বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জয় দ্বীপ ।
হাসিখুশি সাধারণ ছেলে । সবাই ওকে দ্বীপ বলেই ডাকে । একদিন রাতের বেলা ও ফেইসবুক চালাচ্ছিলো । রাত তখন ১টা বাজে । হঠাৎ মধ্যরাতের মুন নামের এক আইডি থেকে ওকে ফ্রেন্ডরিকুয়েস্ট পাঠায় । মেয়ের আইডি দেখে সাথে সাথে ও একসেপ্ট করলো । রাত অনেক হয়ে গেছে । ঘুমিয়ে পড়লো ও ।
৪-৫ দিন পরের কথা । এই কয়টা দিন দ্বীপ খেয়াল করলো মধ্যরাতের মুন নামক আইডিটার সামনে ১২:১৫ থেকে ৪ টা পর্যন্ত সবুজ চিহ্ন থাকে । বাকি সময় কখনই ওকে অনলাইনে দেখা যায় না । আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল এই আইডিটার টাইমলাইনের শেষ পোষ্ট একবছর আগের । একটু অবাক হল দ্বীপ ।
সেদিন রাতে দ্বীপ মেয়েটাকে হাই লিখে একটা মেসেজ পাঠালো । উত্তরে মেয়েটা অদ্ভুত ভাষায় কি যেন লিখে পাঠালো । এরকম ভাষা বা লেখা দ্বীপ কখনই দেখে নি । দ্বীপ কিছু না বুঝতে না পেরে আবার মেসেজ দিল আপনি কি লিখেছেন বুঝতে পারি নাই । উত্তরে মেয়েটা আগের মেসেজটাই আবার পাঠালো । খুব অবাক হল দ্বীপ । আরও কয়েকটি মেসেজ পাঠালো ও । কিন্তু মেয়েটি প্রতিবার অদ্ভুত ভাষার ঐ মেসেজটাই পাঠালো । ৪টা বাজতেই মেয়েটার নামের সামনে থেকে সবুজ চিহ্নটা উধাও ।
সারাদিন বিষয়টা নিয়ে অনেক ভাবলো দ্বীপ । কেউ কি ওর সাথে মজা করতেছে নাকি । আরও ২-৩ রাত মেয়েটার সাথে কথা বলার চেষ্টা করলো দ্বীপ । কিন্তু মেয়েটা প্রতিবার ঐ মেসেজটাই বার বার পাঠালো । খুব রেগে গেল দ্বীপ । আবার অবাকও হল। একটাই প্রশ্ন ওর মাথায় ঘুরতে লাগলো মেয়েটা একটা মেসেজই বার বার পাঠাচ্ছে কেন ? আর এই অদ্ভুত ভাষা মেয়েটা পেলো কোথায় ? ও কি কিছু বলতে চায় ?
অনেক ভেবে দ্বীপ মেয়েটার প্রোফাইলে ঢুকে ওর শেষ পোষ্টে কমেন্ট করা একটা ছেলের সাথে যোগাযোগ করলো । ছেলেটা ওকে দেখা করতে বলল ।
পড়ন্ত বিকাল । দ্বীপ দাড়িঁয়ে আছে । ওর সমবয়সী একটা ছেলে হাই বলে এগিয়ে আসলো । হাত বাড়িয়ে বলল,"আমি অভি ।" দ্বীপ হাত মিলিয়ে বলল,"আমি জয় দ্বীপ ।" অভি বলল,"চল ঐ দিকটাতে গিয়ে বসি ।" বড় একটা গাছের গুঁড়িতে বসলো ওরা ।
অভি বলল,"তুমি যার কথা বলছো ওর নাম মুন । খুব ভালো বান্ধবী ছিল আমার । একই কলেজে পড়তাম আমরা । কিন্তু এক বছর আগে ও আত্মহত্যা করেছে ।"
অভির কথা শুনে শিরদাঁড়া বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়লো দ্বীপের ।
দ্বীপ কাপাঁ কন্ঠে বলল,"ও যদি আত্মহত্যাই করে থাকে তাহলে আমাকে মেসেজ দিল কে ? তাহলে কি আত্মাদের রাজ্যে ফেইসবুক চালানো যায় ? ওই অদ্ভুত ভাষাগুলো কি আত্মাদের ?" একটু ভেবে অভি বলল,"হতে পারে । তবে আমি জানি না । ও আমাকেও একই মেসেজ পাঠিয়েছে । আমার মনে হয় ও কিছু বলতে চায় ।" দ্বীপ বলল,"আমার কাছেও তাই মনে হয় । কিন্তু কি বলতে চায় সেটা বুঝবো কি করে ?" অভি বলল,"একটু সামনে একটা সাধকের গৃহ আছে । উনি ভুত, প্রেত, আত্মাদের নিয়ে সাধনা করেন । উনাকে গিয়ে সব বলি দেখি কিছু করতে পারেন কিনা।"
