বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জিজেসদের সাথে সাক্ষাৎ ও আড্ডাবাজি!!!

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান তানিইইইইইম (০ পয়েন্ট)

X হেই হোয়াটস আপ কলিজার টুকরা পোলাপাইন!! ★আজকাল জিজেতে ঢুকলেই চোখে পড়ে,জিজের কথিত বীরদের দুরদর্শিতার জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গ! জিজেসদের অনেকেই ঝুড়িয়ানদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন অভূতপূর্ব কর্মকান্ড করে যেমন উদাহরণ সৃষ্টি করছে,তদ্রূপ নিজেদের সাহসীকতার ও জানান দিচ্ছে! এই যেমন ধরুন' কেউ জিজেসদের নিয়ে যায় নিজের এলাকায় ঘোরাতে,কেউবা কারো বিয়ে খায়,কেউবা সুন্দরবন অভিযানে যায়!!! কেউবা ৫৫হাজার বর্গমাইল বাংলার জমিনের এর গন্ডি পেরিয়ে (অবাক হয়ে) অ্যাডভেঞ্চারের জন্য পৌঁছে যায় পৃথিবীর ফুসফুস তথা অ্যামাজনের অভ্যান্তরে!!! সেখানে গিয়ে অ্যামাজনের বুক চিরে ছুটে চলে আর অ্যাডভেঞ্চার আর কৌতুহলের ক্ষুধা মেটায়!! ★আমিই বা কেন ঠ্যাংয়ের উপর ঠ্যাং তুইলা,সাপের মুখে ব্যাঙ ছাইড়া বইসা থাকবো! তাই আমিও একটা আনাড়ি সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, জিজেসদের সাথে দেখা করবো,যেই ভাবা সেই কাজ!!! জিজেসদের সাথে এই অকল্পনীয় অভিব্যাক্তি টা শেয়ার করলাম!এবং কেউ রাজি কিনা!! আমি তো কনফার্ম ছিলাম যে,নেগেটিভ একটা রেজাল্ট আসবে! কেউ হয়তো দুরত্বের অজুহাত তুলে আসবে নাহ,কেউবা নিরাপত্তার ঘাটতির কথা তুলে ধরে আসার অপারগতা প্রকাশ করবে,কেউবা এমনি আসবে নাহ!!! কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয়। সবাই আমাকে হতবাক করে দিয়ে,সবাই রাজি হলো। ওদের এই ইন্সট্যান্ট রেজাল্টের জন্য, আমি ভাবলাম হয়তো তারা এমন একটা দিনের জন্য সবাই উদগ্রীব ছিলো,যে সবাই দেখা করবে!! কারণ,হয়তো জিজেতে আসার পর, সবাইর সাথে পরিচিত হওয়া,কথা বলা,একটা আন্তরিকতা,ভালোবাসা,শ্রদ্ধা,স্নেহ,মায়া,মমতা,,ইত্যাদি একে অপরের প্রতি জন্মেছে! মিষ্টি ভালোবাসার ঝগড়া,খুনসুটি, চিমটি,পচাঁনো, ইত্যাদি হয়েছে! এইবার সরাসরি দেখা,এ যেন এক অবর্ননীয় অনুভূতি!! আর এদিকে যেই বলা সেই কাজ,তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে!! সবকিছুর সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত, দিক নির্দেশনাসমেত সবকিছু তদারকি করছেন মিঃ ফাইটোপ্লাংকটন! নির্দিষ্ট দিনে আগমন,আগমনের স্থান,হোটেল,ঠিকানা,অ্যাডভান্স ম্যাপ, সবকিছু কম্পলিট!! অবশেষে কাঙিত দিনটি এসে উপস্থিত! যে যার স্থান থেকে যাত্রা শুরু করলো,দুরত্ব বুঝে সবাই আগে পরে যাত্রা শুরু করলো! আমি ও সকাল ৯ঃ০০ টা নাগাদ যাত্রা শুরু করলাম!! দুপর গড়িয়ে পড়ন্ত বিকেল,এখনো যাত্রাপথে। মিঃ ফাইটোপ্লাংটন আমার খোজ খবর নিচ্ছেন!কোথায় আছি,কী অবস্থায় আছি! একই ভাবে তিনি সবাইর খোজ খবর নিতে লাগলেন! ৭ ঘন্টার জার্নি শেষে ঢাকায় পৌছা,বাস টার্মিনাল থেকে নেমে দেখলাম মিঃ ফাইটোপ্লাংক্টন এর ফোন! ফাইটোঃ হ্যালো আমিঃ স্লামালেকুম,ভাইয়ু,ঢাকায় ল্যান্ড করলাম! আসতেছি! ফাইটোঃআসো দ্রুত,ঠিকানা মোতাবেক রিকশা বা সিএঞ্জি নিয়ে দ্রুত আসো!! আমিঃহ্যা হ্যা,আমি ঠিক চলে আসবো,কে কে আসছে বা কেউ এসেছে কিনা হোটেলে! ফাইটোঃঃ সিংহভাগ সদস্য এসে হাজির! আমিঃ আচ্ছা,আল্লাহ হাফেজ আসছি!! রিকশা নিয়ে ঠিকানা মোতাবেক ছূটে চলা!! রিকশা মামা, প্যাডেল চালাচ্ছেন দ্রুত! একটা ট্রাফিক সিগন্যালে আটকা পড়লাম!!পথিমধ্যে দেখলাম যে দুইটা মেয়ে সদৃশ জীব,আমার রিকশার দিকে এগিয়ে আসছে!কাছে আসতেই দেখলাম,এরা নির্বাসিত গোষ্ঠী হিজড়া সম্প্রদায়! হাতে তালি দিয়ে আর পুরুষ কন্ঠে বল্ল! ১ম জনঃ অ্যাই টাকা দে! আমিঃ কেন? ২য় জনঃ টাকা দিতে বলছি,তুই টাকা দিবি,টাকা দে... ১ম জনঃ অ্যাই তুই তো অনেক সুন্দর, অনেক কিউট, মন্টু খন্টু,,,, অ্যাই অ্যাই!দে টাকা দে! আমি বুঝলাম,এরা সিনক্রিয়েট করার পাঁয়তারা করছে,তাদের হাতে ৫০ টাকার নোট দিয়ে রিকশা মামা নিয়ে কেটে পড়লাম!!! রিকশা গন্তব্যের দিকে ছূটে চলেছে........ ওহ এবার জিজেস গেস্টদের দিকে একটু ফোকাস দেই! আমাদের সাথে আছেন বা আজকে মিট আপ এ জয়েন করবেন,শুভ্র ভাই,শুভ সুত্রধর ভাই,মেহেরাজ ভাই,মফিজুল,ফাহাদ,রনি ভাই,আমি, হ্নদয়,মেহেদী প্রভা,ফারহান ভাই,সাইম ভাই,সামির, আরো গুটিকয়েক জন! আর আপি দের মধ্যে আছেন,রুবাইয়া,তুবা,সুসুমিতা,পুস্পিতা,তাহিরা আপি,নাইরা আপি,সাবিরা,অবন্তী, সামিয়া,ইসরাত আপি,রাওহা,ঐশী, আরো নাম না জানা গুটিকয়েক ঘসেটি খালা মার্কা আপি!! পড়ন্ত বিকেলে রিকশা এসে হাজির হোটেলের সামনে!! রিসিভের জন্য ছূটে