বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জানোয়ার-০৩

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X জানোয়ার - শুভাগত দীপ . পর্ব - ৩ (অধ্যায় ৮-১০) . ৮. নোমানের সমস্যাটা আরো বেড়েছে। এখন বলতে গেলে ঘুম হয়-ই না। আর হলেও বিভৎস সেই স্বপ্নটা বারবার দেখে সে। সেই একই স্বপ্ন - একজন মৃত মানুষের লাশ ছিঁড়ে খাচ্ছে সে, আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছে একটি ছায়ামূর্তি। ক্যানিবালিজম নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি বাদ দিয়ে দিয়েছে নোমান। কিন্তু কোন ফল হচ্ছেনা। ব্যাপারটা বেশ ভালোভাবেই পেয়ে বসেছে এটা বোঝা গেলেও একই স্বপ্ন সে বারবার কেন দেখছে ভেবে পেলোনা। গত রাতেও ঘুমের ওষুধ খেয়ে স্বপ্নহীন একটা ঘুম আনার চেষ্টা করতে হয়েছে ওকে। আজও একটা খেয়ে বিছানায় গড়িয়ে পড়লো। নীতুর ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছে এখন। বোনটা কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছে ইদানীং। তিনবার প্রশ্ন করলে একবার উত্তর দেয়। আচ্ছা, নীতু কি কারো প্রেমে-ট্রেমে পড়েছে নাকি! হ্যাঁ, সে বয়স ওর হয়েছে - ভেবেই লজ্জা পেলো নোমান। বরাবরই দুই ভাই-বোনের সম্পর্ক বন্ধুর মত। কালকে নীতুকে ওর মনমরা থাকার কারন জিজ্ঞেস করতে হবে, ভাবলো নোমান। এসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো সে। সেই ঘুম ভয়াবহ অন্ধকার। ৯. ঘুমের ওষুধের বাড়তি ক্রিয়ায় নোমানের ঘুম ভাঙ্গলো একটু দেরীতে। সকাল এগারোটা বাজে। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই মধ্যবয়সী এক নারীর ভয়াবহ চিৎকার শুনতে পেলো নোমান। চিৎকারটা বেশ অনেকক্ষণ প্রতিধ্বনিত হলো বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে। এক দৌড়ে চিৎকারের উৎসের দিকে চলে গেলো ও। নীতুর রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে হিস্টিরিয়াগ্রস্থ মানুষের মত কাঁপছে বুয়া। বিড়বিড় করছে পাগলের মত। নোমানকে দৌড়ে তার দিকে আসতে দেখেই সে কাঁপাকাঁপা বাম হাতটা তুলে নীতুর ঘরের এপাশের জানালাটার দিকে তর্জনি নির্দেশ করলো। নোমান বুয়াকে আর কিচ্ছু জিজ্ঞেস না করে জানালাটার দিকে তাকালো। ওপাশ থেকে পর্দাটা আধা আধি সরানো। নীতুর রুমে নীলচে আলো জ্বলছে। রুমটা বাড়ির ভেতরদিকে বলে এখানে সূর্যের আলো পৌঁছায়না। আপনা আপনিই যেন নোমানের দুই পা মাটির সাথে গেঁথে যাচ্ছে। পেটের মধ্যেও যেন জীবন্ত কিছু একটা নড়াচড়া করছে। অবচেতন মন ওকে জানান দিচ্ছে - ও যা দেখতে চলেছে তা খুব ভয়াবহ কিছু। নীতুর বিছানার আংশিক দেখা যাচ্ছিলো জানালা দিয়ে। বিছানার ঠিক মাঝ বরাবর কোণাকুণি হয়ে শুয়ে আছে নীতু। ওর দুই হাত দুই দিকে ছড়ানো। বিছানার বাদামী চাদরজুড়ে ছড়িয়ে আছে প্রচুর রক্ত। এতটাই যে, বিছানার মধ্যে শুয়ে থাকা নীতুকে রক্তের পুকুরে ভেসে আছে বলে মনে হচ্ছে। নীলচে আলোয় রক্তের রং দেখাচ্ছে অন্ধকারের মত কালো আর নীতুকে দেখচ্ছে বিমূর্ত কোন অবয়বের মত। নীতুর সারা শরীরে অনাবৃত জায়গাগুলোতে ইতস্ততভাবে ছড়ানো কাটা দাগ। মাথাটা ঈষৎ ঝুলে আছে। চোখদুটো খোলা - একজোড়া