বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- না মা আমি এখন বিয়ে করবো না ।
- কেন ? তোর বয়স তো কম হল না, মেয়েও ভালো । তোর বাবা আমার দুজনেরই খুব পছন্দ ।
- তবুও না ।
বলে ঘরে চলে গেল তূর্য ।
ধনী বাবার একমাত্র ছেলে সে । খুব জেদী ।
মা, বাবা তূর্যকে অনেক দিন ধরে বলেছে বিয়ে করার জন্য ।
তূর্য মেয়ের ছবি দেখেছে ।
মেয়েটা যথেষ্ঠ সুন্দরী, শিক্ষিত । তূর্যের জন্য পুরো পারফেক্ট ।
এমন ও না যে তূর্য কাওকে পছন্দ করে বা ভালবাসে ।
তবুও তূর্যের কেন যেন ইচ্ছা, সে এখন বিয়ে করবে না । তূর্যের ইচ্ছা গুলোয় এরকম ।
মা তূর্যকে মেয়েটার নাম্বার দিতে চেয়েছিল । তূর্য তাও নেইনি ।
বিয়ে করার জন্য বাবা মা নানা কথা বলছে । নানান যুক্তি দিচ্ছে ।
কিন্তু তূর্যের একই উত্তর, না ।
এই না যে বেশী সময় টিকে থাকবে না, তা বুঝতে পারছিল তূর্য ।
অবশেষে অনেকটা অনিচ্ছা নিয়েই,
হ্যাঁ বলল তূর্য ।
কয়েক দিন পরই ভালো দিন দেখে বিয়ে হয়ে গেল ।
বিয়ের প্রায় সব কাজ শেষ । এখন শুধুমাত্র ফুলশয্যাটা বাকি ।
তূর্য বাইরে গাঁ এলিয়ে ছোফায় বসে আছে ।
- কিরে তুই এখানে বসে ?
( বোন এসে বলল )
- তো সমস্যা কি ?
- সমস্যা কি মানে ! তোর বৌ একা বসে আছে ।
- থাক । এতদিন তো একাই থেকেছে । আজো থাক ।
- এতদিন তো আর বিয়ে হয়ছিল না ।
- বেশী কথা বলিস না । যা ।
- যাব ।
বলে বোন তূর্যের হাত ধরে টানতে টানতে ঘরের সামনে নিয়ে গেল ।
- তুই ঘরে যা, আমিও চলে যাচ্ছি । (বোন)
- মেজাজ কিন্তু খারাফ হয়ে যাচ্ছে ।
তূর্যের বোন বুঝলো, তূর্য এত সহজে ভেতরে যাবে না ।
দরজা খোলাই ছিল ।
তূর্যকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে, বাইরে থেকে দড়জা আটকে বোন চলে গেল ।
তূর্যের বিছানাই মৌ ঘোমটা দিয়ে বসে আছে ।
তূর্য একটু এগোতেই মৌ উঠে তূর্যের দিকে এগিয়ে এলো ।
তারপর তূর্যকে সালাম করল ।
- থাক থাক । এগুলোর কি দরকার ।
- দরকার আছে ।
- আমিও করবো ?
- কি বলছেন এসব ।
-যাও ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পর ।
বলে তূর্য সোফায় এসে শুয়ে পরলো ।
মৌ বলল,
খাটে শুবেন না ?
- না, তুমি শুও ।
সেদিন দুজনেই আর কিছু বলে নি ।
মৌ কথা বলার চেষ্টা করতো । কিন্তু তূর্য প্রয়োজন ছাড়া কথা বলত না ।
মৌ কয়েকদিন পর বলল,
- আপনি কি অন্য কাউকে ভালবাসেন ?
তূর্য হেসে বলল,
- কেন ? এই প্রশ্ন হঠাৎ ?
- না এমনি ।
- না কাউকে না ।
- আমাকেও না ?
তূর্য কিছু আর বলল না । আদোতেই ভালবাসে কিনা জানে না তূর্য ।
তূর্য জানে মৌ তাকে অনেক ভালবাসে । কিন্তু তূর্য কেন যে স্বাভাবিক ভাবে সব কিছু নিতে পারছে না, মৌ কে ভালবাসতে পারছে না তা জানে না ।
- আমি দেখতে সুন্দর না ?
- হুম অনেক সুন্দর ।
- তাহলে আপনি...
বলে আর কিছু বলতে পার না মৌ ।
মৌ সব কথা, মনের কথা, সব আকাঙ্খা সবই বোঝে তূর্য ।
কিন্তু সে কথা, আকাঙ্খাগুলো পূরন করতে ইচ্ছা করে না তূর্যের ।
আকাশে কালো মেঘ । অনেক বাতাস হচ্ছে । ঝড় হবে । তূর্য বাসার কাছে আসতেই প্রচন্ড জোড়ে বাজ পরল ।
বাসাই এসে কলিংবেল টিপল কয়েকবার ।
এখন পর্যন্ত তো এমন হয় নি । বলতে গেলে কলিংবেল টিপতে না টিপতেই দড়জা খুলে দিত ।
আর আজ !!
