বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জনম জনম-০১

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "জনম জনম" লিখেছেন-সাচৌ ১ রায়হান সাহেবের যেই বয়স সেই বয়সে প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে ৫ তলায় উঠা নামা করা দুঃসাহসিক কাজই বটে । তার উপর যদি সারাদিনের কাজের ঝামেলা আর জ্যামের ভেতর পাবলিক বাসে দাড়িয়ে ঘরে ফিরতে হয় তাহলে তো কথাই নেই। তিন তলা থেকেই বিরিয়ানির সুঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছে । নিশ্চিত সুরভী বিরিয়ানি গোত্রের কিছু রান্না করেছে আজ । মেয়েটা তার মনের কথা কি করে এত ভাল বুঝতে পারে আল্লাহই জানেন । অফিসের ক্যান্টিনে রোজ বিরিয়ানি রান্না হয় , কিন্তু ডাক্তারের কড়া নিষেধ উপেক্ষা করে বিরিয়ানি খাওয়া হয়ে ওঠে না তার । রায়হান সাহেব যে ভোজন রসিক তা না , তবুও বৃষ্টির দিনে একটু আকটু বিরিয়ানি খাওয়া হলে ডাক্তারি শাস্রকে বেশী অবজ্ঞা করা হবে বলে মনে হয় না । বেল দেয়ার আগেই দরজা খুলে দেয় সুরভী , তিনি ঘরে ফেরার আগ পর্যন্ত মেয়েটা মনে হয় বারান্দাতেই বসে থাকে । তাই যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘরে ফেরার চেষ্টা করেন তিনি । সারাদিন পরিশ্রমের পর মেয়েটার হাসিমুখ দেখলে সমস্ত ক্লান্তি কোথায় যেন পালিয়ে যায় । ‘বাবা হাতমুখ ধুয়ে এস, আজ একটা নতুন রান্না শিখেছি শায়েলার আম্মার কাছে’ মেয়ের অস্থির কণ্ঠ শুনে মুচকি হাসলেন রায়হান সাহেব। -বাবন কই রে ? -বাসায় ফেরেনি এখনও বাবা । সুরভীর কণ্ঠে হালকা বিরক্তি । -সে কি ! বাবন তো কখনও এত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকে না । রায়হান সাহেবের কণ্ঠে মৃদু উৎকণ্ঠা । -কি জানি বাবা , বাবনের যেই বয়স সেই বয়সে ছেলেরা কি সব করে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় । গত তিন চার দিন ধরেই এই অবস্থা । তুমি আজ একটু আগে এসেছ বলেই ধরতে পেরেছ বিষয়টা । -এখন খাব না রে ! বাবন ঘরে ফিরুক তারপর সবাই মিলে একসাথে খাব । -আমি কত কষ্ট করে সরিষা বাটা দিয়ে গরুর মাংস রান্না করলাম, আর তুমি বলছ খাবে না । সব আদর তো ওই বাবনের জন্যই । আমি যেন কেউ হইনা তোমার ! মেয়েটা অভিমানও করে ঠিক মায়ের মত, ছলছল চোখে পানি টলমল করছে । স্বভাবের এত মিল কি করে পেয়েছে মেয়েটা ? অথচ মাকে হারিয়েছে সেই পাঁচ বছর বয়সে । বাবন যেইদিন পৃথিবীতে আসে সেইদিনই রুমু তাদের একা করে চলে যায় । মনের অজান্তে চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন রায়হান সাহেব । তারপর হো হো করে বলেনঃ তাহলে একটু করে দে, খাই ! রায়হান সাহেব মাত্র প্লেট নিয়ে বসেছেন এর মাঝেই বাবন হাজির । ঘরে ঢুকেই সোজা রুমের দরজা বন্ধ করে দিল । - এই বাবন ! ভাত খেয়ে যা, বাবা বসে আছে । - আমি খাব না আপুনি, ক্ষিদে নেই । বাবনের এই কণ্ঠ রায়হান সাহেবের অপরিচিত, কখনও সে এমন আচরন করেনি । আজ কি হল ? একটু ভাবতেই খেয়াল হল বাবন প্রায় এক সপ্তাহ তার সাথে আড্ডা দেয় না । বন্ধু