বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জন্মদিনের শেষ প্রহরে

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X লেখক : সায়েমুস সুহান ভোর ৭ টা। চা খেয়ে তাড়াতাড়ী বেরিয়ে পড়লো সুহান। গন্তব্যস্থান ভার্সিটি। আজ একটু আগেই যাচ্ছে। কারণ আজকে অর্পি মানে সুহানের বেস্ট ফ্রেন্ড জানে জিগার দোস্ত এর জন্মদিন! বাড়ির সামনে থেকে গাড়ীতে তারপর তিন ঘন্টা বিরক্তিকর বাস ভ্রমনের পর ১০ টার সময় ভার্সিটিতে প্রবেশ তাড়াহুড়ো করে, বাংলা বিভাগের ক্যান্টিনের দিকে যাচ্ছিল । হঠাৎ আঁচমকা এক শব্দ শুনতে পেয়ে সুহান পেছনের দিকে তাকায়। দেখে একটা মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে! দৌড়ে যায় সুহান, তাড়াতাড়ী মেয়েটিকে তুলে সবাইকে ডাকতে থাকে, কিন্তু কেউ আসেনা!! অবশেষে সুহান কাউকে না পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েটিকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য নিজের কাঁদে তুলে নেয়! কলেজে সামনে গিয়ে দেখলো তার জানে জিগার দোস্ত রোমিও, রাজ ও জয় আসতেছে মোটরসাইকেলে করে, ওদের কাছে মোটরসাইকেল চাইতেই, তাড়াতাড়ী দিয়ে দিল। মেয়েটিকে কোলে রেখে মোটরসাইকেলে বসে মোটরসাইকেল ছাড়লো সুহান। সামনে গিয়ে দেখে এমন জ্যাম লাগছে যে বলার মত নয়, তারপরও সবাইকে অনুরোধ করে সামান্য ফাঁকা রাস্তা পেয়ে নিজের জীবনের দিকে না তাকিয়ে দিল এক ভোঁ টান ! হয়তো জীবনেও এরকম মোটরসাইকেল চালায়নি বা কখনও চালাবেও না। ৮ মিনিটেই মধ্যেই উপজেলার হাসপাতালে পৌছে গেল সুহান, মেয়েটিকে জরুরী বিভাগে নিয়ে গেল ! কর্তব্যরত ডাক্তাররা বললেন, মেয়েটি আর দুনিয়াতে নেই!!! সুহান স্তব্ধ হয়ে পড়লো! মেয়েটি সুহানের কেউনা কিন্তু মানবতার খাতিরে সুহানের চোখ থেকে অচিরেই পানি পড়তে লাগলো! এই সময় সুহানের বন্ধুরা হাজির, সাথে একটা শার্ট ও প্যান্ট নিয়ে আসলো, কারণ তারা দেখছিল যে মেয়েটিকে কোলে নিয়ে সুহানও রক্তাক্ত হয়ে গেছে। তাই শার্ট ও প্যান্ট এই মুহুর্তে প্রয়োজন।সুহান ওয়াশ রুমে ডুকলো, শার্ট প্যান্ট পরে বাহির হতেই দেখলো যে পুলিশ সদস্যরা তারদিকেই আসছে। সামনেই এসেই সুহানের হাতে হাতকড়া লাগালো!! সুহান হতবাক! সে পুলিশ সদস্যদের জিজ্ঞাসা করলো যে তার অপরাধ কি?? পুলিশরা বলে উটলো যে, মেয়েটি খুন করার দায়ে!!! সুহান স্তব্ধ !!! আর কোনো কথাই বের হচ্ছেনা মুখ থেকে, সুহানের বন্ধুরা অনেক বোঝালো পুলিশ অফিসারদেরকে, তাদের কথায় কান না দিয়ে সুহানকে থানায় নিয়ে গেল! আসল ঘটনা জানার জন্য থাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কিন্তু সে তো আসল ঘটনা জানে না। যতটুকু জানে ততটুকু পুলিশসাহেবকে বললো, কিন্তু পুলিশ অফিসার কিছুতেই মানতে পারছেন না, যে সে সত্য কথা বলছে!! সুহানকে টর্চার করা হলো, আবারো রক্তাক্ত হয়ে গেল সুহানের শরীর!! তবে এবার অন্য কারো রক্তে নয় নিজের রক্তে! ঠিক তখনই ভার্সিটি তদারকি করতে যাওয়া অফিসাররা চলে আসলেন, আসার সাথে সাথে সুহানের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, আপনার সাথে এই আচরণ করার জন্য আমরা দুঃখিত! সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়েছে, মেয়েটি ছাঁদ থেকে পড়ে আত্মহত্যা করেছে । কিন্তু কেনো আত্মহত্যা করেছে সেটা এখনও আমাদের অজানা। আমরা তদন্ত করে দেখবো আসল ঘটনাটা কি?? সুহান কোনোরকম দাঁড়িয়ে থানার বাহিরে বেরিয়ে আসলো। দেখলো বন্ধুরা থানার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, সুহানের অবস্থা দেখে তারা সুহানকে হাত বাড়িয়ে ধরলো, সাথে সাথে একটি গাড়িতে করে সুহানকে হাসপাতালে নিয়ে গেল। এই দিকে আত্মহত্যা করা মেয়েটিকে পোস্টমর্টেম করার জন্য জেলা শহরে নেয়া হয়েছে, সুহানকে তার বন্ধুরা বললো! সুহান হাসপাতালে আছে জেনে স্যার ও ছাত্রছাত্রী এসে সুহান তার কাজের জন্য বাহবা দিতে