বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সত্যি বলতে আমি বাংলাদেশের বর্তমান মুসলমানদের অবস্থা দেখে শিউরে উঠি।
চিন্তা করি, এভাবে চলতে থাকলে ভারত আর মিয়ানমারের মুসলমানদের অবস্থা হতে, বাংলাদেশেরও দেরি নাই।
বিশেষ করে মুসলমান হিসেবে মুসলমানদের যে চেতনা,
সেটা যখন হ্রাস পাবে, তখন বুঝতে হবে, তাদের ভাগ্যে খারাপি আছে।
বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে যখন রাম মন্দির বানাতে হাইকোর্ট থেকে ঘোষণা দিলো,
তখন সে সিদ্ধান্ত মুখ বুঝে মেনে নিলো ভারতীয় মুসলমানরা, কোন প্রতিবাদ-আন্দোলন কিছুই হলো না। ব্যস এরপর মোদি সরকার করলো- নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল,
এখন মুসলমানরা আন্দোলন করতে রাস্তায় নামলো, কিন্তু সেই আন্দোলনকে পাত্তাই দিলো মোদি সরকার। বরং ৫-১০ লক্ষ মুসলমানকে ৫-১০টা হিন্দু পুলিশ শুধু লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বানচাল করে দিলো।
মুসলমানদের ইতিহাসে দেখা যায়, প্রথমদিকের মুসলমানরা কয়েকজন দিয়ে কয়েক লক্ষ্ শত্রুকে নাকানি চুবানি খাওয়াইছেন, সম্ভবত তাদের মুসলিম হিসেবে চেতনা প্রবল থাকায়, তাদের মধ্যে আলাদা শক্তি তৈরী হয়, যা অন্যদের পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব না।
অপরদিকে এখন হয়ে যাচ্ছে, উল্টো। লক্ষ মুসলমানকে কয়েকজন মিলে ভাগিয়ে দিচ্ছে, কারণ মুসলমানদের সেই চেতনাটাই গায়েব।
আমি কয়েকদিন আগে, একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, কোথায় কোথায় মসজিদ ভাঙ্গছে তার খবর জানতে।
প্রচুর পরিমাণে তথ্য জমা হয়েছে আমার ইনবক্সে। আমি অবাক হয়েছি,
দেশে মসজিদ ভাঙ্গার মহোৎসব চলতেছে, এটা আমি বিদেশে থেকে টের পেয়ে যাচ্ছি।
অথচ দেশে কোটি কোটি মুসলমান তারা জানেই না, মসজিদ ভাঙ্গা হচ্ছে।
আর ফেসবুকে সেটা শুনলেও তাদের জন্য সেটা বড় কোন ইস্যু নয়।
আমি মনে করি, মসজিদ মুসলমানদের ধর্মের একটা বেসিক জিনিস।
এই বেসিক জিনিটা যখন ভেঙ্গে ফেলা হয়, এবং তার প্রতিক্রিয়ায় যখন মুসলমানরা চুপ থাকে,
দেখেও না দেখার ভান করে, তখন বুঝতে হয়, ঐ এলাকার মুসলমানদের অবস্থা ভালো নয়,
এবং খুব শিঘ্রই তাদের জন্য খারাপ ভবিষ্যত আসতেছে।
লক্ষ্য করে দেখবেন-
হিন্দুরা তাদের সরস্বতী পূজার ১ ঘণ্টা তিথি ছাড় দিতে রাজি না,
কিন্তু মুসলমানরা তাদের মসজিদগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে রাজি হয়ে গেছে,
এ ঘটনার দ্বারাই প্রমাণ হয়- বাংলাদেশের মুসলমানরা হিন্দুত্ববাদীদের কাছে চেতনার দিক থেকে পরাজিত, এখন লাঠির পিটুনি সময়ের ব্যাপার মাত্র।
গতকালকে একটা খবর দেখে আতকে উঠলাম-
সম্রাজ্যবাদী ইহুদী জর্জ সরোজ তার ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নতুন করে ১ বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করতেছে তার মতবাদ ছড়ানোর জন্য। আর বাংলাদেশের ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সেই সেই ফান্ডের অংশ পাবে, যার দ্বারা সে বাংলাদেশে সরোসের মতবাদগুলো বিস্তৃতি ঘটাবে বলে বিবৃতি দিয়েছে। উল্লেখ্য হ্যাংগেরিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন ইহুদী তেল ব্যবসায়ী জর্জ সরোসের কাজই হলো পুরাতন কালচার ভেঙ্গে তাদের কালচার চালু করা। এই খরব সত্যিই বাংলাদেশের জন্য এক ভয়াবহ বিষয় বটে। যদিও বাংলাদেশের মুসলমানরা এ ইস্যুতে একেবারেই নিরব।
(https://bit.ly/3aUyayH)
আপনাদের মনে থাকার কথা, কিছুদিন আগে আইডিয়াল স্কুলে ‘ওড়নার ঐতিহ্য তুলে দেয়া নিয়ে কথা বলতে, গভর্নিং বডির সভাপতি যুগ্ম সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছিলো- আইডিয়ার স্কুল আগে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে ছিলো, স্কুলটিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনতেই তাদের পোষাকের এই রিফর্ম।
