বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#জানি_দেখা_হবে
imran khan
#Part_07
.
তুরিনের মা দরজা থেকে বের হতেই তারার সামনে পরলো। তারা এই মাত্রই নিচ থেকে উপরে উঠলো। মা কে সামনে পেয়ে বললো
- মা তুমি? কোথায় ছিলে এতোক্ষন?
- যেখানেই ছিলাম। তোর কাছে বলবো কেন?
- না এমনিতেই জিজ্ঞাসা করলাম। এখানে কখন এলে? ওর সাথে কথা হয়েছে তোমার?
- হ্যাঁ হয়েছে। খুব হয়েছে।
এতোটুকু বলেই চলে গেলো তুরিনের মা। তারা মায়ের চলে যাওয়ার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে রুমে গেলো।
.
ধ্রুব এখনো চোখেমুখে রাগ নিয়ে বসে আছে। তারা রুমে আসতেই রক্তবর্ণ চক্ষু নিয়ে তারার দিকে তাকালো ও। তারা কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে বললো..
- কি হয়েছে আপনার?
ধ্রুব কিছু না বলেই উঠে গিয়ে দরজাটা লক করলো। তারা কিছুই বুঝতে পারছে না। তারা অন্যমনস্ক হয়ে অন্যদিকে তাকালো হটাৎ ই ধ্রুব তারার চুলের মুঠি ধরে টান দিলো। আকস্মিক টানে ব্যাথায় কুকরে গিয়ে বললো..
- কি করছেন আপনি? ব্যথা লাগছে আমার। ছাড়ুন..
- ছলনা করে আমার তুরিনকে আমার কাছ থেকে সরিয়েছিস তাইনা?
- কি বলছেন আপনি?
- বুঝতে পারছিস না কি বলছি? বুঝাচ্ছি দাড়া, বলেই তারার চোখেমুখে দুইটা ঘুষি দিলো ধ্রুব।
চোখের পানিগুলো ছেড়ে দিয়ে তারা বললো..
- আমার লাগছে। কি করছেন আপনি? প্লিজ ছাড়ুন আমাকে।
- কি অপরাধ করেছিলো আমার তুরিন? কেন তোরা বাপ মেয়ে মিলে এমন করলি ওর সাথে? তোর সৎ বোন তাই?
তারা অবাক হয়ে ধ্রুবর দিকে তাকালো। বললো..
- ও আমার সৎ বোন হতে পারে। কিন্তু ওকে আমি নিজের আপন বোনের মতোই জানি। আর আমরা বাপ মেয়ে কি করেছি?
- জানিস না কি করেছিস? পার্লারে নিয়ে গিয়ে ওকে সরিয়ে ওর জায়গায় নিজে বউ সেজে এসেছিস। তোর বাবা তোকে সাহায্য করেছে।
- কে বলেছে আপনাকে এইসব? কাঁদতে কাঁদতে বললো তারা।
- তুরিনের মা বলেছে। বুঝেছিস?
- ভুল বলেছে। আমি বউ সেজে এসেছি শুধু সবার সম্মান রক্ষার জন্য। কারণ তুরিন পালিয়ে গিয়েছিলো সেখান থেকেই। ছলছল চোখে কঠোর কন্ঠে বললো তারা।
.
- সব মিথ্যা। ও তোর সৎ বোন। তাই ওকে নিয়ে মিথ্যা বলছিস। আমি সব জানি। আমার তুরিনকে যদি খোঁজে না পাই তাহলে তোকে আমি ছাড়বোনা জেনে রাখিস। ধ্রুব রুম থেকে বের হয়ে বেলকোনিতে চলে গেলো। তারা সেখানেই হতাশ হয়ে বসে পরলো। কোনোভাবেই চোখের পানি আটকাতে পারছে না ও।
..
- হ্যাঁ বল মা..
- কাজ হচ্ছে কিছু?
- হবে হবে। তোর কথামত সব কিছুই বলে আসছি ওকে। হয়তো এতোক্ষনে কাজ হয়েও গেছে।
- Good মা, ধ্রুবরা অনেক বড়লোক, আমি চাইনা তারা ওখানে রানীর হালে থাকুক।
- তাইতো আগুন লাগালাম ওদের মধ্যে। কিন্তু তুই কেন চলে গেছিলি ওখান থেকে?
