বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জলরং (২)❤

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Saniat Ahmed (০ পয়েন্ট)

X গল্পঃজলরং পর্ব-২ লেখাঃ সানিয়াত আহম্মেদ ঘুম থেকে ওঠার পর চারপাশ ধোঁয়াশা। মুখের উপরে ফ্যান কার্ক কার্ক শব্দ করছে৷ শব্দটায় মাথা ব্যাথার তীব্রতা বাড়াচ্ছে। ঘুমের পরে মাথা ব্যাথা একটুও কমে নি উলটো মাথায় ঝিম ঝিম শব্দ হচ্ছে। উঠে দাঁড়ালাম, পুরোনো খাটে তচমচ শব্দ হলো। ড্রেসিং টেবিলের দিকে তাকাতেই মনে পড়লো আমার মাইনাস থ্রী পয়েন্ট জিরো জিরোর একটা চশমা ভেঙে গেছে। চশমাটা গত তিন বছর ব্যবহার করার নাকের কাছে কালো দাগ হয়ে আছে। মোটা কালো চৌকোণো ফ্রেম টায় মায়াবিনী চোখ মোটা কাঁচের নিচে ঢাকা পড়েছিলো। নাকে গর্তের মতো কালচে দাগ। চেহারায় বিশেষত্ব না থাকায় নাকের দিকে যে কারোর দৃষ্টি চলে যাবে। অদ্ভুত লাগছে নিজেকে। মনে হচ্ছে চিমটা দিয়ে কালো গর্ত করা হয়েছে। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ওয়াশরুমে গেলাম। হাত ঘড়িতে দেখলাম পৌনে চারটা। পুরোনো ধরনের বাড়ির বাথরুম শ্যাওলায় ভরা। উপরে খোলা, তিনপাশে দেওয়াল, এক পাশ জুড়ে পুরোটা দরজা। একটা চাপকল, দুপাশে বড় বড় দুটো বালতি, আর একটি বল। বালতি দুটোতে পানি ভরা। গোসল করে নিলাম। ঠান্ডা পানি শরীরে পড়তেই নির্জবতা দূর হয়ে হীম ছুটলো শরীরে। নদীতে গোসল করার খেয়াল ছিলো। সেই ছোট বেলায় ডুব সাতার দিয়ে কতক্ষণ নিচে থাকে সেটার পাল্লা দেওয়া হতো। পানা ফুল গুলো কে আগে ছুঁতে পারে সেই জন্যে ছুটে যাওয়া হতো। একটা ক্রাইম ইনভেস্টিগেটর রিপোর্টার হয়ে প্রকৃতির প্রতি দুর্বলতা নিজেকে ভাবাচ্ছে। খুন-রাহাজানীর পিছে ছুটতে আজ ক্লান্ত। গোসলের পর মাথা ব্যাথা উপশম হলো।জরীমন আপা কে দেখতে পাচ্ছি না। চশমা টা ঠিক করা বড্ড জরুরী। সামনে একজন ছাতা মাথায় এগিয়ে আসছে। চোখে চশমা না থাকায় ছেলে না মেয়ে সেটাও বোধগম্য হচ্ছে না। চোখ আলতো করে ছোট ছোট করলে পূর্ব দৃষ্টির তুলনায় স্পষ্ট দর্শন হয়। তবুও আমি বুঝতে পারছি না, কে আসছে। ছাতা টার কারণে হয়তো। নিরা এসেছে। হাতে ঝালমুড়ি৷ রাস্তায় হেটে হেটে খাওয়া তার ছোট বেলার স্বভাব। আমায় নিরা বললো - আমি ঠিক দেখছি, গীত আপু, কখন এলি তুই? খাবি ঝালমুড়ি? হা কর। - কলেজ ছুটি হয় কখন? - একেক দিন একেক সময়ে। আজ হুট করেই প্যাকটিক্যাল ক্লাস বুঝলি। তাই এলাম, খুব দুর্বল লাগছে রে। - উচ্চ মাধ্যমিক এ হুট করেই প্যাকটিক্যাল ক্লাস হয় বুঝি? আমাদের ক্লাস ই হতো না ঠিক মতো। - আরে, কোচিং এর৷ সে তুমি বুঝবে না। মৃদু হাসলাম, একজন ক্রাইম রিপোর্টার এর কাছে তুচ্ছতম মিথ্যা এটা৷ আমার কাছে তুচ্ছতম মিথ্যার পুরষ্কার হলে এটা নিরাকে দিতাম। কোনো ক্লাসই এতক্ষণ হয় না। হয়তো কোনো ছেলে বন্ধুর সাথে ঘোরাঘুরি করছিলো। চশমা না থাকায় পর্যবেক্ষণ ত্রুটি হচ্ছে। হাত-পা, চাল-চলন, শ্বাস- প্রশ্বাসের বিভিন্ন ধরন থাকে, সেটা দেখে সত্য মিথ্যা বিবেচনা করা যায়। নিরার কথা চোখ বন্ধ করে মিথ্যা বলা যায়। আমি কথা ছেড়ে দিয়ে বললাম, - চশমার দোকানে যাবো বুঝলি, একা তো যেতে পারি না৷ কারণ অর্ধেক অন্ধ আমি। - চশমা কি হয়েছে তোর? - আর বলিস না৷ ভেঙে ফেলেলাম। মন ভুলো হয়ে যাচ্ছে। - বিয়ে টিয়ে করে ফেল, দেখবি পুরো ঝাক্কাস হয়ে যাবি। কত দিন আর সন্তাসীদের হ্যান্ড কাপ পড়িয়ে জিজ্ঞেস করবি, " কি ভাই, জেলে পাঠালাম তোমায়, কেমন অনুভব হচ্ছে?" বলেই হেসে দিলো। আবারও মাথায় ঝিম করে উঠছে। দুপুরে খাওয়া হয়নি। খেতেও মন চাইছে না। নিরা গোসল করতে গেলো। ফুপি ঘুম থেকে উঠলো, - তোরা কেউ খাস নি? নিরা এসেছে? - গোসলে গেল! - এই মেয়ে কেন যে এতো দেরি করে। যত্তসব, আয় খাবার বেরে দেই৷ - জরীমন আপা কই? সে থাকে না? - না সে কাপড় কাঁচে আর বাসন ধোয়, আর কুয়া থেকে জল তোলে। মাঝেমধ্যে ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করে দেয়। - মটর লাগাও না কেন?এখনো কুয়া.. - মটর আছে, এইখানে এক ঘন্টা ক্যারেন্ট থাকে ত পাঁচ ঘন্টা থাকে না। গ্রামের কুয়া বড় কলসির তিন কলসি আনলেই রান্না করতে হয়। কুয়ার পানির রান্নায় ভাত নষ্ট হয় না। সকালে রান্না করলে রাতেও ভাত ভালো থাকে। রান্নার খুটিনাটি বিষয়গুলো আমার কাছে অপ্রাসঙ্গিক। কারণ মাথায় কিছুই ঢুকবে না চলবে.....?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জলরং (২)❤

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now