এলেন,মিঃফাইটপ্লাংটন! সাথ এলেন শুভ্র ভাই,আর মেহেরাজ ভাই!! ফাইটোঃ এখন এলে,এরা হচ্ছেন মেহেরাজ আর শুভ্র! কুশল বিনিময় হলো গভীর ভালোবাসা দিয়ে!!! মেহা ভাইঃ পথে আসতে কোন কষ্ট হয় নি তো! আমিঃ না ভাই,একদম ফিটফাট! শুভ্র ভাইঃ আমরাও এই মাত্র আসলাম,ভাবলাম তোমাকে সমেত উপরে যাই,তাই রিসিভ করলাম! আমিঃ আচ্ছা,আর পথে আসতে তেমন কষ্ট হয়নি ডিএনএ হিসেবে!! মেহা ভাইঃ ডিএনএ হিসেবে মানে! আমিঃ ভাই এই ডিএনএ মানে ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড না,এই ডিএনএ হলো ঢাকায় নতুন আইছি!! শুভ্রঃ ওরেহ বাবা!ডিএনএ! হা হা হা ভাই ব্রাদার হাসতে হাসতে উপরে চল্লাম! গেস্ট রুমে প্রায় সবাই উপস্থিত!! ছেলেরা একরুমে, মেয়েরা একরুমে! ছেলেরা ছেলেদের সাথে আর মেয়েরা মেয়েদের সাথে আলাদা রুমে পরিচয় ও কুশল বিনিময় করতে লাগলো!! একটু পর ছেলে এবং মেয়েরা সবাইকে এক রুমে একসাথ করে সবাই সবাইর পরিচয় জানার জন্য! মেয়েদের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শ্রদ্ধাভাজন তাহিরা আপু আর ছেলেদের পক্ষে আছেন ইমরান শুভ্র ভাই!! প্রথমে সবাই সবাইকে সালাম দিয়ে হালকা খোজ খবর নেওয়া হলো! এর পর তাহিরা আপু ও শুভ্র ভাই একে অপরের সাথে পরিচয় করে দিতে লাগলেন!!ইতোমধ্যে ঠান্ডা পানীয় ও হালকা নাস্তা এসে উপস্থিত!সবাই কাপা কাপা হাতে জুস গিলতে লাগলো!! ইনি হচ্ছেন,নাইরা, ইনি হচ্ছেন রুবাইয়া,ইনি হচ্ছেন তুবা! এভাবে সবাই সবাইর পরিচয় দিতে লাগলো! একইভাবে শুভ্র ভাই আমাদের নাম পরিচয় দিতে লাগলেন!! এভাবে মিনিট পনেরো কেটে গেল!! এরপর ছেলে এবং মেয়ে একে অপরের সাথে কথা বলতে শুরু করলো!! সুস্মিতাঃ হাই মোহাম্মদ মফিজুল হোসেন ভাইয়া কেমন আছেন!! মফিজঃ জ্বী ভালো! এভাবে সবাই সম্মানের সহিত একে অপরের সাথে কথা বলতে লাগলো!! প্রভা হ্নদয় কে বাহু দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বল্ল- প্রভাঃ হ্নদয় ভাই,একটা জিনিস খেয়াল করেছেন! হ্নদয়ঃ কি জিনিস? প্রভাঃ এতোদিন যাকে মেয়েরা মফি বা মফিজ বলে ডাকতো,সে আজ মোহাম্মদ মফিজুল হোসেন ভাইয়া নামে পরিচিত!ইশ ঢং দেখে বাচিনা!! হ্নদয়ঃঃ হ্যা,,তাইতো! প্রভাঃ দেখেছেন,তানিম ভাইকে এখন কেউ আর নিম ভাই নামে ঢাকছে নাহ,উনি এখন মোহাম্মদ তানিম রাব্বী হোসেন ভাইয়া নাম সুপরিচিত! সবাইকে সম্মানের সহিত ঢাকা হচ্ছে!