আজকে একজন ফেসবুকে ইনবক্সে জানালো- আগারগাওয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের বিপরীতে মসজিদ সরিয়ে ফেলার চেষ্টার মূল কারণ নাকি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর। যারা মসজিদটি সরাতে চাইছে, তাদের মূল কথা হলো- মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের এত কাছে মসজিদ থাকলে নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে তাদের সমস্যা হচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে মসজিদ ও ওড়না বিরোধী চেতনা বোঝা যাচ্ছে।
কয়েকদিন আগে খবরে দেখলাম- নাস্তিক শামসুদ্দিন মানিক মামলা থেকে খালাস পেয়েছে।(https://bit.ly/2RFpJQx)
উল্লেখ্য আজ থেকে ৪ বছর আগে ২০১৬ এর বইমেলায় ‘ইসলাম ও বিতর্ক’ নামক নবীবিদ্বেষী বই নিয়ে ফেসবুকে তুমুল বির্তক হয়েছিলো। সেই বিতর্কের কারণে পুলিশ গ্রেফতার করেছিলো লেখক শামসু্দ্দিন মানিককে। কিন্তু এবার ২০২০ সালে এসে সেই মামলায় শামসুদ্দিন মানিককে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। সরকার ইচ্ছা করেই স্বাক্ষী নিয়ে গরিমসি করায় মামলাটা বাদ হয়ে গেলো, কিন্তু আমার স্পষ্ট মনে আছে, ঐ বইয়ের মধ্যে এমন ভয়ঙ্কর তথ্য আছে, যাতে শামসুদ্দিন মানিকের অন্তত ১৪ বছরের জেল হওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু তারপরও সে ছাড়া পেয়ে গেলো এবং মুসলমানরা সেই খবরই জানে না।
আজ থেকে ১ বছর আগে, আমি একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম (https://bit.ly/2GyJ9QC)।
বলেছিলাম- কিভাবে মুসলমানরা এক হতে পারে।
সেখানে একটা কথা স্পষ্ট বলেছিলাম- মুসলমানরা যেন আপাতত আপাতত ব্যক্তির দিকে হাইলাইট না করে, ইস্যুর দিকে হাইলাইট করে। কারণ ব্যক্তির দিকে মুসলমানরা যত হাইলাইট করবে, তত মুসলমানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়বে। কারণ সবাই ভাবে – সবার হুজুর সবচেয়ে বড়, আর অন্যেরটা ছোট। এই বড় ছোটর দ্বন্দ্ব একবার শুরু হলে ধ্বংস হওয়া ছাড়া উপায় নাই। কেউ ব্যক্তিকে হাইলাইট করে দেখতে পারেন, কিন্তু আমার মনে হয় লাভ করতে পারবেনন না। কারণ এটা আমাদের জাতিগত সমস্যা, এবং এটা বর্তমানে সকলের জন্য সত্য। এই অবস্থায় তাই ব্যক্তির হাইলাইট এড়িয়ে গিয়ে যদি ইস্যুকে হাইলাইট করতে পারতেন, তবে মুসলমানরা আপাতত নিজেদের দ্বন্দ্ব এড়িয়ে শত্রুর ষড়যন্ত্র থেকে বাচতে পারতো। কিন্তু দুঃখজনক হলো- বর্তমানে মুসলমানরা সেই দ্বন্দ্বের দিকেই গেছে। ফলশ্রুতিতে মসজিদ ভেঙ্গে ফেলতেছে, তাদের নবীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনাকারীরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে, ওড়না বাতিল করতেছে, তাদের সংষ্কৃতি ধ্বংস করতে ১ বিলিয়ন ডলার আসতেছে, সেগুলো তাদের কাছে বড় কোন ইস্যু না, তারা ব্যস্ত পরষ্পর কামড়া-কামড়ি নিয়ে, এবং সেটাই তাদের ধ্বংস হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
গত ২৭শে জানুয়ারী, ২০২০ তারিখে কোন রকম ঘোষণা ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়াতে একটি মসজিদে ইখওয়ানে ইসলাম নামক ৩০ বছরের পুরাতন এক মসজিদটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। পাশের একটা মার্কেট ভাঙ্গতে এসে কোনরূপ ঘোষণা ছাড়াই মসজিদের উপর বুলডোজার চালিয়ে দিয়ে মুহুর্তের মধ্যে মসজিদটি মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়, এবং মসজিদের ভেতর থেকে কোন মাল সামাল বের করা সম্ভব হয় নাই। অতি দুঃখের কথা হলো- মার্কেট ভাঙ্গার কারণে ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ করেছে, কিন্তু ৩০ বছরের পুরাতন মসজিদটি ভাঙ্গার কারণে এখন পর্যন্ত কোন মুসল্লী কোন প্রতিবাদ করে নাই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now