বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#জানি_দেখা_হবে
Imran khan
#Part_21
তারা দুটানায় পরে গেছে। কি করবে বুঝতে পারছেনা ও। সীমা আর মা খুব রেগে আছে ওর উপর। শুধুমাত্র বাসা ছেড়ে চলে যাবে বলে। তারা যখন চিন্তায় মগ্ন তখনই আকাশের আগমন ঘটলো। এইসময় আকাশকে দেখে খুব অবাক হলো তারা। তারা স্বাভাবিকভাবেই বললো.
- অফিস থেকে চলে এলেন যে?
- তোমার কোনো সমস্যা হয়েছে আমি আসাতে?
- তা কেন হবে। এমনিতেই জিজ্ঞাসা করছি।
কিছুক্ষন নিরব রইলো ওরা দুজনেই। তারা বুঝতে পারলো আকাশের মনে কিছু একটা চলছে। কিন্তু কি চলছে সেটা বুঝার চেষ্টা পর্যন্ত করলোনা ও। কিছুক্ষন নিরব থাকার পর তারা রুম থেকে বেরোতে নিলেই আকাশ বললো..
- যেওনা। কথা আছে।
আকাশের কথায় পিছু ফিরে তাকালো তারা। স্বাভাবিকভাবেই বললো
- কি কথা?
- তোমাকে এভাবে অনুরোধ করার পরেও চলে যেতে চাইলে কেন?
- আপনি কিভাবে জানলেন?
- আমার উত্তর টা দাও।
- পরের উপর বোঝা হয়ে থাকতে ইচ্ছা করছেনা।
আকাশ উঠে দাড়ালো তারার কথায়। কিছু একটা বলতে চাইবে তখনই মা ডাকলো তারাকে।
তারা একবার আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো..
- আন্টি ডাকছে। হয়তো জরুরী কিছু। আমি যাচ্ছি এখন।
তারা চলে গেলো। আকাশ সেখানেই দাড়ানো এখনো। কিছুক্ষন দাড়িয়ে থেকে সেও চলে গেলো নিজের রুমে।
..
সন্ধ্যা গড়িয়ে এসেছে। কিছুক্ষন আগে বাসায় ফিরেছে ধ্রুব। মা কিচেনে রান্না নিয়ে ব্যাস্ত। রাতের ট্রেনে সিলেন রওনা করবেন উনার স্বামী। রাতে ভালো কিছু খাইয়ে দিবে নিজের স্বামীকে। আর এতো দুরের জার্নিতে কিছু নাস্তা দিয়ে দিবেন সাথে। ধ্রুব অবশ্য বলেছিলো ফ্লাইটে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি নারাজ। এবার উনি ফ্লাইটেও যাবেন না আর নিজের গাড়িতেও না। একদম ট্রেন জার্নি করার শখ যাকে বলে।
ধ্রুব ফ্রেশ হয়ে এসে হাত মুখ মুচ্ছে তাওয়াল টা দিয়ে। এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠলো। কিচেন থেকে মা বললেন..
- দেখ তো ধ্রুব কে এলো।
- যাচ্ছি মা।
তাওয়াল টা সোফায় ছুড়ে ফেলে দরজা টা খোলতে গেলো ও। কিছুক্ষন কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থেকে তারপর বললো..
- আপনারা?
কিচেন তাওয়ালে হাত মুছতে মুছতে মা বেরিয়ে এসে বললো..
- কে এসেছে?
এতোক্ষনে ধ্রুব দরজার কাছ থেকে চলে এসেছে। তুরিনের বাবা মা ভিতরে ঢুকলে মা বললেন..
- হটাৎ এই অসময় আপনারা এখানে? কি মনে করে?
.
তারার বাবা কিছুটা সংকোচ বোধ করে বললো.
- আমাদের আসাতে হয়ত আপনারা খুশি হননি। কিন্তু ..
শেষ কথাটা বলার আগে ধ্রুবর মা বললো..
- একি বলছেন বিয়াই সাহেব। খুশি হবোনা কেন। ভিতরে আসুন।
তুরিনের বাবা মা ভিতরে এসে সোফায় বসলো। ধ্রুব কপট রাগে নিজের রুমে চলে গেলো। বাবা কিছুক্ষন ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে তারপর ধ্রুবর মাকে বললো..
- ও এভাবে চলে গেলো যে?
- মাত্রই অফিস থেকে ফিরেছে। ক্লান্ত হয়ে আছেতো, তাই।
তুরিনের বাবা একটা লম্বা শ্বাস নিলো। কিছু বললো না। তুরিনের মা কি বলে যে কি শুরু করবে বুঝতে পারছেনা। শেষে অস্থিরতা কাটিয়ে বললো..
