বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"মাম্মা! এইবার
কিন্তু তোমার
পার্টি দেওয়াই
লাগব। চুপে
চাপে প্রেম
করবা আর পার্টি
দিবা না তা তো
হবে না । "সবাই
পার্টি পার্টি
বলে চিৎকার করে
হা ভোট দেয়ায়
মত্ত । এরই মধ্যে
প্রিন্স বলে
উঠল,"গ্রুপের কেও
প্রেম এ পড়লে
তাকে পার্টি
দিতে হবে আইন
টা হুমায়ুন এর
করা । ভেবেছিল
ওর জীবনে
যেহেতু প্রেম
আসবেই না তো
সে নিরাপদ । ওই
আইন ই যে
বুমেরাং হয়ে ওর
দিকে ফায়ার
করবে তা যদি
জানত ।"
"আরে প্রেম করি
কই? ও তো আমার
ফ্রেন্ড । মাঝে
মাঝে একটু একটু
কথা হয় আর কি ।
তাড়াহুড়া করে
ফোনটা কাটা
হয় না হুমায়ুনের ।
বন্ধুদের বুঝাতে
চেষ্টা
করা,প্রেম টেম
কিছুই না জাস্ট
ফ্রেন্ড । কিন্তু
পার্টি আদায়ে
ব্যাস্ত ফ্রেন্ডরা
বুঝলে তো ।
আঁখির সাথে
পরিচয় সেই
কলেজে পড়ার
সময় । ম্যাথ
প্রাইভেট পড়তে
গেলে প্রায়ই
দরজার ফাক গলে
স্যারের সুন্দরী
মেয়েদের চোখে
পড়ত । ব্রেইনের
বদলে ফাজলামি
তে যার মাথা
ভর্তি সে কি আর
ফাজলামি করা
বাদ দেয় ।
স্যারের মেয়ে
তো কি হয়েছে ?
সব সময় ই দরজার
সোজাসোজি
বসত সে,
মেয়েটার সাথে
ফাজলামি করার
জন্য । অথচ দু বছরে
কথা হয়নি একদিন
ও । যা হত সব
চোখে চোখে ।
এক সময়
পড়ালেখায়
সিরিয়াস হয়ে
যায় হুমায়ুন ।
ইঞ্জিনিয়ার
হবার স্বপ্ন দেখে
। এইচ এস সি
পরীক্ষা দিয়ে
ঢাকায় চলে
আসে কোচিং এর
জন্য । সময় বয়ে
যায় ব্যাস্ততায় ।
আঁখির অস্তিত্ব
ভুলেই যায় সে।
একটা মানুষ কি
পরিমান
মানসিক
সাপোর্ট দিতে
পারে আঁখির
সাথে কথা না
হলে অজানাই
থেকে যেত
হুমায়ুনের ।
বুয়েটে চান্স না
পেয়ে কি
পরিমান
মানসিক কষ্টে
ছিল সে,যার
স্বপ্ন ভাঙ্গে নি
সে তা কখনো
বুঝতে পারবেনা ।
সেই দিনের কথা
ভালই মনে আছে
হুমায়ুনের ।
বাসায় বসে সাত
পাচ
ভাবছিল,এমন সময়
মোবাইলে
কল,আননোন
নাম্বার থেকে
কল।রিসিভ করতে
ইচ্ছে করছিল না
তারপর ও
মোবাইলের
চিল্লা ফাল্লায়
রিসিভ করতে
বাধ্য হল ।
-হ্যালো হুমায়ুন
ভাইয়া বলছেন?
ওপাশ থেকে
একটা কিন্নরী
কন্ঠ বলে উঠল। -
জি বলছি,কে
বলছেন প্লীজ?
বিরক্তি চেপে
জবাব দিল হুমায়ুন
।পরিচয় শুনে
প্রথমে মনে না
পড়লেও পরে
চিনতে পেরে
বেশ অবাক
হয়েছিল সে ।
কতদিন পর !
