বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ জলরং
পর্ব-১
লেখাঃ সানিয়াত আহম্মেদ
আমার দুটো সন্তানের লাশ আমার ঠিক চোখের সামনে পড়ে আছে। জলে ডুবে গিয়েছিলো ওরা। পেট ফুলে আছে, লাশ দুটো সাদা কাপড়ে দাফন করা হয়েছিলো, ওরাও খুব ফর্সা জানো? দেখতে বিকট লাগছিলো না। মনে হচ্ছিলো কোন হুর পরী শুয়ে আছে। "
নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির এক নারী আমার ঠিক মুখোমুখি বসে আছে। তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গল্প বলতে। আমার চোখের ব্যবহৃত আঁতশ কাচ ওরফে চশমা ভেঙে গিয়েছে। কট করে একটা শব্দ করেছিলো বসার পর। চেয়ারে চশমা রেখে সেখানেই বসলাম, মহিলার শ্রেষ্ঠ দুঃখের চেয়েও নিজের চশমার শোকে মাথার তিন চারটে তার ডিপ ডিপ করছে। চা বা কফি না খেলে প্রচুর মাথা ম্যাথা করবে। বর্ষার শুরু, এই সময়ে কাল বৈশাখি ঝড় হয়। তপ্ত দুপুরে এক রাশ ঘাম চুইয়ে যাচ্ছে শরীর থেকে। মহিলার বর্ণনা ঠিক চোখে ধরছে না৷ ঘিয়া রঙ এর শাড়ি পড়ে আছে। এখন সে সুর করে কাঁদছেন৷ কান্নার ধরন বেশ গ্রাম্য৷ টেনে টেনে কাঁদেন। এই ধরনের কান্না আজকাল আমাদের প্রজন্মের জন্যে হাসির খোরাক। কিন্তু আমার বেশ কষ্ট হচ্ছে মহিলার জন্যে। যে বাড়িতে বসে আছে, আমার ফুফুর বাড়ি৷ পুরোনো আমলের বাড়ি, ফুপা মারা যাওয়ার পর আর সারানো হয় নি। দেওয়ালের চুন-কাম খসে খসে পড়সে। বির্বণ শ্যামলা জমা দেওয়া একটা গন্ধ বের হয়ে আসে। মহিলার তীব্র ইচ্ছা আমায় গল্প শোনাবেন, আর আমি গল্প লিখবো আমার পত্রিকার কলামে। পত্রিকার লিখার ব্যাপারে আমি রহস্যময় কিছু কিছু, ফুপু অসুস্থ তাই মা দেখতে পাঠিয়েছে। রাস্তার যা অবস্থা। আমার নাম গীত। রেওজোয়ানা সিদ্দিকী গীত।
আমার মা সংগীত ভালোবাসেন খুব। তাই ডাক নাম গীত রেখেছেন। সাংবাদিক হওয়ার ধরুন ছদ্দনাম ব্যবহার করা শুরু করলাম। তাছাড়া আমার রেজওয়ানা নামটা কেউ সঠিক উচ্চারণ করেনি। কেউ রেজোনা, কেউ রেজেনা৷ তাই গীত বলি সবাইকে। মহিলা এখনো কান্না করছেন। কান্নার ধরন বলছি,
--- ওলোওওওওওও হো আমার হীরামওওওন রেএএএহ।
এহ শব্দটায় আমার সে জোড়ে টান দিচ্ছে।
যিনি কান্নায় ব্যস্ত তার নাম জরীমন। ফুপুর কাজে সাহায্য করে। উনাকে কাজের লোক বলতে মানা করেছে। উনি নাকি কাজের লোক শুনলে চরম রাগ করেন। ফুফুর দুই মেয়ে। বড় মেয়ে ইরা লন্ডনে আছে, তার হ্যাজবেন্ড সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে গ্যাজুয়েটেড। হলিউড এর কোন সিনেমায় যেন তার একটা ক্যামেরা টেক আছে। আর ছোট মেয়ে নিরা, কলেজে গিয়েছে। আমার চেয়ে বছর তিন চারেক ছোটো। আমি তাকে বললাম,
--- খালা, আমায় গল্পটা রাতে বলো। আমি নোট করে নেবো। এখন মন বসছে না।
--- কিন্তু আসল কতাই হুনলেন না। আর আমারে আফা ডাকবেন। আপনার ফুবু আমার দূর সম্পর্কের চাচী হন।
--- ওহ আপা, একটু চা দেবেন! কড়া লিকার, সাথে লেবু দেবেন, আবার আদা দিয়েন না, চিনি ছাড়া। মধু থাকলে অল্প মধু কিংবা গুড়।
--- মধু বা গুড় নাই।
--- কেন নেই! দেশের বাড়ি, গুড়, মধু, গাওয়া ঘি থাকবে এটাই নিয়ম। শীত কালে থাকলে খেজুরের রস। গরম কালে গাছের টক ফল। কতদিন জামবুরা খাই না। আচ্ছা কদম গাছ আছে এ বাড়ি!
--- ছিলো, চাচায় কাটি লাইসে।
--- এইগুলো কেন কাটে। আগে চা আনো। আমি একটু হাত মুখ ধুয়ে শুয়ে থাকবো। যদি ঘুমিয়ে যাই, ডাকবে না।
--- আফা, এর তে একবারে ভাত খেয়ে ঘুমান। ডাউলের সাথে জলপাই এর আচার আছে, অনেক টেস্ট, নিরা আফা রোজ খায়।
--- নিরা আসুক, এরপর পুকুরে গোসল করবো। অনেকদিন পুকুরে স্নান করি না। বাথরুমে যেমন একাকী পানি ঢালতে মজা। তেমন পুকুরে যত বান্ধবী তত স্বাদ।
বলেই আমি বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। চশমা ছাড়া দুনিয়া কত বিরল। সবকিছু চিকচিক করে।ধোঁয়াশা সব।
#চলবে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now