বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জানি দেখা হবেে-১৪

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Imran khan♥ (০ পয়েন্ট)

X #জানি_দেখা_হবে Imran khan #Part_14 .. - মা, ওকে নিয়ে আসুন। খাবার রেডি। - চল আগে খেয়ে নেই। পরে সব শোনা যাবে। তারা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোধক সম্বোধন জানালো। . সীমা আর আন্টির কাছে সব খোলে বললো তারা। সব শুনে ওরা শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। আন্টি বললো.. - তাহলে তুই প্রেগন্যান্ট? - হু, নিচের দিকে তাকিয়ে বললো তারা। - কতোদিন হয়েছে? - দেড় মাস হবে। - ও কেমন স্বামী? নিজের গর্ভবতী বউকে রেখে আরেকটা বিয়ে করে এনেছে আবার তোমার এই অবস্থায় বের ও করে দিয়েছে। পাশ থেকে সীমা বললো। - উনি তো জনলেন ই না এই বাচ্চার কথা। - সে যাইহোক, চলে এসেছো ভালো করেছো। ওখানে পরে থাকলে ওরা তোমাকে তিলে তিলে মারতো। তারা উদাশ নয়নে উপরের দিকে তাকিয়ে বললো.. - চলে এসেই বা কি করতে পারলাম। না আছে থাকার জায়গা, আর না আছে কাজ করার মতো কোনো ব্যবস্থা। - কেন, এখানে তোর কোনো সমস্যা হবে থাকতে? - কি যে বলেন, আপনাদের এখানে নাহয় কিছুদিন থাকলাম, কিন্তু সবসময় তো থাকতে পারবোনা। - সে পরে দেখা যাবে। এখন অনেক রাত হয়েছে। যা শুয়ে পর। উনার কথায় তারা কিছু বলছে না। আন্টি সীমাকে বললেন, - সীমা, ওকে আশার রুমটা দেখিয়ে দাও তো। ওখানেই থাকুক ও। - আচ্ছা মা। তারাকে নিয়ে সীমা আশার রুমে গেলো। রুমটা ভালো করে দেখছে তারা। গোছালো একটা রুম। দেয়ালের অনেক জায়গাতেই একটা মেয়ের ছবি টানানো। ছবিগুলো দেখছে তারা। সীমা বললো, - ওটাই আশা, আমার একমাত্র ননদী। - খুব সুন্দর। - হ্যাঁ, শুধু সুন্দরই না। অলরাউন্ডার ও বটে। যেমন রাধতে জানে, তেমন খোঁপাও বাঁধতে জানে। তারা হাসলো। সীমা চলে গেলে তারা বিছানায় বসলো। মানুষের ভাগ্যটাই জানি এমন, গতকাল এমন সময় ও হয়তো জানতো না যে, ও আজ এখানে থাকবে। .. - মা, ও মা, কোথায় গেলে? ভাবী কোথায় তোমরা? - কি হয়েছে কি? চিল্লাচ্ছো কেন? - আমার ব্রেকফাস্ট কোথায়? কয়টা বাজে দেখেছো? আমি অফিস যাবো কখন? আকাশের দিকে কপাল কুঁচকে তাকালো সীমা। সীমার এমন তাকানো দেখে আকাশ বললো.. - এভাবে তাকাচ্ছো কেন? - কোনো দুনাম্বারি আছে কিনা বুঝার চেষ্টা করছি। - মানে? - শুক্রবারেও যে অফিস খোলা থাকে সেটা জানতাম না তো। - আজ শুক্রবার? - কি বার মনে হয় তোমার? - ওহ শীট, আমি আরও আমার এতো স্বাধের ঘুমটা ছেড়ে উঠে এলাম। আগে বলোনি কেন? - আমি কি তোমার চাকর? - নাহ, চাকরানি.. - কিহ.. - জানিনা, আমি ঘুমোতে গেলাম। ১২ টার আগে যেনো কেউ না ডাকে আমাকে। - খেয়ে ঘুমাও। - আমার বদলে তুমি খেয়ে নাও। নিজের রুমে যেতে যেতে বললো আকাশ। .. - কে ডাকছিলো