সাধককে গিয়ে সবকিছু বলল ওরা । কিছুক্ষণ ভেবে তিনি বললেন,"আত্মাটাকে ডেকে আনতে হবে । তবেই ওর কথা তোমরা বুঝতে পারবে ।" দ্বীপ বলল,"কিন্তু আত্মা ডেকে আনবো কি করে ?" সাধক বলল,"তোমাদেরকে বারং-এ বসতে হবে ।" দ্বীপ জিজ্ঞাসা করলো,"বারং কি ?" সাধক বলল,"বারং হচ্ছে আত্মাদের ডাকার একটা কৌশল । আমি তোমাদের কিছু মন্ত্র লিখে দিব ।যেখানে মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে সেখানে বসে একনাগাড়ে মন্ত্র গুলো পড়বে মধ্যরাতে । আশেপাশে অনেক কিছু হতে পারে । কিন্তু তোমরা সেদিকে তাকাবে না । তোমরা তোমাদের মতো মন্ত্র পড়ে যাবে চোখ বন্ধ করে আত্মাটা আসা পর্যন্ত ।"
সাধক কিছু মন্ত্র লিখে কাগজটা দ্বীপের হাতে দিল ।
মধ্যরাত ।
চাদেঁর আবছা আলো ছড়িয়ে আছে চারদিকে । নিশ্চুপ চারদিক । অভি আর দ্বীপ বিভিন্ন গাছে ঢাকা একটা বাগানের কাছে আসলো । ভিতরে ঢুকে বড় একটা আম গাছের নিচে দাড়াঁলো ওরা । আম গাছের একটা ডাল দেখিয়ে অভি বলল,"এই ডালটাতেই ফাঁস দিয়েছিল মুন ।"
গাছটার নিচে বসলো ওরা । আশপাশ থেকে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক ভেসে আসছে । বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়া শুরু করলো ওরা । চোখ বন্ধ করে মন্ত্র পড়ছে দ্বীপ । পাঁচ মিনিট পর ঝড় শুরু হল বাগানে । গাছপালা ঝড়ো হাওয়ায় ভয়ংকরভাবে দুলতে লাগলো । শোঁ শোঁ আওয়াজ আসতে লাগলো চারদিক থেকে । কে যেন দূর থেকে দ্বীপের নাম ধরে ডাকছে । দ্বীপ সেদিকে না তাকিঁয়ে চোখ বন্ধ করে মন্ত্র পড়তে লাগলো । হঠাৎ ঝড় বন্ধ হয়ে গেল । শোঁ শোঁ আওয়াজও বন্ধ হয়ে গেল । গম্ভীর একটা কন্ঠ ভেসে আসলো,"আমি জানতাম তোমরা আসবে ।" চোখ খুললো দ্বীপ । দেখলো আম গাছটার সেই ডালে দড়িতে ঝুলে আছে একটা মেয়ে । অপলক দৃষ্টিতে তাকিঁয়ে আছে ওর দিকে । চেহারাটা বীভৎস । ভয়ে বুক কেঁপে উঠলো দ্বীপের । অভির হাত চেঁপে ধরলো ও ।ঝুলন্ত মেয়েটা বলল,"আমি মুন । ভয় পেও না । কোন ক্ষতি করবো না তোমাদের ।" কাপাঁ কন্ঠে দ্বীপ বলল,"তুমি আমাদের কাছে কি চাও ?" মুন বলল,"আমার রিং চাই ।" দ্বীপ বলল,"কিসের রিং ?" মুন বলল,"যেটা আমার ভালোবাসার মানুষ আমাকে দিয়েছিলো ।" দ্বীপ জিজ্ঞাসা করলো,"কিন্তু সেটা পাবো কোথায় ?" মুন একটা বাড়ির ঠিকানা দিয়ে বলল,"এটা আমার বাড়ির ঠিকানা । ওখানে গিয়ে খোঁজ করলেই পাবে । কাল রাত ১২:১৫ টার পরে এই গাছের গোড়ায় রিংটা রেখে চলে যেও । আর যদি আনতে ব্যর্থ হও তাহলে তোমার জীবন শঙ্কটাপন্ন হবে ।"
কথা শেষ হতেই অদৃশ্য হয়ে গেল মুনের ঝুলন্ত দেহটা ।
