বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবন্ত লাশ

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Tahiamun Tisha ( JA SHIYAM ) (০ পয়েন্ট)

X গল্প ::::::"জীবন্ত লাশ" আমার বয়স ৩০। নাম কাব্য। অফিসে বসে আছি আর কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ভাবছি। আজকে জানুয়ারির ৭ তারিখ। কিছু একটা ভাবছিলাম তারিখটার দিকে তাকিয়ে! হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠে! চমকে উঠে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখি অভি ফোন করেছে। অভি আমার ছোট ভাই। রিসিভ করতেই সে বলল,হ্যালো ভাইয়া। বাবা খুব অসুস্থ। বাবা এখন হাসপাতালে। তোকে খুব দেখতে চাইছে। তাড়াতাড়ি চলে আয়।এই বলে ফোনটা রেখে দিলো। সন্ধ্যা ৭টা বাজে। আমি শহরে থাকি। আর ফ্যামিলির সবাই গ্রামে। এখান থেকে যেতে ঘন্টা দুয়েকের মতো লাগে! কিন্তু ৭টা বাজে কোনো বাস পাওয়া যাবে না। তাই একটা মাইক্রোবাস ভাড়া করে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে সাথে সাথেই রওনা দিলাম গ্রামের উদ্দ্যেশ্যে । বাবা অসুস্থ! আমাকে যেতেই হবে।মাইক্রোবাসে চেপে বসেছি।গাড়ি যতদ্রুত চালানো সম্ভব চালাচ্ছে। শহর থেকে বের হওয়ার পর রাস্তা ফাকা,গাড়ির মিটারের দিকে খেয়াল করলাম স্পীড প্রাই ৭০-৭৫ কিলোমিটার/ঘন্টা। গাড়ির গ্লাস খোলা। অনেক জোরে হাওয়া বইছে। কেনো জানি আজকে খুব ভয় করছে। আমি জানি কিছু একটা হতে যাচ্ছে আমার সাথে। বাতাসের কারণে চুল উড়ছে আমার,,ঠোট শুকিয়ে আসছে,,মুখ শুষ্ক। এমন সময় অতীতের কথা মনে পড়ে গেলো,, আজ থেকে ৭ বছর আগে আজকের দিনে আমার বয়স ছিল ২৩ বছর। দিনটি ছিল ৫ ই জানুয়ারি,, আমার আর কবিতার কথোপকথন হচ্ছে বাড়ির পেছনের দিকটাই,,কাব্য আমি আর পারছি না। আমি তোমাকে সত্যিই অনেক ভালোবাসি। আমি বললাম,কবিতা আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি। সে বলল,কাব্য বাবা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছেন। ৭ তারিখ আমার বিয়ে। আমি তোমাকে না পেলে সত্যিই মারা যাবো। ( আমি তখন চাকরি করতাম না তাই আমাদের ভালোবাসা কবিতার পরিবার মেনে নেই নি। বেকার থাকবোই না বা কেনো! আমি তখনো স্টুডেন্ট মাত্র)। সে আবারো বলল আমি বিষ খাবো। আমি তখন তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলি,চিন্তা করো না। আমাকে একটু টাইম দাও,আমিই তোমাকে ৭ তারিখ বিয়ে করব। ডোন্ট ওরি। সব ঠিক হয়ে যাবে। এটাই ছিল আমাদের শেষ কথা। ৭ তারিখ বিকেল ৫ টাই আমি রওনা দিয়েছি ঘর থেকে। পথে একটা ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। চোখ মেলে দেখি আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি,মাথাটার ভেতর ভোতা যন্ত্রনা করছে। কবিতার কথা মনে পড়তেই বুকের ভেতর কচকচকরে উঠে।