বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
কালো জাদু
"অদ্ভুতুড়ে" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)
X
লেখক: ভৌতিক হৃদয় [MH2]
বাস ছাড়ল সকাল ১০ টায়।চলন্ত বাসে বসে এতোক্ষণে একটু স্বস্তি আর শান্তি পাচ্ছি।এতোক্ষণ ধরে বাস এক জায়গায় দাড়িয়ে ছিল,তাই প্রচুর গরম লাগছিল।স্থির বাসে বসে থাকাও খুব বিরক্তিকর বিষয়।এখন বাস ছাড়ার পর বাসের জানালা খোলে দিলাম, বাতাস আসছে জানালা দিয়ে,সেই বাতাস দিয়ে নিজের শরীর ঠান্ডা করতে লাগলাম।
আমি এস এস সি পরীক্ষা দিয়েছি, এক সপ্তাহ আগে পরীক্ষা শেষ হয়েছে।বন্ধু রফিক কয়েকদিন আগে বলল,"এবার চল আল্লাহর রাস্তায় বেড়িয়ে পড়া যাক।" আমি বললাম, "বাড়িতে থেকে আমল করলেও তো চলবে, তাহলে অযথা অতো দূরে গিয়ে আমল করার কী দরকার???"তবুও বন্ধু যুক্তি, উপকার ইত্যাদি সব বলতে লাগল আমায়।আরও বলল আলসেমি ছেড়ে রওনা হতে।তাই ভাবলাম ছুটির সময়টাকে আল্লাহর কাজে ব্যায় করব,তাই চিল্লা দেওয়ার জন্য রওনা হয়েছি।আমার এবং আমার আশেপাশের কয়েক গ্রামের চেনা অচেনা কয়েকজন সঙ্গী আছেন আমাদের সঙ্গে।বেশ কয়েকজন ছেলেও আছে যারা আমার সমবয়সী। আমাদের মসজিদের হুজুর সাহেবও আমাদের সাথে রওনা দিয়েছেন, প্রত্যেকেই পাঞ্জাবী আর পায়জামা পড়ে আছে।তবে প্রচন্ড গরমে অনেকেই ঘেমে ভিজে গেছে, আমিও ঘেমে ভিজে গেছি।আসলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ফজরের নামাজের পর নাস্তা খেয়েই সবাই রওনা দিব ৮ টার দিকে,কিন্তু বাঙ্গালি মানুষেরা সময়ের দিকে খেয়াল রাখে না,ফলে দেরী হয়ে গেল।
দীর্ঘ সফর শেষে আমাদের প্রথম মসজিদটাতে আসলাম। মসজিদটা সম্পূর্ণ জঙ্গলে ঘেড়া,আশেপাশে ১০/১২ টা বাড়ির বেশি কোনো বাড়ি নাই। আশেপাশে অন্যান্য গ্রামও আরও দূরে।চারিদিক সবুজে ঘেরা এই গ্রামটা,প্রচুর বাতাসও আসে।মসজিদের পাশে বাঁশবাগান। যতোই নির্জন হোক না কেন মসজিদটা অনেক সুন্দর।মসজিদে আমাদের জিনিসপত্র রাখলাম। সেদিন থেকে শুরু হলো আল্লাহর পথে কাজ করা আর দিনরাত আমল করা।এরই মাঝে বেশ কয়েকজনের সাথে পরিচিতও হয়ে গেছি। সবাই খুব মিশুক।তবে একটা ছেলে,আমার সমবয়সী,লক্ষ্য করলাম খুব গম্ভীর ও।খুব কম কথা বলে, কারও সাথে তেমন একটা মিশেও না।
এক সপ্তাহ চলে গেল, আমরা নির্দিষ্ট সময় পর পর মসজিদ বদলাতে লাগলাম।একের পর এক মসজিদ বদলালাচ্ছি,কিন্তু আলতাফের আচরণ বদলায় নি।এক সপ্তাহ যাওয়ার পরও যখন ছেলেটার সাথে ভাব করা হলো না,তখন একদিন কথা বলার নিমিত্তে ছেলেটার কাছে গেলাম।
আমি : তোমার নাম কী???
ছেলে : আলতাফ।
শুধুমাত্র তার নিজের নামটাই বলল, আমার নামটাও জানতে চাইল না। ওর কথা বলার ধরণে মনে হচ্ছে ও কথা বলতে চাচ্ছে না, কিন্তু আমি মনে মনে সংকল্প করেই নিয়েছি তার সাথে কথা বলব।তাই কথা বলতে লাগলাম।
আমি : আমার নাম জিজ্ঞেস করবে না???
আলতাফ : তোমার নাম কী???
