বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবনের গল্প: অতৃপ্ত ভালোবাসা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X "ধুর ! শালার বৃষ্টি টা এই টাইম এযে কেন আইল ! এমনেই ৭ দিন ধইরা খানা দানা নাই । তার উপর শীত এরদিন এ বৃষ্টিতে ভিজতে কি ভাল লাগে !" কথাগুলো বলতেছিল আকাশ । বাচ্চা ছেলে । মাত্রই BMA থেকে বের হয়ে 2nd লেফটেনেন্ট হয়েছে তাই একটু অর্ধয্য । কিন্তু এটা ও তো ঠিক যে এতদিন এভাবে বসে বসে কোন লাভই হচ্ছে না । ও আমি মাজহার । কেপ্টেন মাজহার । আমারা এখন পার্বত্য চট্টগ্রাম এর একটা দুর্গমএলাকায় । একটা মিশন এ আছি । আমরা ৫ জন । আমি , আকাশ , ক্যপ্টেন রাসেল , 2nd লেফটেনেন্ট আসিফ , আর আমাদের টিম লিডার ক্যপ্টেন মুহতাসিম । আমরা ব্যাক আপ টিম । মূল টিম টা অন্য দিক দিয়ে একটাচোরাকারবারি দল কে আক্রমন করবে । চোরাকারবারিরা যেন এখান দিয়ে পালাতে না পারে তাই আমাদের এখানে রাখা হয়েছে । কিন্তু যদি চোরাকারবারিরা না টের পেয়ে থাকে তাহলে তো এতদিনে মিশন শেষ হয়ে যেত । তাহলে কি তারা এখানে আসছে? তার মানে আবার সেই গোলাগুলি । আবার সেই লাশ । ভাল লাগে না । মুহতাসিম এর কন্ঠে যেন ঘোর ভাঙ্গল । সে আমাকে পানি দিতে বলল । দিলাম । একটা সিগারেট ধরালাম । আবার হারিয়ে গেলাম ভাবনায় । মুহতাসিম আমার জানের দোস্ত । একসাথেই ভর্তি হইছিলাম কুমিল্লা কেডেট কলেজে । তার পর ৭ টি বছর যেন উড়ে চলে যায় । কেডেট থেকে বের হলাম । আর্মিতেই যাব । কিন্তু তার পর ও বুয়েটের জন্য কোচিং শুরু করলাম । ১ম দিনই ইরা র সাথে দেখা । ইরা ! মুচকি একটা হাসি ফুটলো আমার ঠোট এ । কোচিং-এ কিছুক্ষন কথা বলতেই বুঝলাম । আমার লাইফ পার্টনার পেয়ে গেছি । কোচিং থেকে বের হয়ে মুহতাসিম কে বললাম "দোস্ত । এই মেয়ে আমার । আমার চাইই চাই ওকে ।" মুহতাসিম হাসতে হাসতে বলেছিল "ওই তুই মাজহারই তো ! ভুল শুনলাম না তো ! তোর একটা মেয়ে কে পছন্দ হইছে !" তার পর ! তার পর খুব কম সময়ে । খুব কম সময়েই ওর সাথে রিলেশানটা হয়ে গেল । ৪ কি ৬ মাস ! সে বুয়েটে টিকলো । আমি পরিক্ষাই দিই নি । কারন আমার আইসেসবি হয়ে গেছে । ২ বছর ট্রেনিং এ ছিলাম । ওকে ছেড়ে থাকা যে কি কষ্ট ! হারে হারে টের পাইছি । সাভার ক্যান্টনমেন্টে জয়েন করলাম । নিয়মিতই দেখা হতে থাকল ইরার সাথে । মুহতাসিম কয়েকদিন পর চলে গেল প্যারা কমান্ডো ট্রেনিং করতে । আমি গেলাম না । কারন ইরা কে ছাড়া আমি থাকতে পারব না । আর ও একটা বছর কেটে গেল । আমাদের পরিবার আমাদের রিলেশনে রাজি । মুহতাসিম