বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পরের অংশ.......
সেই ছেলেটি হাসতে হাসতে বলল, "আমি একটা সিগারেট খেয়ে আসি।"
আমি বললাম, "তুমিও smoking কর?"
সে হ্যাঁ বলল।
আমিঃ আমির সাহেব জানে?
সেঃ হ্যাঁ
তখন আমার আর কিছুই বলার ছিল না।
তার smoking শেষে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে চিল্লায় মোট কতজন এরকম করে।
সে ছয়জনের নাম বলল। সেই ৬ জনকেই আমি চিনি। আমি ভাবতেও পারিনি যে তারা এই কাজ করে। এমনও শুনলাম যে চিল্লার ১জন দুইবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে গিয়েছিল কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তার বাবামা তাকে চিল্লাতে পাঠিয়েছে যেন সে ভালো হয়ে ফিরে যেতে পারে।
কিছুক্ষণ পর আমি তাকে জিজ্ঞাস করি যে সে কিভাবে মাদকাসক্ত হয়েছিল। সে আমকে তার জীবনে অনেক ঘটনা আমার সাথে শেয়ার করল।
যদিও আমার পুরোটা মনে নেই। যেটুকু মনে আছে সেটুকু লিখছি।
ছোটবেলায় ক্লাস- ২তে পরতে সে লক্ষ করেছিল যে রাস্তায় কয়েকজন smoking করছে অথচ যারা আশেপাশের কেউ তাকে কিছু বলছেনা। বেশকিছু এটা দিন লক্ষ করার পর তার মনে হল অনেকেই তো এই জিনিসটা (সিগারেট) খায় মা/বাবা কেনো আমাকে দেয় না? (উল্লাখ্য তার বাবাও মাদকাসক্ত)
একদিন সে একটা লোকের ফেলে দেওয়া সিগারেট টান দিল। সাথে সাথে সে কাশতে শুরু করল। সেটা তার মা লক্ষ করল। তাকে এরুপ করতে মানা করল। সে ছোট ছিল বিধায় মাথায় এর খারাপ দিকগুলো তার জানা ছিল না।
এরপর সে কয়েকদিন কাগজ মুড়িয়ে সিগারেট বানানোর চেষ্টা করল। কিন্তু কাগজের ধোয়ায় তার কাশি শুরু হয়। তখন সে ভাবতো মানুষ এই ফালতু জিনিস কেন খায়।
ছোট থাকতে সে অনেক ভালো ছাত্র ছিল। অনেক ভালো ছেলেও ছিল। অথচ তার বাবা ছিল এলাকার নামকরা ডাকাত। তাই এলাকার মানুষ তার বাবাকে বলত, "আপনার ছেলেটা কত ভদ্র আর আপনি এরকম কেন?"
একসময় তার বাবা ডাকাতি ছেড়ে দেয়। কিন্তু প্রায়ই জুয়া খেলে। তার মা কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে। এতে যে টাকা হয় তা দিয়ে সংসার চলে। মাঝেমাঝে তাদের না খেয়ে থাকতে হয়।
ক্লাস-4 এর কথা, তাকে তার ক্লাসের কিছু ছেলে সবসময় জ্বালাতো। একদিন সে খুব রাগ হয়ে একজনে বুকে লাথি দেয়। লাথি খেয়ে ছেলেটা হাপাতে থাকে।
পরদিন সেই কয়েকজনসহ ছেলেটাও তাকে মারতে আসে। তখন সে ভাবলো এতজনের সাথে সে একা পারবে না। তাই সে তার বাবার কয়েক বন্ধুকে ফোন দেয়। কিন্তু তারা আস্তে দেরি করে। ততক্ষণে সেই ছেলেগুলো তাকে মেরে তার হাত-পা ভেঙ্গে দেয়, নাক ফাটিয়ে দেয়। তখন তার মনে প্রতিশোধের আগুন জ্বলতে থাকে। এভাবেই সে একটু একটু করে খারাপ পথে এগোতে থাকে।
সুস্থ হবার পর সেও প্রতিশোধ নিল। সে তার বাবার বন্ধুর ছেলে গুলোর সাথে মিশতে লাগে। কিন্তু তারা বখাটে ছিল। প্রায়ই তারা তাকে চায়ের দোকানে নিয়ে যেত। একদিন তাদের মত সেও ধুমপান শুরু করে। এভাবে এলাকার সবচেয়ে ভালো ছেলেটা সবচেয়ে খারাপ হয়ে যায়। এখন লোকে বলে, "বাপও যেমন বেটাও তেমন"
তার জীবনের এই কষ্টকর স্মৃতি গুলো বলে তার খুব কাদতে ইচ্ছে হচ্ছিল। কিন্তু কাঁদতেও পারলো না। কারণ তার অন্তর পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে। আকাশের তারাগুলোর দিকে নিরবে চেয়ে রইল। তারপর বলল আমার মত খারাপ কেউ নাই। আমি তাকে কি বলে সান্ত্বনা দিব তাও ভেবে পেলাম না।
কিছুক্ষণ পর সে বলল,, "রাত দেড়টা বাজে শুবে না?" তারপর সে আর আমি শুতে গেলাম। কিন্তু আমার ভালো ঘুম হলো না। সারারাত শুধু তার জীবনের এই স্মৃতির কথা গুলো যেন কানে ভেসে আসছিল।
(শেষ)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now