লাগলো। কিন্তু সুহানের শরীরের ব্যাথা সময় সময়ই আরো বাড়ছে, কিছু মুখে বলতে পারছেনা। শুধু ব্যাথায় কাতরাচ্ছে। এরপর অর্পি আসলো, পাশে বসে আছে আর চেচাইতেছে!! এতো মানবতা দেখাতে যাস কেন?? এখন দেখ তোকেই বিপদে পড়তে হলো! এখন কে তোকে দেখবে হ্যা!!! সুহান ভাবে অর্পি আসলেই পাগল, ওর পাগলাটে ভাবটাও সুহান কোনোভাবে মিছ করতে চায় না, তাই সে শুধু হাসে, যাতে অর্পি আরো রেগে গিয়ে কথা বলে! কিন্তু আজ আর অর্পি রাগছেনা, চোখ থেকে পানি ছাড়ছে আর সুহানের জন্য খাবার তৈরি করছে! সুহান শুধু তাকিয়ে আছে, সান্তনা দিবে সেটাই তার মনে নাই। খাবার তৈরি করে সুহানকে খাবার দিয়ে বললো এবার বকবক না করে খা!!! সুহানের হাত ব্যান্ডেজ করা, তাই সুহান বললো হাত ব্যান্ডেজ করা খাবো কেমনে?? কেন?? আরেকটা মেয়েকে এনে বল খাইয়ে দিতে !!! সুহান পাশে দেখলো একটা নার্স !! সে নার্সকে ডেকে বললো,এই যে নার্স আপু এই দিকে একটু আসবেন আমাকে একটু খাইয়ে দিবেন। অর্পি চোখ লাল করে সুহানের দিকে তাকালো আর নার্স তা দেখে হেসে হেসে চলে গেলো। অর্পি খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে সুহানকে খাইয়ে দিচ্ছে, আর একদিকে চোখ থেকে পানি ছাড়ছে, সুহান কিছু না ভেবে ব্যান্ডেজ করা হাত দিয়ে অর্পির একটি হাত ধরে বললো Sorry আর এমন হবে না বলে সান্তনা দিলো...। অর্পি অঝোরে পানি ছাড়ছেই, এটাই কি জন্মদিনের প্রাপ্তি ছিল। সুহান কানে কানে বললো, তুই কি আমাকে ভালোবাসিস!! ফালতু প্যাঁচাল বাদ দিয়ে খাওয়াতে মনোযোগ দেয় বলে অর্পি কথা ঘুরিয়ে নিলো। রোমিও, রাজ, জয় ভার্সিটি গিয়েছিল তদন্তের খবর জানতে তারা এসময় ফিরে আসলো। তদন্ত করে যে খবর পাওয়া গেলো তা তারা সুহানকে বললো, মেয়েটির নাম নাইমা, অনার্স থার্ড ইয়ারে ইংরেজি বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করে। সে একটি ছেলেকে ভালোবাসতো, ছেলেটির নাম ইমন । ইমন তার মায়া জালে আবদ্ধ করে সহজ সরল মেয়ে নাইমার সাথে রাত কাটায়। ফলে মেয়েটি প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়, নাইমা এজন্য ঐ বখাটে ছেলে ইমনকে জানায় যে সে প্রেগন্যান্ট!! ইমনকে অনুরোধকরে থাকে বিয়ে তাকে স্থী অধিকার দেয়ার জন্য , কিন্তু ইমন তাকে মেনে নেয় না উল্টো মারধর করে তাড়িয়ে দেয়, ফলে ইমনের কাছ থেকে তাড়া খেয়ে এসে একটি চিঠি লিখে ব্যাগের মধ্যে রাখে। চিঠিতে উল্লেখ করে ইমনের কারণে সে আত্মহত্যা করছে এবং ইমনের কুকর্মের বিচার চায় তারপর ভার্সিটির ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে। এসব শোনে সুহানের খুব কষ্ট হলো, আবেগ আর ধরে রাখতে পারলো না।কান্না করে দিল। হাসপাতালে মানুষ অবাক দৃষ্টিতে থাকিয়ে আছে। অর্পি তাকে অনেক সান্তনা দিল, কিন্তু কোনো সান্তনাই থাকে স্বাভাবিক করতে পারেনি। অবশেষে ডাক্তার এসে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে তাকে অচেতন করে রাখলো। ঘুম থেকে উঠে জেগে উঠে সুহান দেখে বাসায় তার রুমে ঘুমিয়ে আছে, পাশের দিকে তাকায়, দেখে অর্পি মাথার পাশে বসে ঝিমুচ্ছে, সুহান আর ঠিক থাকতে পারেনি, অসুস্থ শরীর নিয়ে অর্পিকে টান মেরে এনে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরলো, অর্পি এখন পুরোপুরি জেগে উঠেছে। জন্মদিনের সময় এখনো শেষ হয়নি। ঘড়িতে রাত ১১.৫০ মিনিট বাজে। অর্পি নিজেকে ছাড়াতে অনেক ব্যর্থ চেষ্টা করলো, কিন্তু পারলোনা। আরো বেশি ব্যর্থ হলো যখন সুহান ভালোবাসি বলে আরো জোরে জড়িয়ে ধরলো। অর্পি এখন আর কিছু ভাবছেনা। সুখের আনন্দে সে চোখের পানি ছেড়ে দিল। ঝড়িয়ে ধরলো উষ্ণতা দিয়ে, কারণ জন্মদিনের উপহার এটাই চেয়েছিল। নিজের মনে আঁকা মানুষটিকে কাছে পেয়েছে এরচেয়ে বড় পাওয়া উপহার আর কি হতে পারে???


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জন্মদিনের শেষ প্রহরে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now