বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জিবনী ২ (শেষ)

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান zami (০ পয়েন্ট)

X (আল্লাহই সর্বজ্ঞ) ড. আব্দুর রহমান আস সুমাইত (রহিমাহুল্লাহ)। বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, কয়জন শুনেছেন তাঁর নাম? কানাডার বিখ্যাত McGill University থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েট কমপ্লিট করেছেন। একজন কুয়েতী হিসেবে চাইলে খুব সহজেই পারতেন বাকিটা জীবন বিলাসবহুল ভাবে কাটিয়ে দিতে। কিন্তু তাঁর জীবনে আরো বড় লক্ষ্য ছিল। উদ্দেশ্য ছিল- মানুষকে আল্লাহ্‌র পথে ডাকা। সেই ছাত্র জীবনে তিনি পকেট মানি বাঁচিয়ে মানুষকে ইসলামিক বই, লিফলেট গিফট করতেন। গ্রাজুয়েশন শেষ হবার পর পাড়ি জমান সুদূর আফ্রিকার এক অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজে। .... সেখানকার মানুষের করুণ জীবন তাঁকে হতবাক করে। তিনি সেখানে এমন মুসলিম দেখতে পেলেন যারা সূরা ফাতিহাও জানে না। সালাত সম্পর্কে অনেকের কোন ধারণাই নেই। এমন ইমাম দেখতে পেলেন যারা মসজিদের ভেতরে জিনা করছে! অথচ তারা জানেও না যে এটা হারাম। এমন গ্রাম দেখতে পেলেন যেখানে খাবার আর বাসস্থানের লোভে সবাই একসাথে মুসলিম থেকে খৃষ্টান হয়ে গিয়েছে। এসব দেখে তিনি তাঁর বাকী জীবনের সবটুকু দিয়ে সে সমাজের জন্য নিবেদিত করেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিতে থাকেন। আফ্রিকার রুক্ষ আবহাওয়ায় তাঁর শরীরে মারাত্নক কিছু অসুখ দানা বাঁধে। পর পর তিনবার তিনি কোবরার ছোবল থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান। দুইবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়, দুইবার তাকে জেলে বন্দী করা হয় আর অল্পের জন্য সেখানে তিনি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান। ________ # কখনো এমন হয়েছে টানা তিনদিন চলে গিয়েছে কিন্তু তিনি পান করার মত কোন পানি পাননি!!! # ময়লা, মল-মূত্রে পরিপূর্ণ জলাশয়ের মধ্যে দিয়ে ৪-৫ ঘন্টা ধরে হেটে কাতর হয়ে শুধু একটু বিশুদ্ধ পানি খুঁজেছেন। সেটাও নেই... অথচ তাঁর কথা ছিল রাজার হালে জীবন যাপন করার, যে পরিমাণ ধন সম্পদের মালিক তিনি... ______ একবার অনেক কষ্ট করে তিনি একটা গ্রামে পৌঁছালেন। কিন্তু গ্রামের প্রধান নেতা তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছিল না। ... তিনি তাওহীদের দাওয়াত নিয়ে সে গ্রামে গেলে সে নেতা বলল, “ এ অঞ্চলের বাসিন্দারা কেউ বৃষ্টি দেখেনি। আপনার আল্লাহ যদি সর্বশক্তিমানই হন, তাহলে তাঁকে এখানে বৃষ্টি পাঠাতে বলুন। আপনি যদি বৃষ্টি আনতে পারেন, কেবল তবেই ঢুকতে দেব, আর আমরাও আপনার দাওয়াতে সাড়া দিব” উনি দৃঢ়ভাবে জবাব দিলেন, “আমার কাছে এটা চেয়ে লাভ নেই। এটা আমার হাতে নেই। এর মালিক তো আল্লাহ তা'আলা, আমি তুচ্ছ, নগন্য, এ ক্ষমতা আমাকে দেয়া হয়নি” তখন গ্রামের মাতব্বর বলল, “তাহলে চলে যান। আপনাদের(তাঁর স্ত্রীও ছিলেন তাঁর সাথে) কোন প্রয়োজন নেই আমাদের।” .... আব্দুর রহমানের মন প্রচণ্ড কষ্টে ছেয়ে গেল। তিনি আকাশের দিকে চেয়ে কাতর হয়ে আল্লাহ্‌র কাছে দুয়া শুরু করলেন, করতেই থাকলেন, করতেই থাকলেন। বললেন- “হে আমার রব! আমার গুনাহের কারণে, সীমাবদ্ধতার কারণে তোমার বান্দাদেরকে তোমার প্রতি ঈমান আনা থেকে বঞ্চিত করো না। তুমি উত্তম দুয়া শ্রবণকারী। শীঘ্রই বৃষ্টি দান করো এ অঞ্চলে, তারা যেন তোমার প্রতি ঈমান আনে” _ তিনি দুয়া করতে থাকলেন। কি আশ্চর্য কথা! মুহূর্তের মধ্যেই আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেল। নামলো বহুল প্রতীক্ষিত বৃষ্টি। পুরো গ্রামবাসী ইসলাম গ্রহণ করল!! সুবহান আল্লাহ!!! অথচ শেষ কবে সেই অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছিল, ওই লোকদের কেউই দেখেনি...