বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কালো বউ
????
..
বাসর রাতে বউকে তুই বলে ডেকেছিলাম। বলেছিলাম ,,,
..
--- আমিঃ তুই আমাকে আপনি করে ডাকবি। কাছে ঘেষার চেষ্টা করবিনা কখনো।
..
কারণ বউ ছিলো পুরাই কয়লার ড্রাম।
???? কুচকুচে কালো তার গায়ের রং। বাসর ঘরে ঢুকে বিছানায় তাকিয়ে দেখি যেনো ঠিক একটা কালো কুকুর বসে আছে লাল ঘোমটা দিয়ে। ঠোঁটে লাল লিপস্টিক, কপালে ঢ্যামা একটা টিপ। ওয়াক থু, কি বিচ্ছিরি সাজ। লাল কালোয় কি এক অগোছালো সাঁজ। বাতি বন্ধ করতেই বুঝলাম যেনো একটা আধার নিয়ে
শুয়ে আছি। নেহাৎ যৌনতার দায় সাড়া হয়েছিলো সে রাতে। তারপর বিছানা থেকে তুলে দিয়েছিলাম তাকে।
..
যৌতুক বিরোধী ছিলাম আমরা। তাই
বাবার বক্তব্য ছিলো বিনা যৌতুকে নিজের আত্মীয়ের কারো মেয়েকে পুত্রবধু করে আনবেন। তাই হলো। হাজারো অনিচ্ছা স্বত্তেও বাবার গরিব বন্ধুর কালো মেয়েকে বিয়ে করতে হলো আমায়। কলেজের সেলফি বয়ের এমন একট বউ জুটলো, যে জীবনে বউকে নিয়ে আর সেলফি তোলা যাবেনা। বন্ধুরা অনুরোধ করতো বউ নিয়ে বেড়াতে আসতে। কিন্তু আমি তাকে নিতামনা। লজ্জা আছেতো নাকি!
রাতে বাড়ি ফিরতাম দেরি করে। তখনো
সে জেগে থাকতো, খাবার বেড়ে দিতো। কথা বলতামনা আমি। কিভাবে বলি, বাইরে ডিস্কোতে সুন্দরী মেয়ে দেখে বাড়িতে কি অমন আলকাতরা
ভালোলাগে? ওর কি প্রয়োজন সেটা
কোনদিন জিজ্ঞেস করিনি। বাড়িতে সবার কাপড় কেনা হতো, খাবারতো আছেই।
আর কি চাই? এভাবেই কেটে গেলো কয়েকমাস।
..
সেদিন একবন্ধু তার গার্লফ্রেন্ডকে গিফট
দেয়ার জন্য কিছু কিনেছিলো। সেটা
আমাকেই পৌছে দিতে হবে। অনেক রাতে গিফট বক্স নিয়ে বাড়ি ফিরলাম
আমি। দেখলাম সে সোফায় ঘুমিয়ে
গেছে। ভাবলাম খেয়েছে তো? আমি না
আসা পর্যন্ত আবার ওকে খেতে দেখিনি
কোনদিন। শুয়ে পরলাম।কিন্তু মনটা বড় খচখচ করছে। ডেকে তুলে বললাম, খেয়ে তারপর শুবি। পরদিন সকালে গিফট বক্স খুঁজে দেখি ওটা আর আস্ত নেই। ও ওটা খুলে ভিতরে যা ছিলো ব্যবহার করা শুরু করে দিয়েছে। ওর খুশি মুখ দেখে কিছু বললামনা, বেচারী। কালো বলে কি সাজতে নেই? নিজেই হেসেছিলাম সেদিন। তারপর নতুন করে গিফট সাঁজিয়ে পৌছে দিলাম আমি।
তারপর একদিন ও বমি করলে বুঝলাম ও মা হতে চলেছে।
..
এক শীতের বিকেলে বাবা মা বেড়াতে
গেলেন গ্রামে। বাসায় রইলাম আমি আর
সে। সে রাতে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলাম। কারণ বাড়ি পুরো একা। গ্রাম্য মেয়ে। বলা যায়না ভূতের ভয়-টয় পায় নাকি। বাসায় ফিরে শুনলাম রান্না হয়নি। কারণ
জানতে চাইলে ও বললো ,,,
..