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৬ টা বেজে ৪০ মিনিট। আমি হাস্পাতাল থেকে কোনোমতে ছুটে গিয়ে দৌড় লাগাই। অনেক কষ্ট করে কোনো মতে কবিতাদের বাসার সামনে গিয়ে দাড়ালাম। মাথাটা ঘুরছে,,,দেখি ওদের বাসার সামনে লোকজন জড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কোনোমতে সামনে গিয়ে যা দেখি তাতে আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি নি। দেখলাম কবিতা মাটিতে শুয়ে কাতরাচ্ছে। ওর হাতে বিষের কৌটা। সে জোরে শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করছে আর কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে। হাত পা ছুড়ছে। ওর বাবা ওর পাশে বসে হাত থেকে বিষের কৌঠা টা ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু সে শক্ত করে ধরে রেখেছে, ছাড়াতে পারছে না।পুরো ব্যাপারটা বুঝে উঠতে আমার অনেক সময় লেগে যায়। সে তখন আমার দিকে তাকিয়ে বলল কাব্য আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি কাব্য। আমিও কেদে দিয়ে বললাম আমিও অনেম ভালোবাসি। এই দেখোন তোমাকে আমি নিতে এসেছি। সে বলল,কাব্য অনেক দেরী হয়ে গেছে। আমাকে যেতে হবে। আমি বললাম আমিও যাবো তোমার সাথে। আমিও বিষ খেয়ে মরব। সে বলল না কাব্য। তুমি যদি আমার সাথে যেতে চাও,আমার সাথে থাকতে চাও তবে আমি ৭ বছর পর মুক্তি পাবো আর তোমার সাথে থাকব। আমি বললাম আচ্ছা।এই বলে সে মারা গেলো।তার চোখের মনি ২টি স্থির। অপলক চোখে চেয়ে আছে আমার দিকে। তার নিথর দেহ পড়ে আছে আমার দিকে। আমি জ্ঞান হারালাম তখন। সেদিনের পর থেকে দেখতে দেখতে ৭টি বছর কেটে গেলো আজ। এখনো হয়তো কবিতাকেই ভালোবাসি তাই আমি এখনো বিয়ে করিনি। এসব ভাবতে ভাবতে আমি পৌছে গেলাম বাসায়। গাড়ি থেকে নেমে দেখি বাসার সামনে লাইট জ্বলছে। দরজায় নক করতেই অভি এসে দরজা খুলে বলল,কিরে ভাইয়া তুই? এতো রাতে? কোনো সমস্যা? আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ওর দিকে চেয়ে আছি। আমি ওর মুখ থেকে এমন কথা আশা করি নি। আমি বললাম,বাবা কোথায়? কেমন আছেন তিনি? সে বলল,বাবাতো বাসায় আছে। ভালো আছেন। কেনো?তোর কি কোনো সমস্যা হয়েছে? বাবাকে ডাকবো! বাবা বলে ডাক দিলো! আমার মাথাটা কাজ করছে না। বাবা এসে বলল,কাব্য! তুই! এতো রাতে বাসায় ফিরে এলি যে! আমি বেহুশ হয়ে পড়ে গেলাম। একটু পর নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করি। বোধ শক্তি ফিরে এলে তাদের সব বল্লাম। তখন অভি বলল,কি! তোর মাথা ঠিক নেই। তোর সাথে আমার ২ দিন ধরে ফোনে কথা হয় নি? শুনে আমি রীতিমতো অবাক হয়ে তাকে আমার ফোনে কল দেখানোর জন্য চেক করলাম। দেখলাম অভির সাথে লাস্ট ২দিন ধরে আমার কোনো কথা হয় নি! ঐ মূহুর্তে ব্যাপারটাকে হ্যালোজেনেশন ধরে নেয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। রাতে খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পড়ি আমি। আমি আর অভি ঘরের সাম্নের রুমটাই শুয়ে পড়ি । হঠাৎ গভীর রাতে কারো ডাকে ঘুম ভাঙ্গে আমার। মনে হলো কেও কানের কাছে এসে কাব্য বলে ডাক দিলো। মুখের গরম বাতাস কানে লাগ্লো। ঘড়িতে দেখি ১২ টা ৩০ মিনিট। হ্যাঁ, আবারো ডাকলো কাব্য বলে! আবারো,আবারো! তবে আমার