বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
দুরুদ ও সালাম রহমাতুল্লিল আলামীন, আল্লাহর হাবীব,ঈমানদারের প্রাণের স্পন্দন, আমাদের জান এবং সবকিছুর চাইতেও প্রিয় হাবিবে কিবরিয়া নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি।
আল্লাহুম্মা সল্লি আ'লা মুহাম্মাদিন আফদ্বলা সলাতিকাআসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলুল্লাহ।আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া হাবীব আল্লাহ।আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রহমাতুল্লিল আলামীন।
মেহেরবান,কোরবান,কলিজার টুকরা পোলাপান, হেয়ার ইজ বিজয়(পিচ্চি হুজুর) এন্ড তোমাদের জন্য নিয়ে আসলাম আরও একটি ব্রেন্ড নিউ রোমাঞ্চকর ভ্রমনমূলক গল্প।
এবারের ভ্রমণের স্থান হলো পৃথিবীর সবথেকে বড় পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট।এখানে যে কেউই চাইলে যেতে পারে না!
এরজন্য কঠোর ট্রেনিং নিয়ে বাছাই করে তারপর এভারেস্ট জয়ের জন্য আরোহি নির্বাচন করা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ থেকে একটি সংস্থার আওতায় ৬৩ জনের একটি দলকে পাঠানো হবে।এর জন্য করতে হবে ৬ মাসের কঠোর ট্রেনিং।জিজেসরা এই খবর পেয়ে সবাই এপ্লিকেশন করলো!কিন্তু ছোট হওয়ায় প্রাথমিক আবেদন থেকেই বাদ পড়ে গেলো সকল জিজেস।যার ফলে সবার মনই খারাপ হয়ে গেলো।
কিন্তু বিশেষ একটি সরকারী সংস্থা যা কিশোরদের জন্য বিশেষভাবে ট্রেনিং দিয়ে পর্বত আরোহন করা শিখায়। তাদের লক্ষ্য ছিল এবার ২৩ জনের একটি কিশোর দল পাঠাবেন এভারেস্ট জয়ের জন্য।আল্লাহর অশেষ রহমতে এই ২৩ জনের ভিতর থেকে ১১ জন জিজেস চান্স পেয়ে যায় এই ভ্রমনে।
তারা হলো তানিম,লুমি ভাইয়া,তারিন আপু,হৃদয়,বিজয়(পিচ্চি হুজুর),রিদাপু,মিশুপু,মুস্তাফিজ,ইসরাত আপু,সামিয়াপু,ইকবাল মাহমুদ।
(বাকী জিজেসরা মন খারাপ করার কিছু নাই, গল্পে বাস্তবের রুপ দেওয়ার চেষ্টা করার কারনে মাত্র ১১জন ধরেছি ইনশাআল্লাহ সামনে যখন আরও গল্প দিবো তখন তোমাদেরকেও নিয়ে যাবো)
টানা ৬ মাসের কঠোর ট্রেনিং শেষে ১১ জন জিজেসসহ মোট ২৩ জনের একটি দল উড়ে যায় নেপালের উদ্দেশ্য।
মাউন্ট এভারেস্ট সম্পর্কে একটু ধারনা দেওয়া যাক,
এর আয়তন ৮৮৪৮ মিটার এবং যে চূড়ায় পৌঁছানো প্রচন্ড কঠিন একটি কাজ। কিন্তু বর্তমানে যে কঠিন কাজ অনেক পর্বতারোহীরা সম্পন্ন করেছে এবং আরো করবে। মাউন্ট এভারেস্টে যাত্রাকালে গড়ে প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু ঘটে। তবে যদি এই অবস্থা আজকের দিনে ঘটে থাকে তবে প্রথম মাউন্ট এভারেস্ট আরোহীদের কি অবস্থা হয়েছিল খালি একবার ভেবে দেখুন।
