বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তখন আমার বয়স ছিলো ৭ বছর। সবেমাত্র ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হয়েছি।
বাবা মা মোট কথা বেঁচে থাকার জন্য সবাই ছিলো।
কিন্তু গাইড লাইন দেওয়ার মতো কেউ ছিলো না।
আমি প্রাইমারি স্কুলে যেতাম, সবাই আমার সাথে অনেক মজা করতো।
তখনো বুঝতাম না আসলে ক্লাসের সবাই কেন আমার সাথে এত মজা করে।
আমি প্রতিটা পরিক্ষায় ফেল করতাম। কারন তখনো বুঝতাম না পরিক্ষাটা কি জিনিস।
--ক্লাস থ্রি হতে যখন ফোরে ওঠবো এমন সময় একটা ঘটনা ঘটলো।
আমি আবারও ফেল করলাম।
অনেক কান্নাকাটি করতেছি। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আমার ভালো বন্ধু হৃদয় সে ক্লাস ফোরে ওঠবে অথচ আমি ফোরে ওঠতে পারছি না।
.
এরপর আর প্রাইমারিতে পড়া হয় নাই।
২০০৩ সাল। আম্মু আমাকে ব্রাকে ভর্তি করিয়ে দেয়।
আমাদের প্রথমে তরি-তালি শিখতে হয়।
আমি পারতাম না।
আমাকে দল থেকে বের করে দেওয়া হলো।
আমাদের দলের নেত্রী ছিলো একটা মেয়ে তার নাম বিবি।
সেদিন ও অনেক কান্না করলাম।
আম্মুর অনেক জোরাজোরিতে আমাদের ব্রাকের মেডাম আবার তাদের দলে ডাকলেন।
-আমি প্রতিনিয়ত তরি-তালি শিখার চেষ্টাটা করে যাচ্ছি।
আমার আস্তে আস্তে অনেক বন্ধুও হয়ে গেলো।
তারা হলো বিপুল, আরমান, মনির, কামরুল, শুফিকুল আরো অনেকেই।
আমি ব্র্যাকে ভালোই রেজাল্ট করেছিলাম।
৩৩ জন ছাত্রের মধ্যে আমি প্রথম স্হান দখল করেছিলাম।
এই ব্র্যাকে পড়ার জীবনে আরো অনেক ঘটনা ঘটে যায়।
.
২০০৭ সালের শেষের দিকে আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিলো সেই দিনগুলি। সেইদিনগুলো ছিলো আমার কষ্টের। আমি অনেক বড় একটা রোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম।
ময়মনসিংহ কোনো একটা হাসপাতালে চলতেছিলো আমার শরীরের তিনটি জায়গায় অস্রুপাচার।
সেইদিনগুলোর কথা মনে হলেই আজও আমার গা শিউরে ওঠে।
.
২০০৮ সাল। সবে মাত্র হাইস্কুলে ভর্তি হলাম। সবাই অপরিচিত লাগছে।
হঠাৎ আমার পুরনো বন্ধু বিপুলের সাথে দেখা।
এইভাবে চলতে শুরু হলো আমার হাইস্কুল লাইফ।
অনেক বন্ধু হলো অনেক বান্ধবী হলো।
লেখাপড়াও ভালোই চলতেছিলো।
স্যার মেডামরাও অনেক আদর করতো।
বন্ধুরাও ভালোই খুজ খবর রাখতো।
বিশেষ করে বিপুল আমার বিপদে আপদে সব সময় পাশে থাকতো।
ইউসুফ নামের একটা বন্ধু ছিলো। সে ছিলো অমায়িক অসাধারন।
কিন্তু পারিবারিক প্রবলেমের কারনে তার লেখাপড়া ইতি টানতে হয়।
ও চলে যায় ঢাকাতে।
আজও নিজের চেষ্টায় তার লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া মুসতাইন, ফারুক, সাহাজাহান, ফরিদ, আরমান, মামুন, লিপন আরো অনেক বন্ধু ছিলো।
আজ অনেকেই পারিবারিক প্রবলেম আর আর্থিকতার কারনে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে।
কেউ কেউ আবার বিয়ের পিড়িতে পা রাখেছে।
আমাদের ক্লাসে রুবিনা নামে একটা বান্ধবী ছিলো।
সে ছিলো অসাধারন মেধাবীর অধিকারি।
মজার কথা হলো আমাদের ক্লাসে মেয়ের চেয়ে ছেলের সংখ্যায় বেশি ছিলো।
এভাবে কেটে গেলো আমাদের হাইস্কুল লাইফ।
পরিক্ষা দিলাম।
কিন্তু ভালো রেজল্ট করতে পারলাম না।
ভেবেছিলাম A+ পাবো কিন্তু পেলাম ৪.৪৪ মানবিক বিভাগ থেকে।
বড় আফসুস হয় তখনো বুঝতাম না রেজাল্টের মূল্য।
একজন ছাত্রের জীবনে রেজাল্টের কত মূল্যবান।
.