বাব্বাহ! হ্নদয়ঃ মনে হচ্ছে,সবার উপর সম্মানের ডালের বাটি ঢেলে দেওয়া হচ্ছে!!! নাইরাঃ মেহেদী হাসান প্রভা ভাইয়া কেমন আছেন! প্রভাঃ হ্যা,আছি আর কিহ ভালোই! *প্রভাঃ দেখেছেন, হ্নদয় ভাই,আজ আমি প্রভা ভাইয়া নামে পরিচিত,যেন প্রভা আপি নামটা বিলুপ্ত হয়েই গেছে!! *তুবাঃ কেমন আছেন তানিম ভাইয়া!? আমিঃ আছি আর কিহ,তোমাদের জ্বালা যন্ত্রনায় ভালোই! রনিঃ দেখুন আমার নাম রনি? শুভ ভাইঃ আপনার কেউ জিজ্ঞেস করছে,আপনি আপনার নাম বল্লেন যে? *রনি ভাইঃ আহারে,এমন করছেন কেন,বল্লাম আর কিহ,সবাই যেহেতু নাম পরিচয় নিচ্ছে,তাই আমিও দিলাম!! এভাবে নাম পরিচয় এর মধ্যে দিয়েও হাসি ঠাট্টা হতে লাগলো!! মিনিট বিশেক পরে,সবাইকে নিয়ে যাওয়া হোটেলের রুফটপ এ!! আড্ডা চল্লো রকেটের গতিতে!! সবাই সবাইর সাথে মোটামুটি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে লাগলো,সবাই আপনি থেকে তুমি তে কেউ বা তুমি থেকে তুই তে নেমে এলো,,যে যার বয়সী,সেই অনুপাতে!!! সাইম ভাই,তার ডিএসএলআর দিয়ে ছবি তুলতে লাগলেন,গ্রুপ ছবি,সিঙেল ছবি সবাই সানন্দে পোজ মারতে লাগলো!! সন্ধা নেমে এলো!! মিঃ ফাইটোপ্লাংকটন সবাইকে সন্ধার নাস্তায় ডাকলেন!! সবাই টেবিলে একে অপরের মুখোমুখি বসলো,মেয়েরা একপাশে আর ছেলেরা একপাশে!! খাবার এসে উপস্থিত!! প্রতি জনের জন্য খাবার হলো, পিজা দুই পিস,বার্গার এক পিস,চিকেন পাস্তা,মাশরুম স্যুপ আর স্পেশাল লেমন জুস!!! সবাই সানন্দে খেতে লাগলো!! রনি ভাই ছোট একটা চিমটি কাটলেন! রনি ভাইঃ আরেহ ভাই কি কমু,গেস্ট রুমে দেখলাম, মেয়েরা লজ্জায় কিছু খাচ্ছেই নাহ,আর এখন দেখছি সবাই গরুর মতো গ্রোগাসে খাচ্ছে!ব্যাপার কিহ!! সাবিরাঃ দেখেন,দাদু, খেতে বসছি এখন কিছু বলবেন নাহ,বেশি হষ্টিনষ্টি করলে আপনাকে বার্গার এর ভিতর ঢুকিয়ে চাপ দিয়ে খেয়ে ফেলবো!চিনেন হু হু! রনি ভাইঃ কি দাজ্জাল মেয়েরা ভাভা!আচ্ছা,সাবিরা তুমি যে তোমার বান্ধবীকে নিয়ে আসলা,ওর নাম কিহ?? সাবিরাঃ বলবো নাহ!হু হু *রনি ভাইঃ কেন? ফাহাদ বার্গার চিবুতে চিবুতে বলে, ফাহাদঃ আমি জানি নাম? রনি ভাইঃ কি নাম! বলোতো! ফাহাদঃ ওর নামের মত মিল আছে,সাবিরার বান্ধবী সাবানা!! *আমিঃ সাবানা! হা হা ও মাগো কি যন্ত্রণা! সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো!!! এদিকে প্রভা বেচারা লেমন জুস একশ্বাসে খেয়ে বাম হাতের পিঠ দিয়ে মুখটা মুছে নিলো!!! আমিঃ প্রভা,কি শুরু করলা ভাই,মানুষ না জুস টাকে পাইপ দিয়ে খায়!