- উফফফ মা, আমি যার জান্য পালিয়েছিলাম সেতো আমাকে ফাঁকি দিয়েছে। তবে আমি ভাবতেও পারিনি আমি চলে গেলে ওই তারাকে ওর সাথে বিয়ে করিয়ে দিবে। যেটা আমি মানতে পারছিনা।
- এখন কি করবি তুই?
- সেটা সময় হলেই দেখতে পাবে।
ফোনটা রেখে পিছনে ঘুরলো তুরিনের মা। আচমকাই চমকে গিয়ে বলল..
- তু তুই? এখানে কি করছিস?
- কার সাথে কথা বলছিলে এতোক্ষন?
- মানে? কার সাথে আবার কথা বলবো? আর যার সাথেই বলেছি তোকে কেন বলবো?
- তুরিনের সাথে কথা বলছিলে তাইনা?
- হ্যাঁ বলেছি, তো, কি হয়েছে? আমার মেয়ের সাথে আমি কথা বলেছি, তোর তাতে কি?
চিৎকার করে বলে উঠলো তুরিনের মা।
- কেন আমার সাথে এমন করলে মা? কি ক্ষতি করেছি আমি তোমাদের? কাঁদতে কাঁদতে বললো তারা।
- ন্যাকামি করবিনা। ভালো লাগেনা তোর এইসব ন্যাকামি।
.
তারা কাঁদছে তো কাদছেই। কাঁদতে কাঁদতে বললো..
- সেই ছোটবেলা থেকেই তোমরা মা মেয়ে আমাকে সহ্য করতে পারতে না। তাই তোমাদের মুক্ত করে আমার মামার বাড়ি চলে গেছি। ওখানেই থেকেছি। কখনো বাবার বাড়ি দাবি নিয়ে আসিনি তোমাদের কাছে। তারপরও কেন? কেন এতো বড় ক্ষতি করছো আমার? মা বাবার ভালোবাসা পাইনি। অন্তত স্বামীর বাড়িতে যেনো সুখে থাকতে পারি সেটুকু সুযোগ আমাকে দাও।
- কক্ষনো না। তুই সুখে থাকবি সেটা আমি বেচেঁ থাকতে কখনোই দিবোনা। আর তাছাড়া ওটা আমার মেয়ের প্রাপ্য। ওখানে তো তোকে থাকতে দিবোই না।
- কিন্তু তোমার মেয়েতো ওকে বিয়ে করবেনা বলে পালিয়ে গেছে।
- তো? তো কি হয়েছে? দরকার হয়েছিলো পালিয়ে গিয়েছিলো। এখন আবার আসবে। আর তাছাড়া ধ্রুব তো আমার মেয়েকেই এখনো ভালবাসে। কথাটা বলে শয়তানি হাসি দিয়ে সেখান থেকে চলে এলো ধ্রুবর মা। তারা হতভম্ব হয়ে গেলো মায়ের কথায়। তুরিন আবার আসবে মানে? ও কি আবারও ধ্রুবর জীবনে ফিরে আসবে? তাহলে আমার কি হবে? আমি কি নিয়ে থাকবো? ভাবতে পারছেনা তারা।
.
ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেশ হলো তারা। ফ্রেশ হয়ে রুমে এসেই দেখলো ধ্রুব রেডি হয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে। অবাক হয়ে তারা বললো..
- কোথায় যাচ্ছেন আপনি?
- নিজের বাসায়। অন্যদিকে তাকিয়ে বললো ধ্রুব।
- মানে কি, আমাদের তো আজ যাওয়ার কথা ছিলোনা। কাল যাবো।
- তো যাওনা, না করেছে কে? কাল যাও নয়তো না যাও, আমার কোনো আফসোস নেই। ধ্রুব চলে গেলো। তারা হতাশ হয়ে রুমে গিয়ে নিজের ব্যাগ ও গুছালো। তারপর নিজেও রওনা করলো। নিচে আসতেই বাবা বললো..
