বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাস্তার পাশ থেকে আমি আর তমাল এক সাথে হেটে যেতে ছিলাম।হঠাৎ রাস্তার পাশে একটা ঝোপ এর থেকে আস্তে আস্তে আল্লাহ আল্লাহ শব্দটা বলে কেউ বলছে কানে আসলো।প্রথমে শব্দটা যখন কানে আসলো তখন গুরুত্ব না দিলেও পরে বিষয়টা নিয়ে আমি আর তমাল ভেবে দেখি।আমি ঝোপ এর ভিতর যেতে চাইলে তমাল আমাকে প্রথমে মানা করে।আমি তমালকে বলি দেখি না ঝোপের ভেতর কি আছে।
ঝোপের ভেতর এ যখন প্রবেশ করি তখন এশার নামাজের আযান দিতে ছিল।তমালের কাছে টর্চ লাইট থাকায় ঝোপের ভিতর লাইটের আলো মারার পর একটা বৃদ্ধ মহিলাকে দেখতে পেলাম।মহিলার শরীরের হাড় মাংস এক হয়ে গেছে।বৃদ্ধ মহিলার চোখ থেকে পানি পড়তে ছিলো। আমি আর তমাল মহিলাটার কাছে যেয়ে জিজ্ঞেস করি চাচি আপনি কে?
এই খানে কি করেন?
বৃদ্ধ মহিলাটি উত্তর দিতে পারলো না।কারণ তার শরীরের অবস্থা এতো খারাপ ছিল কথা বলার জোর সে পাচ্ছিলো না।
আমি আর তমাল বৃদ্ধ মহিলাটাকে নিয়ে পাশের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ যাই।ডাক্তার, নার্স আপুরা অনেক চিকিৎসা শেষে এ ৪ দিনের মাথায় বৃদ্ধ মহিলাটি সুস্থ হয়।আমরা চাইলে মহিলাটিকে ভর্তি করিয়ে চলে যেতে পারতাম। কিন্তু দুইজন এর মনের বিবেক এ কেনো জানি বাধা দিল।তাই আর গেলাম না।আমি আর তমাল শিফট করে বৃদ্ধ মহিলার পাশে ছিলাম।৪ দিন পর যখন মহিলাটি একটু কথা বলতে পারছে দেখে শান্তি লাগলো।আমি আর তমাল জিজ্ঞেস করি চাচি এখন কেমন আছেন।শরীর এ কি সুস্থতা বোধ করছেন।তখন চাচি বলে তোমরা কে বাবা আমার জন্য এতো কিছু করেছো।আমি চাচি বলি আমরা আপনার ছেলের মতো। আপনাকে রাস্তার পাশে ঝোপের ভেতর পেয়েছি।তখন আপনি অসুস্থ ছিলেন অনেক।তারপর আমরা দুইজন আপনাকে নিয়ে আসি।
চাচির চোখ দিয়ে তখন পানি পড়ছে।চাচিকে জিজ্ঞেস করে চাচি আপনার বাড়ি কোথায়?
চাচি উত্তর দিয়ে বলে উত্তর কান্দাপাড়া এলাকায়।
চাচিকে জিজ্ঞেস করে আপনার ছেলে মেয়ে কোথায় আপনি ওই ঝোপে জায়গা গেছেন কি ভাবে?
তখন চাচি বলে বাবা আমার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে।মেয়েটা বিয়ের পর বিদেশ চলে গেছে ৭ বছর হলো আজও দেশে আসে নাই আর আমার তিন ছেলে শাহিন, টুটুল, লিটু।
আমি বৃদ্ধ হয়েছি বলে আজ আমি তাদের কাছে বোঝা হয়ে গেছি।কেউ আমাকে রাখতে চায় না নিজের কাছে।আমার ছেলেরা তাদের বউকে নিয়ে ভালো খাবার খায়।কিন্তু আমাকে ভাত খেতে দেয় শুধু পিয়াজ দিয়ে।আমাকে তারা অবহেলা করে।আমার খরচ তারা চালাতে পারবে না।আমার জ্বর হয়েছিল লিটুর বাসায় বসে।ওরা ভেবেছিলো আমার হয়তো বড়ো কোনো রোগ হয়েছে তাই ওরা আমাকে ঝোপের ভিতর রেখে যায়।যাওয়ার সময় বলে মা মাফ করে দিও আমাদেরকে।আমরা তোমাকে আর রাখতে পারবো না।তুমি ভালো থেকো।এই কথা বলে চলে যায়।
বৃদ্ধ মহিলা এই কথা বলছে আর তার চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে ছিল। আমি তমালকে নিয়ে সামনে যেয়ে বলি কি করবি এখন। তমাল বলে চলো আমাদের বাসায় নিয়ে যাই।আমাদের তো মা নেই।আজ যদি আমাদের মা বেঁচে থাকতো সে তো আমাদের সাথে থাকতো।এই মহিলাও আমাদের মায়ের মত করে আমাদের সাথে থাকবে।
আমি তমালকে বলি দেখ ভাই জীবন কি রকম।আমাদের মা নেই আমরা বুঝি মা না থাকার কষ্ট আর এদের মা আছে তাও তারা তাদের মা কে একটু যত্ন নিয়ে পারে না।এই মা তো তাদের জন্য কত কিছুই না করেছে।কত রাত না ঘুমিয়ে কেটেছে।কত দিন নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিছে।আজ সেই মায়ের জায়গা হয় না সন্তান এর ঘরে.বাকি জীবন ছন্দের ন্যায়ের মত করে কাটিয়ে দিতে হবে।
#গল্পঃজীবন ছন্দ ময়।
#লেখকঃAsriful Parvez Turjo
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now