- আমার মেয়েটাকে মাফ করে দেন বিয়ান সাহেব। জানি ও যা করেছে অন্যায় করেছে। আমিও ওকে শাষণ না করে ওকে আরও প্রশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু বিশ্বাস করেন, আমার মেয়েটা আর আগের মেয়ে নেই। যেদিন থেক জেনেছে ও প্রেগনেন্ট, সেদিন থেকে ও যেনো নতুন তুরিন হয়ে জন্মেছে। সারাক্ষন কান্নাকাটি করে। জিনিসপত্র ভাংচুর করে। খাওয়া দাওয়া করেনা ঠিকমতো। আপনারাই বলুন, এই অবস্থায় এমন করলে হয়?
..
ধ্রুবর মা কিছুটা চিন্তিত হয়ে বললো..
- ওর শরীর কেমন এখন?
- ভালোনা।
ধ্রুবর মা উঠে বললেন.
- আপনারা বসুন, আমি আসছি। ধ্রুবর রুমে গেলো মা। খাটের একপাশে পা ফ্লোরে স্পর্শ করে বসে আছে ধ্রুব। মা বললেন..
- একটু আয় তো বাবা।
ধ্রুব কপাল কুঁচকে বললো..
- কেন?
- রেগে থাকিস না বাবা প্লিজ। আয় আমার সাথে। ধ্রুব আর কথা বাড়ালোনা। মায়ের পিছু পিছু গিয়ে সোফায় বসলো মায়ের পাশে।
তুরিনের বাবা মা দুজনই নিরব। ধ্রুব একপাশে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললো..
- আমাকে কেন ডাকা হয়েছে এখানে?
- বাবা, তুমি আমার মেয়েটাকে ফিরিয়ে আনো। এতো বড় শাস্তি দিওনা ওকে। মেয়েটা আমার মরেই যাবে। আকুতি করে বললেন তুরিনের বাবা। ধ্রুব কিছু বলার আগেই ধ্রুবর মা বললো..
.
- শাস্তি মানে?
- ধ্রুব তুরিনকে ডিভোর্স পেপার পাঠিয়েছে।
- কিহহ!! অবাক হয়ে তাকালো ধ্রুবর দিকে। ধ্রুব নিশ্চুপ। মা অবাক হয়ে বললেন..
- এসব কখন করলি ধ্রুব? আমাদের তো জানাস নি।
- ও আমাকে জালাচ্ছিলো। বার বার মানা করা স্বত্বেও আমাকে ফোন করে বিরক্ত করছলো।
- যা হয়েছে সেটা ভুলে যা বাবা। মেয়েটাকে নিয়ে আয়। আর তাছাড়া ও এখন গর্ভবতী। মা হতে যাচ্ছে বেচারি।
ধ্রুব এবার রেগে গেলো। বললো..
- গর্ভবতী? গর্ভবতী তো তারাও ছিলো। কিন্তু তারাকে তো বাড়িছাড়া হতে হয়েছে এই মেয়েটার জন্যই। বিনা কারনে তারাকে শাস্তি দিয়েছে ও। এখন ওর পাপের শাস্তি ওকে পেতেই হবে।
- প্লিজ বাবা একটু বুঝার চেষ্টা কর। তারাকে হারিয়ে আমরা কষ্ট পাচ্ছি। ও তারার সাথে অন্যায় করেছে। কিন্তু তাও বলছি ওকে নিয়ে আয়। তারাকে নাহয় আমরা সবাই মিলে খোজবো।
- না মা, তারাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি আমি। ওর প্রতি অবিচার করেছি। ওকে আমি খোঁজে বের করবোই। ওর সাথে একদিন না একদিন আমার দেখা হবেই। তুরিনকে আমি কখনো ফিরিয়ে আনবো না। ও পরে থাকুক ওর মতো।
- আর তোর বাচ্চা??
মায়ের মুখে নিজের বাচ্চার কথা শুনে মায়ের দিকে তাকালো হতাশ চোখে। তুরিন কে না মেনে নিলে যে ওর বাচ্চাটাকে বঞ্চিত করা হবে। নিজের বাচ্চার সাথে অন্যায় করা হবে। একজনকে শাস্তি দিতে গিয়ে নিজের বাচ্চার সাথে অন্যায়,,, বাচ্চাকে বাবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করে, সেটা কি মোটেও ঠিক হবে? ভাবতে পারছেনা ধ্রুব। মাথাটা ব্যথা শুরু হলো ওর। সবাই ধ্রুবর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। ধ্রুব বললো..
- আমি পরে ভেবে দেখবো । ধ্রুব চলে গেলো নিজের রুমে।
ধ্রুবর মা ওদেরকে আশ্বাস দিলে ওরাওঁ চলে গেলো বাসায়।
..