রাসেদের বোনের বিয়েতে যাওয়ার পর থেকেই এই অবস্থা । অথচ পিতা-পুত্র আগে কত আড্ডা দিতেন রাতবিরাতে । ছেলে একটু বড় হলেই আর পিতা- পুত্রের সম্পর্ক বন্ধুর মত হয়ে যায়। আর রায়হান সাহেবের মত বাবা হলে তো কথাই নেই । -বাহ কি রেঁধেছিস তুই , সিদ্দিকা কবির ফেইল ! মেয়েকে খুশি করার জন্য আরও দুই এক টুকরো মাংস খেলেন তিনি । রুমু কোথাও সিক্রেট রেসিপি লিখে রেখে গিয়েছে কি না কে জানে ? ২ রায়হান সাহেব দুই একবার দরজায় টোকা দিতেই বাবন দরজা খুলল । চোখ ফুলে ঢোল হয়ে আছে । -কিরে মেয়ে মানুষের মত বালিশে মুখ গুঁজে ফ্যাচফ্যাচ করছিলি নাকি ? আমার কপালে আল্লাহ এমন ছেলেই রেখেছিল শেষ পর্যন্ত ! তুই তো দেখি আমার মান সম্মান সব চোখের জলে ভাসিয়ে দিবি ! বাবনের চোখে মলিন হাসির আভা ছুয়ে গেল । আবারো হিচকে উঠল সে । -কি হয়েছেরে বাবন সোনা , ঢং করছিস কেন ? দৌড়ে এল সুরভী। -আপুনি তুই, এখানে আসবি না । যা গিয়ে তোর রূপচর্চা কর । বোনের কণ্ঠ শুনে বাবন লজ্জা পেল। সুরভী হি হি করে টিভি দেখতে বসল । রায়হান সাহেব বাবনের কাঁধে হাত রেখে বললেনঃ চল বারান্দায় বসি! - বৃষ্টি হচ্ছে তো, ভিজে যাবে বাবা । তোমার গায়ে তো দু এক ফোঁটা বৃষ্টি পড়লেই ঠাণ্ডা লেগে যায়। রায়হান সাহেব বুঝতে পারলেন বাবন তাকে এড়িয়ে যেতে চাইছে । - আরে পিতা-পুত্রের আড্ডা হবে, তাই দেখে বৃষ্টি ভাগবে! চল দেরী করিস না । ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে, সাথে হালকা বাতাস । উদাস হয়ে চুপচাপ কালো আকাশের পানে তাকিয়ে ভাবুক হওয়ার উপযুক্ত সময় । বাবন সেটা ঠিক ভাবেই কাজে লাগাচ্ছে । পাশে যে বাবা বসে আছে সেই দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। দুজন চুপচাপ বসে আছেন প্রায় দশ মিনিট । রায়হান সাহেব আসলে বাবনকে বোঝার চেষ্টা করছেন । মা মরা ছেলেটাকে কক্ষন একটু জোরে ধমক ও দেননি তিনি । সবসময় হৈ হল্লা করা ছেলেটার চোখে আজ একটু করে তাকালেই কেমন যেন ধক করে উঠছে বুকটা । বাবনের এই চাহনির সাথে রায়হান সাহেবের খুব পরিচিত এক যুবকের মিল আছে কোথায় যেন। তবে কি বাবনের সাথেও তেমন কিছুই হয়েছে ? আর অপেক্ষা করতে পারলেন না রায়হান সাহেব , বাবনের কাঁধে হাত রেখে নীরবতা ভাঙলেন তিনি । - বাবন । - হুম্ম বাবা । - বাবা বলিস না, আমি তোর কেউ না ! - কেন বলছ এমন কথা ? - আমি কেমন বাবা হলাম, আমার বাবনের কি কারনে মন খারাপ তাই জানি না ? উত্তরে বাবনের নীরবতা ছাড়া আর কিছু শোনা গেল না। সে হাঁটুতে মুখ গুঁজে চুপচাপ চোখের পানি ফেলছে । রায়হান সাহেব বাবনের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেনঃ আমি তোর কাছে কখনও কিছু লুকাইনি, শুধু একটা ঘটনা ছাড়া। আসলে মনেও ছিল না। আজ কেন যেন তোকে দেখে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ল । তোকে কেন বলছি জানি না, হয়ত জীবনের গভীর রহস্য কিছুটা আঁচ করতে পারবি তুই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জনম জনম-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now