বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প : 'জয়ার কীর্তি '
লেখক : তামিম হাসান।
" জয়ার কীর্তি "
- তামিম হাসান
জয়া ছোট কিন্তু তার বুদ্ধি অনেক। বড় বড় বিজ্ঞানিরা যেসব সমস্যা সমাধান করতে পারে না, সেসব কঠিন সমস্যা জয়া খুব সহজেই সমাধান করে ফেলে। জয়ার বাবা গবেষক ও প্রানি বিজ্ঞানি,জয়ার মা স্থপতি বিভিন্ন দেশে প্রজেক্ট তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন। জয়া তার বাবার সাথে দক্ষিন আফ্রিকা থাকে, জয়া সেখানেই একটা স্কুলে পড়ে। জয়ার স্কুল বন্ধ চলছে তাই সারাদিন বাসায় থাকে বই পড়ে এবং অবসর সময়ে সে ছবি আকেঁ ও বাগানে গাছ লাগায়।বলসেদিন বুধবার ছিলো,,,, সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানি রবার্ট বেকন আবিষ্কার করেছেন এক অদ্ভুত যন্র নাম :'পাস্ট মেশিন 'পাস্ট মেশিনের মাধ্যমে মানুষ অতীতে যেতে পারবেন বিজ্ঞানিদের আবিষ্কার উন্মোচন অনুষ্ঠানে জয়ার বাবাকে সেদিন উপস্থিত থাকতে বলা হলো।অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানি তার আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের দেখাবেন।
তবে এই আবিষ্কার বিষয়ে এখনো সাধারন মানুষকে জানানো হয় নি। সকাল ১১টার সময় জয়ার বাবা গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেটের সামনে আসতেই জয়া এসে গাড়িতে উঠে বসে পড়ল তার বাবা তাকে নিতে না চাইলেও জয়া বিশাল আবদার করেছিলো যাওয়ার জন্য তাই জয়ার বাবা তাকে নিতে বাধ্য হলো। জয়া তার বাবার সাথে বিজ্ঞান ভবনে এসে বেশ খুশি হলো। নিচতলার থেকে সিড়িঁ বেয়ে জয়া ও তার বাবা দোতালার মিলনায়তন রুমে পৌছলেন। অনুষ্ঠানে ৩৯ দেশের বিজ্ঞানী উপস্থিত ছিলেন। জয়া তার বাবার পাশে চেয়ারে বসল। আধা ঘন্টা পরে পাস্ট মেশিন আবিষ্কারক রবার্ট বেকন মঞ্চে আসলেন। জয়া খুব উওেজিত ছিলো।প্রথমে আবিষ্কারক তার গবেষনা ও আবিষ্কার বিষয়ে সবাইকে জানালেন।এরপর তিনি মাইকে বললেন"- আপনাদের মধ্যে কেউ আছেন যে আমার মেশিনে ঢুকে অতীত ঘুরে আসবেন এবং আবার বর্তমানে ফিরে আসবেন!!! বিজ্ঞানীরা কেউ সাহস পেল না। সবাই ভয়,পাচ্ছিল যে অতীতে গেলে যদি ফিরে আসতে না পারে বর্তমানে,,,,
জয়া চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে মঞ্চে উঠে বিজ্ঞানী রবার্ট বেকনকে বলল ''আমি ঢুকব এই পাস্ট মেশিনে!! "
জয়ার কথা শুনে আর তার সাহস এবং তাকে দেখে সবাই অবাক হয়ে গেল।
৭ ফুট লম্বা হলুদ রঙের মেশিনটি। একটা দরজা আছে । অনেকগুলো মেশিন ও নেটওয়ার্ক বাক্স লাগানে পাস্ট মেশিনের ছাদে।
জয়ার হাতে বিজ্ঞানী একটা বিশেষ ঘড়ি দিয়ে দিলেন যার সাহায্যে জয়া বর্তমানের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে।
জয়া ঢুকে পরার সাথে সাথে পাস্ট মেশিনের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। বিজ্ঞানীরা ও জয়ার বাবা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো পাস্ট মেশিনের দিকে।
৩ ঘন্টা পরে........