ও ফিরে এল । বিয়ের ডেট ফিক্স করতে চাইলাম । কিন্তু এর আগেই মিশন টার ডাক এল । কি আর করা ! মুহতাসিম কে নিয়ে আমি ইরার সাথে দেখা করতে গেলাম । সে হাউমাউ করে কাদতে থাকল । ইস্ ! এত লজ্জা লাগল ! মুহতাসিম এর সামনে এভাবে কাদতেছে ও ! ওকে বুঝাতে অনেক কষ্ট হল । ও শেষে মুহতাসিম কে বলল "ভাইয়া আমার ইমনকে দেখে রাখবেন প্লিজ" মুহতাসিম ইরা কে বলল"ভাবি ওর কিছু হবে না ।" যাওয়ার দিন ওর মুখটা শুকিয়ে ছিল । বুকটা ধক্ করে ওঠেছিল । একবার ভেবেছিলাম ওকে একটু আদর করে আসি । পরে সবাই হাসবে তাই যাই নি। ওকে যে আমি কত মিস করি ও যদি জানত ! এখানে আসছি প্রায় ২0 দিন হয়ে গেছে । বুক পকেট থেকে ওর একটা ছবি বের করে দেখতে থাকলাম । দুষ্টু একটা হাসি তার ঠোটে । ওকে নিয়ে একটা চিঠি লিখছিলাম । পোষ্ট করার টাইম পাই নাই । দরকার ও নাই । আর তো মাত্র কয়েকদিন । তারপর তো . . . আবার ও মুচকি হাসলাম . . একটা ঘোরের মধ্যে ওকে নিয়ে ভাবতে থাকলাম । গুলির আওয়াজ এ ঘোর ভাঙ্গল । কুত্তার বাচ্চাগুলো এসে গেছে । এত চুপচাপ এসেছে বুঝিই নী । ১ম এ ওরাই গুলি করলো । আকাশের বুকটা ঝাজরা হয়ে গেল । আমরা ও পাল্টা গুলি করতে লাগলাম । আমার পাশে আসিফ ছিল । একটু পর তাকালাম তার দিকে । শিওরে উঠলাম । আসিফের কপালের ঠিক মাঝখানে একটা ফুটো । রক্ত গরম হয়ে গেল । চিত্কার দিয়ে উঠে দাড়ালাম । সমানে গুলি করতে থাকলাম । আশে পাশে আর ও আর্মি দেখলাম । তার মানে আমাদের মেইন টিম ও এসে গেছে । একটু মনে হয় শুনলাম মুসতাসিম বলতেছে "majhar u busterd . . . get down . . get down" । হঠাত্ ই মনে হল ধাক্কা খেলাম । বুঝলাম না কি হল । কিছু বুঝার আগেই দেখলাম আমার শার্টটা ভিজা ভিজা লাগছে । ভাবলাম ওটা বৃষ্টি । কিন্তু বুক এর কাছটায় গরম লাগল । হাত দিলাম । ভিষণ ব্যথা সেখানে । ওখান থেকে রক্ত পড়তেছে । পড়ে যেতে থাকলাম । মুহতাসিম দৌড়ে এসে ধরলো আমাকে । একি মুহতাসিম কাদছে ! কথা বলতে চাইলাম পারলাম না । বুঝলাম আমার সময় শেষ । মুহতাসিম কে বুক পকেট থেকে চিঠি আর ইরার ছবি টা দিলাম । চোখ আর খোলা রাখতে পারছি না । আমার খুব ঘুম আসছে । ইরার সেই লাজুক আর দুষ্টু হাসি ফুটে উঠলো । চিত্কার করে বলতে চাইলাম "ইরা তোমাকে অনেক ভালবাসি। অনেক অনেক অনেক ভালবাসি ।" মুখ দিয়ে কথা বের হল না । আমার আর ভাল লাগতেছে না । আমার ঘুম আসতেছে ঘুম . . . .. . . .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জীবনের গল্প: অতৃপ্ত ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now