আমি : আমার নাম রাহিন।
আলতাফ : ওহ।
কিছুটা অবাক এবং হতাসও হলাম, কারণ গত একসপ্তাহে সবাই সবার নাম পরিচয় সব জেনে গেছে, কিন্তু আলতাফ এতোটাই উদাসীন যে আমার নামও জানে না।এ ছেলে মনে হয় বেশি কথা বলার ছেলে নয়।তবুও ওইদিন কিছুক্ষণ কথা বললাম, তারপর চলে আসলাম।কারণ আমি যা জিজ্ঞেস করি শুধু সেই প্রশ্নটারই উত্তর শুধু দেয়।এর বাইরে একটা কথাও বলে না,ধীরে ধীরে আমার প্রশ্নের সম্ভার শেষ গেল, যার জন্য প্রস্থান করলাম।
এর পর দুইদিন চলে গেছে, আলতাফের সাথে টুকিটাকি কথা হয়েছে। তবে আলতাফের সাথে যতোই কথা বলি মনে হয় ছেলেটা কোনো একটা কারণে মন মরা হয়ে আছে, বা এমন কিছু একটা ও মনে লুকিয়ে রেখেছে যার জন্য ও এমন কষ্ট পাচ্ছে।তাই সময়মতো ওকে একদিন জিজ্ঞেস করলাম,,,
আমি : আলতাফ,তুমি এমন চুপচাপ থাক কেন??? তুমি কি ছোট বেলা থেকেই এমন???
আলতাফ : ছোট বেলা থেকে এমন না। আর আমার সাথে কিছু ঘটনা হয়েছে যার জন্য আমি চুপচাপ হয়ে গেছি।
আমি ভাবলাম হয়তো পারিবারিক কোনো ঝামেলা হয়েছে,যার জন্য এমন গম্ভীর হয়ে গেছে ও। জানার প্রচুর কৌতুহল হলো আমার। কৌতুহল দমন না করতে পেরে জিজ্ঞেস করলাম,,,
আমি : আলতাফ,তোমার সাথে কী হয়েছিল???বলা যাবে কি???
সে একটু সময় আমার দিকে চুপ করে তাকিয়ে রইল।তার চোখের নিচে কালি পড়েছে, মনে হচ্ছে রাতে ঘুমায় না বেশ কয়েকদিন ধরে।আমি ওকে দেখে বারবার ওর মাঝে কিছু না কিছু নতুনত্ব খুঁজে পাই।জোরে নিশ্বাস নিয়ে আলতাফ আমাকে তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা বলতে শুরু করল।আমিও নিরব এবং আগ্রহী শ্রোতার মতো তার সবটা ঘটনা শুনতে আরম্ভ করলাম।আলতাফ বলে চলল,,,
"ছয় মাস আগে আমার বাবা মা মারা গেছে,ওনারা মারা যাওয়ার কারণ খুঁজে পাই নি।তবে ওনারা মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে থেকে কিছু অদ্ভূত কান্ড ঘটত আমাদের ঘরে, যেমন দরজার বাইরে কেউ নাম ধরে ডাকত, আর আমাদের ঘরের চালে কেউ ঢিল ছুড়ত। এইসবের কোনো কারণ খুঁজে পেতাম না। বাবা মা মারা যাওয়ার পর, আমার চাচা আমাদের বাড়ি ঘর হাতানোর চক্রান্ত শুরু করে।প্রতিদিনই আমাকে বাড়ি ঘর বিক্রি করে দিতে বলত,কিন্তু আমি না করায় আমার প্রতি রাগ দেখিয়ে চলে যেত।
অন্যদিকে প্রতিরাতে টিনের চালে ঢিল পড়ার শব্দ বেড়ে যেতে লাগল।আর রাতে ডাকাডাকি করাটাও বেড়ে গেল।একদিন রাতে শুনলাম আমার মা বাবা আমাকে বাইরে থেকে ডাকছেন, দরজা খোলতে বলছেন।আমি ঘুমের ঘোরে দরজার কাছে গিয়ে দরজা প্রায় খোলে ফেলেছি এমন মূহূর্তে মনে পড়ল আমার মা বাবা বেঁচে নেই, তাহলে কে আমায় ডাকছে।প্রচন্ড ভয় গ্রাস করল তখন আমাকে।আমি আর দরজা খোলি নি। আমি মাদ্রাসায় পড়া লেখা করতাম, পরেরদিন সকালে মাদ্রাসায় গিয়ে আমার মাদ্রাসার হুজুরকে সবটা ঘটনা খোলে বললাম,হুজুর আমার সঙ্গে আমার বাড়িতে আসলেন,বাড়ির চারপাশ দেখলেন,এবং ঘরের ভিতর ঢুকেই জোরে বললেন,,,
হুজুর : সর্বনাশ,তোমাদের তো কালো জাদু করা হয়েছে। তোমাদের মেরে ফেলাই হলো এই জাদুর উদ্দেশ্য, কয়েকটা জ্বীনও চালান করা হয়েছে,এইসব জ্বীন রক্ত পান করে।
আমি : আমার বাবা মা ও কি তাহলে এই জাদুর জন্যই মারা গেছে???
