বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জ্যান্ত লাশ

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X গল্পঃ জ্যান্ত লাশ... ★ ★ আমি মারুফ, লাশবাহী গাড়ি চালাই। মৃত লাশ নিয়ে মাঝে, মাঝেই বিভিন্ন জেলায় যাওয়া হয় আমার। একদিন একটা ফোন পেয়ে অফিসে গিয়ে খবর পাই একটা মৃত লাশ নিয়ে আমাকে রাজশাহীতে যেতে হবে। লাশটিকে দেখলাম আমি, খুব বাজে ভাবে এক্সিডেন্ট হয়েছে। লাশ একটা মেয়ের, খুব সুন্দরী,মনে হয় কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত। মাথার এক পাশ থেঁতলানো,চুল গুলা এলোমেলো, দেহের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্ত ঝড়ছে। আমি মাঝে মাঝেই এমন লাশ নিয়ে প্রায় অনেক জেলাতে গিয়েছি তাই সাথে একজন কে নিয়ে সন্ধ্যা হয় হয় ঠিক ওই সময় রওনা দিলাম। একটানা চার পাঁচ ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে একটা স্থানে এসে কিছু খাওয়ার জন্য গাড়ি থামালাম। তারপর খেয়ে দেয়ে আবার রওয়না দিলাম। কয়েক কিলোমিটার যাওয়া পর হঠাৎ একটা চাকা বাস্ট হয়ে যায়। গাড়ি থেকে নেমে দেখলাম চাকা বাস্ট হয়ে গেছে। এক্সট্রা চাকার জন্য গাড়িতে খোঁজ করে দেখলাম ভুল করে এক্সট্রা চাকা নেয়া হয় নাই। সাথে যে ছিল সে বলল, ভাই,চাকা যেহেতু নাই আমরা যেখানে খাওয়া-দাওয়া করছিলাম ওইখানে যাই দেখি চাকা সারাইতে পারি কিনা? এই কথা বলে আমার কাছ থেকে কিছু টাকা আর নষ্ট চাকাটা নিয়ে রওয়না দিলেন। গাড়িটা রাস্তার এক পাশে সাইড করা ছিল। কতক্ষন লাগতে পারে এই কথা চিন্তা করতে, করতে গাড়িতে গিয়ে বসলাম। গাড়িটা হাইড্রোলিক জগ দিয়ে স্ট্যান্ড করা ছিল। তাই এইটাও চিন্তা করছিলাম একা একা এইভাবে থামানো একটা গাড়ি নিয়ে কতক্ষন অপেক্ষা করবো। এমনিতেই জায়গাটা নীরব। একটু পর পর একটা দুইটা ডিস্ট্রিক বাস সাই সাই করে যাওয়া ছাড়া আআশেপাশে কোন মানুষজনের চিহ্ন নাই। আর রাত দশটা বাজে, কে আসবে হাইওয়েতে এই সময়। আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে একটু পর পর একটা করে টান দিচ্ছি আর চাকা আসার ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করছি। আমি আশেপাশে তাকিয়ে হঠাৎ ভেতরে থাকা লুকিং গ্লাসে চোখ দিয়ে আটকে গেলাম। চোখটা সরিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখলাম নাহ কিছুই না, সব ঠিক আছে।আবার যখন সিগারেটে টান দিয়ে লুকিং গ্লাসের দিকে তাকালাম তখন ভয়ে স্থির হয়ে গেলাম। আমি দেখলাম, মেয়েটার লাশটা উঠে বসে আছে! এইবার আমি ঘাড় ঘোরাতে সাহস করলাম না। আমার মনে হচ্ছিল দাঁতে দাঁত লেগে আসবে। হঠাৎ পিছন থেকে মেয়েটা বলে উঠল, "ভাইয়া আমি পানি খাব,পিপাসায় গলাটা ফেটে যাচ্ছে। আমাকে একটু পানি দিবেন?" আমি অনিচ্ছা সত্বেও পিছনে তাকিয়ে দেখলাম, সত্যি মেয়েটা শোয়া থেকে বসে আছে আর ওর শরীরিরের দাগ গুলা নাই! থেঁতলানো দিকটা বুজা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে সে অজ্ঞেন ছিল এখন জ্ঞান ফিরেছে। মেয়েটা আবারও বলতে লাগল, "ভাইয়া আমার খুব পানির পিপাসা লেগেছে আমাকে একটু পানি দিবেন?" অজানা অচেনা একজনের মুখে এভাবে ভাইয়া ডাক শুনে আমার মনটা কেমন করে উঠলো। এক রোড এক্সিডেন্টে বাবা, মা আর ছোট্ট বোনটাকে হারিয়েছি অনেকদিন আগে। আজ এতদিন বাদে কেউ এমন মহব্বতের সাথে আমাকে ভাইয়া বলে ডাকবে সেটা কখনও ভাবিনি। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো আমার ছোট বোন মুন্নি আমায় ডাকছে! মেয়েটার জন্য মায়া হলো আমার। তাছাড়া মেয়েটাকে দেখতে স্বাভাবিক লাগছিল তাই আমি একটা পানির বোতল এগিয়ে দিলাম। পানিটা পেয়ে এক নিঃশ্বাসে শেষ করে কেমন যেন একটা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলল। তারপর আমার দিকে মুখ করে বলতে লাগল, "জান ভাইয়া এই পানির জন্য আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। আমার ভার্সিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়ীতে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে বাস স্ট্যান্ড আসি। আমি রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া দিয়ে যখন একটু সামনে আগালাম,খেয়াল করতে পারিনি কখন একটা দ্রুতগামী বাস আমার সামনে এসে পড়েছে। চোখের পলকে বাসটার আঘাত খেয়ে সামনে পড়ে যাই আর বাসটা ব্রেক করতে না পেরে আমার মাথার ঠিক বাম সাইড দিয়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় আমার সমস্ত শরীরটাকে কয়েকবার রাস্তায় আষ্টেপৃষ্ঠে করে ফেলে যায়। এক্সিডেন্টের বেশকিছুক্ষন পর পর্যন্ত জীবিত ছিলাম। চিৎকার করে বলতে পারিনি আমাকে কেউ পানি দাও পিপাসায় আমার গলা ফেটে যাচ্ছে। খুব শব্দহীন আর্তনাদ করে পানির জন্য গুমরে কেঁদে উঠে ছিলাম কিন্তুু আমাকে একফোঁটা পানি কেউ দেয় নি। যখন শেষ নিশ্বাসটা ফেললাম একজন এসে আমাকে পানি খাওয়াতে চাইল কিন্তুু পানির একফোটাও গলা দিয়ে নামল না, গাল বেয়ে নিচে পড়ে গেল। আমার নিথর দেহটা এম্বুলেেন্স তোলা হল। আমার আইডি কার্ড দেখে ভার্সিটি থেকে তথ্য নিয়ে তোমার কাছে দিল আমাকে বাড়ী পৌছে দিতে।" মেয়েটা এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে একটু চুপ হয়ে আবার বলল, "ভাইয়া আমার আব্বা,আম্মা আর ভাই বোনকে বলবা আমার জন্য যেন না কাঁদে আর তোমাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে পানি খাওয়ানোর জন্য।" এই কথা বলে মেয়েটা আবার শুয়ে পড়ে। ততক্ষনে যিনি চাকা ঠিক করতে গিয়েছিল তিনি এসে বলল ভাই চলেন চাকা ঠিক হয়ে গেছে। আমি সাড়া পেয়ে খেয়াল করলাম আমার পুরো শরীর ঘামে ভেজা। চাকাটা লাগিয়ে আবার রওনা দিলাম। মেয়েটার গ্রামের বাড়ি যেতে,যেতে পরদিন প্রায় সকাল দশটা বেজে যায়। মেয়ের লাশ পেয়ে মেয়েটার বাবা,মা,ভাই, বোন কান্নাকাটি শুরু করে দিল। আমার চোখেও অশ্রুর অস্তিত্ব টের পেলাম। জানিনা কেন, হয়তো আমি ভাই বোনের ভালবাসার মায়ায় জড়িয়ে গেছি। হয়তো একেই বলে ভাই বোনের ভালবাসার টান। আমি ওইখানে বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে পারলাম না। খুব কষ্ট হচ্ছিল আমার, খুব খুব। মেয়েটার বলে যাওয়া কথাগুলোও কারও কাছে বলতে পারলাম না। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ঢাকার দিকে রওনা দিলাম। মনটা খারাপ করে একটানা গাড়ি চালিয়ে যখন আবার ওই রাস্তায় আসলাম তখন দেখলাম মেয়েটা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে! সুন্দর একটা হাসি দিয়ে হাত নাড়িয়ে আমাকে বিদায় জানাচ্ছে। এইটা দেখে আমার মনটা ভালো হয়ে গেল। ভাল একটা স্বস্তি নিয়ে ঢাকায় ফিরে এলাম। ফিরতে ফিরতে ভাবলাম, আর কতকাল এই রোড এক্সিডেন্টের জন্য ভাই তার বোনকে হারাবে, মা-বাবা তার সন্তানকে হারাবে ===== (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জ্যান্ত লাশ
→ জ্যান্তলাশ
→ জ্যান্তলাশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now