থেকে কয়েক হাত দূর থেকেই কেও ডাকছে। আমার মাথা তখন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। আমি তখন বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ি আর চুপিসারে শব্দটাকে ফলো করতে থাকি। অভি ঘুমোচ্ছে। দরজা খুলে আমি ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়লাম। কি করছি কিছুই বুঝতে পারছি না। যাস্ট শব্দটাকে ফলো করছি। আমি শব্দটার যতোই কাছে যায় ঠিক ততই দূরে চলে যাচ্ছে শব্দটা। এভাবে ১৫ মিনিটের মতো হাটার পর পায়ের নিচে কিছু একটার শব্দ কানে আসছে! হ্যাঁ, আমি এখন একটা বাশবাগানের মধ্যে। হেটে চলেছি,,পায়ের নিচে শুকনো পাতার শব্দ কচকচ করছে। শীতকাল। চারিদিকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা। চাদের আলোয় বাশবাগানের ভেতর হাল্কা আলো ছায়া ফেলেছে। আশেপাশে কোথাও একটা পাখির ডানার শব্দ শুনা গেলো। দূরে কোথাও একটা শেয়াল ঢুকরে ঢুকরে ঢেকে উঠছে। রাতের চাঁদ আর কুয়াশার ঘনো হাল্কা আলোতে এই নিস্তব্ধ রাতে কেমন যেনো মায়াবী করে তুলেছে আশপাশের পরিবেশটাকে। হাটতে হাটতে হঠাৎ কিছু একটা দেখে আমি বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হওয়ার মতো ভয় পেয়ে যায়। সামনে দেখা যাচ্ছে কবিতা বসে আছে। হ্যাঁ, এই জায়গাতেই তো কবিতাকে পুতা হয়েছিল। কবিতা সুইসাইড করার কারণে ওকে কবর দেয়া হয়নি। ওকে এই জায়গায় পুতে ফেলা হয়েছিল। ও আমার দিকে কেমন যেনো তীব্র নজরে চেয়ে আছে। ভয়ঙ্কর সেই চোখে দৃষ্টি,তবে খুব মায়া লাগছে। বাতাসে তার খোলা এলোমেলো চুল উড়ছে। চোখের নিচে কালি পড়েছে,সাদা শাড়ি পড়ে মাথাটা নিচু করে চেয়ে আছে এক দৃষ্টি তে আমার দিকে। হঠাৎ প্রচন্ড মাথা ব্যাথায় আমি মাথায় হাত রেখে বসে পড়ি। মাথাটা ঘুরছে । দেখি কবিতা উড়ছে আকাশে আমাকে কেন্দ্র করে। আর ভঙ্কর ভাবে হাসছে। সে বলে উঠলো,কাব্য। আমি ফিরে এসছি। আজ থেকে সাত বছর আগে ঠিক এই দিনে সন্ধ্যে সাতটাই তুমি আমায় কথা দিয়েছিলে তুমি আমার সাথে যাবে,আমার সাথে থাকবে। তাই আজ সন্ধ্যে সাতটাই আমি মুক্ত হয়ে তোমার জন্য এখানে অপেক্ষা করে আছি। আবারো সে প্রচন্ড জোরে হাসল। কুৎসিত সে হাসি। কোথাও শব্দটা ধাক্কা খেয়ে প্রতিধ্বনি আবার শুনা যাচ্ছে। আমার মাথা ব্যাথা আরো বেড়ে গেলো আমি প্রচন্ড যন্ত্রনাই মাটিতে শুয়ে পড়ে কাতরাচ্ছি। সে আমাকে বলল, তুমি কি এখন থাকবে আমার সাথে ? যাবে আমার সাথে? ভালোবাসবে আমায় আগের মতো? আমি বললাম,হ্যাঁ। আমি তোমাকে এখনো ভালোবাসি,আগের মতো ভালোবাসবো।তার সাথেই থাকবো। আর আমি তার সাথে যাওয়ার জন্য এখনিই প্রস্তুত। সে আমার থেকে ৩ বার একই রকম প্রশ্ন জিজ্ঞেস করল আমিও একই রকম আন্স দিলাম ৩ বার ই। এরপর আর কিছুই মনে নেই আমার। এখন আমি হাসপাতালের মর্গের একটা লাশ মাত্র। ।।।।লেখক:::::তাহিয়ামুন তিশা।।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জীবন্ত লাশ
→ জীবন্ত লাশ!!!
→ ওরা চলে গেল আমার জীবন্ত লাশ রেখে।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now