ওহ পকেটে তো চাবি আছে । মনে পরতেই তারাতারী দড়জা খুলল তূর্য । আজ কেন যেন মৌ এর জন্য চিন্তা হচ্ছে তূর্যের । বুকের মধ্যে কেমন যেন একটা অনুভুতি
হচ্ছে তূর্যের ।
বাসায় ঢুকে দেখলো রুমে নেই মৌ । রান্না ঘরেও নেই । বাথরুমের দড়জাও আটকানো না ।
তূর্য জোড়ে জোড়ে মৌ কে ডাকতে লাগলো ।
কিন্তু কোন সারা নেই ।
এই ঝড়ের মধ্যে মৌ কোথায় গেলো ।
হঠাৎ মনে পরল, বারান্দায় নয়তো ? কিন্তু এই ঝড়ের মধ্যে বারান্দায় থাকবে কেন ?
বারান্দায় গিয়ে দেখলো মৌ দাঁড়িয়ে ।
এবার মনে শান্তি লাগলো তূর্যের ।
এখন মাত্র কয়েক মুহুর্ত মৌকে না দেখে যে ভয়, যে কষ্ট তূর্য পেয়েছে , এটা ভালবাসা ছাড়া কিছু না ।
মৌ দাঁড়িয়ে হেড ফোন দিয়ে গান শুনছে ।
এতক্ষন ধরে তূর্য টেনশন করে অস্থির, আর সে এখানে ঝড়ের মধ্যে দাড়িয়ে গান শুনছে ।
তূর্যের রাগ হয়ে গেল । মৌ এর কনুই শক্ত করে ধরে টানতে টানতে ঘরে নিয়ে গেল ।
মৌ অনেক ভয় পেল । তারপর দেখলো তূর্য ।
তুর্য মুহুর্তের মধ্যে হেডফোনটা নিয়ে টেনে ছিড়ে ফেলল । আর সাথে সাথে লাউডে ফোনে গান বেজে উঠলো । ফোন কেড়ে নিয়ে দিলো আঁছাড় ।
মৌ এবার একটু বেশীয় ভয় পেল । বলল,
- কি হয়ছে আপনার ? ফোন ভাঙলেন কেন ?
- ফোন ভাঙলাম, ইচ্ছা করতেছে তোমাকে থাপ্পড় দেয় ।
মৌ হতভম্বের মত দাঁড়িয়ে আছে ।
তূর্য আবার বলতে শুরু করল ,
আমি কতবার কলিং বেল টিপে তারপর ভেতরে এসে তোমাকে ডেকে আমি হয়রান হচ্ছি ।
আর তুমি ঝড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে গান শুনছো । কতগুলো বাজ পরলো তুমি শোননি ? যদি তোমার কিছু হত !!
মৌ শুধু শুনেছেই তূর্য অনেক রাগী কিন্তু আজ সে তার রাগ দেখলো ।
মৌ কেঁদে ফেলল ।
অনেকটা অভিমান করেই বলল,
- আমার কিছু হলে আপনার কি ?
- আমার কি মানে ! (এবারও অনেকটা চেঁচিয়ে বলল তূর্য )
- আপনি তো আমাকে ভালোই বাসেন না ।
অনেক শান্তভাবে তূর্য বলল,
- কে বলছে তোমাকে ভালবাসি না ?
- তাহলে এতদিন আমার থেকে দূরে থাকতেন ? ভালো করে কথা বলতেন না ?
কিছু বলতে পারলো না তূর্য ।
- আপনার জেদ এর জন্য আপনি এমন করতেন তা আমি জানি ।
- মা তোমাকে সব বলেছে ?
- হুম ।
তূর্য তাকিয়ে দেখলো মৌ আবার কাঁদছে ।
তূর্য বলল,
- আবার কাঁদছো কেন ?
আপনি কিছু বুঝেন না ?
বলে কান্নার বেগ আরে বেড়ে গেল ।
তূর্য সবই বোঝে ।
মৌ এর চোখ মুছে দিয়ে জড়িয়ে ধরলো ।
মৌ আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ।
- সরি মৌ ।
- কেন ?
- কষ্ট দেওয়ার জন্য ।
-....
- আর এখন থেকে তুমি করে বলবা ।
- হুম, চেষ্টা করব ।
- চেষ্টা করার দরকার নাই, একবারেই বলে ফেলো ।
- তুমি আমাকে সত্যি ভালবাসবা তো ?
- ভালবাসবো কি, ভালবেসে ফেলেছি ।
( তূর্য মৌ এর ভালবাসা যেন থাকে চিরকাল এবং আপনাদেরও )
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now