বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় উত্তাল হয়ে ওঠা বিশ্বে শনিবার লন্ডনে বিক্ষোভের পরদিন আবার যুক্তরাজ্যজুড়ে দানা বেঁধে উঠেছে বর্ণবাদ বিরোধী বিশাল বিক্ষোভ।
রোববারের এ বিক্ষোভে বিক্ষুব্ধ জনতা ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে এক দাস ব্যবসায়ীর মূর্তি ভেঙেছে।
লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে পুলিশের বর্বরতার প্রতিবাদ করেছে। ‘বর্ণবাদ একটি ভাইরাস’ স্লোগান দিয়েছে তারা। ‘কোভিড-১৯ এর চেয়েও বড় বর্ণবাদের ভাইরাস’ লেখা ব্যানার উড়িয়েছে কেউ কেউ।
এছাড়া ম্যানচেস্টার, নটিংহাম, লেস্টার, শেফিল্ড শহর, স্কটল্যান্ডের এডিনবরা, গ্লাসগো এবং ওয়েলসের কার্ডিফেও বিক্ষোভ হয়েছে। ‘বর্ণবাদের মুখে চুপ করে বসে থাকা যায় না’; ‘এ অবিচার এখন থামা দরকার’, এমনটিই বলছেন বিক্ষোভকারীরাসহ বিক্ষোভের সমর্থকরা।
করোনাভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকির কারণে গণসমাবেশ না করতে পুলিশ কমিশনার এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জানানো আহ্বান উপেক্ষা করে মানুষ রাস্তায় নেমেছে।
এর আগে শনিবার লন্ডনে বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৪ পুলিশ আহত হয়। এরপরই রোববার বিক্ষোভে রাস্তায় না নামার জন্য বিক্ষোভকারীদের আহ্বান জানানো হয়েছিল।
কিন্তু মানুষজনকে এর কোনো তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি। লন্ডনে মানুষ এক হাটু গেড়ে বসে, প্ল্যাকার্ড উড়িয়ে, ‘জর্জ ফ্লয়েড’ এবং ‘যুক্তরাজ্য নিষ্কলুষ নয়’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেছে।
ব্রিস্টলে বিক্ষোভকারীরা দড়ি দিয়ে বেঁধে ১৭ শতকের দাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কোলস্টনের মূর্তি টেনে নামিয়েছে। কোলস্টন আফ্রিকা থেকে প্রায় ৮০ হাজার নারী, পুরুষ ও শিশুকে আমেরিকায় নিয়ে গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
১৭২১ সালে মৃত্যুর সময় কোলস্টন তার সম্পদ দাতব্য সংস্থাগুলোতে দান করে যাওয়ায় ব্রিস্টলে তিনি এখনো স্মরণীয় এবং সেখানে ১৮৯৫ সালে তার ব্রোঞ্জের মূর্তি গড়া হয়েছিল।
কিন্তু একজন দাস ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে কোলস্টনের এই মূর্তি নিয়ে সম্প্রতি কয়েক বছরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দাস ব্যবসার কালো ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এ মূর্তি লজ্জাজনক দাবি করে এটি সরিয়ে ফেলার জন্যও সম্প্রতি হাজার হাজার মানুষ পিটিশন দাখিল করেছিল।
রোববার বিক্ষোভকারীরা মূর্তিটি টেনে নামিয়ে উল্লাস করেছে এবং সেটির ঘাড়ের ওপর এক বিক্ষোভকারীকে হাটু চেপে থাকতেও দেখা গেছে, ঠিক যে কায়দায় পুলিশ ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাটু চাপা দিয়েছিল। পরে মূর্তিটি টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে নদীতে ফেলা হয়।
রোববার ব্রিস্টলের রাস্তায় মিছিল করেছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ। দক্ষিণ লন্ডনের মার্কিন দূতাবাসের সামনেও কয়েক হাজার মানুষ হাটু গেড়ে বসে প্রতিবাদ করেছে। ‘বিচার নেই, শান্তি নেই’, ‘কৃষ্নাঙ্গ জীবন মূল্যবান’ স্লোগানও দিয়েছে তারা।
পরে পার্লামেন্ট চত্বর এবং ডাউনিং স্ট্রিট অভিমুখে পদযাত্রা করে বিক্ষোভকারীরা। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এক টুইটে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, ম্যানচেস্টারে কয়েকশ’ মানুষ সেন্ট পিটারস স্কয়ারে জড়ো হয়ে ফ্লয়েডকে শ্রদ্ধা জানাতে হাটু গেড়ে বসে এবং নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ করেছে।
অন্যান্য স্থানগুলোতেও শত শত মানুষ পদযাত্রা করেছে। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে আরো অনেক মানুষ অনলাইন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে।
[বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কম হতে সংগ্রহীত]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now