বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জানোয়ার-০৪

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X জানোয়ার - শুভাগত দীপ . পর্ব - ৪ (অধ্যায় ১১-১৩) . ১১. সাব ইন্সপেক্টর শাহজালাল মিয়া ভ্রু কুঁচকে ওপর করে শোয়ানো লাশটির দিকে তাকিয়ে আছেন। আশেপাশে আছে হাবিলদার আসলাম আর মর্গের বয়ষ্ক এক ডোম। তিনজনের মধ্যেই অস্বস্তিকর নীরবতা বিরাজ করছে। তারা এক দৃষ্টিতে মৃত নীতুর পিঠের দিকে তাকিয়ে আছে। সেখানে তারা যে অদ্ভুত জিনিসটাকে দেখতে পাচ্ছে, তা যে কাউকে চুপ করিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। নীতুর পিঠটা অদ্ভুত একটা জিনিস দখল করে রেখেছে। কাঁধের দুই ইঞ্চি নিচ থেকে একেবারে মাঝামাঝি পর্যায়ে কিছু একটা গোলাকার একটা আকৃতি নিয়েছে। জিনিসটা পিঠের মাংসের নিচ থেকে যেন ফুঁড়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। টেলিস বলেত চেয়ে সাইজে বড় জিনিসটা অনেকটা মানুষের মুখের মত আকৃতির। কিছু মাংসপেশি ভোঁতা চোখ মুখের আকৃতিও নিয়েছে। গোলাকার অদ্ভুত জিনিসটার চারপাশে কিছু বিশেষ চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। হিব্রু হরফের সাথে এগুলোর কিছু মিলও আছে। রহস্যময় মাংসপিণ্ডটাকে গোলাকার ভাবে চিহ্নগুলো ঘিরে রেখেছে। ওই চিহ্নগুলো ধাতব কিছুর সাহায্যে ছ্যাঁকা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু মাঝখানের ওই মানবমুখ সদৃশ জিনিসটা কি! - আসলাম... - জি স্যার... - লাশটি যত দ্রুত সম্ভব পোস্টমর্টেমের ব্যবস্থা করতে হবে। আমি ডাক্তার বিশ্বাসের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলতে যাচ্ছি। - জি স্যার। - আর শোনো, তোমরা কাউকে লাশের পিঠের এই অদ্ভুত জিনিসটার ব্যাপারে কিছু বলবেনা। ওকে? - ওকে স্যার। হাবিলদার আসলাম আর বয়ষ্ক ডোমটি মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। সাব ইন্সপেক্টর শাহজালাল মিয়া মেডিকেল কলেজের মূল ভবনের দিকে এগোলেন। লাশের পিঠের এই অদ্ভুত জিনিসটা তাঁকে দারুন ভাবাচ্ছে। সোবহান সাহেব একেবারে অন্যরকম হয়ে গেছেন। নিজের মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন। জন্ডিসের নতুন একটা প্রতিষেধক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান এক কেমিষ্টের সাথে যৌথভাবে কাজ করছিলেন। নীতুর মৃত্যুর পর সেই কাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও কোন তথ্য জানার আগ্রহ বোধ করছেননা। সিগারেট ছেড়ে দিয়েছিলেন নীতুর জন্মের পরপর। ভাগ্যের কি পরিহাস, নীতুর মৃত্যুর পর আবারো সেই ক্যান্সার স্টিককেই আঁকড়ে ধরলেন। মেঝের কার্পেটের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আসলাম সাহেব। আসলে তিনি দামী পার্শিয়ান কার্পেটটার কিছুই দেখছেননা। তিনি ভাবছেন, নীতু কেন এমন ভয়াবহ উপায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলো! সব দেখেশুনে এটা সাধারণ কোন আত্মহত্যার ঘটনা বলে মানতে পারেনি সোবহান সাহেবের মন। বছরের বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকায় ছেলেমেয়ের ব্যাপারে কিছুই প্রায় জানেননা, তাই কোন কিনারাও পাচ্ছেননা। ব্যাপারটা নিয়ে নোমানের সাথে কথাও বলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নোমান প্রবল অনাগ্রহ দেখিয়েছে। ছেলেটাও কেমন যেন হয়ে গেছে, ভাবলেন সোবহান সাহেব। দূরত্ব তো আগে থেকেই ছিলো, নীতুর মৃত্যুর পর সেটা যেন আরো বেড়েছে। মাঝে মাঝে তাঁর মনে হয়, নোমান তাঁকে ঘৃণা করে। ভয়াবহ এ ধারণা যে সঠিক, তা সোবহান সাহেবের সচেতন মন মানতে না চাইলেও অবচেতন মন এটা ভালোভাবেই জানে। ১২. পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট এসেছে। ভয়াবহ ও অদ্ভুত কিছু ব্যাপার সামনে এসেছে এর সাথে সংশ্লিষ্টদের সামনে। নীতুর মৃত্যুর কারন রক্তশূন্যতাই। কিন্তু চমকে দেবার মত ঘটনা ঘটেছে অন্য জায়গায়। নীতুর পিঠে যে মানবমুখ সদৃশ মাংসপিণ্ড দেখা গেছে, সেটা দারুন অবাক করেছে ডাক্তারকে। মাংসপিণ্ডটার ভেতরের দিকে অপরিপক্ব চোখ ও নাকের মত কিছু জিনিস দেখতে পেয়েছেন তিনি। পুরো শরীর না, শুধু অপরিপক্ব একটা বাচ্চার মাথা। এই ব্যাপারটা অসম্ভব। পিঠের প্রায় মাঝামাঝিতে এমনটা কেন ঘটবে, কোনভাবেই ব্যাখ্যা পেলেননা ডাক্তার বিশ্বাস। সাব ইন্সপেক্টর শাহজালাল মিয়া ডাক্তার বিশ্বাসের কাছ থেকে সব শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। কোন কূলকিনারা করতে না পেরে একের পর এক সিগারেট ধ্বংস করতে লাগলেন তিনি। - ডাক্তার সাহেব... এই অদ্ভুত ব্যাপারটা মিডিয়া যেন না জানে। - আমি কিছু বলবোনা, কিন্তু ডোমদের ব্যাপারে কোন গ্যারান্টি দিতে পারছিনা। - আচ্ছা, আপনি বললেন, ওই অদ্ভুত মাংসপিণ্ড আর তার চারপাশের চিহ্নগুলো ছাড়া লাশটার শরীরে আর কোন অস্বাভাবিকতা ছিলোনা। - শরীরের কাটা দাগ গুলো... - ওগুলোতো মেয়েটার নিজের হাতে করা। - হ্যাঁ। তবে... - তবে কি, ডাক্তার সাহেব? - মেয়েটার হৃৎপিণ্ডে এক ধরণের পাথর কণা পাওয়া গেছে। এটা কিভাবে এলো বুঝতে পারছিনা। - পাথর কণা? - হ্যাঁ। বেশ কিছু লালচে পাথরের দানা। চোখদুটো বড় বড় হেডলাইট বানিয়ে বসে রইলেন সাব ইন্সপেক্টর শাহজালাল মিয়া। এ আবার কি! রহস্যের পর রহস্য। এ কেমন কেসে ফাঁসলেন, তাই ভাবছেন। ঠিক একই কথা ভাবছেন ডাক্তার বিশ্বাস। এমনটা তিনি কখনো দেখা তো দূরে থাক, শোনেনওনি। সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ভাবনা পেয়ে বসলো সাব ইন্সপেক্টর শাহজালাল মিয়াকে। নীতুর লাশের পিঠের ওই ভয়াবহ অস্বাভাবিকতার ব্যাপারে ওর পরিবারকে কিভাবে জানাবেন তিনি! হওয়ার কথা ছিলো সাদামাটা আত্মহত্যার ব্যাপার, সেটা না হয়ে পুরো ব্যাপারটাই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে ঘন রহস্যের জালে। মেয়েটার ভাই নোমানকে তাঁর কেমন খাপছাড়া স্বভাবের মনে হয়েছিলো সেদিন ইন্টারোগেশনের সময়। ছেলেটাকে