বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাগজের তাজমহল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কাগজের তাজমহল ~ Shuvro Chowdhury ১. রাকিবের কাজে যেতে হয় নয়টায়। এখন বাজে সকাল পাঁচটা। সে এই সকালে উঠে ঘরময় ঘুরাঘুরি করছে। চলন্ত যুদ্ধ নিয়ে কারো সাথে এক বিছানায় কী বেশীক্ষন শুয়ে থাকা যায় ? কোনো ভাবেই যায় না । কবিতায় আছে -“ফাইল নাড়া কী যে মিহি কেরানির কাজ !’’ রিতা সেই মিহি কেরানিকে হার মানিয়েছে । নতুন সংসারের কাগজ পত্র গুছাতে গিয়েছে সে কাল রাতে। গুছাতে গিয়ে সে রাকিবের লিখা পুরোনো এক চিঠি উদ্ধার করেছে । চিঠির নায়িকার নাম আদৃতা। নায়িকার মতো নামই বটে। অত্যন্ত প্রেমের ভাষায় লেখা সেই চিঠি নিয়ে রাকিবের সামনে দিয়ে বলেছে – “এই মেয়ে কে ? নাম শুনেই তো মনে হচ্ছে ড্রাকুলা ধরনের মেয়ে । লাল লাল ঠোঁট । তীক্ষ্ণ দাঁত। ধারালো নখ। মানুষকে চিবিয়ে খাওয়ার জন্য প্রস্তুত।“ রাকিব মিহি সুরে বলেছে- “মেয়ে ভালোই সুন্দরী ছিলো ।“ ব্যস, যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিলো। রূপবতী একটা মেয়ের নামে এই কথা বলার কোনো মানে হয়? কোন মানেই হয় না। দুই একটা টুকটাক চিঠি তো পুরোনো কাগজের ফাকে পড়ে থাকতেই পারে। এইজন্য এইভাবে পেঁচিয়ে ধরতে হয়? সুমো যে কুস্তিগীর সেও তো মারামারির সময় প্রতিপক্ষকে কোমলভাবে জড়িয়ে ধরে। রাকিবের মনে হচ্ছে এ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করাটাই একটা ভুল হয়েছে। রিতা আর্কিটেক্ট। প্রানী সমাজে মাকড়সা ভালো আর্কিটেক্ট। যে মিহি জাল তারা বুনে সে জালে অনেকেই ধরা খায়। রাকিব এই মেয়ের জালে না জেনে ধরা খেয়েছে। তার মনে হচ্ছে তার ভবিষ্যৎ জীবন অন্ধকার। মাকড়সার জালময় এক গুহায় তাকে কাটাতে হবে বাকি জীবন। এই গ্রীষ্মেও নরওয়েতে ভালো ঠান্ডা নাইলে সে রাতে বাইরে শুয়েই কাটিয়ে দিত । সূর্যের আলো পড়েছে রিতার আঁকাআঁকির টেবিলে। টেবিলে ছড়ানো ছিটানো আর্টপেপার, রঙ পেন্সিল, স্কেল। তার পাশে ছোট্ট একটি ফ্রেমে তাদের দুইজনের একটা ছবি। রাকিব দীর্ঘ একপলক ছবিটির দিকে তাকিয়ে রইলো। রান্নাঘরে টুং টাং শব্ধ হচ্ছে। রিতাও মনে হচ্ছে উঠে গেছে । মনে হচ্ছে, যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তলোয়ারের শব্দ হচ্ছে। রাকিব টেবিলে বসলো। ছোটবেলায় টুকটাক আঁকাআঁকি সে নিজেও করতো ! কী মনে করে সে কাগজ ,রঙ পেন্সিল এগিয়ে নিলো। ২. রীতার রান্না ঘরে ঢুকে মন ভালো হয়ে গেলো। রাকিব এখানকার একটা হোটেলের মাস্টার শেফ। তার রান্নাঘর ছবির মতো সে গুছিয়ে রেখেছে। এই রকম গুছানো রান্নাঘরে ভুল করে