জীবন
সঙ্গিনী করার জন্য
প্রপোজ করবো ???
--
:- মায়া অাসছে অাজকে
মায়াকে রিপার চেয়ে
বেশি সুন্দর লাগছে,
মায়া যতো কাছে
অাসছে ততো অামার ভয়
বাড়ছে। শুধু একটাই ভয়,
মায়া কে অামি অনেক
কষ্ট দিলাম, মায়ার
ভালোবাসার কোন দাম
দিলাম না, মায়া কে
সবার সামনে অপমান
করলাম, সেই মায়া কি
অাজকে অামার প্রপোজে
রাজি হবে ???
:- এই গল্পের শেষ অামি
দিলাম না, এই গল্পের
শেষ অাপনাদের হাতে
দিলাম, এই গল্পের শেষ
দুই রকম হতে পারে ,
১ - মায়া অামার
প্রপোজে রাজি হয়ে,
অামার জীবন সঙ্গিনী
হতে রাজি হয়ে যায়?
২ - মায়া অামার
প্রপোজে রাজি না হয়ে,
সবার সামনে অামাকে
অপমান করে, মায়া তার
অপমানের প্রতিশোধ
নেয়??
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now