বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জীবন থেকে নেওয়া ....
.
আমাকে তখন সবেমাত্র ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করানো হলো...বাবা মা দুজনেই অনেক খুশি...কিন্তু স্কুলে যেতে আমার খুব ভয় করত কারণ আমি একটু ভিতু ধরণের ছিলাম...আমি আগে কখনো এত শত ছেলে-মেয়েকে এক রকম পোশাকে দেখিনি...তাই অনেক ভয় করত...প্রায় প্রতিদিনই আমি কান্না করতাম স্কুলে না যাওয়ার জন্য..আমার আম্মু আমাকে জোর করে স্কুলে নিয়ে যেত...আমি যাতে কান্না না করি তাই স্কুলের বাইরে দাড়িয়ে থাকতো এবং কিছুক্ষণ পর পর আমাকে এসে দেখে যেত...এভাবে খুব ভালো ভাবেই চলতেছিল দিনকাল...বাবা প্রতিদিন অফিস থেকে আসার সময় আমার জন্য অনেক কিছু নিয়ে আসতো...বাবা আমাকে অনেক ভালোবাসত এখনো বাসে ঠিক আগের মতো...
.
আমি যখন ক্লাস ফোর এ উঠলাম তখন আমার মায়ের অবস্হা দিনে দিনে কেমন যেন হতে থাকে...বাবাকেও সেই সময় অনেক চিন্তিত মনে হতো...আমি মায়ের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম তোমার শরীর খারাপ কিনা...মা আমার মাথায় হাতটি বুলিয়ে নরম গলায় বলেছিলেন,,
-নারে বাবা তেমন কিছুই হয়নি আমার...অসুখের জন্য শরীরটা খারাপ এই আরকি...
-এতদিন হয়ে গেলো তাও কেন তোমার অসুখ ছাড়ছেনা মা...তুমি ঠিক মতো ঔষুধ খাওনা কেন মা...তোমার অসুখ ছাড়ছেনা বলে আমার অনেক কষ্ট লাগে...৪-৫ মাস আগেওতো তুমি এমন ছিলেনা...
-শীঘ্রই অসুখ ছেড়ে যাবে বাবা চিন্তা করিসনা...
-আচ্ছা মা, বাবা কেন ওমন ভাবে বসে থাকে ঘরে...আগেতো বাবাকে অমন উদাস ভঙ্গিতে কখনো বসে থাকতে দেখিনি...বাবারও কি অসুখ হয়েছে...?
-তুই অতসব বুঝবিনা...এখন যা মন দিয়ে পড়াশুনা কর...তোকে মানুষের মতো মানুষ হতে হবে বাবা...দোয়া করি যেন অনেক অনেক বড় হস তুই... আমি মায়ের কথার অবাধ্য হইনা কখনো...আমি ছোট থেকেই পড়ালিখায় অনেক ভালো...মায়ের ইচ্ছা আমি যেন ইঞ্জিনিয়ার হয়ে মায়ের ইচ্ছা পূরণ করি...আমি ঘর থেকে বাহির হতে যাবো তখন মা আবার ডাক দিলো আমায়...
-আবার ডাকলে কেন মা..?
-আজ তোকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে...আমার পাশটাতে বস বাবা...আচ্ছা তোকে একটা কথা বলি বাবা মন দিয়ে শুনিস...
-কি বলবে মা বলো, মন দিয়ে শুনছি...
-আমি যদি না থাকি তাহলে তুই কি করবি..?
-মা তুমি থাকবেনা কেন আগে সেটা বলো?
-ধর আমি মরে গেলাম তখন তুই কি করবি?
-যাহ্ তুমি মরতেই পারোনা...তুমি মরলে আমিও মরে যাবো...
-না বাবা অমন কথা বলতে নেই...তোক অনেক বড় হতে হবে...মানুষের মতো মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাড়াতে হবে...তোর জীবনে অনেক বাধা আসবে, অনেকের অনেক কথা শুনতে হবে...তাই বলে হাল ছাড়লে চলবেনা বাবা...জীবনের শেষটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাবি...
-মা আমি তোমার বলা কথাগুলো অনুযায়ী চলবো বলেই একটা হাসি দিলাম...
মাও একটা হাসি দিয়ে আমাকে চলে যেতে বললো পড়ার জন্য...আমিও বাধ্য ছেলের মতো হাটা ধরলাম...তখন যদি একটি বার বুঝতে পারতাম কেন মা ঐই কথাগুলো বলেছিলো...এখন কথাগুলো মনে হলে বুক ফাটা কষ্ট অনুভাব করি...
