বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবন মানে কি!!!

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X রিমঝিম পুরো বর্ষনের মত বৃষ্টি হচ্ছে। একটা মার্কেটে পিঠে গিটার টা নিয়ে দাড়িয়ে আছি। রাত ১১:৩০ এর উপরে বাজছে...বেশ কয়েকদিন থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। বিকেল টা বেশ ভালই ছিল তাই সঙ্গে ছাতাও আনিনি...একা ফ্ল্যাটে থাকি...ভাগ্যিস, ফ্ল্যাট টা আমার এক চাচার..তাই ব্যেচেলর লাইফেও ভারা পেয়ে গেছিলাম...চাচা আমার ফ্ল্যাটের আসেপাসেও থাকেন না...তারা অন্য একটা বাড়িতে থাকেন...তাই রাত করে ঘরে পৌছুলেও কিছু চিন্তা নেই। তবূও তো সারা রাত একটা মার্কেটে দাড়িয়ে থাকা সম্ভব না।আসন্ন ঈদ,তাই অনেক রাত অবধি দোকান-পাট খোলা থাকে। সাত-ভেবেই ফোন টা গিটারের ওয়াটার প্রুভ বেগে ভরে ভিজেই বেড়িয়ে পরলাম... . . . . . রাস্তা সুনসান,ভিষন্ন নিরবতা। ঈদের আগমুহুর্তে শহর গুলোতে নিরবতাই ভর করে... ভিজে বেড়াল হয়ে ছুটছি...হঠাত রাস্তার রোডলাইটের আলোতে কি যেন চোখে পড়লো। কাছে গিয়ে আবিস্কার করলাম একটা বস্তা,মুখটা বাধা। কিছু না ভেবেই বস্তার মুখে টা খুলে বসলাম। খুলেই বুকের ভেতর শাঃসরুদ্ধকর একটা ধাক্কা খেলাম,যা দেখলাম তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না...একটা মেয়ের লাশ। মেয়েটা অজ্ঞান,এখনো হৃদস্পন্দন চলছে। এত রাতে কি করব ভেবে পাচ্ছিনা... মেয়েটার বা-হাত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরন হচ্ছে। এভাবে একটা জীবিত মানুষকে তো ফেলে চলে যাওয়া যায়না। . . . কিছু ভেবে পাচ্ছিনা..সাথে কি নিয়ে যাবো??? একটা মেয়ে মানুষকে তো একা ফ্ল্যাটে নেয়া সম্ভবও না। মেয়েটা এভাবে পরে থাকলে ঘন্টা দু- এক এর মাঝেই মারাযাবে। নাহ..যা হবার হবে..মানুষ হয়ে তো এভাবে আরেকটা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারিনা। সব ভেবে চিন্তেই পকেট থেকে রুমাল টা বের করে মেয়েটার বা- হাতের কাটা জায়গাটাতে শক্ত করে বাধলাম..অন্তত কিছুক্ষনের জন্য রক্তপরা টা বন্ধ করা যাবে। . . . . . এক হাতে গিটার আর কাঁধে বস্তাটা নিয়ে হাটছি। খুব কষ্ট হচ্ছে,তবুও মেয়েটার কি যে অবস্থা,বাঁচবে কিনা সেটাও ঠিক না। বস্তাটা নামিয়ে গেইট খুললাম। রান্নাঘর ছাড়াও দুটো রুমের ফ্লেট। বস্তাটা আমার রুমে নিয়ে আসলাম...৫ মিনিট জিড়িয়ে নেয়া দরকার। বুক টা ধক ধক করছে। আমি কি ঠিক করলাম??? যা হবার হয়ে গেছে,মেয়েটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা যাক। খোলা আলোতে মেয়েটাকে বের করে আনলাম। দেখেই বোঝা যাচ্ছে কিছু মানুষ রূপি পশুরা একে খুবলে খুবলে খেয়েছে,সেক্সচুয় ালী আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে ও...