জয়া পাস্ট মেশিন থেকে বেরিয়ে এলো। মঞ্চে দাড়িয়ে জয়া অতীতকাল ভ্রমনের কাহিনী বলতে শুরু করল,,
জয়া : আমি পাস্ট মেশিনে ঢুকেই দেখলাম সব অন্ধকার হয়ে গেল। প্রথমে অনেক ভয় পেয়েছিলাম ভাবছিলাম কী হবে,, তবে দুই মিনিট পরে আবারও আলো জ্বলে উঠল। আমার সামনে একটা দরজা চলে এলো, দরজায় একটা যন্র লাগানো ছিলো ছয়টা সাল ও লেখা ছিলো এবং সাল গুলোর পাশে একটা করে সুইচ ছিলো ।
সালগুলো হলো,,
১. ১৫৪৭ ৩.ইতিহাসের পুর্বে
২. ১৪৬৫ ৪. ১৪৫৭
৫.১৯৩০ ৬. ১৭৪২
আমার কাছে ইতিহাসের পূর্বে যেতে ইচ্ছা করলো তাই দেরি না করে সুইচে চাপ দিলাম।
সুইচে চাপ দেওয়ার পরে দরজাটা খুলে গেল, আমি দরজা দিয়ে ঢুকলাম। অনেক বড় একটা বন, চারদিকে গাছ- পালায় আচ্ছাদিত । গাঢ় সবুজ বন, হঠাৎ দেখলাম একটা মস্ত বড় হাতি দৌড়ে যাচ্ছে, ভয়ের থেকে মজা বেশি পেয়েছিলাম। আমি সামনে এগিয়ে যেতে লাগলাম কিছু পথ অতিক্রম করতেই দেখলাম একটা গুহার সামনে কয়েকজন মানুষ ভিড় করে আছে। মানুষগুলো সবাই অদ্ভুত ছিলো এরা গাছের পাতা দিয়ে তৈরি পোশাক পড়ে ছিলো। আমি গাছের আড়াল থেকে দেখলাম এরা একটা সিংহকে হত্যা করেছে এবং কয়েকজন খুব উল্লাস করছিলো তারা নিজেদের ভাষায় কথা বলছিলো। এমন সময় আমি হঠাৎ হাচিঁ দিয়ে ফেলি, অদ্ভুত মানুষ গুলো আমাকে দেখে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে কী যেন বলল সাথে সাথে দুজন আমাকে তাড়া করতে লাগল আমি দৌড়ে একটা নদীর কাছে চলে এলাম নদীটায় পানি খুব কম ছিলো তাই আমি সাঁতার কেটে ওপারে চলে আসি।ওপারে এসে পৌছাতেই দেখলাম অনেক গুলো ফল গাছ আমি কয়েকটা ফল খেয়েছিলাম। ফল গুলো খুব মিষ্টি ছিল,
তারপরে আমি অনেক পথ হাটিঁ প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো রাতের অন্ধকার অচলার বুকে নেমে আাসার কারনে আমি আর এগোয় নি। তাই ঘড়িটায় একটা ম্যাসেজ করেছিলাম এবং কিছু সময় পর একটা দরজা আমার সামনে হাজির হলো। আমি দরজায় প্রবেশ করলাম ৮ মিনিট পরই আমি পৌছে এলাম বর্তমানে মানে আপনাদের সামনে এই মঞ্চে।
জয়ার এই বক্তব্য শুনে বিজ্ঞানীরা সবাই দাড়িয়ে হাত তালি দিয়ে জয়াকে স্বাগত জানালেন। জয়ার বাবা তার মেয়ের সাহস দেখে সত্যি অবাক হয়েছিলেন।
" সমাপ্ত "
তারিখ : ৬/০৩/২০১৯
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now