বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

যার কাছে আমি চিরঋণী

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান (০ পয়েন্ট)

X যার কাছে আমি চিরঋণী -- নাজমুস সাদাত মাঝে মধ্যে আমি আমার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সাথে নিজেকে মেলানোর চেষ্টা করি- তাদের সাথে আমার কোথায় কোথায় পার্থক্য আছে। যেমন আমার স্কুল জীবনের অনেক কাছের ১০-১২ জন বন্ধু রয়েছে। যাদের মধ্যে আমি একমাত্র ব্যক্তি যে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। এ বন্ধুদের মধ্যে ৮-১০ জন নিয়মিত ধূমপান করলেও আল্লাহর রহমতে আমি ধূমপান মুক্ত জীবন যাপন করি। কলেজ জীবনেও বিজ্ঞান বিভাগে প্রায় ৬০জন ছেলে বন্ধুদের মধ্যে আমরা ৫-৬ জন নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতাম, যার মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী বা সমর্থক ছিল অর্ধেক। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে এসেও প্রায় একই ঘটনা। আমরা ৭৫জন বন্ধুদের মধ্যে মাত্র ৮-১০জন নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম। বন্ধুদের যারা নিয়মিত নামাজ পড়তো তাদের ৯৯% হয় তারা ইসলামী ছাত্রশিবির করত অথবা তাবলীগ জামাতের সাথে জড়িত ছিল বা অন্য কোনো ইসলামী সংগঠন করত। আমার অনেক বন্ধুরা ধূমপান করলেও আমরা যারা ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবির করতাম তারা কখনো ধূমপানের সাথে জড়িয়ে পড়িনি। আমার স্পষ্ট মনে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আন্তঃডিপার্টমেন্ট ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং আমাদের ডিপার্টমেন্ট যেবার রানার্সআপ হলো খেয়াল করে দেখেছি গোটা টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দলের মাত্র ৫ থেকে ৬জন হাটু দেখা যায় না এমন প্যান্ট পড়ে ফুটবল খেলেছিল, তার মধ্যে একজন ছাড়া সবাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী ছিল। হাফপ্যান্ট না পড়ার কারণ কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য এবং ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল ভাইদের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যখন শত শত ছেলে মেয়ে প্রেম ভালোবাসার নামে অশ্লীলতার দিকে ধাবিত হত, তখন আমরা গর্ব করে বলতাম ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন নেতা বা কর্মী ইসলাম ও নৈতিকতা বিরোধী এ ধরনের কাজে লিপ্ত নেই। আমার স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শ'খানেক বন্ধুদের মাঝে কেউ কখনো অভিযোগ জানাতে পারবে না যে আমি বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে বা আড্ডা দিতে গিয়ে হলেও কখনো ধূমপান করেছি,খেলাধূলা,ক্লাস বা পরীক্ষার অজুহাতে কোন সময় নামাজ কাজা করেছি বা কোন মেয়েকে নিয়ে প্রেম ভালোবাসার নামে অশ্লীলতায় মেতে উঠেছি। আমি মাঝে মাঝেই বন্ধুদেরকে নামাজ এবং কুরআন পড়তে দাওয়াত দিতাম। দাওয়াতি কাজের সময় খোঁজ নিলে বিস্ময়কর ভাবে যে তথ্যটি পেতাম তা হল, একদা তারা মক্তবে বা বাসায় কোরআন শিখলেও তাদের বেশিরভাগই এরপরে আর কোরআন পড়েনি। আবার অনেকে মাঝে মাঝে কোরআন পড়লেও তারা অর্থ অথবা ব্যাখ্যাসহ কোরআন পড়ে না। অথচ ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন নেতা বা কর্মীকে বাধ্যতামূলক ভাবে নিয়মিত কোরআন অধ্যয়ন করতে হয়। গর্ব এবং অহংকার