সকাল হতেই দ্বীপ অভিকে ফোন দিল । অভি ফোন ধরলো না । অগ্যাত দ্বীপ একাই মুনের বাড়িতে গেল । দরজায় নক করতেই একজন বুড়ো লোক দরজা খুলে দিল । দ্বীপ উনাকে জিজ্ঞাসা করলো,"মুনের বাবা মা কোথায় ?" বুড়ো লোকটা বলল,"মুন মারা যাওয়ার পর ওর বাবা মা আমাকে বাড়িটা দিয়ে এখান চলে গেছেন ।" দ্বীপ বলল,"আমি কি একটু বাড়ির ভিতরে ঢুকতে পারি ?" বুড়ো লোকটা হ্যা সম্মতি দিয়ে দ্বীপকে ঘরের ভিতরে নিয়ে আসলো । দ্বীপ ঘুরে ঘুরে একটা তালাবন্ধ রুমের সামনে এসে লোকটাকে জিজ্ঞাসা করলো,"এই রুমটা তালাবন্ধ কেন ?" লোকটা বলল,"এটা মুনের রুম আমি কখনও এই রুমে ঢুকি না ।" দ্বীপ বলল,"আমি এই রুমটাতে ঢুকবো । খুব জরুরী দরকার। কিন্তু কেন সেটা আপনাকে বলতে পারবো না ।" বুড়ো ওর কথা শুনে একটু অবাক হল । কিন্তু কিছু জিজ্ঞাসা করলো না । চাবি এনে রুমের দরজাটা খুলে দিল । দ্বীপ রুমের ভিতরে ঢুকলো । এলোমেলো হয়ে আছে রুমটা । টেবিলের উপর লাল একটা রিং বক্স । বক্সটা খুলল ও । অসম্ভব সুন্দর একটা রিং । পাশে একটা ডায়েরী পড়ে আছে । ডায়েরীটা পড়লে অনেক কিছু জানা যাবে তাই ডায়েরীটা সাথে করে নিয়ে নিল দ্বীপ । কিন্তু তখন ডায়েরীটা খুলে পড়লো না ।
বুড়ো লোকটাকে বিদায় জানিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে আসলো দ্বীপ । অভি ফোন দিল তখন । দ্বীপ জানালো রিংটা পেয়েছে সে । অভি বলল,"রিংটা নিয়ে ১২:১৫ টার দিকে বাগানে চলে আসবে । আমি ওখানেই থাকবো ।"
সময়মত রওয়ানা দিল দ্বীপ । আজও চাঁদ উঠেছে । আবছা আলো চারদিকে । চেনা পথ ধরে হাটঁতে হাটঁতে বাগানে চলে আসলো । আম গাছটার নিচে দাড়াঁলো । রিংটা গাছের গোঁড়ায় রেখে অভির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো দ্বীপ । হঠাৎ গম্ভীর কন্ঠে কে যেন বলল,"অভির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না । তুমি চলে যাও । তোমার কাজ শেষ ।" দ্বীপ ঘুরে গাছের ডালের দিকে তাকিঁয়ে দেখলো অভি এক ডালে আর মুন অন্য ডালে দড়িতে ঝুলছে । দুজনেই অপলক দৃষ্টিতে তাকিঁয়ে আছে ওর দিকে । পৈশাচিক হাসি লেগে আছে বীভৎস মুখগুলোতে । আর সহ্য করতে পারলো না দ্বীপ । জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো ও।
জ্ঞান ফিরতেই দেখলো ও একটা ঘরে শুয়ে আছে । ভালো করে দেখে বুঝলো ও সাধকের বাড়িতে । কিছুক্ষণপর সাধক আসলো । এসে বলল,"কেমন আছো এখন ?" দ্বীপ বলল,"এখন একটু ভালো আছি । কিন্তু আমি এখানে আসলাম কি করে ।" সাধক বলল,"বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম । দেখি তুমি মাটিতে পড়ে আছো । তারপর তোমাকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসলাম ।"
দ্বীপ আর কিছু বলল না । সোজা বাড়িতে চলে আসলো ।
ডায়েরীটা খুললো । পুরোটা ডায়েরীটা পড়লো দ্বীপ । শেষ পৃষ্ঠায় লেখা,"ওরা কেউ মেনে নিচ্ছে না আমার আর অভির সম্পর্কটা । তাই দুজনেই ছেড়ে চলে যাবো সবাইকে । ভালো থাকুক আব্বু-আম্মু আর তাদের জিদ ।" নিচে লাল অক্ষরে জ্বলজ্বল করছে "অভি+মুন" লেখাটা আর একসাথে তোলা ওদের ছবিটা ।
ডায়েরীটা বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেললো দ্বীপ ।
মনে মনে বলল,"ভাল থাকুক ওরা । ভালো থাকুক ওদের ভালোবাসা ।"
তারপর থেকে আর কোনদিনও "মধ্যরাতের মুন' কে অনলাইনে দেখা যায় নি ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now