বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কালো রাজকুমারী-০৪ (শেষ)

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৪। এদিকে রঙপুরের অবস্থা ভয়াবহ। অমঙ্গলের ভয়ে কালো রঙপুরের লোকজন কালো রাজকুমারীকে দেশ ছাড়া করেছিলো, কিন্তু তারপরেই রঙপুরের সর্বনাশ শুরু হলো। দেশে দুর্ভিক্ষ শুরু হল, মহামারী শুরু হল, শেষমেশ এক দৈত্য এসে রাজ্য দখল করে নিলো। রাজাকে আর রানীকে বানালো তার সেবক। রাজ্য জুড়ে চরম অরাজকতা শুরু হলো। রঙপুরের সব রঙ বিবর্ণ হয়ে গেলো কয়েকদিনেই। এদিকে রানী রাজকুমারীর জন্যে কাদতে কাদতে অন্ধ হয়ে গেছেন। রাজাও হয়েছেন বৃদ্ধ। ফলে রাক্ষসের সেবা যত্নে ত্রুটি হতে লাগলো। রাক্ষস ক্ষেপে গিয়ে তাদেরকে মেরে ফেলার হুকুম দিলো। কিন্তু বহু কষ্টে তারা পালিয়ে গেলেন। এই দেশ সেই দেশ ঘুরে ঘুরে এসে উপস্থিত হলেন রূপনগরে। অন্যান্য দেশ ভিক্ষা করেই খেতেন। কিন্তু এই দেশে ভিক্ষা করতে যেতেই কোটাল এসে তাকে ধরে নিয়ে গেলো। কারণ এই রাজ্যে এখন ভিক্ষা করা নিষিদ্ধ। সবাইকে কাজ করতে হবে। অবশ্য কনকলতার সুশাসনে দেশে অভাব আর নাই। তবুও আইন হলো আইন। আসামীর চেহারা দেখে অবাক হলো কনকলতা। বেশ সম্ভ্রান্তই মনে হয়। ভিক্ষাতো করার কথা না। সে সব খুলে বলার আদেশ দিলো। রঙপুরের রাজা সব খুলে বললেন। সব শুনে কনকলতা বৃদ্ধ আর বৃদ্ধের স্ত্রীকে তখুনি খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বললো। পালকি পাঠিয়ে বৃদ্ধের স্ত্রীকে নিয়ে এলো। নিজে খাবার বেড়ে দিতে গেলো। কিন্তু রাণীর গলায় একটা লকেট দেখেই চমকে উঠলো। এরকম একটা লকেট তার গলাতেও যে আছে। এরা কি তবে তার নিজের বাবা মা? কিন্তু তাদের কাছে তো কনকলতা মৃত। সে দৌড়ে গেলো হীরামনের কাছে। হীরামন এসে রঙপুরের রাজাকে সব খুলে বললো। কনকলতার গলার লকেট ও দেখালো। সবশুনে রঙপুরের রাজার দুচোখে অশ্রুর বান নামলো। কনকলতাও মায়ের বুকে ঝাপিয়ে পড়ে কাদতে লাগলো আর বলতে লাগলো, ‘মা মাগো আমিই তোমার হারিয়ে যাওয়া মেয়ে। আমাকে কেউ মারেনি। মা তোমার চোখের মনি ফিরে এসেছে। আবার চোখে দেখতে পাবে তুমি।’ বলে মায়ের চোখে চুমু দিলো। ব্যস, চোখের মনি ফিরে পেয়ে রাণীর চোখ আবার ভালো হয়ে গেলো। রঙপুরের রাজা নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে কনকলতার কাছে মাফ চাইতে লাগলেন বারবার। কনকলতা বাবাকে জড়িয়ে ধরে আরেক দফা কাদলো। বেয়াইকে পেয়ে রূপনগরের রাজাও খুব খুশি হলেন। তার রাজত্ব উদ্ধারে সব সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিলেন। পরদিনই বাহিনী রওনা হয়ে গেলো রঙপুরের দিকে। কিন্তু দৈত্যের কাছে মার খেয়ে ফিরে এলো সবাই। যেভাবেই মারা হোক দৈত্যের গায়ে আঁচড়টিও লাগে না। কি সর্বনাশ! এখন কি হবে? হীরামন টিয়া খবর নিয়ে