তুমি দেখছি গড়ত গড়ত করে খেলা, এভাবে খেলে তো সব ধবংস হয়ে যাবে! *প্রভাঃ হে গুরু হোজায় শুরু!!আঁই এত্তো কিছু বুঝি নাহ,আঁর হেটে ভোগ লাগছে,হেয়াল্লাই খাইতেছি!নো ডিস্টাপ! হ্নদয়ঃ বাংলাদেশ ধ্বংস করার জন্য প্রভার মত ছেলেরাই যথেষ্ট!! ফাহাদঃ ভাই দেশে এখন অভাব, একটু কমাই খাও!! *প্রভাঃ এরে হোলাহাইন খানা নিয়ে চুদুরবুদুর করিস নাহ,খাইতে দাও! শুভ ভাইঃ এতো খেয়ে লাভ কি,দিনশেষে সব তো বাথরুমে যায়! *প্রভাঃঃ হ আঁর সব বাথরুমে যায়,আর আন্নের সব কি চান্দে যায় নাকি?? তাহিরা আপুঃ খেতে বসলে এতো কথা বলতে নেই!! প্রভা একটু উঠে গিয়ে আরেকটা লেমন জুসের অর্ডার দিলো! এসে দেখলো, তার বার্গারের ভিতরের চিকেনের অংশ টা নেই!শুধু পড়ে আছে খালি বার্গার, উপরে বাটার নিচে বাটার মাঝখানে খালি!! সন্দেহের তীর মফির দিকে,মফি এই কাজ করেছে! *প্রভাঃ মফি তুই আমার বার্গারের চিকেন খেয়ে বার্গারের শ্লীলতাহানি করেছিস,তাই নাহ! মফিঃ হা হা, না আমি খাইনি!! *প্রভাঃ আমি তোর কলিজা খামু বার্গারের ভিতরে ঢুকিয়ে ,শালা!! এদিকে সাইম ভাই এইচ জি ওয়েলস এর দা ওয়্যার অব দা ওয়ার্ল্ডস বইটি পড়তে লাগলো আর খেতে লাগ্লো!!! শুভ্র ভাইঃ ভাই আপনি খাওয়ার সময় বই পড়ছেন,এর কোন মানে হয়? সাইম ভাইঃ ওই মিয়া,ছোট কাল থেকেই শুনেছি,দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষা অর্জন করতে,তাই আর কিহ!!! সবার খাওয়া দাওয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে! এর মধ্যে বেজে উঠে একটা গান' হুজুর হুজুর মুরকা চোর,বেড়া ভাইঙা দিছে দৌড়!! আসলে ওটা প্রভার ফোন ছিলো!সে ফোনটা রিসিভ করে ব্যালকনিতে চলে গেলো! মফিও পিছু নিলো!!! মিনিট পাচেক পরে ফিরে এসে, সবাইকে বল্ল! মফিঃ সবাই একটু বারান্দায় আসুন, একটা মজা দেখবেন, প্রভা তার গার্লফ্রেন্ড ছকিনার লগে কথা কয়! সবাই অতি সন্তপর্নে প্রভার পিছনে এসে দাড়ালো! আহা প্রভার সেকি প্রেমালাপ!!!! ছকিনাঃ জানু আমার, তুমি কুতায়? *প্রভাঃ কইলজা, আঁই অন হড়ালেয়া কইত্তে আছি হড়ার টেবিলে আছি! *ছকিনাঃ তাই নাকি! * প্রভাঃ হহ জান!