বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ড্রিপ্রেশন কাটিয়ে ফিরে এলাম।এ কয়েক দিনে জীবনের মানে জানার চেষ্টায় ছিলাম,, সত্যিই বড়ই অদ্ভুদ আমাদের জীবন
,,নমুনা
অমুকে ফাস্ট হলে তুমি কেন সেকেন্ড হবে ?
সে যা খায় তুমি কী তা খাও না ? তোমাকে তার
চাইতেও বেশি নাম্বার পেতে হবে। জন্মের
পর থেকেই এরকম উদ্ভুট এক বিকারগ্রস্ত চিন্তা
আমাদের মাথায় প্রোগ্রামিং করে দেয়া হয়।
তারপর কচ্ছপ খরগোশের গল্প শুনিয়ে বলে,
যাও বাবা এবার দৌড়াও ! আমরা দৌড়াতে থাকি, সেই
দৌড়
আর থামে না।
ক্লাস ফাইভের একটা বাচ্চার চোখে মুখে ঘুম
নেই। ভূতের ভয় না, পরীক্ষার ভয়ে তার ঘুম
আসে না।রাত জেগে পড়ছে, সামনে পিএসসি
পরীক্ষা। এই কোমলমতী শিশুদের সামনে
আমরা এমন একটা পৃথিবী তৈরি করেছি যেখানে
পরীক্ষায় খারাপ করা মানেই হল জীবন ব্যর্থ,
তুমি শুরু হওয়ার আগেই শেষ !
প্রতিবছর যখন বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি
পরীক্ষা শুরু হয়, সবাই যখন কে কোন
ভার্সিটিতে টিকেছে সেই খোঁজ নিতে ব্যাস্ত,
আমি চোখ রাখি পত্রিকার অন্য একটি খবরে, এবার
কতজন আত্মহত্যা করেছে ! এই আত্মহত্যার
বীজ একদিনে তৈরি হয় নি, জন্মের পর পরই
ম্যারাথন রেসে নামিয়ে দিয়ে আপনি যখন তার
পদকের আশায় বাইরে অপেক্ষা করছেন, সে
তখন মধ্য মাঠে পড়ে গিয়ে আপনার অপেক্ষামান
মুখ দেখার ভয়ে জীবন থেকেই পালিয়ে
গেল।
তোমার জীবনের স্বপ্নটা এত ঠুনকো কেন
হবে যে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না
পারলেই জীবনটাকে ব্যার্থ মনে হবে !
তোমাকে শুধু আস্থা রাখতে হবে যে তুমি
যেটা হতে চাও, যা করতে চাও সেটা একভাবে না
পারলে অন্যভাবে পারবে। আজ না পারলে কাল
পারবে। যারা দ্রুত দৌড়ায় তারা কিছুদূর গিয়েই
ক্লান্ত
হয়ে ছিটকে পড়ে, তুমি বরং দম নিয়ে সময় নিয়ে
এগোতে থাকো। দৌড়াতে না পারলে হাঁটো, দু
পায়ে হাঁটতে না পারলে এক পায়ে ভর দিয়ে
আরেক পায়ে হাঁটো। সেটাও না পারলে কিছুক্ষণ
দাড়িয়ে বিশ্রাম নাও।
খবরদার,থামবে না। পৃথিবীটা এমন যে এখানে
থেমে গেলেই সবাই তোমাকে ধাক্কা দিয়ে
আবর্জনায় ফেলে দিবে।
এই নশ্বর পৃথিবীতে তুমি কেবল
প্রতিযোগীতা করার জন্য জন্ম নাও নি। স্টুডেন্ট
লাইফে ফাস্ট সেকেন্ডের প্রতিযোগীতা,
চাকরী জীবনে কলিগদের সাথে
প্রতিযোগীতা, ব্যাবসা করতে এলে সেখানেও
প্রতিযোগীতা ! জীবন মানেই প্রতিযোগীতা
না, জীবনের একটা অংশ হল প্রতিযোগীতা !
জীবনের আরও অনেক মানে আছে !
গৌরপুর জংশনে শীতের রাতে যে বৃদ্ধ
নিঃসঙ্গতায় ডুবে আছে, একদিন সারারাত গালে হাত
দিয়ে তার কথা শুনতে শুনতে এক ফ্লাস্ক চা শেষ
করে ভোরের দিকে দেখবে জীবন
অন্যরকম হয়ে গেছে !
একদিন পান্থপথ সিগন্যালে মাত্র দুশো টাকা খরচ
করে সব গুলো ফুল কিনে ফেললেই
দেখবে মেয়েটির বিস্মিত চোখ জীবনে
অপার্থিব এক আনন্দ দেবে ! জমাট বাঁধা লাল চুল
ওয়ালা যে পাগলকে দেখলে ঘেন্নায় তোমার
চোখ সরু হয়ে আসে, একদিন তাকে নিয়ে
হোটেলে গিয়ে গরুর গোশত আর নান রুটি
অর্ডার করেই দেখো না, ম্যারাথন রেসের এই
জীবনের অন্য এক মানে খুঁজে পাবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now