বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পোড়া মরিচ সাথে একটু লবন মিশ্রিত করে ভাত খাচ্ছি। সত্যিই ধারুন টেষ্ট।
প্রচুর ক্ষুদার তাড়নায় কিছুদিন যাবত এভাবেই খেতে হচ্ছে.।
.
হাতে টাকা একদম সল্প প্রতিদিন যে কয় টাকা কাজ করতে পারি তাতে একবেলা খাওয়া ই কষ্টকর।
টেনেটুনে দুবেলা খাচ্ছি।
,
জন্মের পর থেকে কখনো মাছ মাংশ ছারা খায়নি। অতচ কিছুদিন যাবত তা দেখতেও পারছিনা।
.
আমি বড় লোক বাবার একমাত্র ছেলে।
ছোট থেকে কোনো আশা ই বাবা অপুর্ণ রাখেনি।
তবুও একদিন হটাত্ খুব দামি একটা কিছু ছেয়ে বসি বাবার কাছে।
.
বাবা প্রচন্ড রেগে ততক্ষনাত দিতে অস্বিকূতি জানান।
.
প্রচন্ড রাগ হয় আমার।
ছোট থেকে যা চেয়েছি তা দিয়েছে।
আজ চায়তেই এতো রাগ দেখালো তে মেনে নিতে পারিনি।
তাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে আসছি।
আসার সময় মা খুব কেঁদেছিলো।
অনেক চেষ্টা করছিলো আমাকে আটকাতে।
বাবার হাতে পায়ে ধরে বলছিলো যেনো আমাকে আটকায়।.
.বাবা আটকায়নি পাথরের মত টায় দাড়িয়ে ছিলেন।
.
আমি ছোটে চলছি অজানা পথের উদ্যেশ্য।
.
রাস্তায় একটা হকারের সাথে কথা বলতে বলতে অনেকটা ভাব হয়ে যায়।
.
সে যেকোনো একটা কাজের আশ্বাস দিয়ে তার সাথে ডেকে নেয়।।
.
ওর সাথেই কাজ করে আসছি এতদিন।।
.
ক্লাস 10এ পড়ার সময় বাড়ি থেকে বেরিয়েছি।
এখনো পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছি।
.
বাবা মা অনেক খোজে আমার ঠিকানা পেলেন। এবং আমাকে নিতে এলেন। বাট আমি যায়নি।
বলছি যেদিন নিজের চেষ্টায় নিজ পায়ে দাড়াবো সেদিন তোমার বাড়িতে যাবো।
.
বাবা মা অশ্রুসিক্ত নয়নে আমার কাছ থেকে চলে যান।
.
বাবা মা প্রায় কদিন পরপর ই আসে।
উনারা কিছু নিয়ে আসলে তা আমি রাখিনা কখনোই।।
।মনে আছে একবার আম্মু আমার জন্য অনেক কষ্ট করে আমার প্রিয় পিঠা নিয়ে এসেছিলেন।
.
নিজ হাতে খাইয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
আমি তখন বলি মা আমি বাড়ি থেকে বেরোনুর সময় প্রতিজ্ঞা করে এসেছি।
.
যে যদি আমি তোমার সন্তান হয়ে তাকি তবে নিজ পায়ে দাড়ানো পর্যন্ত ঐবাড়ির কিছু খাবোনা।
ততক্ষনাত লক্ষ করি মায়ের দু চোখ থেকে টপটপ পানি ঝরছে।
.
কিছু না বলেই উনি সাথে সাথে চলে যান।
..
হটাত্ একটা খবর পেয়ে চমকে যায়।
তামান্যা কারো হাত ধরে পালিয়েছে।
.যে মেয়েটা আমার জন্য জীবন দিতে পারতো। যাকে প্রচন্ড ভালোবাসতাম আজো বাসি। সে কিনা এমন কাজ করতে পারলো। ভাবতেই কাঁন্না পাচ্ছে।
.
আজকালের ভালোবাসাটা এমনি যে কয়কদিন দুরে থাকলে ভুলে যায়।
যত কষ্ট হোক এটা মানতেই হবে।
.
যায় হোক এতকিছু ভাবলে চলবেনা।
অনেকদুর যেতে হবে আমাকে।
নিজ পায়ে দাড়াতে হবে।
.
.হন্যে হয়ে ছোটে চলছি।
ভবিশ্যত ঘড়তে।
.
খাওয়া দাওয়া ঘুম সব ভুলে কাজের পিছু পিছু দৌড়াচ্ছি।
.
.
কোনো একসময় ভাগ্য সুপ্রসন্য হয়ে উকি দিলো আমি দাড়ালাম নিজ পায়ে।
মাসে 20/30হাজার আয় করতে পারি কমপক্ষে।
.
খুশিতে দৌড়তে দৌড়তে বাড়িতে গেলাম মায়ের হাতে আজ পেটভরে খাবার শত আশা নিয়ে।
।
।একি বাসায় এতোলোক কেনো?? সবার মাথায় টুপি।
একটা লাশকে ঘিরে দাড়িয়ে আছে।
কিছু লোক পাশে বসে কেঁদে চলছে।
..
কার লাশ এটা এখানেই বা কেনো?
ইচ্ছে করছে ওদের ইচ্ছেমত ধমকাতে এখানে লাশ আনায়।
.
হটাত্ বাবাকে দেখলাম বিষন্যভাবে ছোটে চলছে।
পাগল প্রায় অবস্থা।
.
কে যেনো বলে গেলো তোমার মা কে একটু পর ই দাফন করা হবে।
লাষ্ট দেখা দেখে এসো।
..
এক দৌড়ে লাশের কাছে গেলাম।
.
মুখ থেকে কাপর সরাতেই আমি নিজকে আর ধরে রাখতে পারছিনা।
এ যে মা এর চাঁদ মুখ খানা।
.
এতটুকুর পর ই গল্পের ছেলেটি জ্ঞান হারায়।
জ্ঞান ফিরতেই ছেলেটি তার মা কে কবর দেওয়া হয়ছে জানতে পারে।
.
ছেলেটি দৌড়ে কবরের দিকে ছোটে যায়।
কবরকে ঝড়িয়ে ছোট্ট শিশুর নেয় কাঁদতে থাকে।
,
হটাত্ ছেলেটি তার কাঁদে কারো হাতের অস্তিত্য টের পায়।
পিছু ফিরতেই দেখে তার বাবা।
.
বাবা ছেলেটিকে একটা চিরকুট দেয়।
.
চিরকুট তার মায়ের হাতের লেখা।
মা লিখেছেন।
জানিস খোকা তকে নিজ হাতে খাইয়ে দেওয়ার খুব ইচ্ছে ছিলো।
কিন্তু পারলামনা।।
.
আমি জানি তুই অল্পদিনেই নিজ পায়ে দাড়াতে পারবি। জীবনে অনেক কিছু করতে পারবি।
তুই যে আমার ছেলে।
.
আমি জানি তারপর খুব শিগ্রয় আমার হাতের খাবার খেতে ছোটে আসবি।
.
তাই তর পঁছন্দের খাবারগুলি ফ্রিজে রাখা আছে।
. তর বাবাকে আর কষ্ট দিসনা।।
.
ছেলেটি বাবাকে জড়িয়ে ধরে।
.
বাবা ছেলে দুজন ই আজ কেঁদে চলছে।
কাঁদছে খুব কাঁদছে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে।
.
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now