পৃথিবীর মধ্যে সবথেকে বড় পর্বতমালা মাউন্ট এভারেস্টে উঠার স্বপ্ন ১৯২১ সালের আগে থেকেই শুরু হয়। কিন্তু সেই পর্বতমালার শৃঙ্গে কেউই উঠতে পারছিল না। কেননা এভারেস্টে উঠাটা খুব একটা সহজ ব্যাপার নয়। যেখানে পৌঁছানোর জন্য খুবই জটিল এবং ভয়ংকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়। কারণ ঊনত্রিশ হাজার ত্রিশ ফিট উঁচু পর্বতের রাস্তায় অনেক মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে আর এই মিশনে আজ অব্দি অনেক লোক পরাজিত হয়েছে আবার অনেক লোক মারাও গেছেন। এমনকি এই পর্বতমালাতে এখনও অনেক মানুষের মৃতদেহ বরফের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে যা আজও পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এসব ঘটনার পরেও কিছু সাহসী মানুষ হার মানেনি।
জিজেস এবং তাদের টিম পর্বতারোহণ শুরু করে ৯ জুলাই ২০২১ সালে। বরফের রাস্তা, মাইনাস টেম্পারেচার, হিম নদী, নদী থেকে ভেঙে পড়া বরফের পাহাড় এবং বরফের খাত ইত্যাদি বাধা এবং প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে তারা একটির পর একটি ক্যাম্প তৈরি করে চলেছিল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে থাকে।
মোটামুটি বিশ হাজার ফুট উপরে ওঠার পর একটি ছোট্ট পাহাড়ের খাদকে পার করার জন্য বিজয়,তানিম আর হৃদয় লাফ দেয় কিন্তু তাদের ভরের কারণে বরফের রাস্তা সেখান থেকে খসে পরে আর সেই মুহূর্তে ওরা প্রায় বরফের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারাতে বসে। তখনই সময় থাকতেই লুমি ভাইয়া পেছন থেকে তাদের দিকে দড়ি ছুড়ে দেয় আর সেই দড়ি ধরে দুষ্টুর দল কোনো রকম প্রাণে বেঁচে যায়।
আর এরপরই ২৩ জনের কিশোর টিম আস্তে আস্তে এভারেস্ট পর্বত শৃঙ্গের কাছে চলে আসতে থাকে।কিন্তু জিজেসদের আগে পর্বত আরহন শুরু করে চার্লস ওয়ারনের ১০জন দল। যারা জিজেসদের দলের অনেক আগে এভারেষ্ট চূড়ার দিকে এগিয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ কোনো কারণে চার্লস ওয়ারনের টিম এভারেস্টে উঠতে ব্যর্থ হলে বা পর্বতারোহণ বন্ধ করে যদি ফিরে আসে তবে তারপরই জিজেসদের দল এগিয়ে যেতে পারবে। জিজেসরা মোটামুটি অর্ধেকের বেশি পর্বতারোহণ করে ফেলেছিল কিন্তু এভারেস্টের একেবারে কাছাকাছি আসার শেষ খাঁদটি অত্যন্ত কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ছিল আর যেখানে পৌঁছাতে গিয়ে অনেক অনেক পর্বতারোহীরা নিজেদের জীবন ত্যাগ করেছেন।
ঠিক সেখানে মাউন্ট এভারেস্টের শিখরে কাছ থেকে চার্লস ওয়ারনের টিম ৩০০ ফুট দূরে ছিল কিন্তু চার্লস ওয়ারন এবং তার সাথীরা খুবই ক্লান্ত ছিল। তাদের শরীরে আর চলার মত শক্তিও ছিল না এবং তাদের এক পা চলার মতো ক্ষমতাও ছিল না। তাই তারা শৃঙ্গ থেকে প্রায় ৩০০ ফুট দূর থেকে ফিরে যায়। ঐ দলটি চলে আসার পরে জিজেসদের দল অটোমেটিকেলি আগে চলে আসে এবং তারা একটি রাত ঘুমানোর পরে পরের দিন সকালেই জিজেসদের দল নিজেদের যাত্রার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যায়।
