বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবন মোহনার যাত্রা শুরু

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X টেস্ট পরীক্ষা হবে সবাই মনোযোগ দিয়ে লেখা পড়া করছে। ছাত্রদের কথা হলো টেস্ট পরীক্ষাই আসল। কারণ টেস্ট পরীক্ষায় যারা পাশ করে তারা এস এস সি তেমন ফেইল করে না। টেস্ট পরীক্ষায় শুভ, শামীম, উত্তম, আসমা এবং আবুল হাসান ভাল করেছে। অন্যরাও ভাল করেছে তবে তাদের মত নয়। শুভর ভাই একহাজার টাকা দিয়ে শুভর ফর্ম ফিলাম করলো। অন্যদের আরো বেশি টাকা লেগেছে। টেস্ট পরীক্ষা পর যারা লেখা পড়া কম করে বা নিয়মিত পড়ে না তারা পরীক্ষায় ভাল্করে না। এই সময় সবচেয়ে বেশি ফেইল করে গণিত পরীক্ষায়। কাজেই গণিত নিয়মিত পড়তে হবে। পাটীগণিত, বীজগণিত এবং জ্যামিতি এই বিষয়ে ভাল দক্ষতা হলে লেটার মার্ক পাওয়া যায়। স্কুলে কোচিং এ শুধু গণিত ইংরেজি পড়ায় আর বাকী বিষয়ের কোন খোঁজ নেয়া হয় না। এই গণিত এবং ইংরেজি প্রাইভেট এবং কোচিং পড়ানো হয় তারপরেও আশি পারসেন্ট ফেইল করে এই দুই বিষয়ে। বিশেষ করে গণিতে ফেইল করে বেশি। টেস্ট পরীক্ষার জানা গেল ক্লাসে কয়েকজন মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে। এদের মধ্য আলোচিত হলো শামীমার বিয়ে। কারণ শামীমা স্কুলের যতজনের সাথে কানঘুষা কথা হচ্ছি, তাদের কারোর সাথেই বিয়ে হয়নি। যতসম্ভব জানা যায় অনেক দূরের গ্রামের মাদ্রাসা ছাত্রের সাথে বিয়ে হয়েছে। শুভর ক্লাসে কয়েকজনে শুভকে জিজ্ঞাসা করেছে, তাকে বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছে কি না? শুভ এই বিষয়ে জানে বলে জানিয়ে দেয়। ফরম ফিলাপের পর শুভ, আনিস, দীলিপ এবং আসমা মিলে সিদ্ধান্ত নিলো যে তারা প্রতিদিন বিকেল বেলা নিজেইরাই গণিত প্র্যাকট্রিস করবে। কারন তারা সবাই অংক পারে কিন্তু অনভ্যাসে বিদ্যা হ্রাস। শুধুমাত্র ধারাবাহিতা ধরে রাখার জন্যে তাদের এই সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তানুযায়ী প্রতিদিন বিকেল তিনটায় একসাথে বসে তারা ধারাবাহিকভাবে গণিত বইয়ের অংক করবে । একজন অংক করে সবাইকে বুঝাবে। এই পাঠে এখানের প্রত্যেকেই অংশগ্রহণ করবে। টেস্ট পরিক্ষার পর তাদের এই ধারাবাহিক গণিত ক্লাস বা প্রাইভেট চলছে। শুভ এসএসসি পরীক্ষার আগে পাড়া-পড়শী এবং আত্মীয়স্বজনের নিকট দোয়া চাইতে গেলে টাকা পয়সাও পেয়েছে। এই টাকা দিয়ে নতুন জামা এবং পরীক্ষার হলে যাওয়া আসার খরচও মিটে যায়। এস এসসি পরীক্ষার হল স্কুল থেকে পাচ/ছয় কিলোমিটার দূরে। এসএসসি পরীক্ষার সময় তাদের চলে বিরাট আয়োজন। দাওয়াত,নতুন জামা-কাপড় এবং লেখা পড়ার বিশেষ চাপ ইত্যাদি। শুভর একটা অভ্যাস পরীক্ষা আগে তেমন লেখা পড়া করে