বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জানোয়ার-০১

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X জানোয়ার - শুভাগত দীপ পর্ব - ১ (অধ্যায় ১-৪) ১. - আমি আপনাকে ঘৃণা করি! - আমি জানি। - জানেন? তারপরো এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? চলে যান! - যাচ্ছি। তবে মনে রেখো, আমি কিন্তু তোমার বাবা। - না। আমার আর কেউ নেই। আপনি এখন যেতে পারেন। বৃদ্ধ লোকটা অনেকটা কুঁজো ভঙ্গিতে সেলের গরাদের সামনে থেকে সরে গেলেন। জেলখানার সেলটার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রুদ্ধ যুবকটা এক দৃষ্টিতে বৃদ্ধের চলে যাওয়া দেখলো। যুবকের সারা মুখ অত্যন্ত কঠিন দেখালেও চোখ দুটো ভেজা। অঝোর ধারায় পানি ঝরছে সেখান থেকে। সেলের বাইরে সটান দাঁড়িয়ে থাকা হাবিলদারটি যুবকের দিকে চোরা চোখে তাকাচ্ছে। হাবিলদারের ভেতরে একটা চাপা আতঙ্ক কাজ করে যুবকটিকে নিয়ে। জলজ্যান্ত একটা হিংস্র জানোয়ারের আশেপাশে থাকলে একজন মানুষের যেমনটা অনুভব করার কথা, হাবিলদার তেমনটাই অনুভব করে। যুবকটি যা ঘটিয়ে এসেছে, সেটা একজন পিশাচের পক্ষেই সম্ভব। অবশ্য হাবিলদারের মনের একটা অংশ যুবকটির পৈশাচিক কর্মকান্ডকে সমর্থনও করে। দেশের শীর্ষস্থানীয় খবরের কাগজগুলোর হেডলাইনে তাকে জানোয়ার হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। একটি প্রতিহিংসা পরায়ণ নরমাংস ভোজী জানোয়ার! ২. দুই বছর আগের এক বিকেল। নীতুর কোচিং থেকে ফিরতে দেরী দেখে নোমান চিন্তিত হয়ে পড়লো। একমাত্র ছোট বোনটি একটুখানি চোখের আড়াল হলেই তার পক্ষে সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যান্য দিন নীতু এত দেরী করেনা। আজ এত দেরী করছে কেন কে জানে! অস্থিরতা সইতে না পেরে নোমান নিজের বাইকটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। নীতু আগামী বছর এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। ছাত্রী হিসেবে সে খুব ভালো না হলেও খারাপ না। পরীক্ষার আর বেশিদিন বাকি নেই। তাই কোচিংয়ে প্রায়ই নানা পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। নোমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় অনার্স ফাইনাল ইয়ারে আছে। রাজনৈতিক ক্যাচালের কারনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। বই পড়ে, মুভি দেখে, কাছের বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে আর বাইক নিয়ে ঘুরে সময় কাটিয়ে দিচ্ছে সে। নিস্তরঙ্গ জীবনে বড়সড় কোন তরঙ্গ একেবারের নেই ওর। নীতু আর নোমান একেবারে পিঠাপিঠি ভাইবোন। মাস তিনেক আগে ওদের মা ক্যান্সারে মারা যাবার পর নীতুর সমস্ত দায়িত্ব একরকম নোমানকেই তুলে নিতে হয়েছে। ওদের বাবা সোবহান সাহেব দেশের নামকরা তিনজন কেমিষ্টের মধ্যে একজন। সঙ্গত কারনেই তাঁকে বেশিরভাগ সময়ই দেশের বাইরে কাটাতে হয়। ছেলেমেয়েকে সময় দেয়া খুব একটা হয়ে ওঠেনা তাঁর পক্ষে। বাবার টাকা আছে, বিশাল বাড়ি আছে, প্রচুর সুযোগসুবিধা আছে। কিন্তু একটা জিনিস নেই। বাবার ভালোবাসা। এই জিনিসটার অভাব নীতু আর নোমান তাদের মা বেঁচে থাকতে অতটা বোধ করেনি। মা মারা যাওয়ার পর বাবা যেন আরো দূরে চলে গেলেন। আগে মাসে অন্তত একবার বাসায় আসতেন, এখন ছয় মাসেও আসেননা। এসব ওদের সহ্য হয়ে গেলেও মনে মনে দুই ভাইবোনই তাদের বাবাকে একরকম ঘৃণাই করে। বাড়ির সমস্ত রান্নাবান্না ও দেখাশোনা করে একজন বুয়া। সে এই বাড়িতেই থাকে। নোমানদের একটা টয়োটা করোল্লা আছে। গাড়ির ড্রাইভারের বাবা হঠাৎ মারা যাওয়ায় সে তার গ্রামে গেছে। নোমান ড্রাইভিং জানেনা। তাই নীতুকে রিক্সা নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে সময় পেলে নোমান বাইকে করে নীতুকে আনা নেওয়া করে। - ভাইয়া! নীতুর কোচিংয়ের সামনে বাইকটা স্ট্যান্ড করে রেখে নোমান একমনে একটা সিগারেট টানছিলো। মিষ্টি কণ্ঠে প্রিয় বোনটার গলার আওয়াজ পেয়ে ওর সৎবিৎ ফিরলো। সে এখন নীতুর কোচিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। নীতু কেবল কোচিংয়ের গেট দিয়ে বের হলো। নোমান বোনের দিকে তাকিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়ার একটা হাসি হাসলো। নীতু এগিয়ে এসে ভাইয়ের কাঁধে ভর দিয়ে বাইকের পেছন সিটে বসলো। গিয়ার দিয়ে পিক আপ টানলো নোমান। অত্যাধুনিক সুযুকি বাইকটা বাতাস কেটে উড়তে লাগলো। নোমানের সাথে বাইকে ঘুরতে নীতু খুবই পছন্দ করে। মাঝে মাঝে নোমানের উচ্চ গতিতে চালানোতেও ও কোন ভয় পায়না, বরং ব্যাপারটা উপভোগই করে। - আজকে এত দেরী করলি কেন? - ভাইয়া, আজ কোচিং শুরু হতেই দেরী হয়ে গেছে। - কেন? - আমাদের একজন নতুন স্যার এসেছেন। উনি সবার সাথে পরিচিত হয়ে পড়ানো শুরু করতে করতেই এক ঘন্টা পার হয়ে গেলো। - আচ্ছা। কিছু খাবি? - একটা সিগারেট খাওয়াবি ভাইয়া? - মারবো এক চড়! - খাওয়ানা ভাইয়া! প্লিজ! তুই তো খাস। আমি মেয়ে বলে কি খেতে নেই? - অন্য কি খাবি বল। - পেস্ট্রি খাওয়া। - আচ্ছা। নোমান একটা কনফেকশনারির সামনে বাইক থামালো। দুই ভাইবোন খুনসুটি করতে করতে দোকানের মধ্যে ঢুকে গেলো। তাদের কেউ-ই জানলোনা খুব কাছ থেকে তাদেরকে এতোক্ষণ অনুসরণ করা হয়েছে এবং এখনো নীতুর ওপর নজর রাখা হচ্ছে। সেই নজরে ফুটে আছে নগ্ন লালসা। ৩. নতুন আসা স্যারটা নীতুর দিকে যেন একটু বেশিই মনোযোগ দিচ্ছে। ক্লাস চলাকালীন কারো কোন সমস্যা জিজ্ঞেস না করলেও নীতুকে বারবার জিজ্ঞেস করছে। ব্যাপারটা ঘটে চলেছে বেশ কয়েকদিন ধরেই। নীতু এটা নিয়ে খুব অস্বস্তিতে আছে। অন্যান্য স্যারদের ক্লাসে ওর এমন অস্বস্তি হয়নাতার বান্ধবীরাও মুখ টিপে একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে হাসাহাসি শুরু করেছে। কোচিং শেষের এক পড়ন্ত বিকেল। নীতু রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। আজ কেন যেন রাস্তায় কোন রিক্সা নেই। হঠাৎ ওর সামনে এসে একটা বাইক হার্ড ব্রেক কষলো। নীতু ভাবলো নোমান এসেছে। কিন্তু না, এসেছে ওদের নতুন স্যার আনান। - নীতু, চলো তোমাকে তোমার বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসি। - না স্যার। আপনি যান। আমি চলে যেতে পারবো। - আরে আসো। আমিও তো ওদিকেই যাবো। প্রবল অস্বস্তি নিয়ে নীতু আনানের বাইকের পেছনে উঠলো। সে মাথা নিচু করে রেখেছে। সেটা না করলে সে বাইকের মিররে দেখতে পেতো, আনান কুকুরের মত শ্বাস টেনে কিসের যেন ঘ্রাণ নেয়ার চেষ্টা করছে। ৪. - নীতু, আজকে নাকি অন্য একটা লোকের বাইকে করে বাসায় এসেছিস? লোকটা কে? - উনি আমাদের সেই নতুন স্যার। রিক্সা পাচ্ছিলামনা, তাই নামিয়ে দিয়ে গেলেন। - রিক্সা না পেলে আমাকে ফোন করতে পারিসনা? - আজকে ফোনটা ফেলে গেছিলাম বাসায়, ভাইয়া। - আচ্ছা। আগামীকাল থেকে আমিই তোকে নিয়ে আসবো। - তাহলে কিন্তু প্রতিদিন আমাকে খাইয়াতে হবে। - এহ! ড্রাইভার সেজে উনাকে আনবো, আবার খাওয়াবো! - খাওয়াবিনা! তুই আমার ভালো ভাইয়া না! - আচ্ছা আচ্ছা! এখন আমাকে এক কাপ চা বানিয়ে খাওয়া। - ওক্কে ভাইয়া। নীতু চা বানাতে যাওয়ার পর নোমানের মনের কোণে একটা চাপা অস্বস্তি দানা বেঁধে উঠলো। হঠাৎ করেই তার যেন কিছুই ভালো লাগছেনা। নোমান অন্যমনস্কতা নিয়ে একটা সিগারেট জ্বালালো। .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জানোয়ার-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now