তুমি কি করো! *ছকিনাঃ আমি শুয়ে আসছি ঘুম আসছে নাহ!! প্রভাঃ আহারে,ঘুম আসেনা!আহা!তাইলে একটা গান হুনাই? *ছকিনাঃ আচ্ছা, শোনাও,তুমি ইস্কুতেরির গান গাইবা নাকি সোনাবানুর গান গাইবা! *প্রভাঃ আরে নাহ এক্কান ডিজিটাল গান গামু,তুমি হুইন্তে থাও! প্রভার গান----- তুমি এসেছিলে পরশু! কাল কেন আ সো নি! হেই, তোমাকে আর আসতে হবে নাহ! আমি তো আর তোয়ারে চিনি নাহ! আমার ঘরে বউ আছে দুজনা, এক জনের মর্জিনা এক জনের কারিনা! ছকিনাঃ কিকিকিহ ,গোলামের পুত,তোর ঘরে বউ আছে,আবার আমার পিরিত মারাস,শালা লম্পট! *প্রভাঃ আরে বইন,এইডা গান, আমার কোন বউ নাই,বুঝলা বইন আমার রাগ করেনা লক্ষী! *ছকিনাঃ কিহ আমি তোর বইন লাগি,তুই আমার ভাই!শালা! *প্রভাঃ ও থুকুকু,, বইন নাহ বউ,সোনা,পাখী,লক্ষী,জান!!আইচ্ছা,জান কাইল তো আমার আর তোমার প্রেমের ২য় পুর্তি! তুমি আমার কাছে কি চাও! *ছকিনাঃঃ কি আর দিবা,একটা রিং দিও! *প্রভাঃ আরে জান,রিং তো দিমুই,আর কি দিমু.... পিছন থেকে জিজেস রা একসাথে বলে উঠলো! #তালাক দে,তালাক! সবাই হাসতে হাসতে শেষ! এবংং সবাই চলে আসলো, প্রভার বুঝতে বাকি রইলো নাহ,এসব মফির কান্ড, মফি প্লান করেই তাকে পচাইলো!! প্রতিপক্ষকে হারাতে পেরে মফি তখন ফুরফুরে মেজাজে গান ধরলো! যেতে যেতে পথে, পুর্নিমা রাতে! চাঁদ উঠেছিলো গগনে, হেই হেই দেখা হয়েছিলো,তোমাতে আমাতে! কি জানি কি মহালগ্নে! শালা,চাঁদ উঠেছিলো গগনে!!! কেমন দিলাম প্রভাহহহহ ভাইয়ু!! প্রভা যখন রাগে ও লজ্জায় গজগজ করতে লাগলো,মফিজ্জা, তোরে মাইরা বাইর করুম পিজ্জা! আমারে পচাইয়া গান গাওয়া হচ্ছে!! তখন তারা ও টেবিলে চলে আসলো! সবাই আবার খাওয়াতে মনোযোগ দিলো,আর এদিকে তো প্রভাকে নিয়ে ট্রলড হচ্ছে,পাশাপাশি আকিতা ভাবীর হাব্বিকে পচানো হচ্ছে!!! প্রভাঃ আচ্ছা,তানিম ভাই,এডা কিসের জুস! আমিঃ এইটা হচ্ছে,স্পেশাল লেমন জুস! প্রাইস হচ্ছে ১১০ টাকা! প্রভাঃ মাজ্ঞো মাহ,১১০ টেয়া নি,কি আছে এইডার ভিতর,লেবু কদ্দুর ছিপি রসা বের করে আর পানি যোগ করে,এইডা নি স্পেশাল! খেতাহুড়ি! আংগো এলাকার কাল্লু লেবু ছিপি রসা বেচে ২০ টেয়া করি!