বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"নিন্দার কাটা যদি না বিধিল গায়,
প্রেমের কি স্বাদ আছে বল।
প্রেমের কি স্বাদ আছে বল। ”অনেকটা লম্বা টান দিয়ে গানটা গাচ্ছে কানা মুতা। আসলে কানামুতা পুরুপুরি অন্ধ না। চোখে কম দেখে। তবুও অন্ধ সেজে ভিক্ষা করে। তার গানের গলা খুবই সুন্দর। বিশেষ করে লালনগীতি খুব ভাল গাইতে পারে। ফরিদা পারভিনের গাওয়া গান গুলো শুনে মুখস্থ করে ফেলেছে। প্রথম প্রথম কষ্ট হত,একটানা সারাদিন গান গাওয়া। কিন্তু এখন একদম ঠিকঠাক। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত একটানা গান গেয়ে যায়। এভাবেই ভিক্ষা করে চলে।
ভিক্ষুকেরা ভিক্ষাকে একটা নাট্যযুদ্ধ মনে করে। যে কোন যুদ্ধে হাতিয়ার যেমন গুরুত্বপূর্ণ,না
ট্যযুদ্ধেও হাতিয়ার দরকার। আর তারা হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগায় ভাঙ্গা ঠ্যাং,ভাঙ্গা হাত,পচা ঘা,কাটা হাত,কাটা পা কিংবা অন্ধত্ব। যার হাতিয়ারে যত তেজ ততই যুদ্ধে সুফল। ঠিত তেমনি তাদের হাতিয়ারেরও তেজ লাগে। তেজ বেশি থাকলে পয়সা বেশি পায়। হাতিয়ার ছাড়া যুদ্ধের যেমন দাম নেই,তেমনি তাদেরও হাতিয়ার না থাকলে,পয়সা পাওয়া যায় না। যেমন একটা সুস্থ মানুষ যদি হাত পাতে তবে কোন প্রকার দান করতে ইচ্ছা জাগে না। আর একজন অন্ধ কিংবা ল্যাংড়া হাত পাতলে,মনে করুণা জাগে। দান করতে মন চায়।
আসলে সুস্থ মানুষেরা ভিক্ষা করলে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে,অভিনয়। ভাল অভিনয় করতে পারলে টাকা পাওয়া যায়। যেমন একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ যদি,চোখে মুখে কান্নার ভাব এনে কাদো কাদো গলায় ভিক্ষা খোজে,তাহলে ভিক্ষা পাওয়ার সুযোগ থাকে।
মূলত যায় করা হোক,মানুষের মনে করুণা জাগাতে পারলে ভিক্ষা পাওয়া যায়।
এই দিক থেকে চিন্তা করলে ভিক্ষুকরা সমাজের উপকার করছে। কারণ দান করা সব ধর্মের মানুষের কর্তব্য।
অনেকসময় পকেটে প্রচুর টাকা থাকলেও দান করা হয় না। আর যখন একজন ভিক্ষুক তার অভিনয় কিংবা হাতিয়ার দ্বারা মনে করুণা জাগাতে সমর্থ হয়,তখন ইচ্ছা থাকুক না থাকুক দান করতে মন চায়।
আমি জানি সমাজে ভিক্ষা করাকে ঘৃণার চোখে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তব জীবন বড় কঠিন।
কোন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ ভিক্ষা করতে কোনদিনও মানুষের কাছে হাত পাতবে না। যদি হাত পাতে তবে বুঝতে হবে সে আর স্বাভাবিক নেই। পরিস্থিতি তাকে অসুস্থ করে ফেলেছে।
তারা এমন কোন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে,যার কারণে ভিক্ষাকেই বেছে নিয়েছে।
কানামুতার হাতিয়ার দুইটা। এমনিতে অন্ধের অভিনয় আবার গানের গলা সুন্দর। এই স্টেশনে সবচেয়ে ধনী ভিক্ষুক। মানে খুব ভাল ইনকাম।
আজ মুতা নতুন একটা কৌশল আয়ত্ত করছে। একটা গান লম্বা করে গাওয়া। বার বার একই লাইন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খুব লম্বা একটা ডোরেশন তৈরি করে নিয়েছে।