একটি মৌলিক দুর্বলতা, যা মানুষের সকল নেক আমলকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এ লেখার মাধ্যমে আমি আল্লাহর কাছে সকল প্রকার গর্ব ও অহংকার থেকে পানাহ যাচ্ছি। শুধু বলতে চাই আমার বন্ধুদের থেকে আমার মধ্যে যতটুকু পার্থক্য আমি দেখতে পাই, তা একমাত্র আল্লাহর অশেষ করুণা এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নিবিড় তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। ক্যাম্পাস জীবনে যখন আমার পিতা মাতার পক্ষে আমার খোঁজ নেয়া সম্ভব ছিল না- আমি সারাদিন কী করি, কোথায় থাকি বা না থাকি, আমার শিক্ষকরা যেখানে কখনো খোঁজ নেননি আমি নামাজ পড়ি- কি পড়ি না বা প্রত্যেকদিন কোরআন পড়ছি- না পড়ছি না, আমি ধুমপান করি- না করি না, আমি প্রেম ভালোবাসার নামে অশ্লীলতায় মেতে আছে কিনা! কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আমার দায়িত্বশীল ভাইয়েরা, আমার সাথী ভাইয়েরা সব সময় আমার খোঁজ নিয়েছেন। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছি কি না, আমি নিয়মিত কুরআন- হাদিস অধ্যয়ন করি কি না, আমি ক্লাসে উপস্থিত হয় কি না, আমি নিয়মিত পাঠ্যপুস্তক অধ্যায়ন করি কি না বা আমি নিয়মিত মানুষকে আল্লাহর পথে আহবান জানাই কি না। তারা আমাকে শিখিয়েছেন কিভাবে বিতর্ক করতে ও ইংরেজিতে কথা বলতে হয়, কম্পিউটার চালাতে হয়; মাদ্রাসায় না পড়া ছেলেটিকে শিখিয়েছেন কিভাবে কোরআন পড়তে হয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে উৎসাহ দিয়েছেন বারংবার। ভাল ক্যারিয়ার গড়ার জন্য তারা আমাদেরকে সেই কলেজ জীবনেই দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দিয়ে গাইডলাইন দিয়েছেন। আজীবন মনে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করার সময় ছাত্রশিবিরের ভাইদের সেই আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা। শিবিরের ভাইদের মেসে সে কঠিন (♥) দিনগুলোর কথা! ফজরের নামাজের পরে পুনরায় ঘুমালে বিছানায় পানি ঢেলে দেওয়া, পড়তে পড়তে টেবিলে ঘুমিয়ে পড়লে কান মলা বা চুল টেনে ধরা, মোবাইল গুলো কেড়ে নিয়ে যত্ন করে রেখে দেওয়া, দিনে ১৪ ঘন্টার বেশি পড়তে পারলে পুরস্কার ও না পড়তে পারলে শাস্তি। আবার বিনা পয়সায় ডিএমসি, বুয়েট ও ঢাবির ভাইদের এক্সট্রা কেয়ার তো আছেই। সেই শাসনগুলো তখন অনেক কঠিন মনে হলেও এখন বুঝি তাদের সেই মধুর শাসন না থাকলে অজপাড়া গাঁয়ের সেই ছেলেটি আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারতো না। সেই ভাইদের ঋণ কি কখনও শোধ করতে পারবো? মাঝে মাঝেই চিন্তা করি সরকারের এত বাধা-নির্যাতনের পরও কেমন করে এ কাফেলা এখনও টিকে আছে! তবে উত্তর মনের অজান্তেই চলে আসে। যার জীবন গঠনে (ইহকালী+পরকালীন) ইসলামী ছাত্রশিবিরের এত নিঃস্বার্থ অবদান সে অকৃতজ্ঞ কিভাবে হবে? ছাত্রশিবির এখন ৪২ বছরে পা রেখেছে। এই ৪২ বছরে অগণিত পথহারা তরুণ-যুবকদের মুক্তির পথ দেখিয়েছে এ প্রাণপ্রিয় শহীদী কাফেলা। আল্লাহ এ কাফেলাকে বাঁচিয়ে রাখুন আমার মত অযুত-লক্ষ-কোটি তরুণদেরকে কোরআনের পথে ডাকার জন্য। আমিন। আপনিও সত্যের পতকাবাহী এই মিছিলের সঙ্গী হোন। অনলাইনে ছাত্রশিবিরের সমর্থক হতে ভিজিট করুন- www.isupportshibir.org #ISupportShibir #KnowShibir #JoinShibir


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ যার কাছে আমি চিরঋণী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now