বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জন্মদিন

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:কাল্পনিক হৃদয়[MH2] রাত বারোটা বাজতে আর মাত্র ৫ মিনিট বাকি।কিন্তু এই পাঁচটা মিনিট সময় যেন কাটতে চাচ্ছে না।কারণ আর পাঁচ মিনিট পরই আমার বার্থ ডে।আমি এই সময়টাতে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আনিকার সাথে চ্যাট করছি ফেসবুকে।অনেক কথার মাঝে আনিকা আমাকে বলল,,, আনিকা : জান আজকাল না আমি বার তারিখ সব ভুলে যাচ্ছি। আমি : হুমম,আমিও বার তারিখ সব ভুলে যাই।এস এস সি পরীক্ষার সময় সবাইকে জিজ্ঞেস করে বার তারিখ লিখতে হয়েছিল। আনিকা : হুমম,কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এটাতো নতুন। আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম আনিকা কি আমার বার্থ ডেও ভুলে গেছে??? তবে আমার মনে এই বিশ্বাসও ছিল যে আমার অন্যসব ফ্রেন্ডদের মতো আনিকারও নিশ্চয়ই মনে আছে আমার বার্থ ডের কথা।এরকম কথাগুলো চিন্তা করতে করতে চ্যাট করতে লাগলাম ওর সাথে। আনিকা : হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ ডিয়ার হৃদয়। আমি ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলাম বারোটা বাজে,অর্থাৎ একদম সঠিক সময়ে সে বার্থ ডে উইশ করেছে। আমি বললাম,,, আমি : আনিকা, আমার বার্থ ডের কথা তোমার মনে আছে??? আনিকা : মনে না থাকলে কি উইশ করতাম???আমি তোমার বার্থ ডে কী করে ভুলব??? আমি : হুমম, আমি জানতাম তুমি ভুলবে না। আনিকা : একটু মজা করলাম, যে আমি সব ভুলে গেছি।হি হি হি আমিও প্রতিউত্তরে হাসলাম। এমন সময় আরও কয়েকজন ফ্রেন্ডদের থেকেও হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ লেখা মেসেজ আসল।সেখানে দেখলাম আমার বেস্ট ফ্রেন্ড জাহিদুল,শিখা,রুবি আপু, সারা, রেহনুমা আপু,সুষমা,রনি ভাই, ইভা সহ সবার উইশও আছে।আমি বরাবরই কিছুটা ইমুশনাল মানুষ,তবে সবসময় ইমুশনাল নই।তবে আজ অনেকটা ইমুশনাল হয়ে গেলাম।চোখে পানি চলে আসল,কারণ আমার ফ্রেন্ডগুলো আমার বার্থ ডে মনে রেখেছে । মনটা খুব খুশি হয়ে উঠল। এতোক্ষণ পড়ার টেবিলে বসেছিলাম, এখন খুশি মনে পাশের রুমে বাবা মায়ের কাছে গিয়ে ডাক দিলাম। মা ঘুমের স্বরে বললেন,,," কী হয়েছে??? ডাক কেন??? " আমি বললাম,,," না মানে বারোটা বাজে,আর এখন থেকে তো ২৮ আগষ্ট।" বাবা বললেন,,," এতো রাতে তারিখ আর সময় না বললেও চলবে।যাও পড়তে বস গিয়ে।" আমাকে উইশ করবে না??? বলতে গিয়েও বলতে পারলাম না। মনটা খারাপ হয়ে গেল। পাশের রুমে আমার বড় বোন অন্তরা আপু পড়াশোনা করছে।তার কাছে গেলাম। আপু উইশ করলে অন্তত আব্বু আম্মুর উইশ না করাটা পুষিয়ে নিতে পারব।আমি আপুর রুমের দরজায় দাড়ালাম। দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে বললাম,,, "আপু কী বই পড়ছ???" আপু মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছিল।আমার দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে বলল,,," এইতো হিসাববিজ্ঞান বই পড়ছি।তুমি এখানে পড়াশোনা ছেড়ে এসেছ কেন??? কোনো পড়া বুঝতে সমস্যা হচ্ছে কী???" আমি বললাম,,,"না আপু, আসলে এখন তো রাত বারোটা পাঁচ বাজে,আর এখন তো ২৮ আগষ্ট।" আপু খানিকটা চিন্তিত হয়ে বলল,,, "হুমম,রাত ২ টা পর্যন্ত পড়ব।