বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবনের জন্য পানি

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Farabi Ahmed ( mamun ) (০ পয়েন্ট)

X প্রাচীন ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এদেশে রয়েছে হাজার হাজার লোককাহিনী। তার মধ্যে তিন ভাই আর এক বোনের কাহিনী সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই তিন ভাই ও এক বোন প্রথমদিকে বাস করতো একটা ছোট সাধারণ কুটিরে, কিন্তু তারা তিনজনই ছিল পরিশ্রমী ও সৎ। কিছুদিন পর তারা প্রসাদের মতো একটি সুন্দর বাড়ি তৈরি করল। আশপাশের লোকজন তাদের সুরম্য প্রাসাদের প্রশংসা করে বলল, চমৎকার বাড়ি। একজন বুড়ো মানুষ সবকিছু ঘুরে দেখে বললেন, সবই চমৎকার হয়েছে। এখন তোমাদের দরকার জীবনের জন্য পানি, আর সে সঙ্গে কথা বলতে পারা পাখিটি এবং সৌন্দর্যের যে গাছে ঐ পাখি বসে থাকে সেই গাছটি। তিন ভাই আর বোন জিজ্ঞাসা করলো, ওগোলো কোথায় পাব আমরা! বৃদ্ধ বললেন, ঐ যে প্রান্তর দেখছো, সেটা পেরিয়ে দূরের ঐ পাহাড়ে যাও, সেখানেই সব পাবে। আর এই ছুরিটা নাও। যতক্ষণ এর ফলা পরিস্কার ও উজ্জ্বল থাকবে ততক্ষন বুঝবে যে জীবনের জন্য পানির খোঁজে যাওয়া মানুষটি সুস্থ আছে, ভালো আছে, কিন্তু ফলার উপর রক্তের ফুটা দেখলেই ওইমানুষটির বিপদ ঘটেছে। ওরা বৃদ্ধকে ধন্যবাদ দিয়ে ছুরিটি গ্রহণ করল। তারপর বৃদ্ধ নিজের মত করে চলে গেলেন। তখন বড় ভাই বলল, তাহলে আমি চললাম জীবনের জন্য পানির খোঁজে। তখন রওয়ানা করলো। সে হাঁটতে হাঁটতে প্রান্তরের অনেকখানি পথ পেরিয়ে যায়, তারপর তার দেখা হয় এক দৈত্যের সঙ্গে। দৈত্য জিজ্ঞাসা করল, কোথায় চলেছ এরকম হনহন করে? যুবক জানাল, জীবনের জন্য পানির খোঁজে। দৈত্য বলল, আমি ঐ জল আর পাহাড়ের অন্যান্য মূল্যবান জিনিসের খোঁজে অনেককেই এই পথ দিয়ে যেতে দেখেছি কিন্তু তাদের একজনকেও ফিরতে দেখিনি। আমার কথা যদি খেয়াল না করো, সেইমতো যদি না চলো, তাহলে তুমিও কোনদিন ফিরবে না। এখন মন দিয়ে শুন। পাহাড়ে যাবার পথে তুমি অনেক শিলাখন্ড দেখবে। তুমি সেদিকে তাকাবেনা, একটা পাথরও স্পর্শ করবেনা, তুমি চলতে থাকবে সুজা সামনের দিকে। তুমি হাসির শব্দ শুনবে ঠাট্রা ও বিদ্রুপবাক্য তোমার কানে আসবে, পাথরগুলোই সেসব করবে। তুমি তাতে কর্ণপাত করবেনা, করলে তুমিও পাথরে পরিণত হবে। পাহাড়ের শীর্ষদেশে না পৌছানো পর্যন্ত তুমি চলতে থাকবে, তাহলেই যা খোঁজতে তুমি বেরিয়েছো তা পাবে। দৈত্যকে ধন্যবাদ দিয়ে যুবক পাহাড়ের পাদদেশে উঠতে শুরু করতেই সে শুনতে পায় নানা রকম ব্যাঙ্গোক্তি, কঠিন বিদ্রুপবাণী, উপহাসভরা হু হু হাসি। সে তাতে কান না দিয়ে চলতে থাকে, কিন্তু এক সময় তার আর সহ্য হয় না, সে ঐ পাথরগুলোর দিকে ছুড়ে মারার জন্য নিচু হয়ে নিজের হাতে একটা পাথর তুলে নেয়। আর সঙ্গে সঙ্গে সে অনুভব করে যে তার হাত শক্ত, অনড়, অবশ হয়ে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে সে নিজেই পাথরে প্পরিণত হয়ে যায়। ঠিক ঐ মুহূর্তে বাড়িতে তার বোন চোখের সামনে ছুরিটা নিয়ে বসে ছিল। সে দেখল ছুরির উপর কয়েকটা রক্তের ফোঁটা এসে জমা হয়েছে। সে ভাইদের ডেকে সেটা দেখাল। দ্বিতীয় ভাই তক্ষুনি বলে উঠলো, আমি চললাম, বড় ভাইকে বাঁচাতে হবে। সে হাঁটতে থাকে এবং এক সময় তারও দেখা হয় দৈত্যের সঙ্গে। দৈত্য তাকেও একই পরামর্শ দেয় – এই পথ ধরে এগিয়ে যাও, পথে দেখবে অনেক শিলাখন্ড পড়ে আছে কিন্তু তুমি সে দিকে চোখ তুলে তাকাবে না, ভুলেও ঐসব পাথর স্পর্শ করবে না। ওরা তোমাকে খুব ঠাট্রা বিদ্রুপ করবে, সেসব একটুও গায়ে মেখো না। দ্বিতীয় ভাই চলতে থাকে। পাথরগুলো তাকে টিটকারী দেয়, উপহাস করে, নানা গাল দেয়। কিন্তু সে সবকিছু উপেক্ষা করে চলতে থাকে। হঠাত এক সময় শুনলো যে তার ভাইও তাকে বিদ্রূপ করছে। দ্রুত পেছন ফিরে তাকায় সে এবং সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হয়ে যা পাথরে। তারপর বোন যায় এবং সে কোনো কিছু র দিকে পাত্তা না দিয়ে চলে যায়।এবং পানি নিয়ে সকল পাথরে ছিটিয়ে দেয়। আর পাথর মানুষ হয়ে যায়।এবং পানি নিয়ে আসে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জীবনের জন্য পানি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now