.
আজ আমার ক্লাস সিক্স এর ইংরেজী পরীক্ষা...পরীক্ষা দিতে আসার আগে মায়ের কাছে থেকে দোয়া নিয়ে এসেছি...মায়ের অবস্হা আজকে আরো খারাপ ছিল আমি দেখেই বুঝেছি...কিন্তু মা আমায় তা একটি বারের জন্য বুঝতে দেয়নি আমায়, শুধু ভাল ভাবে পরীক্ষা দিতে বলেছিল...আমিও ভাল ভাবেই পরীক্ষা দিচ্ছিলাম...পরীক্ষার যখন ১ ঘন্টা ১০ মিনিট চলে গেলো হঠাৎ স্কুলের এক টিচার এসে বললো আমার আম্মুকে নাকি মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে, অবস্হা খুব খারাপ...বারে বারে আমাকে দেখতে চাচ্ছে...আমি যেন তাড়াতাড়ি পরীক্ষা শেষ করে মায়ের কাছে যাই...খবরটা পাওয়ার পর কোনো এক অজানা আসঙ্কায় আমার খুব ভয় করছিলো...পরে আমি আর পরীক্ষার খাতায় মন বসাতে পারিনি...পরীক্ষা শেষ করে বাহির হতে যাবো তখনই খেয়াল করলাম বাবা দাড়িয়ে আছে...বাবাকে দেখেই দৌড়ে গেলাম,,
-মায়ের এখন কি অবস্হা বাবা?
-.....
-বাবা কথা বলো...?
-চল তোর মাকে দেখতে যাবি...
-হুম তাড়াতাড়ি চলো...
বাবা তাড়াতাড়ি করে আমাকে রিকসায় উঠালেন...রিক্সা করে কিছু দূরে যাওয়ার পর বুঝলাম বাবা আমায় মেডিকেলে না বাসায় নিয়ে যাচ্ছে...
-বাবা তুমি আমায় মেডিকেলে না নিয়ে বাসায় কেন নিয়ে যাচ্ছো?
-তোমার মাকে মেডিকেল থেকে বাসায় আনা হচ্ছে তাই... কথাটা বলার সময় বাবার কথাগুলো আটকে যাচ্ছিলো বারে বারে...
আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি...বাসায় এসে অপেক্ষা করতে লাগলাম মায়ের জন্য...তার কিছুটা সময় পর অ্যাম্বুলেন্স আসলো...মাকে ভিতর থেকে নামাতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম...মাকে একটি সাদা কাপড়ে পেঁচানো ছিল...আমি বাবার দিকেই তাকাই দেখলাম দেয়ালে হেলান দিয়ে কান্না করছেন...আমি বাবাকে আগে কখনো এমন ভাবে কান্না করতে দেখিনি...আমি মায়ের পায়ের কাছে অনেকক্ষণ দাড়িয়ে ছিলাম তারপর আমার আর কিছুই মনেছিলা...চোঁখ খুলার পর জানতে পেরেছিলাম তিন দিন ধরে আমি অজ্ঞান আর আমার মা এখন কবরে শুয়ে আছে...
.
আমার মা মারা যাওয়ার পর আমি অনেক ভেঙ্গে পরি...আমার শরীরের অবস্হা দিন দিন খারাপ হতে থাকে...আমি ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করতামনা দেখে বাবা অনেক চিন্তিত হয়ে পরে... আমার কথা চিন্তা করে বাবা তার একমাস পর বাবা আরেকটা বিয়ে করে...বাবা আমাকে অনেক ভালবাসত, আমার যাতে কোনো কষ্ট না হয় তাই বাবা বিয়েটা করেছিলেন...বাবা চায়নি কখনো আমি কষ্ট পাই...তাছাড়া আমি যাতে মা হারানোর কষ্টটা ভুলে যাই তাই বাবা এই সীদ্ধান্ত নিয়েছিল...বাবা বিয়ে করার পর অনেক পরিবর্তন ঘটতে থাকে আমার মাঝে...নতুন মা আমাকে অনেক ভালোবাসত...আস্তে আস্তে আমার মা হারানোর কষ্ট গুলো ভুলে যেতে থাকি...আগের মতো সব কিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করে...
.