তখন তাপমাত্রা মাইনাস ২৭ ডিগ্রি ছিল। পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন ছিল তবুও এই সাহসী পোলাপান গুলা হাল ছাড়েনি। তারা প্রতিকূলতা ও নিজেদের শরীরের কঠিনতার সম্মুখীন করতে করতে একের পর এক বাধা অতিক্রম করতে থাকে। এভাবে সকাল নয়টার সময় তারা দক্ষিণ শিখরে পৌঁছে যায় কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের অক্সিজেন কমতে থাকে আর তাদের কাছে তখন আর পর্যাপ্ত অক্সিজেন ছিল না যেটা দিয়ে তারা পর্বতের পুরো অভিযান করতে পারবে বা নিচে ফিরে যেতে পারবে। যেন তারা নিজেদের মৃত্যুকে সামনেই দেখছিল। এমনই পরিস্থিতিতে মিশুপু,রিদাপু,সামিয়াপুদের গতি কমতে থাকে আর তাদের পা ধীরে ধীরে ভারি হতে শুরু করে। ঠিক একই রকম অবস্থা কিছুটা অন্য সবার মাঝেই হচ্ছিল।
লুমি ভাইয়া ওদের দিকে তাকায় এবং সে সবাইকে কিছুটা সময় থামিয়ে দেয় বিশ্রামের জন্য। সেই সময়ের মধ্যে রিদাপু অক্সিজেনের নলকে পরিস্কার করে কারণ মিশুপু এর শ্বাস নিতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। এভাবে আস্তে আস্তে মাথা ঠান্ডা রেখে তারা সমস্ত কঠিন পরিস্থিতিতে অতিক্রম করতে থাকে এবং তাদের পদক্ষেপ এভারেস্ট পর্বত মালার দিকে বাড়িয়ে দিতে থাকে।
নয় নম্বর ক্যাম্পের সেই সকালের কথা আমার খুব মনে পড়ে। ২৮ হাজার ফুট উচ্চতায় ছোট্ট একটি তাবুতে আমি(বিজয়) এবং মুস্তাফিজ সেই রাত কাটিয়েছিলাম। আর এই রাতটিই ছিল আমাদের সর্বোচ্চ উচ্চতার ঘুম। রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়েছিল। মুস্তাফিজের বুট জোড়া তাবুর বাইরে থাকায় ঠান্ডায় জমে গিয়েছিল। আমরাও প্রায় ঠান্ডায় জমে গিয়েছিলাম। সকালে যখন আমি হামাগুঁড়ি দিয়ে তাবুর বাইরে তাকালাম তখন দেখতে পেলাম চারদিকে ধূসর আলো।
বাতাসও তেমন ছিল না। আকাশ ছিল পরিষ্কার ও শান্ত। হঠাৎই দেখি পাশে মুস্তাফিজ নেই।ভাবছিলাম হয়তো বাহিরে গেছে তাই তাবু থেকে বের হয়ে এদিক সেদিক খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না।সবার তাবু থেকে সবাইকে জাগিয়ে একসাথে খুজতে থাকলাম মুস্তাফিজকে নাহ কোথায় ও পাচ্ছি না তাকে।
আমি আরেকটু সামনে এগিয়ে ছোট গিরিখাতের মতো একটা জায়গায় বুটের কোনা দেখতে পেলাম।জলদি করে সবাই কুঠার দিয়ে বরফ কেটে প্রায় ৩ ফুট বরফের নিচে পেলাম তাকে।অজ্ঞান নাকি মারা গেছে কিছু বুঝতে পারছি না।রিদাপু,সামিয়াপু,মিশুপু রা তো কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে।চারদিকে থমথমে একটা পরিবেশ।
সবাই আল্লাহর কাছে দোআ করতেছি আল্লাহ মুস্তাফিজকে বাঁচিয়ে দেন।
লুমি ভাইয়া আর হৃদয় মিলে বুদ্ধি করে আগুন জ্বালালো সবাই ফায়ার ক্যাম্প করে বসে আছি মুস্তাফিজকে আগুনের কাছেই কোলে নিয়ে আমি বসে আছি।এরপর মিশুপু মুস্তাফিজের মুখে পানি মারতেছিলো।