হুজুর : হ্যা,ওনারা এই কালোজাদুর কারণে মরেছে।এখন এই জাদুর শেষ লক্ষ্য হলে তুমি।
আমি অনেক ভয় পেয়ে গেলাম, হুজুরকে বললাম,,,
আমি : হুজুর এর কোনো প্রতিকার করা যায় না???
হুজুর : দেখ আলতাফ,এর একটা প্রতিকার হলো তাবিজগুলো বের করে ফেলে দেওয়া।আর কুরআন পড়ে ঘরকে পাক করা।
তারপর আমি আর হুজুর অযু করে ঘরের বিভিন্ন জায়গা খুঁজতে লাগলাম। এক এক করে বের হয়ে আসল পঁচিশটা তাবিজ।তারপর সেসকল তাবিজ হুজুর নিয়ে গিয়ে নষ্ট করে দিলেন।তারপর একটানা কুরআন মজিদ পড়তে লাগলাম ঘরে। সেদিন রাতে আর কোনো সমস্যা হয় নি আমার সাথে।
কিন্তু পরের রাত হতে আবার সমস্যা শুরু হলো।তবে এবার আর ঢিল পড়ত না।এবার শুধু আমাকে আমার বাবা মা ডাকত। হুজুরকে এই সমস্যার কথা বললাম।হুজুর আমাকে বলল,ওইসব ডাকে সাড়া না দিতে। আর আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা দিতে। তার জন্য চিল্লায় বের হয়েছি। এবারের চিল্লা হলো আমার দ্বিতীয় চিল্লা।"
এটুকু বলার মাঝে আলাতাফের চোখে পানি আর এক অজানা ভয় দেখতে পারলাম।আমারও খুব খারাপ লাগল আলাতাফের জীবন কাহিণী শুনে।ওর কথা বলার মাঝে এমন একটা কিছু আছে,যা তার কথার সত্যতা প্রমাণ করে দেয়।এখনও কী সমস্যা হয় কিনা জানার জন্য বললাম,,,
আমি : আলতাফ কালু জাদু কে করেছিল??? আর সমস্যা কি এখনও হয়???
আলতাফ : আমার চাচা সম্পত্তি হাসিল করার জন্য কালু জাদু করেছিল।
আমি : বললে না তো,সমস্যা কি এখনও হয়???
আলতাফ : হ্যা সমস্যা এখনও হয়।প্রতিরাতে শুনতে পাই ওই ডাক।প্রত্যেকরাতেই শুনি,ভয় হয় কোনদিন জানি না সম্মোহিতের মতো দরজা খোলে বাইরে চলে যাই।
আলতাফের কথা শুনে আমার মনও খারাপ হয়ে গেল।আর ভয়ও পেলাম। আলতাফের প্রতি সমবেদনা মনে জেগে উঠল।সম্পদ হাসিল করার জন্য কালো জাদুর মতো ঘৃণ্য কাজও মানুষ করতে পারে,যা সত্যিই ঘৃণা পাওয়ার মতো একটা কাজ। তাকে সান্তনা দিয়ে সেদিন চলে আসলাম।
এরপর বেশ কয়েকদিন আলতাফের সাথে কথা হলো।এখন কিছুটা কথা বলে ও আমার সাথে।
একদিন সকালে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য যখন উঠলাম,টয়লেটের ধারে লোকজনের কোলাহল শুনতে পেলাম।কী হয়েছে দেখার জন্য সেখানে গেলাম।গিয়ে দেখি আলতাফ মাটিতে পড়ে আছে, পুরোটা শরীর ফ্যাকাশে। এক ফোঁটা রক্তও নেই, ওর সাথে কী হয়েছে সেটা আর কেউ না জানলেও আমি জানি।হয়তো রাতে ডাক শুনে সম্মোহিতের মতো দরজার বাইরে চলে এসেছিল,তাই আজ ওর পরিণতি এমন হলো। দুফোঁটা জল চোখ বেয়ে নেমে আসল।
কালোজাদুর কবলে পড়ে অকালে ঝরে গেল একটা তাজা প্রাণ।
[কেমন লাগল??? গল্পে ভুল নজরে আসলে বলবেন]
বি.দ্র.: অনেক সময় আর শ্রম ব্যায় করে গল্প লিখি।তাই দয়া করে কপি করবেন না।
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now