১৩ সাল চলে গেলো।
২০১৪ সালে আবার নতুন করে জীবন শুরু করলাম।
ভাবলাম হয়তো এবার আমার জীবনটাকে উন্নত করতো পারবো।
১৪ সালের জানুয়ারি মাসে আমাদের কলেজে ক্লাস শুরু হয়।
আমি প্রতিদিন নিয়মিত ক্লাস করি।
বাবা মার মুখের দিকে তাকিয়ে জান প্রান দিয়ে লেখাপড়া শুরু করি।
কিন্তু যখন এইচ এস সি রিজাল্ট বের হলো তখন বুঝতে পারলাম মানুষ যে বলে গবরের মধ্যপ পদ্ম ফুল ফুটে আসলে এটা মিথ্যা কথা।
কারন আমার দুটা বছরের চেষ্টা সাধনা বিফলে গেছে।
আমার রেজাল্ট যাতে ভালো হয় সেইজন্যে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে তেমন মিশতাম না।
তাদের সাথে তেমন কথাও বলতাম না।
এত কষ্ট এত ত্যাগ এত সাধনার করার পর ও আমার রেজাল্ট খুব খারাপ আসে।
আমি ৩.৭৫ পায় মানবিক থেকে যা আমার ধারনার বাইরে ছিলো।
হয়তো যারা আমার এই লেখাটা পড়বেন তারা হয়তো বলবেন কিভাবে তা সম্ভব।
আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি কপালের লেখা কেউ খন্ডাতো পারে না। আমিও পারিনি।
তবুও আমি হাল ছাড়িনি......
আমি আমার সাধনায় অটল....
.
২০১৬ সাল।
চলে গেলাম ঢাকাতে।
কিছুতো একটা করতেই হবে আমার।
ভার্সিটি এডমিশন টেষ্টের জন্য ফার্মগেটে কোচিং করতে শুরু করলাম।
কারন আমার আত্মবিশ্বাস ছিলো আমি যেকোনো পূর্নাঙ্গ ভার্সিটিতে চান্স পাবো।
আব্বুর কাছে ১২০০০ হাজার টাকা নিয়ে ছোট ঈদের পর ভর্তি হয়ে গেলাম।
ক্লাস করলাম মনোযোগ সহকারে।
ঢাকা ভার্সিটির বড় ভাইয়েরা আমাদের ক্লাস নিতো।
আমাদের প্রতিদিন তিন থেকে চারটা শীট পড়তে হতো।
দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে শীট শেষ করা যে কত ট্রাপ যারা কোচিং করেছিলো তাড়াই ভালো জানে।
.
ঢাকার জীবনটা খুব কষ্টেয় গিয়েছে আমার। পরিচিত কেউ ছিলো না আমি আর আমার খালাতো ভাই মিলে মিরপুরে একটা মেছে থাকতাম।
এই হলো মেছ জীবন।
নতুন এক অভিঙ্গতা।
.
আজ আমার ঢাকা ভার্সিটিতে এডমিশন টেষ্ট।
মনে হাজারো রকমের চিন্তা।
আমি কি পারবো?
আমি কি হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর থেকে একটা সিট ছিনিয়প আনতে।
এসি রুমে আমি পরিক্ষা দিলাম খুব ভয়ে ভয়ে।
পরের দিন বিকালে আমার পরিক্ষার রেজাল্টট বের হলো।
আমি ফেল করেছি।
আমার কষ্ট, আমার ত্যাগ সব সাধনা, টাকা পয়সা সব কিছু বিথা গেলো।
কারন হাজার হাজার A+ পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা পরিক্ষা দিয়েছিলো।
ডি ইউনিটে পরিক্ষা দিতে পারি নাই।
.
আজ আমার জগনাথ ভার্সিটিতে পরিক্ষা। জানি না আজও কি হবে?
একটুর জন্য পেলাম না।
ভুল করে ফেলেছি।
না জেনে কিছু প্রশ্নের উওর দিয়েছি।
.
আজ আমার জাহাঙ্গীর নগর ভার্সিটিতে পরিক্ষা।
ভাবছি, কি হবে আর পরিক্ষা দিয়ে।
আমার পক্ষে তো সম্ভব না।
রেজাল্ট যখন দিলো দেখলাম আমার রোল আসে নাই।
.
চলে গেলাম সিলেটে।
একটা চান্স পাওয়ার আশায়।
শাহাজালাল ভার্সিটিতে পরিক্ষা দিলাম।
অবশেষে এটাতেও হলো না।
→ কপালে যা লেখা থাকে তাই হয়।
আমার জন্য কে দায়ী?
আমি কেন পারলাম না?
শুনেছি চেষ্টা করলে কেষ্ট মিলে আমার কেন মিললো না?
আল্লাহর কাছে কি এমন অপরাধ করেছিলাম যে আমার আশা পূরন হলো না।
→ অবশেষে সবাই এক কথায় বলবেন, মহান আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে।
তাহলে সকলের কাছে আমার একটা প্রশ্নঃ সেটা কি আমি জানতাম না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now