এভাবে? - আকাশ। - আন্টির ছোট ছেলে? - হ্যাঁ। কিন্তু তুমি কিচেনে আসলে কেন? যাও রুমে, তোমার রেস্টের প্রয়োজন। - রুমে একা একা বসে থাকতে ভালো লাগেনা । আর রেস্ট কেন নিবো। - বাহ রে, তোমার মাঝে এখন আরেকজন আছে। তোমার কষ্ট হলে তো ওর ও কষ্ট হবে। - কোনো কষ্ট হবেনা ভাবী। আন্টি কোথায় দেখছিনা যে? - মা তো প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হয়। ডায়াবেটিস আছে তো। ডাক্তার বলেছে প্রতিদিন সকাল বিকাল যেনো নিয়ম করে হাটে। - ওহ, আর ভাইয়া কোথায়? - কোন ভাইয়া? - আপনার হাজবেন্ড। - ও ঘুমাচ্ছে। আজ ছুটির দিন তো। .. ধ্রুবর মা একা একা কাজ করে হাপিয়ে গেছে। সেই সকাল থেকে রান্নাবান্না করা, ঘর পরিষ্কার করা, ধোয়ামুছা করতে করতে বেশ ক্লান্ত হয়ে গেছেন উনি। চুলোয় তরকারির পাতিল টা বসিয়ে ডাইনিং স্পেসের একটা চেয়ারে এসে বসে আচলে ঘাম মুছতে লাগলো। ধ্রুব সকালে উঠে বাইরে গিয়েছিলো। বাসায় ফিরে দেখে মা চেয়ারে বসে ঝিমুচ্ছে। বেশ অসুস্থ লাগছে মাকে। মায়ের কাছে গিয়ে মায়ের কাধে হাত রেখে বললো. - মা, মা কি হয়েছে? - কিছু হয়নি। এই একটু ক্লান্ত লাগছে। কাঁপাকাঁপা গলায় বললেন উনি। - তুমি তো অসুস্থ দেখছি। চলো রুমে চলো। মাকে ধরে মায়ের রুমের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলো ধ্রুব। এমন সময় কিছু পুড়ার গন্ধ নাকে এলে ধ্রুব বললো.. - কেমন পোড়া পোড়া গন্ধ আসছে। ধ্রুবর কথায় মায়ের হুস এলে তারাতাড়ি কিচেনে দৌড়ে গেলেন উনি। তরকারিটা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মা তারাতাড়ি করে চুলা টা অফ করে তরকারির পাতিল না নামালেন। ধ্রুবর দিকে হতাশ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন.. . - সবটা পুড়ে গেছে। কি দিয়ে খাওয়াবো এখন সবাইকে। এতো কষ্ট করে রান্না করলাম। - এতো চিন্তা করোনা তো না। আমি বাইরে থেকে খাবার কিনে নিয়ে আসবো। কিন্তু মা, তুমি এতো ঘামছো কেন? - এতোদিন পর রান্না করছি তো। তারা আসার পর তো রান্নাঘরে ঢুকতেই দেয়নি মেয়েটা। নিজেই একা একা সব সামলে নিয়েছে। কিচ্ছু করতে দেয়নি। এতোদিন পর সব করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। মায়ের মুখে তারার কথা শুনে কিছুটা নড়ে উঠলো ধ্রুব। তারাকে তো বের করেই দিয়েছে। কিন্তু কোথায় গিয়েছে সেটা তো জানা হয়নি। একবার খবর নিয়ে দেখা উচিৎ। মা বললো - তোর বউ কখন বলেছিলো এক কাপ চা দেওয়ার জন্য। কিন্তু শরীরে কুলাচ্ছে না। কি যে করি। ধ্রুব অবাক হয়ে বললো.. - তুরিন তোমাকে বলেছে চা করে দেওয়ার জন্য? - বলবেই তো। ওতো আর তারা না যে নিজে করে আমাদের খাওয়াবে। ওতো বড়লোকের বউ। অর্ডার দেওয়াই ওর কর্ম। মা চলে গেলো। ধ্রুবর মেজাজটাই বিগড়ে গেলো । মা বাবার সাথে রাগারাগি করে মানে এই না যে মা বাবাকে