খুব কষ্টে বিছানাতে তুলে আরেকটা বিছানার চাঁদর দিয়ে ঢেকে রাখলাম,ওর বা- হাত টা বেন্ডেজ করে দিলাম... চোখে মুখে পানি দিয়ে মাথাটা মুছে দিলাম। ওর শাঃস-প্রশ্শাঃস সাভাবিক হয়ে আসছে। আমি জানালার পাশে চলে আসলাম। এখনো তুমুল বৃষ্টি চলছে,মাথায় অনেক গুলো চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। কারা মেয়েটাকে এ অবস্থা করেছে,আর ওকে পুরো পুরি হত্যা না করেই বা ফেলে গেল কেন,এরা তো সাক্ষী রাখতে চায়না নিঃশ্চই,নাকি মেয়েটা মরে গেছে কিনা সেটা বুঝতে পারেনি... . . . ফিস ফিস কন্ঠের আওয়াজ,বাতাসে ভেসে আসছিল। আমি ঘুরে তাকাতেই দেখি ও উঠে বসেছে... কিছু একটা বলছে,কিন্তু বোঝা যাচ্ছিলো না...মেয়েটা ফিসফিস করে পানি চাইছে... -এইযে,পানি... ও চুপচাপ খেলো।- আর কিছু লাগবে?? গরম কিছু খাবেন?? এটলিষ্ট চা?? মেয়েটা মাথা নেরে না বলল। -আপনার এ অবস্থা কেন??আর কারা আপনাকে মেরে ফেলতে চাইছিল,আপনি কাউকে চিনতে পেরেছেন? মেয়েটার চোখে রাজ্যের সব মায়া জরিয়ে আছে। মেয়েটা মুখ খুলে বলতে লাগলো -ওরা তিনজন ছিল.. তখন আমি স্যারের থেকে নোট নিয়ে বাসা ফিরছিলাম। এর মধ্যেই সন্ধ্যে হয়ে আসছিল..রিক্সা পাচ্ছিলাম না।তখন একটা রিক্সা এসে আমার সামনে থামে। রিক্সাতে জয় যাচ্ছে..আমাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে থেমেযায় - কিরে সন্ধ্যে বেলায় এখানে? বাড়ি যাবিনা? - হে,রিক্সা পাচ্ছিনা.. -তো চল আমিও ঐ দিকেই যাচ্ছি... কিছু নাভেবেই কেন যানি আমি উঠে পরি। তখন ও নেমে একমিনিট অপেক্ষা করতে বলে কাকে ফোন দেয়.. (জয় আমার কলেজ ফ্রেন্ড|ও আমাকে একদিন প্রোপজ করে বসেছিল,খুব বাজে আচরন করাতে একটা চড়ও মেরেছিলাম)ওর কথা বলা শেষ,পকেট থেকে কি একটা বেরকরে ঘছমচ করছে। -কিরে আয়? -ও হ্যা চল.. রিক্সা চলছে,আমি ঘমে গেছি..ও তখন পকেট থেকে একটা রুমাল দেয়,আমি ঘাম মুছে আবার তাকে দেই.. আমি মধ্যে আর কিছু যানিনা,হঠাত চোখ খুলে দেখি জয়,হৃদম,পলাশের বিকৃত পৈশাচিক মুখ। বলেই মেয়েটা কাঁদতে লাগলো। বাকিটা না শুনেও বুঝতে পারছি। রিমি আমার কাছে সাহায্য চাইছে। . . . . রিমি এখন পুরো সুস্থ। রং নম্বরে এক সপ্তাহের প্রেম কাহিনি তৈরি হয়। তারপর কোনএক পরিত্বক্ত ফ্ল্যাটে মধ্য রাতে দেখা করার প্লান হয়।পরের দিন ঐ ফ্ল্যাট থেকে উধ্যার হয় এক একটি লাশ.... . . . সেই সময় থেকে আমি রিমির পাশে ছিলাম,আর আজো আছি...এখন আমাদর ছোট্ট একটা সংসার,কখন যে রিমিকে ভালবেসে ফেললাম টেরই পাইনি... সেদিনের ঘটনার জন্য রিমি দায়ী নয়...রিমি ওদের থাবার শিকার...ওর মন টা সত্যিই অনেক ভাল... (কাল্পনিক চরিত্র)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জীবন মানে কি!!!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now