এলো দৈত্যের প্রাণ আসলে এক কেউটে সাপের ভিতরে রাখা আছে। রাজবাড়ির তালপুকুরের মাঝখানে তার বাস। নিঃশ্বাস বন্ধ করে পুকুরের তলে পৌছে এক কোপে তার কল্লা কাটতে পারলে তবেই সে মরবে। কে করবে এই দুঃসাহসিক কাজ। কনকলতা যেতে চাইলো কিন্তু তার বাবা মা কিছুতেই যেতে দিবে না। এতোদিন পর মেয়েকে ফিরে পেয়েছেন। আর হারাতে চাননা। দরকার নেই রাজ্যের। কিন্তু তখনই এগিয়ে এলো রাজপুত্র অরুণকুমার। সে যাবে। দৈত্যকে মেরে উদ্ধার করবে রঙপুর। সবাই বুঝালো। কিন্তু রাজপুত্র অনড়। আগে সে পাথর ছিলো, তাই কিছু করেনি, কিন্তু এখন সে সম্পুর্ন সক্ষম। তাই সে যাবেই। কিন্তু যাবে কিভাবে? দৈত্যের ঘ্রাণ শক্তি প্রবল। রাজবাড়ির আশে পাশে তার ভৃত্য বাদে নতুন মানুষ যাওয়াই মুশকিল। হীরামন টিয়া বুদ্ধি দিলো। দৈত্য প্রতিদিন প্রায় ২০ টা ছাগল খায়। ১০ টা সকালে ১০ টা বিকালে। বাকি সময় ঘুমায়। ছাগলের চামড়া পরে ঢুকলে সহজে টের পাবে না দৈত্য। যেই কথা সেই কাজ। রাজপুত্র ছাগল সেজে বাকি ছাগল গুলোর সাথে ঢুকে গেলো রাজপ্রাসাদে। ঘুম ভাঙ্গতেই হাউ মাউ করতে করতে দৈত্য ছুটে এলো খাওয়া দাওয়া করতে। ছাগলের খাচার কাছে আসতেই আজ কেমন অন্য কেমন গন্ধ পেলো যেনো। নাক টেনে নিঃশ্বাস নিলো কয়েকবার। কিন্তু খিদেটা চাগিয়ে ওঠায় আপাততো সে সন্দেহ বাদ দিয়ে খেতে বসলো। এদিকে রাজপুত্র কিন্তু অন্য ছাগলগুলো বের করার সময়েই চুপ করে বেরিয়ে গেছে। দৈত্য খেতে বসতেই ছদ্মবেশ ফেলে সে ছুটে গেলো পুকুরের দিকে। তারপর তরবারী বাগিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো পুকুরে। এদিকে পানিতে শব্দ শুনে দৈত্যও খাওয়া ফেলে ছুটে এলো। রাজপুত্রকে ধরার জন্য সে ও ঝাপ দিলো পানিতে। শুরু হলো লড়াই। রাজপুত্র যতই আঘাত করে দৈত্যের কিছুই হয় না, কিন্তু রাজপুত্রের দম তো ফুরিয়ে আসছে। শেষে চালাকি করে রাজপুত্র বললো, ‘ওরে বোকা দৈত্য এতো শক্তি থাকেতো আমাকে পুকুরের তলায় ছুড়ে মার দেখি।’ দৈত্য খেপে গিয়ে তা ই করলো। ফলে রাজপুত্র সোজা পৌছে গেলো পুকুরের তলায়। গিয়ে দেখে এক বিশাল ঝিনুকের মাঝে এক কেউটে ফনা তুলে আছে। কাছে যেতেই ছোবল মারলো। কিন্তু রাজপুত্র সরে গিয়ে বসিয়ে দিলো কোপ। ব্যস কেউটের খেল খতম সেই সাথে দৈত্যের ও। শান্তি ফিরে এলো রঙপুরে। এবার প্রজারা তাদের কালো রাজকুমারীকে সাদরে বরণ করে নিলো। কনকলতার জন্মের সময়ে যে উৎসব হওয়ার কথা ছিলো, তা শুরু হলো এখন। বিবর্ণ রাজ্য আবার রঙ্গিন হয়ে উঠলো। উৎসব শেষে অরুনকুমার আর কনকলতা আবার ফিরে এলো রূপনগরে। অতঃপর তারা সুখে শান্তিতে বাস করতে লাগলো। ‘আমার কথাটি ফুরোলো নটে গাছটি মুড়োলো।।’ (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কালো রাজকুমারী-০৪ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now