দেখছেন নি এল্লা,স্পেশাল লেমন জুস ১১০ টেয়া আর লেবুর শরবত ২০, টেয়া,হিচা মারি আভিজাত্যর কয়ালো!!! আমিঃ ভাইরে,এইডা ঢাহা শহর,সব কিছুতে চুদুরবুদুর! প্রভাঃ আইচ্ছা ভাই,এইডা কি! আমিঃ এইটা হচ্ছে,স্পেশাল মাশরুম স্যুপ! প্রভাঃ এহহ, ব্যাঙের ছাতা দিয়া,হানি আর অলিদ মরিচ যোগ করি বানাই কয়,স্পেশাল মাশরুম স্যুপ,,,আবারও হিচা মারি আভিজাত্যর কয়ালো!!! আমিঃ ভাই আমি নিহত!!! আর না জ্বালিয়ে খাও! খাওয়া দাওয়া শেষ!! সবাই রুফটপে আমব্রেলা শেড এর নিচে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে মুক্ত পরিবেশে বিশ্রাম করতে লাগলো!!! তুবাঃ তাহলে একটা গানের আড্ডা হয়ে যাক,কী বলো সবাই! রুবাইয়াঃ হ্যা,হয়ে যাক,আমাদের মধ্যে গান ভালো পারে কে?? ফাহাদঃ পুস্পিতা, ভালো গান পারে,,পুরাই রানু মন্ডলের মত ঝাক্কাস!! সুস্মিতাঃ তাই নাকি!তাহলে শুরু করো!! পুস্পিতাঃঃ আরে নাহ,আমি কোন গানই পারি নাহ!!! অবশেষে সবার পীড়াপীড়িতে পুস্পিতা গান ধরলো!রানু মন্ডলের কন্ঠে রানু মন্ডলের গান!! আহা হা আহা!আ আ আ আ উউ আ তেরি হি মেরি হি! তেরি মেরি! তেরি মেরি হি কাহানী!!! রনি ভাইঃ বাব্বাহ, কন্ঠ তো নয়,যেন ফাটা বাশ!! পুস্পিতাঃ এইডা হইলো!এত সুন্দর গান গাইলাম!এত্তো অপমান!কেউ প্রশংসা বল্ল নাহ!! * আমিঃ প্রশংসা,প্রশংসা, প্রশংসা, খুশি!!! পুস্পিতাঃ তেংকু! আমিঃঃ বাই দা চৌরাস্তা, হ্নদয় তো ভালো কবিতা পারো, দুই একটা বলো তো!! হ্নদয়ঃ আমি পারি নাহ! নাইরা ও তাহিরাঃ আরে ধুমডাড়াক্কা একটা ম্যাগী নুডলস এর মত ২ মিনিটে কবিতা বানাও তো!কুইক!! হ্নদয়ঃ তানিম ভাই,আপনারে নিয়া একটা বানাইছি, শুনবেন!তবে কিছু বলতে পারবেন নাহ আপনি! আমিঃ হ্যা,প্লিজ! হ্নদয় শুরু করলো, তার ইন্সট্যান্ট কবিতা! **তানিম ভাই এক পায়ে দাড়িয়ে! সবাইকে ছাড়িয়ে! ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে! শেফালিকে কাঁদিয়ে! ফুলবানুকে এড়িয়ে! বিলকিছকে সাথে নিয়ে, বাংলার গন্ডি পেরিয়ে, অজানায় গেলো হারিয়ে!! রুবাইয়াঃ আয় হায়,তানিমের প্রেস্টিজ পুরা ফালুদা বানিয়ে দিলো!!! অবন্তীঃ তানিম ভাইয়ার অনুভূতি কি! আমিঃ আই এ্যাম ইন্তেকাল! নাইরা আপুঃ তানিম ভাইয়া,আজ ইন্তেকাল করলে, আগামীকাল তো মারাই যাবেন!! এভাবে মিষ্টি পচানিতে চলতেছে,আনন্দ উৎসব! পথিমধ্যে মিঃফাইটোপ্লাংক্টন একটা বড় বাক্স নিয়ে হাজির হলেন!! সিয়াম এবং সামিয়াঃ এইটা কি ভাইয়া!!! মিঃফাইটোপ্লাংকটনঃঃ এইটা হলো আমার মাথা আর তোমাদের মাথা! সুস্মিতাঃ বলেন না,এইটা কিহ! *রনি ভাইঃ এইটা আলাদ্দীন এর ভাই কুতুবউদ্দিনের জাদুর বাক্স! হা হা হা! মিঃ ফাইটোপ্লাংকটন বাক্স টাকে খুলতে আমাকে ইশারা দিলেন!! তুবাঃ এইটার ভিতর কি আছে!!