বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবন মরণের সীমানা ছাড়িয়ে

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান R.H (dangeor-virus) (০ পয়েন্ট)

X খুব বেশি দিন হয়নি। ২০০৮ সালের কথা। সেবার দেশে গিয়ে দেখি বাবা আগের চেয়ে বেশ বুড়িয়ে গেছেন। চলাফেরার শক্তি প্রায় নেই বললেই চলে। তবুও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামেন। বাসার পাশের মসজিদে নামাজ আদায় করেন। তখন বাবার পৃথিবী বলতে ওইটুকুনই। দেখতে দেখতে আমার নিউইয়র্ক ফিরে আসবার সময় ঘনিয়ে এসেছে। সকালের লঞ্চে ঢাকায় ফিরতে হবে। প্রতিবার ফেরার সময় বাবা ঢাকা পর্যন্ত সঙ্গে থাকেন। ভেবেছিলাম সেবার একাই ফিরতে হবে। কিন্তু আমায় অবাক করে দিয়ে বললেন আমার সঙ্গে ঢাকা পর্যন্ত আসবেন। আমি রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে বলি, পারবেন? বাবার চোখজোড়ায় শিশুসুলভ আনন্দ খেলে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তীব্র এক আত্মবিশ্বাসে বলেন, তুই সঙ্গে থাকলে আমি দুনিয়ার সবখানেই যাইতে পারুম, বুঝলি বুড়ি? ভোরের দিকে আমরা পিতা-কন্যা বহুদিন পর একসঙ্গে রিকশার হুড ফেলে চললাম লঞ্চঘাটের উদ্দেশে। চিৎকার করে পৃথিবীকে জানান দিতে ইচ্ছে হলো। বলতে ইচ্ছে হলো, পৃথিবীর মানুষেরা দেখো, এইটা আমার বাবা, আমি তাঁর রাজকন্যা। ডানে-বাঁয়ে তাকাই। সকালের নীরব মফস্বল শহর। দু–একটা নেড়ি কুকুর হেঁটে যায় পাশের রেললাইন ধরে। বড় রাস্তার দুই পাশের দোকানপাট তখনো খোলেনি। কেউ দেখেনি ও পথে সকালের বিশুদ্ধ বাতাস কেটে কেটে পৃথিবীর সব সুখ গায়ে মেখে কন্যার হাত ধরে একজন বাবার সে যাত্রা। লঞ্চের দোতলায় ডাবল কেবিন। দুটো বিছানায় আমরা দুজন। তিন ঘণ্টার লঞ্চ জার্নিতে বাবা তাঁর গোটা জীবনের গল্পই বলে গেলেন। ছোটবেলা থেকে এ পর্যন্ত সংগ্রাম করে উঠে আসার গল্প। সাত বছরের পিতৃহীন এক বালকের কঠিন যুদ্ধ করে টিকে থাকা। নিজের চেষ্টায় সৎভাবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর গল্প। শুনতে শুনতে কখনো আঁতকে উঠেছি। কখনো দুই চোখ ছলছল করে উঠেছে, শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়েছে বারবার। আবার গর্বে মাথা তুলে তাকিয়েছি। অতঃপর বাবার পাশে এসে বসি। বলি, আব্বা, এই যে জীবনের এতটা পথ পার করে আসছেন, কোনো কষ্টবোধ আছে? কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন, জানালা দিয়ে বাইরের উত্তাল জলের দিকে তাকালেন, দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললেন, যখন তোরা ছোট ছিলি, হাতে টাকা–পয়সা কম ছিল, তোদের অনেক সাধ-আহ্লাদ পূরণ করতে পারি নাই। এখন হাতে টাকা আছে, কিন্তু তোদের সেই ছোট ছোট আবদারগুলো তো নাই। আমি কিছুক্ষণ নিরুত্তর বসে থাকি। বাবার প্যারালাইজড শীতল হাতখানা হাতে নিয়ে বলি, আব্বা, আমরা তো ভালোই আছি। শুধু একটাই অভাব, আপনাদের কাছে না পাওয়ার অভাব। মন চাইলেই ছুটে আসতে পারি না, ছুঁতে পারি না। বাবা মলিন চেহারায় জল টলমল ঘোলাটে চোখে তাকালেন। সচল হাতটি আমার মাথায় বুলালেন। নিস্তব্ধতায় ছেয়ে থাকা রুমটির বাইরে হুইসিল বেজে উঠল। ততক্ষণে ‘ঈগল’ নামের চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী লঞ্চটি সদরঘাট এসে পৌঁছেছে। আমাদের পিতা-কন্যার সে-ই শেষবার দেখা। জীবন মরণের সীমানা ছাড়িয়ে চলে গেছেন বাবা ২০১০ সালের ১২ জুন। সেই থেকে বাবাহীন পৃথিবীতে একরাশ শূন্যতায় আমার বেঁচে থাকা। তবুও মনকে প্রবোধ দিই, ‘বাবারা কখনো হারিয়ে যান না, বাবারা থাকেন কন্যাদের সমস্ত সত্তা জুড়ে।’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জীবন মরণের সীমানা ছাড়িয়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now