--- বউঃ ভেবেছিলাম আপনি বন্ধুদের সাথে খাবেন।
..
কিছুক্ষণ ওর দিকে চেয়ে থেকে তারপর ফ্রিজের দিকে গেলাম। অনেক খুধা লেগেছিলো। দুপুরের কিছু ভাত ছিলো। আমার হয়ে যাবে। তাই ফ্রিজ খুলে দেখলাম। সামান্যই ভাত। বললাম ,,,
..
--- আমিঃ চল কাপড় পড়ে নে। হোটেলে
খাবি।
..
ও যেতে চাইলোনা। আমিও রেখে যেতে
পারছিনা একা বাড়ি বলে। অবশেষে দুজনে বাহির হলাম। রাতের শহর ও যেনো হা হয়ে দেখছিলো। বললাম হাত
ধর, নাহলে ভীড়ে আবার হারিয়ে যাবি।
সেদিন প্রথম ও আমার সাথে বেড়িয়েছিলো, প্রথম আমার হাত ধরেছিলো। মন্দ না। আমিও ওর আঙ্গুল ধরেছিলাম যাতে ও হারিয়ে না যায়!! হোটেলে আমাকে আপনি করে
বলবিনা, তুমি করে বলবি। মাথা নাড়লো ও। কিন্তু হোটেলে খাবার সময় ও একবারো আমায় ডাকেনি। উল্টো আমিই
বলেছিলাম, তুমি আরো কিছু খাবে!!!
..
সেদিন দেখি স্নোর টিউব কেটে স্নো বাহির করছে। রেগে বললাম, স্নো ফুরিয়ে গেছে বলতে পারোনা? সেদিনই সে প্রথম আমার কাছে শ্যাম্পু চেয়েছিলো। আমি সেদিন ওকে নিয়ে মার্কেটে গেলাম কসমেটিকস কিনতে। বন্ধুরা অনেকেই দেখেছিলো সেদিন কিন্তু সবাই ভাবি বলে যথেষ্ঠ রেসপেক্ট করেছিলো। সবাই তিনদিন পর আড্ডাতে আসার জন্য অনুরোধ করছিলো ওকে। তিনদিন পর আমিই ওকে নিয়ে গিয়েছিলাম মোটর সাইকেলে। ওর জীবনের প্রথম লং-ড্রাইভ আর ড্রাইভার ছিলাম আমি। আর আমার বউকে নিয়ে প্রথম।
..
জীবনের প্রথম ওরজন্য আজ খোদার
দরবারে হাত তুলেছি আমি। ও যেনো সুস্থ
থাকে। কারণ আজ ও মা হবে। আমি বাবা হবো। জানিনা কোথা থেকে আজ এতো কান্না আসছিলো আমার। হাসপাতালে ওর কাছে বারবার ছুটে যাচ্ছিলাম। ও হাত ধরে যতবার বলেছিলো ওর খুব ভয় করছে, ততবারই বলেছি ভয় পেওনা আমি আছি। সেদিন ও কাউকে খুঁজেনি শুধু আমায় খুঁজেছে। আমায় পাশে থাকতে বলেছে বারবার।
আর আমি, পর্দার ফাকে বারবার
ওকে দেখলাম। সিজারে নেওয়া হয়েছিলো ওকে। সন্তান পেলাম। কিন্তু ওকে পেলামনা। ওর দেহটা ধরে সেদিন খুব কেঁদেছিলাম। মনে হচ্ছিলো খুব যেনো নিজের কলিজাটা ছিড়ে গেছে। আজও ওর কবরের পাশে ছুটে যাই। চিৎকার করে বলি ,,,
..
--- আমিঃ ফিরে এসো তুমি, একটা রাত
তোমার সাথে গল্প করা বাকি ছিলো, একটা সেলফি তোমায় নিয়ে তোলার ছিলো।
????
..
জানি ওকে ভালোবাসা দিতে পারিনি। কিন্তু আজ বুঝছি কেন এখনো বুকের বাম পাশটা চিনচিন করে ব্যাথা করে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now