কাল এক্সাম আছে।মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।এখন যাও গিয়ে পড়তে বস।" আমি আপুর রুম হতে চলে আসলাম। মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল, আমার ফ্রেন্ডরা আমার বার্থ ডে মনে রেখেছে, অথচ আমার পরিবারের লোকেরা আমার বার্থ ডে মনে রাখে নি। কী আর করার, কিছুটা মন খরাপ করেই পড়তে বসলাম। পড়তে বসার সাথে সাথেই কারেন্ট চলে গেল। অন্ধকারে আমার ফোনটাও খুঁজে পাচ্ছি না, কোথায় রেখেছি মনে নেই।কোথায় কোন জিনিস রেখেছি এটা ভুলে যাওয়ার রোগ আমার দীর্ঘদিনের।কিছুতেই মনে করতে পারি না কোথায় জিনিসগুলো রেখেছি,পরে যখন ওইগুলো খুঁজে পাই তখন লক্ষ্য করি জিনিসগুলো আমার খুব কাছেই ছিল।একবার তো আমার ফোন খুঁজে পাচ্ছিলাম না,সারাবাড়ি খুঁজার পর ফোনটা শেষ পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছিল আমার প্যান্টের পকেটে। আজও কি আমার পকেটে ফোন আছে, পকেটে খুঁজলাম, না নেই।কী আর করা চার্জ লাইট এনেই পড়তে হবে।চার্জ লাইট রাখা আছে ড্রয়িংরুমে।অন্ধকারে অনুমানে হাটতে হাটতে ড্রয়িং,রুমের দরজার কাছে আসতেই হঠাৎ করেই আলো জ্বলে উঠল।আর সবাই জোরে বলে উঠল, "হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ,হ্যাপি বার্থ ডে ডিয়ার হৃদয়,হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ।" আমি তো ভেবাচেকা খেয়ে গেলাম।কারণ আমার ফ্যামেলি মেম্বারদের তো আমার বার্থ ডের কথা মনে ছিল না।লক্ষ্য করে দেখলাম ড্রয়িংরুমের মাঝখানে টেবিলে কেক রাখা,তার উপর এবং পাশে বেশ কয়েকটি মোমবাতি,আমি গুণে দেখলাম ষোলোটা।বাবা মা তো ঘুমিয়ে ছিলেন,আপু পড়ছিল,তাহলে এতোসব আয়োজন কখন করা হলো, আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। আমি দাড়িয়ে আছি দেখে আপু ডাক দিয়ে বলল,,, "কী ভেবেছিলে??? আমরা তোমরা বার্থ ডে ভুলে গেছি???" আপন মানুষগুলো যে কতো আপন হয় বুঝতে পারলাম আবারও।আপুর কথার উত্তরে আমি সম্মতি স্বরূপ মাথা নাড়ালাম। আম্মু বলল,,,"বোকা ছেলে, আমরা কি আমাদের প্রিয় ছেলেটার বার্থ ডে ভুলে যেতে পারি??? এখন আসো, কেক কাটো।" সামনে এগিয়ে গেলাম।আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে,তবে এই অশ্রু দুঃখের নয়, বরং এই অশ্রু আনন্দের। [কেমন লাগল??? আজ ২৮ আগস্ট।আমার জন্মদিন।তাই জন্মদিন উপলক্ষে গল্পটা লিখলাম। এখানে আমার সাথে ঘটা বাস্তব ঘটনার আদলে খানিকটা কল্পনা মিশিয়ে লিখেছি।আর আনিকা বা আমার পরিবার সবাই ওইরকম ভুলে যাওয়ার অভিনয় করেছিলlaughlaughlaugh] বি.দ্র.: অনেক সময় আর শ্রম ব্যায় করে গল্প লিখি,তাই দয়া করে কপি করবেন না। আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জন্মদিন
→ জন্মদিনের শুভেচ্ছা
→ আমাদের অনুসরণীয় জন্মদিন কি ঠিক!
→ বন্ধুত্ব ও জন্মদিন
→ জন্মদিন!!
→ জন্মদিন
→ জন্মদিনের শেষ প্রহরে
→ আজ রিয়ার জন্মদিন
→ আজকে বিন্দুর জন্মদিন
→ স্বর্ণীয় জন্মদিন
→ প্রেমিক প্রেমিকাকে জন্মদিনের শুবেচ্ছা যানালো
→ আজ নিলার জন্মদিন
→ আজ গল্পের ঝুড়ির জন্মদিন !!
→ শুভ জন্মদিন চাক নরিস
→ একটা অন্যরকম জন্মদিন পালন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now