সুবহানাল্লাহ!!! কুরআনেই তো আছে- إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاء নিশ্চয় আমার পালনকর্তা দোয়া শ্রবণ করেন। [ সুরা ইবরাহীম ১৪:৩৯ ] __________ তিনি তাঁর জীবনের আরেকটি স্মরণীয় ঘটনার কথা বলেন- “আমি সে রাতটার কথা কখনোই ভুলব না যখন আমি আর আমার স্ত্রী আফ্রিকার একটি গ্রামে মাঝরাতে একসাথে বসে ছিলাম। আমি আমার স্ত্রীর দিকে তাকালাম। আর তার চেহারায় ক্লান্তি আর অবসাদ দেখতে পেলাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম- “তুমি কি হাল ছেড়ে দিয়েছ?” __ তাঁর জীবনসঙ্গিনী জবাব দিলেন- “আমি কি তোমাকে বলব আমি আসলে কি ভাবছিলাম? আমি ভাবছিলাম, আল্লাহ্‌ তায়ালা যদি আমাদের জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ দেন, আমরা কি এর চেয়েও বেশী সুখে থাকবো যতোটা এখন আছি?” সুবহান আল্লাহ...আব্দুর রহমানের প্রতিটি সংগ্রামের পেছনে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। কখনো তিনি কোনো প্রশ্ন বা অভিযোগ করেননি এত অর্থ বিত্তের মালিক হয়েও এরকম ভয়ানক কস্টকর বিপদ সংকুল প্রতিকূল অঞ্চলে বাস করার, যেখানে খাবার পানি টা পর্যন্ত নেই। বরং সবসময় তাঁকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, মা শা আল্লাহ...“প্রত্যেক সফল ব্যক্তির পিছনেই থাকেন একজন অসাধারণ নারী”- কতই না সত্যি!! সবাই যদি এমন হতো! ___ ___ আব্দুর রহমানের অর্জন কি ছিল আফ্রিকায়? _______________ মাথা টা একটু রিফ্রেশ করে নিন। লাস্ট প্যারা তে চলে এসেছি। আল্লাহর কসম, আপনি বিশ্বাস করেন বা না করেন; এখন যা যা পড়বেন, একদম সত্যি। শুরুতে বলেছিলাম, আরেকবার রিপিট করতে চাই- উনি নিজেকে এমনই এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যার শীর্ষবিন্দুর দিকে যদি তাকানো যেত, শুধু ঘাড় ব্যথাই করতো, দেখা আর যেত না। প্রতিটা রেকর্ড এতই উচ্চতায়, যে স্বপ্ন দেখাও দুঃসাধ্য এমন কিছু করার। ___ # তাঁর নিরলস পরিশ্রমে প্রায় ৫,৫০০ মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল আফ্রিকাতে!!!!! # তিনি প্রায় ৫০,০০০ এতীমের সকল ব্যয়ভার বহন করেছিলেন!! তাঁরা অনেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে। # ৮৪০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেছেন! # প্রায় ৭০ লক্ষ কুর’আন বিতরণ করেছিলেন!!!! ৭০ লক্ষ!!! # ১২০০০ কূপ স্থাপন করেছিলেন!! # নির্মাণ করেছিলেন ৯০টি হাসপাতাল, সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের চিকিৎসার জন্য! _ # আর কতোজন মানুষ তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিল?? জাস্ট হিসাব নাই। এতই বেশি!!! তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের দেয়া তথ্যমতে, এক কোটি দশ লক্ষের ও বেশী লোক তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিল!!! ভাবা যায়??? ________ মেসি-রোনাল্ডো দের ফুটবল স্কিল দেখে অন্য গ্রহের মানুষ মনে হয়? সচীন কে গড মনে হয়? মাইকেল ফেল্পস এর সাতার কিংবা বোল্ট এর দৌড়ের একক রাজত্ব দেখে মনে হয় এরা এলিয়েন? তাহলে এই আব্দুর রহমান লোকটাকে কি বলা উচিত? 