বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিশেষ কারণে পঞ্চগড় যেতে হচ্ছে। লোকাল বাসে বসে আছি মাথার উপরে প্রচন্ড রোদ তার উপর আবার লোকাল বাস বুঝতেই পারছেন কি অবস্থাটা। গরমে ঘেমে আমি একাকার, সারা শরির বেয়ে ঘাম দরদর করে বেয়ে পড়ছে, এই সময়ে উত্তরবংগে প্রচুর গরম পড়ে।
বসে আছি বেটাদের বাস ছাড়ার কোনো নাম গন্ধ নেই। এমনিতেই বাস ভর্তি যাত্রি তার পর আবার হেল্পার কণ্টাক্টার মিলে গলা ছিরে চিল্লাচ্ছে এই ভাইয়া আসেন, পঞ্চগর, বোদা, পঞ্চগর, বোদা আসেন ভাই আসেন ভাই
যাক অবশেষে ড্রাইভার মামা মাথায় টুপি দিয়ে তার আসনে পাছা গেরে ছিটে বসলেন। বেটাদের মনে হয় মনে দয়া মায়া নাই, নাইলে বাস ভর্তি হওয়ার পরও পেসেঞ্জার ডাকাডাকি করতেছে মানুষ গুলা মারার জন্য নাকি? পুরা বাস ভর্তি। আসেন আসেন আফা আসেন
-জায়গা আছে মামা?
-- হ আছে আফা
--কই জায়গা মামা?
-- আফা পিছনে যান এই মামা চাপেন একটু কি ব্যাপার চাপেন না?
পিছনে এক বুইরা বেডায় ডাকতেছে আসেন ভাবি আসেন। বেডার প্রেম যেন উথলায়া পরতাছে, আমি তো আশ্চার্য আল্লাহ অহন পর্যন্ত কিনা একটা মেয়েরে পটাইতে পারলাম না আর এই বুইরা বেডা ক্যাম্নে ডাকতাছে। ক্যাম্নে সম্ভব ম্যান?
যাই হোক বাস ছারার টাইম হয়ে গেছে. ড্রাইভার মামায় তো একবার ছারে আমার ঘিক কইরা ব্রেক চাপে দাড়ানো যার্ত্রিরা সব একবার উত্তর মেরু তো আবার দক্ষিন মেরুতে যায় মানুষের। যাতা খায়া আমার তো অবস্থা খারাপ। জান যায় যায় অবস্থা আল্লাহ আল্লাহ করতে লাগলাম। বাস চলছে যাক এবার একটু বাচলাম বাতাস করতেছে বাস চলতেছে আমিও কানে হেডফোন গুজে গান প্লে করছি বাইরের বাতাস আর গানের তালে তালে জার্নি বেশ ভালই লাগতেছে। আহ্ কি শান্তি কিন্তু কথা আছে না যে সুখে থাকলে ভূতে কামরায়। আমার হইছে সেই দশা বাসেই যত অঘটনা ঘটতে লাগল দাড়িয়ে থাকা যাত্রিদের কাহিনি:
--ওই মিয়া বগল নামাও
--কি হইছে
--কি হইছে মানে জান না? বগলের গন্ধে তো আমার বমি আসার অবস্থা কয় মাস ধরে গোসল করনা?নাকি গোসলে সাবান মাখনা
--ওই মিয়া থামেন বহুত কইছেন আর সহ্য করমুনা কি পাইছেন হ্যা কামের শরিল মিয়া আপনার যদি এতই অসুবিধা তাইলে নাইমা যান বেশি কথা কইয়েন না রোযা ইফতারির দিন মেজাজ খারাপ আছে যত্তসব বালছাল ।
ওপর লোকটা আর বেশি কথা বললনা কারন সে জানেই কপাল খারাপ থাকলে যা হয় আর কি কিছু করার নাই সহ্য করতেই হবে।
এরই মধ্যে কন্টাক্টর ভাড়া নিতে আসছে তাই দেইখা কয়েকজন জ্যান্ত জাগ্রত মানুষ ঘুমিয়ে পরার ভান করল। তাদের এমন ভাব যেন তারা এমনি এমনিই বাসে করে যাবে।
--মামা ভাড়া দেন
-- মামা আমি স্টুডেণ্ট আমার আজকে পরিক্ষা ছিল আমার ভাড়া হাফ নিতে হবে
--মামা আজকে কিসের পরিক্ষা ছিল
--অনার্স ফাইনাল ইয়ার
--মামা ভাং মারার আর জায়গা পাওনা তাইনা আমার ছোট ভাইটা এবার ফাইনাল ইয়ার দিতাছে অই আজকে বাসায় নাক ডাইকা ঘুমাইতেছে, আর তোমার পরিক্ষা তাই না বেডা কাহিনি না কইরা ভাড়া বাইর কর, নাইলে কিন্তু খবর খুব খারাপ আছে
কি আর করার ভাড়া বাইর না করে উপায় আছে?