বাবা তার কাজে বিদেশে চলে গেলেন কিছুদিন হলো...বাবা চলে যাওয়াতে অনেক খারাপ লাগছিলো আমার...বাবা চলে যাওয়ার পর আমার জীবনের কষ্ট দিনগুলো শুরু হতে থাকে...বাবা চলে যাওয়ার পর থেকেই আমার নতুন মা আমার উপর কেমন যেন করতে থাকে...এখন প্রায়ই আমাকে দিয়ে অনেক কাজ করিয়ে নেন...আমাদের কাজের একটা ছেলে থাকা সত্তেও আমাকে দিয়ে সব কাজ করাত...আমি আর পড়ায় আগের মতো মন দিতে পারছিলামনা...তাও আমি কিছু মনে করতামনা... আমি পড়তে বসলে নতুন মা কোন না কোন ভাবে আমাকে পড়তে দিতেননা... কিন্তু আমি বুঝতামনা এমন কেন করতেন...আমি যখন ক্লাস এইটে উঠি তখন আমার পরীক্ষার রেজাল্ট খুব খারাপ হতে থাকে...আমি বুঝতে পেরেছিলাম কেন রেজাল্ট খারাপ হয়েছিল...আজ আমার মা যদি জানতেন আমার রেজাল্ট খারাপ হয়েছে তাহলে আমার মা অনেক কষ্ট পেতেন...আমার নতুন মা আমার রেজাল্ট খারাপ হওয়াতে তেমন কিছুই বললেননা যেন এতে খুশি হয়েছেন...
.
আমি সময় পেলেই বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘাটাঘাটি করতাম...পুরানো যন্ত্রগুলি খুলে মোটর নিয়ে ফেলে বতল কেটে কার, হেলিকপ্টর এগুলো বানাতাম...আমার এগুলো বানাতে অনেক ভালো লাগত...কিন্তু আমার নতুন মা এগুলো সহ্য করতে পারতেননা...আমাক
ে নিয়ে অকথ্য ভাষায় কথা বলতেন...আমি চিনতে পেরে উঠছিলাম না যে ইনি কি আমার নতুন মা যিনি বিয়ের পর আমাকে কোলে করে রাখতেন...আমার যাতে কোনো ক্ষতি না হয় তার জন্য কত যত্ন করতেন...আর আজ কি থেকে কি হয়ে গেলো আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলামনা...আমার নতুন মা বলেছিলেন আমি পরীক্ষায় খারাপ করে কেন এইসব আজেবাজে জিনিস বানাই...আমি কি বলবো ভেবে কুলিয়ে উঠতে পারছিলামনা...আম
ি ততদিনে বুঝে গিয়েছিলাম যে আমার উপর এইসব শারিরীক এবং মানসিক অত্যাচার করাই হবে নিয়মিত...আমার মায়ের কথা মনে পরতেই দুচোঁখ থেকে কিছুটা অশ্রু গড়িয়ে পরল...মায়ের একটা কথা খুব মনে পরছিলো, আমাকে মানুষের মতো মানুষ হতে হবে...ইঞ্জিনিয়ার হয়ে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে...আমি সেই অনুযায়ী চলার চেষ্টা করলাম...সব কস্টকে অপেক্ষা করে পড়াশুনাটা চালিয়ে গেলাম মন দিয়ে...
.
আজ আমার এস.এস.সি পরীক্ষার রেজাল্ট...আমি সিওর ছিলাম গোল্ডেন এ+ পাবো, হলোও তাই...সব ছেলে-মেয়েকে দেখলাম লাফালাফি করতে, সেলফি তুলতে...তাদের সাথে তাদের মা বাবাও অনেক খুশি...আমি শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে তাদের দেখছিলাম....
.
আজ আমার এস.এস.সি পরীক্ষার রেজাল্ট...আমি সিওর ছিলাম গোল্ডেন এ+ পাবো, হলোও তাই...সব ছেলে-মেয়েকে দেখলাম লাফালাফি করতে, সেলফি তুলতে...তাদের সাথে তাদের মা বাবাও অনেক খুশি...আমি শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে তাদের দেখছিলাম...
নতুন মাকে খবরটা দেয়ার পর উনি কথাটা না শুনার মতো করে চলে গেলেন আমার সামনে থেকে...আমার খুব খারাপ লেগেছিলো তখন...আমি সেদিন মায়ের কবরের কাছে গিয়ে অনেকক্ষণ কান্না করেছিলাম...আমি মাকে অনেক করে বলেছিলাম আমাকেও তার সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু মা তা করেননি...আমি পরে বুঝেছি কেন মা আমাকে সঙ্গে করে নিবেনাপোল কারণ মায়ের স্বপ্ন যে এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে...বাবা আমার রেজাল্টের খবর শুনে অনেক খুশি হয়ে আমার জন্য একটি টার্চ মোবাইল পাঠিয়েছিলেন কিন্তু আমার নতুন মা তা আমাকে দেননি...তিনি সেটি তার বাপের বাড়ির একজনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন...আমাকে একটা নরমাল দিয়ে বলেছিলেন তোমার বাবা পাঠিয়েছেন যোগাযোগ করার সুবিধার্তে...