ভাইয়া! আমিঃ ভাইরে,তুমি যেখানে,আমিও সেখানে, কীভাবে বলবো এইটা কিহ? আমি সন্তপর্নে বাক্সটা খুললাম,এবং বাক্সটাকে উল্টিয়ে দিলাম! গজ কজ কজ শব্দে,গড়িয়ে পড়লো বিপুল পরিমাণ নামি দামি চকলেট!!! মিঃ ফাইটোপ্লাংকটন বল্লেন, এখানে আছে ৩৮টি ফ্লেভারের প্রায় ১২০০ চকলেট!!!! সবাই ক্ষনিকের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে রইলো!! এর পর হুররে বলে এক চিৎকার দিলো!!! সাবিরাঃ হোয়াট এ সারপ্রাইজ, ভাইয়া, তুবাঃ আমি তো বিশ্বাস ই করতে পারছি নাহ!! মিঃফাইটোঃ কি আর করবো,সবাই চকলেট আর আইসক্রিম খাবে বলে,জিজেতে কান জ্বালা পালা করে দিছো, এইবার পেট পুরে খাও! সবাই চকলেট নিয়ে খেতে লাগলো!! মেহেরাজ ভাই একটা প্যাকেট ছিড়ে খেতে যাবে,ঠিক তখন ই প্রভা থাবা দিয়ে চকলেট টি নিয়ে মুখে পুরে দিলো! মেহেরাজ ভাইঃঃ কি ব্যাপার ভাই,আমার হাত থেকে কাইড়া নেওয়ার কোন মানে হয়? টেবিলে তো পর্যাপ্ত চকলেট আছে!!! প্রভাঃ আসলে ভাই,বুইজ্জেন নি,আঁই প্রচুর আলসিয়া (অলস)! নিজের হাতে চিড়ে খেতে ইচ্ছ করে নাহ,আন্নে ছিড়ি দেন আঁই খাই!! শুভ ভাইঃ আহারে অলস রে!! প্রভা একটা কিন্ডার জয় হাতে নিয়ে মফি দেখায় আর বলে! *প্রভাঃ দেখছোত নি,মফিজ,এইডা কিহ! মফিঃ ইট ঈজ আ ডিম! *প্রভাঃ তুই শুধু নামে মফিজ নাহ,কামেও মফিজ!এডা অইছে কিন্দার জয়,অকাহ?? মফিঃ তো মুই কি করুম!! *প্রভাঃ তুই শালা,ছকিনার কিন্ডার জয় পাবি ,কিন্তু কিন্ডার জয় এর খেলনা পাবি নাহ!!হু‌!! এইভাবে চকলেট আওয়ার চলতে লাগলো!! সুস্মিতাঃঃ আচ্ছা,কি খেলা যেতে পারে? সাইম ভাইঃ চলো কুইজ কুইজ খেলী! ফারহান ভাইঃঃ আরে নাহ!! রুবাইয়াঃ ট্রুথ অর ডেয়ার খেলি চলো!! চলবে না দৌড়াবে!!!! আপাতত এইটুকুই!! পরের পার্ট আসছে শীঘ্রই!! আল্লাহ হাফেজ!! এখন ঘুমদেবীর কোলে ঢলে পড়বো! টাটা, বায়!!! TAKE CARE,,,, আলাবু গায়েজ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জিজেসদের সাথে সাক্ষাৎ ও আড্ডাবাজি!!! বাকী অংশ!
→ জিজেসদের সাথে সাক্ষাৎ ও আড্ডাবাজি!!!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now