এরপর প্রায় ই কথা
হত । মেয়েটা এত
কথা বলতে পারে
। মনে মনে হাসে
হুমায়ুন । ওর সাথে
কথা বলতে ভালই
লাগে ওর ।
নিঃসঙ্গ জীবনে
বন্ধুর মত আগলে
রাখে ওকে
সবসময় । এভাবে
প্রায় এক বছর চলে
যায়। ইতমধ্যে
হুমায়ুনের
অনুপ্রেরনায় বেশ
ভাল রেজাল্ট
নিয়ে আঁখি এইচ
এস সি পাশ করে ।
ওদের সম্পর্ক টা
ভালবাসা বা
প্রেম এরকম কিছুই
না,অন্তত তাই
ভাবে হুমায়ুন ।
ভাললাগে ব্যাস
অতটুকই ।
কফিশপ এ
পৌছাতে দেরী
হয়ে যায়
হুমায়ুনের ।
পোলাপানগুলা
পার্টি নিয়ে এত
লাফালাফি না
করলে দেরি হত
না ওর । অনেক
কষ্টে ওদের
বুঝাতে সমর্থ হয়
যে ওরা জাস্ট
ফ্রেন্ড ।কত টুকু
বিশ্বাস করল ওরা
তা নিয়ে
হুমায়ুনের মাথা
ব্যাথা
নেই,পার্টি
দিতে হচ্ছেনা
বলেই খুশি ।
ব্যাপার টা
টাকা পয়সার
না,প্রেম নিয়ে
বড় বড় কথা বলা
পাবলিক প্রেম
করে । আম জনতার
কাছে সেটা
স্ক্যান্ডালের
চেয়ে কম কিসে ।
ভাগ্যিস জানে
না ওরা দেখা
করছে আজ।
কফিশপ টার নাম
অনেক সুন্দর।
কফিতা।নিশ্চয়ই
কোন উপন্যাস
থেকে নেয়া।
অস্থির
মেয়েটার
ফোনের জ্বালায়
প্রায় দৌড়ে
কফিশপে
পৌঁছাল হুমায়ুন ।
তাকিয়ে দেখে
য়াঁখি এক কোণে
বসে আছে ।
চোখে অভিমান ।
যেন বলতে
চাইছে, "এত দেরি
করলা
কেন,জানো
আমি কতক্ষণ ধরে
অপেক্ষা
করছি।"কিন্তু বলে
না । সব কথা তো
মুখে বলতে হয় না
। প্রায় সাত মাস
পরে দেখা হচ্ছে
আমাদের । একই
শহরে থাকা
সত্বেও দেখা
হয়না আঁখির
সাথে । বলা
ভাল,দেখা করতে
চায় না হুমায়ুন ।
আঁখি প্রায়ই
বলত,"চল দেখা
করি ।" সময় নেই
বলে এরিয়ে যেত
হুমায়ুন । কেন এমন
করে সে নিজেও
জানে না ।
আগের চেয়ে
অনেক সুন্দর
লাগছে আঁখি কে।
মেয়েটা কি দিন
দিন সুন্দর হচ্ছে
নাকি আগেই
ছিল এমন খেয়াল
করা হয় নি,ভাবে
হুমায়ুন ।
কত কথা জমা হয়ে
আছে আঁখির । খুব
বলতে ইচ্ছে
করে,কিন্তু পারে
না । যদি
ফিরিয়ে দেয় ।
যদি ওকে একা
রেখে চলে যায় ।
খুব ভয় হয় আখির ।
মনে পড়ে সেই
দিনের কথা,প্রথম
যেদিন হুমায়ুন
কে দেখে । সহজ
সরল একটা
ছেলে,চোখে
মুখে দুস্টামির
ছাপ । সারাক্ষন
দুস্টামি করে
যাচ্ছে । একটুও
ক্লান্তি নেই ।
কেন জানি এই
ছেলেটাকেই
ভাল লেগে যায়
আঁখির । খালি
মনে হতো,ওর
জন্যই আঁখির
পৃথিবী তে আসা
। হুমায়ুন
প্রাইভেট এ
আসছে না
দেখলে অস্থির
লাগত আঁখির ।
অনেক সাহস
নিয়ে একটা
চিঠি লিখেছিল
হুমায়ুন কে দেবে
বলে,কিন্তু
সেদিন ই জানতে
পারে হুমায়ুন
ফ্যামিলি সহ
ঢাকা চলে
গেছে কয়েকদিন ।
একই এলাকা
হওয়া সত্বেও
হুমায়ুনের
নাম্বার জোগাড়
করতে লেগে যায়
প্রায় এক বছর।এই
এক বছর কতটা
কস্টে কাটল
আঁখির তা যদি
হুমায়ুন কে বলতে
পারত।
অনেক কথাই হল।
বেশির ভাগ ই
পড়ালেখা
কেন্দ্রিক।হুমায়ুন
সাজেশন
দেয়,মেডিক্যাল
এ পড়তে । আখিরও
তেমনি ইচ্ছা ।
কথা বলতে বলতে
বিকেল গড়িয়ে
আসে । উঠে যাবে
এমন সময় হঠাৎ
হুমায়ুনের হাত
চেপে ধরে
আঁখি,অস্রু ভেজা
কণ্ঠে জানতে
চায়, " আচ্ছা
আমরা কি শুধুই
ফ্রেন্ড ? এর থেকে
বেশি কিছু নিয়ে
কি আমরা
ভাবতে পারি
না ? "
অস্রু টলমল
চোখের দিকে
তাকায় হুমায়ুন ।
বুকের ভেতরটা
কেমন জানি করে
উঠে,ঝড় বয়ে যায়
মনের কোন এক
গহিনে । অদ্ভুত
কিছু ভালো
লাগার অনুভুতি
চারদিকে । কিন্তু
তবুও কেন জানি
আঁখির হাত টা
ছাড়িয়ে
কফিশপের
বাইরে চলে
আসে সে……………
মোবাইল টা
পকেট থেকে বের
করে সে,মনে মনে
সব সিদ্ধান্ত
নেয়া শেষ ।
আঁখিকেও যা
জানানোর,জানিয়ে
দিলো সে ।
এরপরেই
বন্ধুদেরকে ফোন
দিলো । ওপারে
রিসিভ হতেই
বলে, " সাইফ
সবাইকে নিয়ে
কে এফ সি তে
চলে আয়।পার্টি
আছে । "
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now