.
আমি এখন আলাদা একটা মেসে থাকি...আমি জানি আমি বাসায় থাকলে আমার পড়াশুনা হবেনা...বাবাকে বলেছি কলেজ দূরে হওয়াতে মেসে উঠেছি...বাবা মাসে মাসে আমার জন্য টাকা পাঠান ওগুলো দিয়ে আমি চলি...আমার তেমন কোনো বন্ধু নেই...আসলে আমি নিজে থেকেই কাউকে বন্ধু বানাতে চাইনি...সবার সাথে টুক টাক কথার ভিতরেই সব সিমাবদ্ধ...আমি কলেজের পাশে একটা নিরিবিলি জায়গা আছে আমি কলেজ শেষে প্রায় সেখানে যাই...আমি আমার কষ্টগুলোক একটি ডাইরিতে বন্দি করি...আমি ডাইরি লিখার সময় প্রায় খেয়াল করতাম একটি মেয়েকে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে...আমি তার দিকে চোঁখ তুলে তাকালেই সে চলে যেত...এমন ঘটনা প্রতিদিন ঘটতে লাগলো...আমি বুঝতে পেরেছিলাম মেয়েটি আমার সাথে কথা বলতে চায় কিন্তু সাহসের অভাবে বলতে পারছেনা...কিন্তু বিষয়টা আমার কাছে খুব বিরক্ত লাগতো...আমি ডাইরি লিখছি আর একজন আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভাবতেই তো কেমন লাগে...আর কত সহ্য হয় তাই একদিন নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে মেয়েটিকে ডাক দিলাম,,,
-এই মেয়ে এদিকে আসো..?
আমার ডাক শুনে মেয়েটি গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসতে লাগল...
-জি বলুন..?
-তোমার সমস্যা কি, প্রতিদিন আমাকে অভাবে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখ কেন?(রাগি ভাবে)
-আসলে..লে..লে
-আসলে কি বলো?
-আসলে আমার এই জায়গাটা খুব ভালো লাগে...কিন্তু কিছুদিন ধরে দেখছি আপনেকে এই জায়গাটাতে বসে থাকতে...আপনি খুব মন দিয়ে কিছু একটা লিখেন তাই আপনের সামনে যেতে ভয় লাগত...(মাথা নিচু করে)
-সরি আমি বুঝতে পারেনি...আচ্ছা আমি চলে যাচ্ছি আর কখনো আসবনা, কথাট বলেই হাটা দিলাম...
-প্লীজ যাবেননা...আমার আপনের সাথে কিছু কথা ছিল...
-এইমাত্র বললেন এটা আপনের জায়গা এখন আবার যেতে মানা করছেন...আচ্ছা কি বলবেন বলেন?
-আমি কি আপনের বন্ধু হতে পারি... প্লীজ না করবেন না...আমি জানি আপনের ভিতরে অনেক কষ্ট... প্লীজ প্লীজ প্লীজ আমাকে না করবেন না...
আমি থ হয়ে তাকিয়ে রইলাম মেয়েটির দিকে...মেয়েটি কিভাবে বুঝলো আমার ভিতরে অনেক কষ্ট...আর তাছাড়া আমি আগে কখনো কোনো মেয়ের সাথে এতোটা কাছে থেকে কথা বলিনি আর বন্ধু হওয়াতো দূরের কথা...মেয়েটির চোঁখে কিছু একটা দেখতে পেয়েছিলাম যার কারণে বন্ধুত্ব গ্রহণ করি...পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি...
.