মৃত দৃষ্টি নিয়ে। নোমানের পৃথিবীটা হঠাৎ করেই প্রচন্ড দুলে উঠলো। অস্ফুট একটা আর্তনাদ করে জ্ঞান হারালো সে। ১০. পুলিশ এসে কিছুক্ষণ আগে লাশ নিয়ে গেছে পোস্টমর্টেমের জন্য। সিম্পল আত্মহত্যার কেস হয়েও হলোনা এক্ষেত্রে। নীতু মারা গেছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই, যার বেশিরভাগই বেরিয়ে গেছে মেয়েটির বাম হাতের কাটা শিরা দিয়েই। কিন্তু পুলিশ অবাক হয়েছে ওর হাতের ও পায়ের গভীর ক্ষতগুলো দেখে। এগুলো যে সে নিজেই কেটেছে তার ডানহাতে ধরা ব্লেড ও সেই ব্লেডে হাতের আঙ্গুলগুলো ক্ষতবিক্ষত হওয়া দেখে বোঝাই যাচ্ছে। তার সারা দেহ একেবারে ফ্যাকাশে হয়ে গেছিলো রক্তশূন্যতায়। পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর শাহজালাল মিয়া ব্যাপারটা নিয়ে খুবই মাথা খাটাচ্ছেন, কিন্তু কোন কারন খুঁজে পাচ্ছেননা। কেসটার ধরণ বুঝতেই হবে তাঁকে - এমন একটা পণও করে ফেললেন তিনি। নোমান আর বুয়াকে রুটিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় নোমান মূর্তির মত বসে ছিলো। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো সামনের দিকে। আসলে সে নিজের ভেতরে ছিলোনা। আর কর্তব্যরত ইন্সপেক্টর শাহজালালও তাকে খুব বেশি প্রশ্ন করেননি। খবর দেয়া হয়েছে নোমানের বাবাকে। তিনি আমস্টারডাম থেকে পরের ফ্লাইটেই ঢাকা রওনা হয়ে গেছেন। পুলিশ নীতুর রুম চেক করে সন্দেহজনক কিছু পায়নি। তবে নোমান পেয়েছে। একটা চিঠি। চিঠিটার ব্যাপারে নোমান কাউকে কিছু জানায়নি। কারন, ওই চিঠিতে তাকে একটা অলিখিত দায়িত্ব দিয়ে গেছে নীতু। সেটা তাকে পালন করতেই হবে। পরদিন সকালে সোবহান সাহেব আসার পর এয়ারপোর্ট থেকে সোজা মর্গে গেলেন মেয়ের লাশ দেখতে। লাশের মুখের দিকে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন সোবহান সাহেব। মর্গের ওই পূতিগন্ধময় ঘরে বসে মেয়ের লাশ সামনে নিয়ে তিনি অঝোর ধারায় কাঁদলেন। বাসায় এসেও কাঁদলেন। কেঁদে কেঁদে নিজেও প্রায় অসুস্থ্য হয়ে গেলেন তিনি। নিজেকে বারবার দায়ী করতে লাগলেন নীতুর এমন পরিণতির জন্য। বাবার কান্না নোমানকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করলোনা। সে নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছে অন্য এক চিন্তায়। পরদিন বিকেল। এইমাত্র এক কাপ চা আর দুটো সিগারেট শেষ করেছেন সাব ইন্সপেক্টর শাহজালাল মিয়া। শরীরটা বাঁকা করে উর্ধ্বাংশের আড়ষ্টতা দূর করতে যেতেই বেজে উঠলো পকেটের সেলফোন। বাঁকা ভাব থেকে সোজা ভাবে ফিরিয়ে আনলেন নিজের দেহকে। ফোনটা বের করে রিসিভ করলেন। হাবিলদার আসলাম ফোন করেছে। - স্যার, মর্গ থেকে বলছি। - বলো। - স্যার, গতকাল যে মেয়েটা সুইসাইড করেছে তার লাশের ব্যাপারে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আপনাকে আসতে হবে। - কি রকম জটিলতা? - মেয়েটার পিঠ অদ্ভুত, স্যার। সাব ইন্সপেক্টর শাহজালাল আর কোন কথা না বলে কলটা কেটে দিয়েই ঝড়ের বেগে মেডিক্যাল কলেজের দিকে রওনা দিলেন। .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জানোয়ার-০৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now