তেলাপোকারাও ঢুকে না । সে সাজিয়ে রাখা বান রুটি গুলি দেখলো। ঠিক তার পাশে চমৎকার সব কফির কৌটা। রাকিবের কফি খুব পছন্দ । তার পরিস্কার মনে আছে তাদের হানিমুনে তারা একবার পুরো একটি দিন কফি দিয়ে বানানো খাবার খেয়েছিলো। মেক্সিকোর সেই ছোট্ট দোকানটির বিশেষত্ব এই ছিলো যে তাদের সব খাবারেই কিছু না কিছু কফি থাকতো। রিতা নিজের মনে হাসলো। দোকানির কাছ থেকে শেখা একটা রেসিপি তার মনে পড়ে গেল । মুচকি হেসে সে একটা কফির কৌটা আর একটা ছোট্ট বান রুটি হাতে নিলো। ৩. বারান্দায় ছোট্ট একটা টেবিল রাখা। পাশে দুইটা চেয়ার। রিতা দেখলো একটিতে রাকিব চুপচাপ বসে আছে। তার ইচ্ছে করছে ফিরে গিয়ে রান্নাঘর থেকে একটা কফির কোটা নিয়ে এসে, ঠাস করে রাকিবের মাথায় বসিয়ে দিতে। সে কি কালকে রাতের চিঠির মেয়েটির কথা তাকে আগে বলতে পারতো না ? সে কী বলতে পারতো না মেয়েটি দেখতে রিতার চেয়ে সুন্দরী ছিলো না ? সে গিয়ে রাকিবের পাশের চেয়ারটিতে বসলো। রাকিবের মাথায় চুলে আঙ্গুল বুলালো। তার হাতের প্লেটটি টেবিলে রাকিবের সামনে রেখে বললো- "এই নিন আপনার সকাল বেলার উপহার।" প্লেটে মেক্সিকান “পাপ্পারোটি”; ছোট্ট একটা বান। কফি দিয়ে স্পেশাল কায়দায় বানানো। প্লেটেরএকপাশে বাগান থেকে ছেড়া ছোট্ট একটা নাম না জানা বুনো ফুল। রিতা কোমল গলায় বললো- এই যে দুখী মাস্টার শেফ, এই নেন “মেক্সিকান পাপ্পারোটি; খেয়ে বলেন দেখি হয়েছে কেমন ? রাকিব অবাক হয়ে রিতার দিকে তাকিয়ে আছে । সকালের কোমল আলোয় রিতাকে কী যে সুন্দর লাগছে ! মনে হচ্ছে সূর্যের আলোয় একটি নক্ষত্র এখনো ডুবে যায়নি। তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। রাকিব টেবিলের উপর ছোট্ট একটি জিনিস রাখলো । রিতা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো- এটি কী ? রাকিব মুচকি হেসে বললো- "তোমার জন্যও সকাল বেলার উপহার" রিতা অবাক হয়ে দেখলো তার আর্ট পেপার কেটে বানানো ছোট্ট একটা তাজমহল। শাদা আর্ট পেপারে রুপালী রঙ দিয়ে সরু কাজ করা কাগজের তাজমহল। এই শিল্প কর্ম কী রাকিব কিছুক্ষন আগে করেছে ? রাকিব হেসে রিতাকে জড়িয়ে ধরে বললো- "পাথরের তাজমহল কেঊ আমার আগে তৈরী করে ফেলেছে , এইটা নিশ্চয়ই আমার দোষ না ? আমি কাগজের তাজমহল বানালাম" রিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তার এতো ভালো লাগছে কেনো এই সকালটা ? নক্ষত্রও চেয়ে দেখে সব এমন নিবিড় স্নিগ্ধ-এমন নীরব ভালোবাসাঃ মাটিতেও নয় অসম্ভব?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাগজের তাজমহল
→ কাগজের তাজমহল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now