বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাতের বেলা একটা ছেলে জঙ্গলঘেরা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সামনে দেখে একটা হিংস্র কুকুর জাতীয় একটা প্রাণী ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ওটা কুকুর কিনা ঠিক বুঝতে পারছে না ছেলেটা। তবে অনেক ভয়ানক এবং হিংস্র, সেটা ঠিকই বোঝা যাচ্ছে। আর কিছু কিছু প্রাণীর তো স্বভাবতই রাতের বেলা চোখ জলজল করে! সেটাতে আরও ভয়ানক দেখাচ্ছে ওই জন্তুটাকে।
♦
হঠাৎ করে ওটা গড়গড় শব্দ করা শুরু করলো। যেন খুব রেগে আছে। তারপরই হঠাৎ ছেলেটার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। ছেলেটা ওই প্রচন্ড ভয় পেয়ে প্রাণপনে দৌড়াতে লাগলো। ওই জন্তুটাও তাকে ছেড়ে দেবার মতো নয়। সেও এমনভাবে ছেলেটাকে তাড়া করছে, যেন একবার হাতের নাগালে পেলেই ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে!
|
হঠাৎ কিছু একটা পায়ে বেঁধে পড়ে গেলো ছেলেটা।
♦
প্রাণীটা এগিয়ে আসছে। আজ বোধ হয় ছেলেটার আর রক্ষা নেই। শেষে অচেনা কোনো হিংস্র পশুর খাবার হতে হবে!
|
মোবাইলটাও হাত থেকে পড়ে গেছে। এখন শুধুই ঘুটঘুটে অন্ধকার আর মনে প্রচন্ড ভয়! প্রাণীটা এগিয়ে আসতেই, ছেলেটা “সূরা নাস” পড়তে পড়তে সেন্সলেস হয়ে যায়।
♦
তখনি ওই প্রাণীটা একটা অবয়বে পরিণত হয়। অবয়বটার মুখ দেখা যাচ্ছে না। বিদ্ঘুটে ভাবে হাসতে হাসতে ছেলেটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ছেলেটার কাছাকাছি যেতেই একটা উজ্জ্বল আলোর রশ্মিতে ছিটকে পড়ে যায় অবয়বটা।
!!!!!!!!!!!!
রাগে গজগজ করতে করতে বলে,
-" এটা কি করে সম্ভব? আমি ওর কাছে যেতে পারছি না কেনো? কোন শুভ শক্তি রক্ষা করছে ওকে! কার এত বড় সাহস!
বলে আবার কাছে যেতে চাই, ছেলেটার কিন্তু আবারও ছিটকে পড়ে যায় একটা আলোর রশ্মিতে!
-" না, না,, এটা কি হচ্ছে? আমি সামান্য একটা মানুষের গায়ে হাত দিতে পারছি না! মালিককে গিয়ে কি বলবো?
♦
এই ভেবে কয়েকটা ঢোক গিলে আবারও ছুঁতে যায় ছেলেটাকে কিন্তু না পেরে অবশেষে ভ্যানিশ হয়ে যায় অন্ধকারের মধ্যে।
♦
কিন্তু ছেলেটাকে কে রক্ষা করলো? সে অজ্ঞান হওয়ার আগে সূরা নাস পড়েছিলো। হয়তো কুরআনের বরকতেই আল্লাহ তায়ালা তাকে রক্ষা করলেন!
♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦
-" এই ছোকড়া, এহানে ঘুমিয়ে আছো কেনো? জানো না,, রাত্রিতে এসব জঙ্গল মানুষের জন্য ভালা না? এই ওঠো,, কে তুমি?
|
এবার ছেলেটা চোখ খুললো। আর দেখলো তার সামনে একটা বৃদ্ধা মহিলা দাঁড়িয়ে আছে।
-" কে আপনি? আর আমি এখানে কেনো?
-" হেইডাই তো আমি জানবার চাইছি? তুমি কেডা,, আর এহানে রাতের বেলায় ছিলে, তোমার কি ভয়ডর বলে কিছু নেই?
-" আমি নিশান। এখান থেকে দুই গ্রাম পরেই আমার বাসা।
নিশানের গতকালের ঘটনাটা মনে পড়ে যায়,, কিন্তু বৃদ্ধাকে কিছু বললো না।
-" আচ্ছা বুড়িমা,, আমি তাহলে এখন গেলাম। সারারাত বাড়ির বাইরে রয়েছি!