মুস্তাফিজের শরীরটা গরম হওয়ার পর হঠাৎই জ্ঞান ফিরে আসলো।আর ডাকতে লাগলো বিজয় ভাইয়া কই তুমি বলে কান্না করতেছে।
মুস্তাফিজের জ্ঞান ফিরে আসার পর সবাই আল্লাহর দরবারে শোকর আদায় করলাম আলহামদুলিল্লাহ।
আমরা দেখছি সপ্তাহ মাস ধরে এভারেস্টের চূড়া আমাদের নিকটেই। আমাদের আকাশসম স্বপ্নটা এখন আর দূরের স্বপ্ন নয়। কিন্তু এটাও সত্য যে, শক্ত পাথর ও তুষার আরোহণ কঠিন হবে। তবু আমরা প্রস্তুত এবং এটি আমরা আরোহণ করবো ইনশাআল্লাহ ।’
সাউথ কলে তুষার ঝড়ে আটকে পড়ে দুটো দিন নষ্ট করে ৮ হাজার ৫০০ মিটার উচ্চতায় বহু কষ্টে জিজেসরা তাঁবু ফেলে। ভয়ঙ্কর সেই অনিশ্চয়তার রাতটি কোনোভাবে কাটল। আল্লাহ আমাদের সহায় হয়েছিলেন। তাই পরিষ্কার ও শান্ত আকাশ পেয়েছিলাম। কিন্তু সামনে অপেক্ষা করছে চল্লিশ ফুট উচ্চতার পাথরের খাড়া দেয়াল। একবার পা ফসকালেই জীবন শেষ, সবাই ভালো করে জানতেন এটি। তাই বলে কি তারা এখানেই থেমে যাবেন? না। পায়ের নিচে সব মৃত্যুফাঁদ পেরিয়ে এগিয়ে গেছেন ক্ষুদে জিজেসদের দল।
এভাবে শেষ পর্যন্ত যখন তারা পৃথিবীর মধ্যে সবথেকে উঁচু পর্বত শৃঙ্গ ২৯ হাজার ৩০ ফুট অর্থাৎ ৮৮৪৮ মিটার উঁচুতে পৌঁছায়। সেই সময়টা তাদের আনন্দের আর কোন সীমাই ছিল না। তাদের মাথায় অতীতের কোনো কষ্ট সামনে পরিশ্রমের কোন চিন্তায় ছিল না।
আসলে সেসময় সবাই যেন অন্য পৃথিবীতেই দাঁড়িয়ে ছিল। কারণ পৃথিবীর সবথেকে উঁচুতে থাকা স্থান থেকে পৃথিবীর নিচের দৃশ্য কিছু ক্ষণের জন্য যেন তাদের মত মুগ্ধ করেছিল, আর যে দৃশ্য তারাই প্রথম দেখেছিল। কিন্তু একটা সময় তাদের অক্সিজেনের অভাব এবং শরীরের খাটনি তাদের জ্ঞান ফেরায়।
চূড়ায় উঠেই সবাই ২ রাকাআত শোকরানা নফল নামাজ আদায় করলো।রাব্বে কারিমের মায়াময় এই সৃষ্টি দেখে সবার অন্তরের অন্তরস্তল থেকে বারবার বেরিয়ে আসছে একটি কথা আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ।
আল্লাহর অশেষ রহমতে সব প্রতিবন্ধকতা ও মানুষের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বীরের বেশে সবাই নেমে এলেন এভারেস্ট আরোহণের বিস্ময়কর গল্প নিয়ে।
বিঃ দ্রঃ জিজেবাসী ইনশাআল্লাহ তোমাদের নিয়ে পরের গল্পে কোন জায়গায় বেড়াতে যাবো সেটা অবশ্যই জানাবে।পাঠকের সুন্দর সুন্দর মন্তব্য আমার মতো অধম,সাধারন,পুচকু লেখককে প্রেরনা জোগাবে ইনশাআল্লাহ। তাই অনুরোধ রইলো আমাকে সুন্দর সুন্দর মন্তব্য উপহার দেওয়ার জন্য
মজলিশের ভুলত্রুটির কাফফারা স্বরুপঃ-
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়াবিহামদিকা আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লা আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়াতুবু ইলাইক।
আলহামদুলিল্লাহ
ভালোবাসা অবিরাম
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now