বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মনে করো, আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তোমার ইউনিটের রেজাল্ট দিল। মনে করো তুমি এবছর পরীক্ষা দিয়েছো। সম্ভাব্য রেজাল্ট হয়তো চান্স পাবা, নাহয় চান্স পাবা না। এই দুইটার মধ্যে যেকোনো একটা হবে তাইতো?
একবার ভাবো। অনলাইনে তোমার রোল দিয়ে ঢুকে দেখলা তুমি চান্স পেয়ে গেছো। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছো না। তুমি এখন সত্যিই ঢাবির শিক্ষার্থী। খবর টা দ্রুত প্রিয়জনদের জানাতে হবে। প্রথমেই জানিয়ে দিলা বাবা মা কে। বলার সাথে সাথে দেখলা তারা আবেগে কেঁদে দিলো। তোমাকে জড়িয়ে ধরলো। মুহূর্তের মধ্যেই তোমার বাসায় ভীড় বেড়ে গেল। পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজনরা বাসায় এসে তোমাকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করলো। এর ফাঁকে তোমার বাবা ছুটে চলে গেলো মিষ্টির দোকানে। কেজি কেজি মিষ্টি আসতে থাকলো বাসায়। একটার পর একটা ফোন আসতে শুরু করলো, কোনটা ছেড়ে কোনটা ধরি এরকম অবস্থা। একজনের সাথে কথা বলতেসো তার মধ্যে আরেকটা ওয়েটিং কল আসছে। সুযোগ বুঝে আরেকটা প্রিয়মানুষকে(যদি থাকে) ফোন দিলা, তার খুশীর ও অন্ত থাকবে না। কোচিং/প্রাইভেট থেকে টিচাররা ছুটে আসা শুরু করলো তোমার বাসায়। শুধু তোমার সাথে একটা ছবি তুলবে বলে। হঠাৎ করে তোমার ডিমান্ড কেমন জানি আকাশছোয়া হয়ে গেল। অদ্ভুত না?
আসতে আসতে বাসা থেকে খুশী মনে মানুষরা মিষ্টি খেয়ে দেয়ে বিদায় নিল। সে রাতে তুমি অনুভব করবা। জীবনে একটা প্ল্যাটফর্ম পেয়েছো। সবার মুখ উজ্জল করেছো। একটা কিছু হবে তোমাকে দিয়ে। অন্যরকম একটা অনুভুতি হবে তোমার। এ অনুভুতি বলে বা লিখে বোঝাবার নয়।
পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠলা। তোমার ফ্রেন্ড যারা যারা চান্স পেয়েছে সবাই ফোন দিবে। ফোন দিয়ে প্ল্যানিং করবে, চল কলেজে যাই, স্যার ম্যাডামদের সাথে দেখা করে আসি। গেলা দেখা করতে। শিক্ষকেরা খুশী হয়ে ভালোমন্দ না খাওয়িয়ে ছাড়বেন না তোমাকে। খাইদাই করলা ভালোই। বিকালে ভাবলা সবাই মিলে একটু ঘুরতে যাবা। রাস্তায় তখন হাটবা বুক ফুলিয়ে। রাস্তায় হঠাৎ পরিচিত কারো সাথে দেখা, হোক সে ফ্রেন্ড বা অন্য কেউ, প্রথম কথাই হবে,, আররেএ দোস্ত? তুই তো ঢাবিতে চান্স পেয়ে গেলি। আমাদের ভুলে যাস না। এরকম আরো কতো কি? আবার দেখবা তোমার চান্স পাওয়ার খবর শুনে তোমার কোনো বন্ধু তোমাকে দেখেও না দেখার ভান করছে। সে চান্স পায়নি বলে তোমার সামনে আসতে লজ্জা পাচ্ছে। এসময় তোমার আসলেও খারাপ লাগবে। কিন্তু কিছু করার নাই। এটাই বাস্তবতা।
হঠাৎ ফোনে কল আসলো। কোচিং/প্রাইভেট থেকে ডাকছে। অভ্যর্থনা দেবে। গেলা। যেয়ে দেখছো সেরকম খাইদাই এর আয়োজন। অনেক গিফটস। সব তোমার জন্য। বিনিময়ে তাদের দেওয়া ফুল হাতে নিয়ে কয়েকটা ছবি তুলতে হবে তোমাকে মাত্র। ভালো। তুললা। সব শেষ করে বাসায় ফিরলা। ফিরে দেখলা কেউ না কেউ বাসায় অপেক্ষা করছে, তোমার সাথে দেখা করার জন্য। তাদের কাছে থেকেও অভিনন্দন পেয়ে আনন্দে আর গর্বে তোমাকে এখন আর ধরে কে!!