--চাচা ভাড়া দেন
--কত ভাড়া বাবা
--কই যাইবেন আপনে
--মিল গেট বাজার
--আপনে চল্লিশ টাকা দেন
--বাবা স্টুডেণ্ট এর ভাড়া হাফ আমি স্টুডেন্টের বাপ তাইলে আমার ভাড়া পুরাই মাফ
--ফাইজলামি করেন মিয়া?আমারে দেইখা কি মনে অয়
--ফাইজলামি কিসের আমি তো সত্য কথাটাই কইলাম
--অই মিয়া চুপ ভাড়া বাইর করেন ধমক খায়া চাচা এবার কোনো কথা না বলে ভাড়া দিলেন পরে যাতে কোনো কথা শুনতে না লাগে
--মামা ভাড়া দেন
--মামা পিছনে
পিছনে গিয়ে
--মামা ভাড়া দেন সামনে থেকে কইলো আপনি নাকি ভাড়া দিবেন
--মামা পিছনে যান দিয়া দিবো
যে কিনা সবশেষে বসে আছে সেও বলতেছে পিছনে, পিছনে তো আর দেওয়াল ছাড়া আর কিছু নাই এইটা দেইখা কার মাথা ভাল থাকে?
--বেডা পিছনে কি ভাড়া তর নানায় দিবো?
--ওও কেউ নাই তাইলে আমিই দিয়ে দেই
এদিকে কণ্টাক্টর আর যাত্রিদের কাহিনি আবার অপর দিকে হেল্পারের চিল্লানি
--এই ভ্যান সাইডে ল,ওস্তাদ বায়ে প্লাস্টিক,বরাবর বরাবর এই আফা যাইবেন নাকি?
ঘিইইইইক....
দাড়ানো সব যাত্রি এক মুহূর্তে সামনের দিকে গিয়ে আছরে পড়ল। ছিটে বসা যাত্রিরা সবাই যেন সামনের ছিটে গিয়ে নাকে মুখে ঢিসা ফল স্বরুপ দুইজনের নাকে আর মুখে গোল আলুর মত ফুলে উটল কিঞ্চিত বাদেই।
--এই সালা মালায়নের বাচ্চা, সালা মদন কুত্তার, বাচা ব্রেক করবি আস্তে করবি না কি অবস্থা হইছে দেখছস, সালা আবুল মাইয়া মানুষ খাড়ায়ে হাত বাড়াইতে দেখছা আর মাথা ঠিক নাই, বাসে আমরা আছি এডা তোমার হোদাল নাই?
যে যেভাবে পারে দিল ড্রাইভারকে গালি সালা মনে হয় মাল খায়া টাল হয়া গাড়ি চালাস?
--ভাইজান ভিতরে জায়গা আছে?
--আছে আফা আসেন
আরোও যে যেমনে পারে গালি দেওয়া শুরু কারন এমনিতেই জায়গার অভাবে অনেকেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে আবার এর মহিলা মানুষ তুলছে মহিলা তো উঠেই রাগ তার ছিট কই, ছিট না পেয়ে মহিলা হেল্পারের গুস্টি উদ্ধার করতে লাগল খানিক পরেই আবার হেল্পার চিল্লাইতে লাগল
--এই বোদা,এই বোদা, বোদায় নামবে
এমন ভাবে চিল্লাচ্ছে আশেপাশে চেয়ে দেখি মহিলারা সব লজ্বায় মাথা নিচু করে ফেলছে যাত্রি নামার সাথে সাথে কিছু হিজরা উঠে বাসে ডাকাতি শুরু করে দিয়েছে এই কার কাছে কি আছে সব নিয়ে নে হাতে দুইটা বাড়ি দিয়ে।
--এই সোনা টাকা বাইর কর
--না টাকা দিমু না কি করবি "এক যুবকের কথা তাকে দেখেই বুঝা যায় কিছুটা জাউরা টাইপের"
----টাকা দিবি কিনা বল ক্যানো টাকা দিবিনা
---টাকা না বলদের গু*া দিয়া বাইর অয় তোমারে টাকা দিমু?
--তুই তো ভারি অসভ্যরে টাকা না দিলে কিন্তু কাপর খুইলা দিমু মজা ক্যামন হয় সেটা দেখবা
---তুমি কাপর খুইলা ে*াল ঝাকাও তাতে আমার কি?
--তাইলে তুই টাকা দিবিনা?
--কইলাম তো দিমুনা কি করবি কর
মাল যে একটা সেটা বুঝেই হিজরারা চলে গেল আর কি করবে।
জানালা দিয়া লোকটি আবার বলতে লাগল কি হইল কাপর খুলবি না, আয় কাপর খুল টাকা নিয়া যা।
বাস ভর্তি সবাই কাহিনি কান্ড দেখে হাসতে হাসতে অবস্থা শেষ।
অত পর গন্তবে চলে আসলাম বাস থেকে নেমে পড়লাম কিন্তু হেল্পার মামা এখনো চিল্লাচ্ছে এই প্লাস্টিক, ওস্তাদ সাইডে লন, বরাবর।
shahadat Hasan
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now