না। বড়জোড় পারা পড়া একটু রিভিশন দিবে এছাড়া আর কিছুই নয়। রাত জেগে পড়বে না। যা অন্য সময় রাত জেগে পড়তো কিন্তু পরীক্ষার সময় তা করে না। এই সময়ে হাসিখুশী চলে। অনেক কঠিন প্রশ্নই পরীক্ষার সময় শুভর মনে পড়ে যায় আর ধীরে ধীরে লিখে ফেলে। পরীক্ষার আগের দিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলে বন্ধুরা তাকে বলে তুই তো সব পারোস, আমাদেরকে পড়তে ডিস্টাব করিস না। অর্থাৎ অন্যান্য বন্ধুরা পরীক্ষার আগে আড্ডা পছন্দ করতো না। এস এস পরীক্ষার সময় নকল চলে যা শুভ আগে কল্পনাও করতে পারেনি পাবলিক পরীক্ষায় এত নকল চলে! শুভ তাঁর নিজের মত করে পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষার পর স্যারকে শুভ জিজ্ঞাসা করলো, “সবাই তো নকল করে পরীক্ষা দেয় তাহলে পরীক্ষায় ৬০% বা ৫০% ফেইল করে কেন”? স্যার জানাল তাদের নকলেও নকল অর্থাৎ ভুল আছে। স্যারের কথা যে সত্য তার প্রমাণ বিগত এস এস সি পরীক্ষার ফলাফল। শুভ আল্লাহর রহমতে সব পরীক্ষা ঠিকমত দিয়েছে। শুভর মায়ের অভ্যাস হলো শুভর পরীক্ষার দিন রোজা রাখা। শুভ মাকে বহুবার বলেছে, তোমার রোজা রাজার দরকার নাই। আমার পরিক্ষা তোমার দোয়ায় ভালই হয়। কিন্তু শুভর মা শুভর কথা শুনে না। শুভর পরিক্ষার সময়, ফলাফলের সময় রোজা রাখবেই। শুভর ফলাফল মনে হয় শুভর মায়ের দোয়ার কারণেই ভাল হয়। এস এস সি পরীক্ষার ফলাফল দিবে তাই শুভর স্কুলের স্যার এবং কয়েকজন বন্ধু মিলে এস এস সি পরীক্ষা কেন্দ্র হলে গেলে ফলাফল আনতে। বিকেল বেলায় যখন ফলাফল শুভর স্যারের হাতে পেল তাখন শুভর স্যার শুভকে মাথায় নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করলো কারণ ইতিপূর্বে শুভদের বিদ্যালয় থেকে কেউ গণিত বিষয়ে লেটার মার্ক (শতকরা আশি মার্ক) পায়নি কিন্তু শুভ পেয়েছে। শুভ শুধু গণিতে নয় আরো কয়েক বিষয়ে লেটার মার্ক নিয়ে প্রথম বিভাগে পাশ করেছে। শুভর স্কুলের স্যারের খুব খুশী হয়েছে। পরে জানতে পারল শুভর কয়েক ভাল বন্ধুই পরীক্ষায় ফেল করেছে। যা তাদের আনন্দই মাটি করে দিয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার পর যে যার মত করে চলে গেল বিভিন্ন স্থানে। শামীম ঢাকায়, উত্তম চলে গেল টাঙ্গাইলে, কেউ একালারই কলেজে আর মেয়েদের কোন হদিসই পাওয়া যায়নি। শুভ একটি নতুন কলেজে ভর্তি হলো। যেখানে থাকা,খাওয়া এবং বেতন ফ্রি। এই যেন জীবনযুদ্ধের প্রথম মহড়া। বন্ধুরা যে যার মত করে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। এই যেন জীবন মোহনার যাত্রা শুরু।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জীবন মোহনার যাত্রা শুরু

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now