বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ জলরং
পর্ব-3
লেখাঃ সানিয়াত আহম্মেদ
আমার কাছে খাওয়া দাওয়ার ব্যাপার গুলো বেশ যত্নশীল। কিছু দেশীয় খাবার আছে, যেগুলো রান্না আমি জানি না ঠিক কিন্তু মজাদার খাবার পরিবেশন চাই।
নিরা আর আমি খেতে বসেছি। নিরা চেয়ারে এক পাতে তুলে খায়। আমিও এক সময় দু পা চেয়ারে জোড়া করে বসতাম। ওকে দেখে আমারো মন চাইলো। ফুপিকে বললাম,
নিরা ফোন ঘাটছে, খাওয়ার টেবিলে বসলে আমার কথা বলার টপিক চাই, এমন টপিক যেখানে সবাই কথা বলবে। ইরার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা যায়,
- তুমিও বসে যাও, খেয়ে নাও।
- কয়টা বাজে তোর হিসেব আছে? একটু পর সন্ধ্যা। আমি দুপুর একটাই খেয়ে ফেলি। এত অনিয়ম সহ্য হয় না।
- ছোট বেলায় কত খেলতাম আমরা, আমি তুই, ইরা আপু, নিতু, আর মায়া। মায়ার কথা মনে আছে? আমাদের প্রতিবেশী। ওর সেদিন জমজ দুই ছেলে হয়েছে৷ এত ছোট্ট, আর মায়াবী৷ আমি ত মায়াকে বললাম, একটা আমায় দিয়ে দে।
- কিরে নিরা, ইরা আপু ফোন টোন দেয় নাকি?
- পরশু দিয়েছিলো। দেয় কম।
ফুপি আচারের বোয়েম টা বেশ জোড়ে রাখলো টেবিলে। তারপর বললো,
- ফুপি, বিয়ে করলে ইরার মতো পর হয়ে আমেরিকা ফ্যামিরাকা চলে যাব, তখন ভালো লাগবে? এই যে তুমি অসুস্থ, হাটতে পারো না ঠিক মতো, পায়ের হাড় ক্ষয়৷ পারো কিভাবে এত কাজ? আর তোমার মেয়ে ইরা, সে কত দূরে।
- হ্যাঁ, কার মেয়ে হয়েছে, ওর বিয়ে হয়েছে৷ এইগুলোই খেয়াল রাখ। তোর সম বয়সী কয়টা মেয়ে আছে বল তো। বিয়ে টিয়ে কর।
- মেয়েরা তো এমনই হয়। একটা সংসার, একটা অচেনা পরিবার সব্বাইকে আপন ভেবে নেয়।
- আমি পারবো না।
নিরা হেসে বললো,
খাওয়া টার মাঝে একটা আঘাত বোধ হলো। সত্যি বলতে অতীত নিয়ে এখনো আমার মনে তার ততোটাই স্থান।
কে বলেছে সে আমার অতীত। সে তো আমার অতীর নয়। তার স্মৃতি আমার শিরা-উপশিরায়।
স্কুল লাইফের প্রথম প্রেম ছিলো আমার। প্রথম আর শেষ। আমি এরপর আর প্রেম আসতে দেই নি আমার জীবনে, আর না আসতে দেবো। কারণ আমি সেকেন্ড চান্স চাই না, জীবন তো একটাই। সে আমার থেকে দূরে তাই ভালোবাসবো না? তার নাম? স্মরণ।
স্মরণের সাথে আমার প্রেমের গল্প স্কুলের বেড়ে ওঠা দিন গুলোর মতো প্রাণবন্ত। নিষ্পাপ কণ্ঠে হাজার বার তার নাম নিয়েও থামতো না। দোলের দিন ছিলো টানটানে সিঁথিতে কষে দুই বেণী করা। চারপাশে করোরবের এড়িয়ে আমি বাড়ির রাস্তার দিকে।
হঠাৎ কেউ পেছন থেকে হাত ধরলো। পেছন ফিরে চাইতে এক মুঠো আবির চোখে মুখে। আমার চোখ জুড়েতে আবির চলে গেলো৷ ভয়ে কুঁকড়ে পানি চলে এসেছিলো চোখে। স্মরণ তার পকেট থেকে রুমাল বের করে আমার চোখ মুছিয়ে দিয়েছিলো। ছল ছল চোখে তাকালে স্মরণ বললো,
- এখনো ওই ছেলেটাকে ভালোবাসো? কেন বলোতো।
- লেগেছে তোর নারে, আমি বুঝি নি। তাকা তো, নাকি জল আনবো?
আমি বলার ভাষা ভুলে গিয়েছিলাম। ওর থেকে হাত ছাড়িয়ে বাড়িতে এলাম। আসার পর তাকিয়ে ছিলাম আয়নাতে কিছুক্ষণ। আবির সিঁথি জুড়ে লাল রঙে টকটক করছে। মা চরম ভাবে বকলো, মুসলিম ঘরের মেয়েরা আবির খেলে না, কিন্তু আমি চাই নি, হুট করে রঙ শরীরে পড়লো।
আমি কেঁপে উঠছিলাম তার নাম নিতেই। এরপর সে আমায় দেখা হলেই কান ধরে থাকতো। মাফ চাইতো, ক্লাসের ফাঁকে সরি বলে দিতো। আমি মাথা ডাউন করে হাসতাম। কি অদ্ভুত সুন্দর দেখায় তাকে কান ধরে থাকলে।
আমি ভুলে গিয়েছিলাম, স্মরণ ঠিক কতোটা কাছে এসেছে আমার। তোর শ্বাস-প্রশ্বাস এর শব্দ আমি শুনতে পাচ্ছিলাম। ওর আবির রাঙা মুখের মুখোমুখি হয়ে ছিলাম। সে বার বার ঘাবড়ে বললো,
- ঠিক আছিস তো, আর করবো না। বল না।
চলবে......?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now