দিয়ে কাজ করাবে। অসম্মান করবে ওদের। ধ্রুব নিজের রুমে গেলো। তুরিন পায়ের উপর পা তুলে টিভি দেখছে। ধ্রুব রিমোট টা নিয়ে টিভিটা অফ করে দিলো। তুরিন রেগে গিয়ে বললো.. - কি হলো এটা? দেখছো না আমি টিভি দেখছি? - তুমি কি দেখতে পাও নি মা একা একা রান্নাবান্না করছে? - তো আমি কি করবো? - মাকে একটু সাহায্য করতে পারতে। তা না করে সকাল সকাল টিভি দেখতে বসে গেছো? - এখানে আমি চাকরানির মতো কাজ করতে আসিনি বুঝলে। চিৎকার করে বললো তুরিন। ধ্রুব অবাক হয়ে বললো.. - তুমি আমার সাথে রাগ দেখচ্ছো? আমার সাথে? - হ্যাঁ দেখাচ্ছি। এতো যে মা মা করছো, তোমার মা কতোটা কাজের তা তো দেখেই নিয়েছি। এক ঘন্টা আগে বলেছিলাম চা দিয়ে যেতে, কই এখনো তো দিলোনা। আর দিবেই বা কি করে, কাজে ফাঁকি দিলে কোনো কাজ কি ঠিকমতো হয় নাকি। তুরিনকে একটা সজোরে থাপ্পড় দিলো ধ্রুব। বললো.. - তোমাকে বিয়ে করে এনেছি আমার মাকে দিয়ে কাজ করানোর জন্য না। তোমার সাহস হয় কি করে আমার মাকে হুকুম করার। তুরিন গালে হাত দিয়ে কাঁদছে আর রাগে ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু বলেনি। সব হজম করে গেলো। . ১২ টার দিকে ঘুম ভাংলো আকাশের। ঘুম থেকে উঠেই ওয়াশরুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে। ওয়াশরুমটা ওর রুমের সাথে এটাচ করা। ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িংরুমে এসে সোফায় বসে সীমাকে ডাকলো আকাশ। - ভাবী.. - কি হয়েছে? - খাবার দাও - নামাজে যাবেনা? - খেয়ে তারপর যাবো। খুব খিদে পেয়েছে। - কখন খেয়েছিলে খবর আছে? সেই রাতে খেয়েছিলে। খিদে তো পাবেই। - ধুর, আগে খাবার দাও। - দিচ্ছি। - ভাবী .. - আবার কি? - মা কোথায়? দেখছিনা যে.. - রুমেই আছে। - ওহ... . খাবার খেয়ে মসজিদে চলে গেলো আকাশ। জুম্মার নামাজ বলে কথা। নামাজ শেষে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বিকেলে বাসায় ফিরলো ও। ড্রয়িংরুমে এসেই সোফায় বসে থাকা তারাকে দেখে ওর দিকে সরু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষন। আকাশের এভাবে তাকিয়ে থাকাতে তারা কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থায় পরে গেল। কোনো কথাবার্তা না বলেই তারার পাশে গিয়ে ধপ করে বসে পরলো আকাশ। ডানহাতটা দিয়ে থুতনিতে ভর দিয়ে তারার দিকে কিছুটা ঝুঁকে বসলো আকাশ। অপরিচিত কারো পাশে এভাবে কেউ বসে পরতে পারে সেটা জানা ছিলোনা তারার। আকাশ অপলক ভাবে কিছুক্ষন তারার দিকে তাকিয়ে থেকে তারপর নিজে নিজেই বলতে লাগলো.. - ইশশশ... স্বপ্নে কতো সুন্দর সুন্দর মেয়েরা আমার চোখের সামনে আসে। বাস্তবে কেন আসেনা? আকাশের কথায় কিছুটা অবাক হয়ে গেলো তারা। বললো.. - স্বপ্নে মানে? কি বলছেন আপনি? - হ্যাঁ স্বপ্নই তো। তুমি জানো, আমি প্রায়ই স্বপ্নে দেখি