মেয়েটির নাম নিধি...আমরা একই ব্যাচের কিন্তু আগে খেয়াল করিনি কখনো...নিধি বন্ধু হওয়ার পর থেকেই আমার অনেক কেয়ার করে...ও প্রায়ই আমার জন্য টিভিন বক্সে করে খাবর নিয়ে আসে...ওর পেটে যত কথা জমানো আছে সব আমার সাথে সেয়ার করে...এতদিনে যেন সে কাউকে পেয়েছে তার সব কথা সেয়ারের জন্য...নিধিরা অনেক বড় লোক...নিধির বাবা অনেক বড় মাপের একজন মানুষ...অনেক বড় লোক হওয়া সত্বেও আমি নিধির ভিতরে কোন অহংকার দেখতে পাইনি...দিনকাল ভালোই যাচ্ছে...নিধি আমার পরিবার, আমার বাবা মা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি কিছু বলিনি...একদিন অনেক জোরাজুরি করাতে আমি আমার ছোট থেকে এই কলেজে উঠা পর্যন্ত সব কিছু নিধিকে বললাম...নিধি খুব মন দিয়ে শুনেছিলো আমার কথাগুলো...বলা শেষে যখন তারদিকে তাকালাম দেখলাম চোখ দিয়ে পানি পরছে তার...
.
কলেজে আমি এখন অনেক জনপ্রিয়...আমি প্রায় বিভিন্ন জিনিস বানিয়ে কলেজে তা প্রদর্শন করি...সবাই আমাকে তাদের বন্ধু বানাতে চায় কিন্তু আমি নিধিকে ছাড়া কাউকেই জায়গা দিতে রাজি নই...কিভাবে যে দুটি বছর পার করে ফেললাম ভাবলেই অবাক হই...সামনে এইচ.এস.সি পরীক্ষা তাই মন দিয়ে পড়াশুনা করছি...আমার পড়শুনার যাতে কোনো ক্ষতি না হয় এমন ভাবে মিশতো নিধি...
.
এইচ.এস.সি পরীক্ষায় সফলতার সাথে গোল্ডেন এ+ পাই... পরে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে বুয়েটে পরীক্ষা দিই এবং সেখানেও সফলতার সাথে চান্স পাই....আজ আমি সফ এক ইঞ্জিনিয়ার...সমাজে প্রত্যেকটি মানুষ এখন সম্মান দিয়ে কথা বলে আমার সাথে...নিধিকে নিয়ে সুখেই আছি আমি...আমার জীববনের অনেক বড় পাওয়া গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আমি নিধির মতো এমন একজন বন্ধু+ স্ত্রীকে পেয়েছি যে কিনা সারাজীবন আমার পাশে থেকে আমাকে সাহায্য করে গিয়েছে...তার রৃণ আমি কখনো শোধ করতে পারবোনা...আমি যেদিন ইঞ্জিনিয়ার পাশ করে বের হই সেদিন মায়ের কবরের কাছে গিয়ে মাকে অনেক কথা বলি...মাকে এও বলেছিলাম যে আগে মার কাছে গিয়ে বলতাম আমাকে মায়ের কাছে নিয়ে যেতে...এখন বলছি অনেক অনেক দোয়া করতে যাতে নিধিকে নিয়ে সারাটা জিবন অনেক সুখে থাকতে পারি...একটা অবিশ্বাস্য খবর হলো এতো বছর হলো কিন্তু আমি আমার বাবা ছাড়া আমার সৎ মায়ের সাথে কোনো যোগাযোগ রক্ষা করিনি...আমার সাথে অনেক জোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু আমি রাজি হইনি...
.
নিধি কিছুদিন ধরেই খুব জোরাজুরি করছে সৎ মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য...আমাকে বুঝাতে লাগলো আগের কথাগুলো ভুলে যেতে, আমার মা হনতো কথাগুলো বলেই আমার দিকে তাকিয়ে রইলো...আমার চেহেরার কোনো ভাবান্তর হলোনা দেখে নিধি বুঝে গেল যে আমি যেতে রাজি নই তাই বাচ্ছাদের মতো কান্নাকাটি শুরু করলো...
-রেডি হয়ে নাও, আজই নিয়ে যাবো... আমার কথা যেন নিধির বিস্বাস হচ্ছিলোনা...
-সত্তি,,,তখন দেখেতো মনে হয়েছিলো নিয়ে যাবেনা... আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই নিধি রেডি হতে চলে গেলো...
.
গাড়িতে বসে আছি চুপচাপ...কিছুক্
ষণ পর পর নিধি প্রশ্ন করেই যাচ্ছে কিন্তু আমি উত্তর দিচ্ছিলামনা...ন
িধি হয়তো বুঝতে পেরেছে তাই সেও চুপ করে গেলো...আমি ভাবতে থাকলাম অন্য কথা...আজই হয়তো শেষ বারের মতো দেখা করবো আমার সেই নতুন মায়ের সাথে...হঠাৎ যেন অতীতে ফিরে গেলাম আমি...
Cristiano Redoy(মেন্টোস)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now