অর্থাৎ একটা গান আধঘন্টা যাবত গায়তেছে।
এই বুদ্ধিটা দিয়েছে মইজ্জা।
মইজ্জার ভাল নাম মজিবর। সবাই তাকে মইজ্জা বলেই ডাকে। এই খানে যত ভিক্ষুক আছে সবার নাম বিকৃত রূপ নিয়েছে। যাকে বলা হয় খিতাবি নাম।
মানুষ ধনী হলেও নাম বদলানো হয়। আবার ফকির হলেও নাম বদলানো হয়। তফাৎ শুধু,ধনীরা সুন্দর নাম পায়,ফকিরেরা বাজে নাম পায়। যাকে গ্রামের ভাষায় বলা হয়-বেলছন।
আজও গ্রামে শিশুর জন্মের সাতদিন পরে,কলা পাতা তে নাম লেখা হয়। তাও আবার অনেক নিয়ম মেনে করা হয়।
কিন্তু তারা যদি জানতে পারত সময়ের স্রোতে কলাপাতায় লেখা নাম বিকৃত রূপ ধারণ করে,তাহলে আর কলাপাতার অনুষ্ঠান হত না।
এই মুহুর্তে নাম নিয়ে একটা গল্প মনে হয়েছে। মূল গল্পে যাওয়ার আগে,নামের গল্পটা বলি।
একগ্রামে একটা এতিম বাচ্চা ছিল। সে সবার বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করত। খাবার জন্য সবাই তাকে ভাতের মাড় দিত। গ্রামের ভাষায় ভাতের মারকে বলা হয় ফেন। তাই ছেলেটাকে সবাই ফেনচাটা বলে ডাকত।
ছেলেটা বড় হয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করে অনেক টাকার মালিক হয়। কিন্তু সবাই তাকে ফেনচাটা বলেই ডাকে। ছোট বড় সবার মুখে এই নাম শুনতে তার ভাল লাগত না।
তাই একদিন সে,গ্রামের মুরুব্বিদের নিয়ে মিটিং ডাকে। মিটিংয়ের উদ্দেশ্য নাম বদলানো।
মিটিংয়ের এক পর্যায় সে মুরুব্বিদের কাছে বলে-”দেখেন আমার বাবা মা নেই। গ্রামের সবাই সাহায্য করে আমাকে লালন পালন করছেন। আজ আমি নিজের পায়ে দাড়িয়েছি। প্রচুর ধন সম্পত্তির মালিক হয়েছি। আর চেষ্টা করছি গ্রামের সবার উপকার করার জন্য। কিন্তু এত টাকার মালিক হওয়া সত্বেও সবাই আমাকে ফেন চাটা বলেই ডাকে। এতে আমার খারাপ লাগত না। ইদানিং ব্যবসার খাতিরে বাহিরের লোকের সাথে উঠা বসা করতে হয়। তাদের সামনে ছোট বড় সবাই ফেনচাটা বলে ডাকে। যার জন্য বাহিরের লোকের কাছে অনেক লজ্জা পেতে হয়। তাই আমি চাই আজ এই মিটিংয়ে আমার একটা নতুন নাম দেয়া হোক। ”
তার কথা শুনে মুরুব্বিরা সিদ্ধান্ত নিল নাম পাল্টাবে।
সবাই চিন্তা করতেছে ,কি নাম দেয়া যায়।
কয়েকজনে মিলে গোপনে আলোচনা করে। গোপন আলোচনা শেষে তারা একটা সুন্দর নাম বের করে।
তখন তাদের মধ্য থেকে একজন বলে-“আমরা গোপন আলোচনা করে দেখলাম ফেনচাটা নামটা বাদ দেয়া দরকার। তার পরিবর্তে ফেনচাটাকে সবাই মধুচাটা বলে ডাকবে। ”
তাদের এই সিদ্ধান্তে মিটিংয়ের সবাই খুশি হয়।
কিন্তু ফেনচাটা মাথা নিচু করে বসে থাকে।
হঠাৎ সে বলে-”নামটা খুব সুন্দর। কিন্তু ফেনচাটা কিংবা মধুচাটা যাই বলেন,চাটা শব্দটা তো থাকছেই। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একি কথা। পারলে চাটা শব্দটা বাদ দেন। ”
তার এই কথা শুনে এক মুরুব্বি লোক বলে উঠে-“দেখো বাবা এই চাটা চাটি করা তোমার স্বভাব। সব বদলে গেলেও স্বভাব বদলাবে না। তাই তোমার নাম মধুচাটা। ”
.....চলবে
---সৈয়দ রফিকুল ইসলাম
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now