-" হ, হ, তাড়াতাড়ি বাড়ি যাও। তোমার বাড়ির লোকজন চিন্তা হরবো।
♦
তারপর নিশান বুড়ির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসে। আর গতরাতের কথা ভাবতে থাকে। মাথাটা এখনও ঝিমঝিম করছে।
-" আচ্ছা, আমি কাল রাতে যেগুলো দেখলাম,, ওটা কি আমার মনের ভুল ছিলো? নাহলে ওই ভয়ানক প্রাণীটা ছেড়েই বা দিলো কেনো আমায়? খেয়ে নিতে তো পারতো। চোখের সামনে এমন জলজ্যান্ত শিকার পেয়েও ছেড়ে দিলো?
হয়তো এগুলো শুধুই আমার সাব-কনসাস মাইন্ডের কল্পনা। ধুরররর! শুধু শুধুই অমন ভয় পেলাম।
♦
♦
এসব ভাবতে ভাবতে বাড়ি চলে এসেছে। বাড়িতে শুধু নিশান আর নিশানের ছোটো বোন "নিশি" থাকে। মা-বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন! নিশান ইন্টার মিডিয়েটের ছাত্র। আর নিশি এবার ক্লাস নাইনে উঠলো।
|
নিশান বাড়িতে ঢুকতেই নিশি এসে ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো,,,
-" কিগো ভাইয়া কাল সারারাত কই ছিলে? তোমাকে নিয়ে কত দুঃশ্চিন্তা হচ্ছিল আমার জানো? রাত দশটা পর্যন্ত খাবার নিয়ে তোমার জন্য ওয়েট করছিলাম। শেষে তুমি আসছো না দেখে, আমি তোমাকে কয়েক হাজার বার ফোন দিছি! ধরো নি কেনো তুমি? আমার বুঝি একা থাকতে ভয় করে না!
♦
বলেই কান্নাই ভেঙে পড়লো। কারণ নিশান ছাড়া এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই ওর! নিশানও ওকে কাল রাতের কথাগুলো বলতে পারছে না। এতে খুব ভয় পেয়ে যাবে ওর বোনটা। তাই মিথ্যা বলে দিলো,
-" আমি একটা খুব জরুরি কাজে আটকা পড়ে গেছিলাম রে বোন। ফোনের চার্জ ছিলো না,, তাই অফ হয়ে গেছিলো। প্লিজ এবারের মতো ক্ষমা করে দে বোন। আর কক্ষণো এরকম হবে না। এই দেখ কানে ধরলাম!
-" সত্যি আর কখনো এরকম করবে না তো?
-" নারে, কক্ষনো করবো না। তুই খেয়েছিস?
নিশি কিছু না বলে, চুপ করে রইলো।
-" কাল রাত থেকে তুই না খেয়ে আছিস? এরপর শরীর খারাপ করলে, কি হবে? নে তাড়াতাড়ি খেয়ে নে।
♦♦♦♦♦♦♦♦
নিশানেরও অনেক খিদে পেয়েছিল। তারপর দুই ভাই-বোন খেতে বসলো।
আর দূর থেকে একটা অবয়ব সরে গেলো। নিশান সেটা খেয়াল করলো কিনা বোঝা গেলো না,,, কিন্তু ও বলে উঠলো,
-" কে? কে ওখানে?
-" কি ভাইয়া,,?
-" না, মনে হলো,, কেউ যেন সরে গেলো ওখান থেকে।
-" কে? আর এ বাড়িতে তো তুমি আর আর আমি ছাড়া আর কেউ থাকে না।
-" মনে হলো, একটা ছায়ার মতো। যাক বাদ দে, ভুল দেখছি হয়তো। তাড়াতাড়ি খা,, স্কুলে যেতে হবে তো, নাকি?
-" হুম।
♦
তারপর খেয়ে নিয়ে নিশিকে ওর স্কুলে নামিয়ে কলেজে চলে গেলো নিশান। কিন্তু মনের মধ্যে একটা খচখচানি থেকেই গেলো।
♥চলবে♥
জ্বীনের বাদশাহর সঙ্গে যুদ্ধ
Rafiul Hassan
পর্বঃ- ১
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now