বাবাকে সিলেটের ট্রেনে তুলে দিয়ে এইমাত্র বাসায় ফিরেছে ধ্রুব। অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় না খেয়েই শুয়ে পরলো ও। যদিও খিদে পেয়েছে। কিন্তু মনের মধ্যে কিছু একটা ধ্রুবকে শান্তি দিচ্ছেনা। যখনই মনে হচ্ছে ওর বাচ্চা তুরিনের পেটে, তখনই ইচ্ছে করছে তুরিনকে নিয়ে আসুক.. আবার যখনই মনে হচ্ছে তারাকে ও অনেক কষ্ট দিয়েছে। ওকে ফিরে পেয়ে বাসায় আনলে আবারও কষ্ট দিতে পারে তুরিন ওকে, তখনই অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে ধ্রুব। কি করবে হিসেব মিলাতে পারছেনা ও।
রাত ১১:৩০
ছাদে পায়চারি করছে তারা। আকাশকে নিয়ে ভাবছে তারা। যতই ভাবছে ততোই যেনো আকাশের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে ও। আকাশের মুখটা বার বার ভেসে আসছে ওর মনের মধ্যে। কারনটা অজানা। ইদানীং আকাশের বলা কথাগুলো তারার মনে বেশ দাগ কাটে। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়না। মনটা যে ওর পাথর হয়ে গেছে।
.
অনেক সুযোগ খোঁজার পরেও তারার সাথে কথা বলার সুযোগ পায়নি আকাশ। রাতে খাবার পরে যখন তারার রুমে গেলো তখন তারাকে রুমে পেলোনা ও। ভাবলো ওয়াশরুমে হয়তো গেছে। ছাদে যাবেনা এটা সে নিশ্চিত। কারণ, আকাশটা আজ মেঘাচ্ছন্ন। যেকোনো সময় বৃষ্টি নামতে পারে। তাছাড়া, আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণ ঝড়ো বাতাস বইছে বাইরে। এই অবস্থায় আর যাইহোক, ছাদে যাবেনা ও। এটা ভেবে কিছুক্ষন অপেক্ষা করলো তারার জন্য। অনেক্ষণ পেরিয়ে গেলেও যখন তারার হুদিশ পেলোনা, তখন ভাবলো একবার ছাদে দেখা যাক। তারার মন বুঝা বড় দায়। যেতেও পারে। ধীরে ধীরে সেও ছাদে গেলো। ছাদের এক কোনায় পাথরের মতো দাড়িয়ে আছে তারা। তারাকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে সেও কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকলো। অনেক কিছু ভাবলো আকাশ। এ মেয়েটাকে ছাড়া চলবেনা ওর। যেভাবেই হোক, ওকে ও নিজের করে নিবেই। আস্তে আস্তে তারার দিকে এগিয়ে গেলো ও। তারার থেকে সামান্য দূরত্ব রেখে ওর পিছনে দাড়ালো আকাশ। তারা এখনো আগের মতোই দাড়িয়ে আছে। আকাশ শুধু পিছন থেকে তারাকে দেখছে। কেন যেনো তারাকে ডাকতে মন চাইছেনা। এভাবে তারার দাড়িয়ে থাকাটা বেশ ভালোই লাগছে ওর কাছে।
মেঘলা আকাশ, ঝিরিঝিরি বাতাশ.. এইরকম ওয়েদার বরাবরই আকাশের বেশ পছন্দ। সাথে যদি পছন্দের মানুষটা থাকে তাহলে তো কথায় নেই।
হটাৎ ই বাতাশের বেগ বাড়তে লাগলো। ফোটা ফোটা বৃষ্টি পরতে শুরু করল। তারা একটু নড়েচড়ে উঠলো। এতো রাতে ছাদে তাও এইরকম আবহাওয়ায়। ভাবতেই ভয়ে গায়ে কাটা দিয়ে উঠলো। গভীর ভাবে চিন্তায় থাকার কারণে এতোটা রাত হয়ে গেছে সেটা তার মাথাতেই আসেনি। এক্ষুনি রুমে চলে যাবে এইরকম কিছু একটা ভাবতেই ছাদের কার্নিশে ধুম করে একটা শব্দ হলো। ভয়ে জমে গেলো তারা। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শব্দটা আবারও হলো। এবার যেনো শব্দটা আর থামছেই না। ভয়ে গলা শুকিয়ে কাট হয়ে গেলো তারার। হটাৎ ই বাজ পড়ায় চিৎকার করে পিছনে ফিরলো তারা। ফিরতেই দেখলো আকাশ দাড়িয়ে আছে। ভয়ের চোটে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আকাশকে জাপটে ধরলো তারা। আচমকা আকাশকে এভাবে জড়িয়ে ধরায় কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো আকাশ। তারা এখনো গুটিসুটি হয়ে আকাশের বুকে জড়িয়ে আছে, দুহাত দিয়ে আকাশকে আরো শক্ত করে ধরার চেষ্টা করছে ও। আর চোখগুলো খিচে বন্ধ করে আছে।
আকাশ কিছুক্ষন তারার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে মুচকি হাসলো। ওর বুকে তারা, ভাবতেই প্রাণটা জুড়িয়ে গেলো আকাশের। এই মুহুর্তে ওর কাছে মনে হচ্ছে এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষটা হয়তো ও নিজেই। তারার মুখের দিকে তাকিয়ে পরম আবেশে বললো..
- ভয় নেই তোমার তারা। আমি আছিতো তোমার কাছে। তারপর নিজেও যথেষ্ট যত্নসহকারে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরলো তারাকে।
.
To be Continued ....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now