'অবিশ্বাস্য/অকল্পনীয়' শব্দ গুলো খুব কমই হয়ে যায় উনার জন্য। উপরের মানুষ গুলোর অর্জন কে খাটো করতে আসিনি এই পোস্টে। তারাও অনেক কিছু অর্জন করেছে। কিন্তু তাদের এসব কিছুর মেয়াদ দুনিয়াতেই শেষ। প্রতিদান পাওয়াও দুনিয়াতেই শেষ। এগুলা আখিরাতে কোনো কাজে আসবে কিনা তা বুঝতে তেমন জ্ঞানী হতে হয়না। __ যা হোক, ~ অনেক বিখ্যাত মানবতাবাদী সংগঠনের তুলনায় মানবতার প্রতি এই মানুষ টার অবদান অনেক বেশী। ~ অনেক বিখ্যাত দায়ীর তুলনায় তাঁর হাতে বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। ~ কিন্তু তবুও তিনি এতোটা বিখ্যাত নন। ~ তিনি নোবেল পাননি। ~ আসলে এ দুনিয়ার খ্যাতি তিনি চাননি। ~ চাইলে এই কাজ গুলো কুয়েতে বসেই রাজার হালে করতে পারতেন। এমন যায়গায় যেতেন না স্ত্রী সহ, যেখানে নাই খাবার, পানি, বাসস্থান, চিকিৎসা। পদে পদে বিপদ। এমন নয় যে এই কাজগুলো তাঁর নিজ দেশে থেকে করলে আল্লাহ অখুশি হতেন। মোটেও না। তাও তিনি গেলেন। কেন? বলবো? তিনিও আমাদের মতই মানুষ, একই আকাশের নিচে একই সূর্যের নিচে আমরা বাস করেছি। তিনিও জন্মেছেন, অসুস্থ হয়েছেন, মারাও গিয়েছেন। আমরাও কুরআন পড়ি, তিনিও পড়েছেন। পার্থক্য হলো আমরা কুরআন পড়ে আস্তে করে শোকেসে তুলে রাখি। বুঝা বা তা অনুযায়ী আমল করা আমাদের টার্গেট না। কুরআন কে মুখেই বলি 'কমপ্লিট কোড অফ লাইফ' , 'জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সেরা বই' ইত্যাদি বহুত কিছু। কিন্তু আমাদের আচরণে তা প্রকাশ পায় না। তিনি জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভেবেছেন... দক্ষ জহুরি যেমন মুক্তা চিনতে ভুল করেনা। তিনিও কুরআন চিনতে, বুঝতে আর সে অনুযায়ী আমল করতে ভুল করেন নি। কিভাবে? এই যে, প্রমাণ, সুস্পষ্ট দলিল... লা~ রাইবা ফীহি...এতে কোনোই সন্দেহ নাই ... ___ ১। “আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক উত্তম? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেনদেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য” – (সূরা তাওবাঃ ১১১) ____________________ ২। “ যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামায কায়েম করে, এবং আমি যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে আল্লাহর পথে- তারা এমন ব্যবসা আশা করতে পারে, যাতে কখনও লোকসান হবে না” -(সুরা ফাতিরঃ ২৯) ___ __ তিনি আমাদের মত বোকা না। লেনদেন করেছেন, ব্যাবসা করেছেন আল্লাহর সাথে, যেখানে লস বলতে কিছু নাই... সবাই আল্লাহর কাছে ফিরে যায়। শুধু বুদ্ধিমানরা যায় জীবন থাকতে থাকতেই। আর নির্বোধরা মরার পরে। তিনি এসব বুঝে সে লেবেলের কাজ করেছেন। _ ট্রেনে বিনা টিকিটে দরজার পাশে মাথা গুজেও ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়া যায়, আবার বার্থ এর টিকিট কেটেও যাওয়া যায়। দুই যাওয়া কি এক? এসব তিনি ভালমত অনুধাবণ করতে পেরেছিলেন। তিনি আল্লাহর কাছে যেতে চেয়েছিলেন 'বিজনেস ক্লাস' টিকিট কেটে। আর সেটার জন্যই সব কস্ট মুখ বুজে শয়েছেন। __________________________ ৩। “এমন কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করবে, অনন্তর তিনি তাকে বহুগুণ বর্ধিত করে দেবেন? আল্লাহই সংকুচিত ও সম্প্রসারিত করেন এবং তারই দিকে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন’ - (সূরা বাকারাঃ ২৪৫), (সূরা হাদীদঃ ১১ ও ১৮) __ তিনি আল্লাহকে 'উত্তম ঋণ' দিয়েছিলেন। পরকাল কিনে নিয়েছিলেন ইহকালের বিনিময়ে। কতই না উত্তম সে বিনিময়, কতই না লাভের সে ব্যবসা!!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জিবনী ২ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now