- কোথায় যাচ্ছিস মা? জামাইকেও দেখলাম চলে গেলো। বারবার জিজ্ঞাসা করলাম, কোনো উত্তর দিলোনা।
তারা অবাক হয়ে বললো..
- তোমার কথার উত্তর দেয়নি ও?
- নাতো, কেন কি হয়েছে?
- কিছু হয়নি বাবা। আমি চলে যাচ্ছি।
- হটাৎ করে? কি হয়েছে বল মা আমাকে।
- আমার পোড়া কপাল বাবা। আর কিছুই হয়নি।
তারা চলে গেলো। বাবা খানিকটা ভেবে তুরিনের মায়ের কাছে গেলো। তুরিনের মা সোফায় বসে পা দুলাচ্ছে আর মিষ্টি খাচ্ছে। বাবা রেগে গিয়ে বললো..
- বাসায় এতো অঘটন ঘটছে আর তুমি এখানে বসে মিষ্টি খাচ্ছো?
- কি হয়েছে? মিষ্টি খেতে খেতে বললো তুরিনের মা।
- কি হয়নি বলো, জামাই চলে গেছে। তারাও চলে গেছে।
- তো? তো আমি কি করবো?
- তুমি কি করবে মানে? তারা কি তোমার মেয়ে না? ধ্রুব কি তোমার মেয়ের জামাই না? তোমার কি কোনো দায়িত্ব নেই ওদের প্রতি?
- তারা যে আমার মেয়ে না সেটা তুমি ভালো করেই জানো। আর ধ্রুব আমার মেয়ের জামাই হবে কিছুদিন পর।
- মানে?
- ও তুমি বুঝবে না। নাও মিষ্টি খাও। মিষ্টির বাটিটা তুরিনের বাবার দিকে এগিয়ে বললেন উনি। রাগে ফেটে যাচ্ছে তুরিনের বাবা। নিরাশ কন্ঠে বললো..
- তুমি কখনো ওই অভাগী মেয়েটার মা হতে পারলে না।
- ওই অলুক্ষনের মা হতে আমার বয়েই গেছে। মুখে ভেংচি কেটে সেখান থেকে চলে গেলো তুরিনের মা।
..
রাতের ডিনারের শেষে করিডোরে এসে বসলো তারা। ধ্রুব সেই যে এসে ব্যাগ বাসায় রেখে বেরিয়েছিলো, এখনো আসেনি। তারাকে সবাই জেকে ধরেছে কি হয়েছে বলতে কিন্তু ও কাউকেই কিছু বললো না। এড়িয়ে গেলো। রাতের খাবার ও খায়নি। ধ্রুব এলে খাবে বলে।
রাত ১:০০ টায় ধ্রুব বাসায় এলো।
রুমে এসে দেখে তারা এখনো জেগে বসে আছে। ধ্রুবকে দেখেই তারা বললো..
- এতোক্ষন কোথায় ছিলেন?
- জাহান্নামে।
- ফ্রেশ হয়ে আসুন, খাবার দিচ্ছি।
- তুমিই খাও। তোমার ওই অপয়া হাতের খাবার খাওয়ার চেয়ে না খেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।
- আমার সাথে রাগ করে থাকুন সমস্যা নেই। খাবারের উপর রাগ দেখাতে নেই।
- বকবক বন্ধ করবে নাকি আবারও চলে যাবো আমি?
তারা আর কিছু বললো না। ধ্রুব শার্টটা খোলে বেলকোনিতে গিয়ে বসলো। সিগারেট টা বের করে টানতে টানতে ফোনটা বের করলো। তুরিনের নাম্বার টা বের করে সেটাতে বার বার ট্রাই করেও লাভ হলোনা। ফোনটা এখনো বন্ধ পাচ্ছে। চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে চোখের পাতাগুলি এক করলো ও। তারা রুমের এক কোনে বসে আছে আর কাঁদছে। কি এমন ভাগ্য নিয়ে জন্মেছে ও। যেখানেই থাকুক না কেন, দুঃখ তার পিছু ছাড়েনা।
.
To be Continued ...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now