এতো কিছু কেন হচ্ছে? কেন সবাই তোমার পেছনে ছুটছে? কেন তোমার এতো ডিমান্ড? কেন তোমার বাবা মা তোমার নাম নিয়েই বুক ফুলিয়ে রাখতে পারছে? শুধুমাত্র তুমি চান্স টা পেয়েছো বলে। একটা চান্সের মর্ম কতোটুকু বুঝছো তাহলে? না বুঝলে আরো ভালো করে বোঝাচ্ছি।
আবার ফিরে যাই ওপরে। মনে করো, তুমি অনলাইনে রোল দিয়ে ঢুকে দেখলা যে চান্স টা হয়নি। এবারও চোখকে বিশ্বাস করতে পারছো না। চান্স হলো না? কি বলবা এবার বাবা মা কে? কি উত্তর দিবা? তারা এতোদিন তাহলে পানিতে এতোগুলো টাকা ঢেলেছে? তোমাকে ভালো স্থানে চান্স পাওয়ানোর জন্য সব কষ্ট কি তাদের তাহলে বৃথা হয়ে গেল? যাই হোক, বাবা মা কে বললা, চান্স হয়নি। তাদের রিএকশন কি হবে? বলবে আচ্ছা ব্যাপার না। মন খারাপ করোনা। অন্যগুলোতে চেষ্টা করো। হঠাৎ একটা ফোন আসলো। শুনলা তোমার অমুক ফ্রেন্ড চান্স পেয়েছে। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা। তারপরেও তাকে অভিনন্দন তো জানানো উচিৎ। এটা উপলব্ধি করে তাকে কল দিলা। ওয়েটিং। আবার কল দিলা, আবারও ওয়েটিং। কিছুক্ষণ পরে আবারও কল দিলা, ওয়েটিং। বললা ধুর, ফোনই দিব না। এরপর তোমার মোবাইলে ফোন আসা শুরু হলো, সবাই রেজাল্ট জানতে চায়, আর তুমি মাথা নিচু করে সবাইকে বলতে থাকো যে চান্স হয়নায়। চোখে হয়তো কোনো পানি থাকবে না কিন্তু অন্তর টা ভেসে যাবে। একই অবস্থা হবে তোমার বাবা মায়ের ও। প্রিয়জনের ফোন আসলো। তাকেও বললা। সে ও সান্তনা কম দিলোনা। কিন্তু প্রতিটি সান্তনায় যেন লজ্জায় মুখটা লাল হয়ে যাবে তোমার। বাসায় কেউ আসলো না সেদিন, আসলো না কোনো মিষ্টি। খেতে মন চাইলো না রাতে। তবুও একটু খেয়ে হয়তো বা না খেয়েই ঘুমোতে চলে গেলা। রাতে ঘুমটাও হলোনা ঠিক মতো। পরদিন বিকালে কোনো একটা কাজে বাসা থেকে বের হলা, হঠাৎ রাস্তায় দেখলা তোমার চান্সপ্রাপ্ত ফ্রেন্ডরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তুমি সামনে যেতে চেয়েও পারছো না যেতে লজ্জায়। এমন অবস্থা। রাতে ফেসবুকে ঢুকে দেখবা তোমার ফ্রেন্ডরা বিভিন্ন যায়গা থেকে খাইদাই করে, ফুল, গিফটস হাতে নিয়ে ছবি আপলোড দিচ্ছে। আর তুমি চুপচাপ লাইক দিয়ে বসে আছো। যে ফ্রেন্ডদের সাথে সারাটা দিন ঘুরে বেড়াতা একসময়, তারা সারাদিনে একবারও ফোন দিলো না তোমাকে। স্বাভাবিক। এতোকিছুর ভীড়ে হয়তো সময় পায়নি। মুহূর্তেই সব কেমন জানি পানসে হয়ে গেল। ঘরে বাবা মা ও কেমন জানি মুখ গোমড়া করে থাকবে। প্রিয়জনের সাথে কথা বলতেও ভালো লাগবে না তখন। কেন এসব হচ্ছে? কারণ চান্স টা তুমি পাওনি। আশা করি এবার চান্সের মর্ম টা উপলব্ধি করছো।
চান্স পাওয়া না পাওয়া টা তো এখনও তোমার হাতেই আছে! কেন সময় নষ্ট করছো? আজ তুমি যেরকম কষ্ট করছো, কাল তুমি সেরকমই ফল পাবে। তুমিই সিদ্ধান্ত নাও, রেজাল্টের দিন আর তার পরের দিনগুলোতে তুমি নিজেকে কি হিসেবে অন্যের সামনে উপস্থাপন করতে চাও? একজন ঢাবিয়ান হিসেবে? নাকি একজন পরাজিত সৈনিক হিসেবে? জীবনটা তোমার তাই সিদ্ধান্ত টাও সম্পূর্ণই তোমার।
লেখক: মো: ওয়াসিফ আজিম
[লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now