ভালোভাবে চেপে ধরতে হবে। মনে হচ্ছে, নোমান কিছু না কিছু জানে, যা সে সযত্নে গোপন করছে। যেকোন পুলিশ এইসব ভালোই বুঝতে পারে। সাব ইন্সপেক্টর শাহজালাল মিয়াও বুঝতে পেরেছেন। ১৩. ভাইয়া, রাগ করে আছিস? করবিই তো। তোর আদরের ছোট বোনটা হঠাৎ-ই তোকে না বলে পালিয়ে গেলো, রাগ তো হবেই। ভাইয়া শোন, আমি যে ভয়াবহ এক অন্ধকার জগতে কতখানি ডুবে গেছিলাম, তা তুই জানিসনা। জানলে আমার ওপর তোর কোন রাগ থাকবেনা। বরং মনে হবে, আমি এভাবে চলে গিয়েই বেঁচে গিয়েছি। ভাইয়া, তুই কি কখনো শয়তানকে সামনাসামনি দেখেছিস? আমি দেখেছি। দিনের পর দিন। বেশ কয়েকবার। সে সময়টা মানুষরূপী শয়তান আর তার উপাস্য পাথরের শয়তান আমার ওপর নিজেদের নারকীয় বিভিন্ন আচারের পরীক্ষা চালিয়েছে। আমি কোন বাধা দিতে পারিনি। আমাকে একরকম বেঁধে রেখেছিলো ওরা। ব্ল্যাকমেইল করে আমাকে অশুভ কিছু কর্মকান্ডের অংশীদার বানানো হয়েছিলো। ভাইয়া, তোর রুমের আলমারির ওপরে একটা ডায়েরি পাবি। ওই যে, আমাকে গত জন্মদিনে যে নীল লেদারের মলাটের ডায়েরিটা তুই দিয়েছিলি না, সেটা। ওটা কেন তোর রুমে রেখেছি সেটা বলি। আমার মৃত্যুর পর আমার রুম সার্চ করলে পুলিশ ওটা পেয়ে যেত। আমি তা চাইনি। ডায়েরিটা তোর জন্য। ওটাতে আমি আমার শেষ অন্ধকার দিনগুলোর কথা লিখে রেখেছি। কার জন্য লিখেছি জানিস? তোর জন্য। আমার এই পরিণতির জন্য শুধু কোন নির্দিষ্ট মানুষ না, দায়ী একটা পাথরও। তুই প্রতিশোধ নিবিনা ভাইয়া? আমি জানি, নিবি। শুধু তোকেই প্রতিশোধ নিতে হবে। ডায়েরিতে তুই অনেক অদ্ভুত জিনিসের বর্ণনা পাবি। বিশ্বাস কর ভাইয়া, সবই সত্যি। সব আমার সাথেই ঘটেছে। পিঠের যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছিনা ভাইয়া। আমার আত্মা দূষিত হয়ে গেছে। সবকিছু কেমন অসংলগ্ন লাগছে। আমাকে শেষ একটা প্রমিস করবি? এই চিঠি আর ডায়েরি - কোনটাই পুলিশকে দেখাবিনা। পুলিশ কিছুই করতে পারবেনা। যা করার তোকেই করতে হবে। ভালো থাকিস ভাইয়া। আর হ্যাঁ, ভালো একটা মেয়েকে বিয়ে করিস। তোর তো নিজের দিকে কোন খেয়াল থাকেনা। আমি বেঁচে থাকবো ভাইয়া। তোর ভেতরেই বেঁচে থাকবো। সময় অনেক কম। তোকে অনেক ভালোবাসি। ইতি, তোর ছোট বোন তৃতীয়বারের মত নীতুর চিঠিটা পড়লো নোমান। নিঃশব্দ কান্নায় মোচড়াচ্ছে সারা শরীরটা। নীতুর ডায়েরিটা ও যেদিন আত্মহত্যা করে সেদিনই হাতে তুলে নিয়েছিলো নোমান। কিন্তু মলাট ওল্টাতে পারেনি। বারবার জান্তব কষ্টে ভেঙ্গে পড়েছে ও, কেটেছিঁড়ে গেছে বুকের ভেতরটা আর ঝাপসা হয়ে এসেছে দৃষ্টি। চেয়ারের হাতলের ওপরে রাখা টাওয়েলটা দিয়ে ভেজা চোখদুটো মুছলো নোমান। ধীর পদক্ষেপে রিডিং টেবিলের ওপর রাখা নীতুর নীল ডায়েরিটার দিকে এগিয়ে গেলো। তুলে নিলো হাতে। গভীর করে একটা শ্বাস টেনে নিয়ে উল্টালো মলাট।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জানোয়ার-০৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now