তোমার মতো সুন্দরি মেয়েরা আমার চোখের সামনে বসে থাকে, ঘুরাফেরা করে। আজও তাই হচ্ছে। - কিন্তু আমিতো আপনার স্বপ্ন না, আমি বাস্তব। - তাই? আমি ভাবলাম স্বপ্ন। আসলে আমাদের বাড়িতে আশা আর ভাবীকে ছাড়া সচরাচর কোনো মেয়েকে দেখিনা তো, তাই হজম করতে কষ্ট হচ্ছে। - কি? - এই যে, তোমার মতো একজন মেয়ে আমাদের বাসায়, তাও আমার সামনে বসে আছে। যাইহোক কে তুমি? নাম কি তোমার? - আমি তারা। শান্ত গলায় উত্তর দিলো তারা। - wow, তুমি তারা, আর আমি আকাশ.. কি সুন্দর কম্বিনেশন আমাদের মাঝে তাইনা? - মানে? - কিছুনা। আমাদের বাসায় কার কাছে এসেছো? আকাশের এই কথায় তারা কিছু বললোনা। নিচের দিকে তাকিয়ে আছে ও। আকাশ বললো.. - ওহ বুঝেছি। - কিহ..?? - টপ সিক্রেট, , আমাকে বলা যাবেনা তাইতো? বিনিময়ে তারা মুচকি হাসলো... কিছু বললো না। আকাশ আবারও বললো.. - আকাশের তারা আকাশে জ্বলজ্বল করতে দেখেছি.. কিন্তু আকাশের তারাকে কখনো হাসতে দেখিনি আমি। কিন্তু আজ দেখলাম। আকাশের কথা যতো শুনছে ততোই অবাক হচ্ছে তারা। একটা মানুষ কিভাবে এতো তারাতাড়ি মানুষের সাথে মিশতে পারে? .. রাতে খাবারের সময় ডাইনিং টেবিলে সবাই এক এক করে বসলো। মা বললো.. - সীমা, তারা কোথায়? ও এলোনা যে.. - ও রুমে আছে মা। আমি ডেকে আনছি। - তারা কে? সীমাকে উদ্দেশ্য করে ওর স্বামী আহাদ জিজ্ঞাসা করলো। - ওই আকাশের তারা এখনো আছে আমাদের বাসায়? আমিতো ভাবলাম চলে গেছে। পাশ থেকে আকাশ বলে উঠলো। - আকাশের তারাটা আবার কে? অবাক হয়ে বললো মা। - ওহ মা, ওই মেয়েটা বলেছিলো মেয়েটার নাম তারা। আর তারা কোথায় থাকে? আকাশেই তো থাকে তাইনা? তো আমি ভুলটা বললাম কোথায়? - তুমি কিছু ভুল বলোনি আকাশ। এখন মুখটা অফ করে খাও তো। (সীমা) - বাহ রে, তোমার বরের কারনেই তো আমার মুখটা খোলেছে। তোমার বর যদি কোয়েশ্চন না করত তাহলে আমিও রিপ্লাই করতাম না। সীমা কোনো উত্তর না দিয়ে তারাকে ডাকতে চলে গেলো। সীমা যাওয়ার পর মাকে আহাদ জিজ্ঞাসা করলো.. - মেয়েটা কে মা? মা কিছু বলতে যাবে তখনই দেখলো গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে আসছে তারা। ওদেরকে আস্তে করে বললো.. - ও আসছে। এখন সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করি, পরে সব সীমার কাছ থেকে শুনে নিস। - কিন্তু আমাকে কে বলবে? আমার তো বউ নেই যে আমাকেও পরে সময় করে বলে দিবে। আশাহত দৃষ্টিতে বলে উঠলো আকাশ। মা আকাশের দিকে কিছুটা রাগী চোখে তাকিয়ে বললো.. - এখন কি এই কথাটা বলার জন্য তোকে একটা বউ এনে দিতে হবে? - এই না না.. এটা কখন বললাম। - খাবি তুই? - খাচ্ছি। মুখে ভেংচি কেটে বললো আকাশ... . To be Continued ....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জানি দেখা হবেে-১৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now