বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জানি দেখা হবে-১৮

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Imran khan♥ (০ পয়েন্ট)

X #জানি_দেখা_হবে Imran khan #Part_18 ... কেবিনে শিফট করা হয়েছে তারাকে। বিছানায় হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে তারা। মুখটা মলিন হয়ে আছে ওর। কি যেনো ভাবছে। ধীরপায়ে ওর দিকে এগিয়ে আসছে আকাশ। পায়ের শব্দে সামনে তাকালো তারা। আকাশকে দেখে একটা জোরালো হাসি দিয়ে উঠ বসলো ও। আকাশ বললো.. - উঠো না প্লিজ। এমনিতেই তুমি অসুস্থ। - ও কিছুনা। আমি ঠিক হয়ে গেছি। ভাঙ্গা কন্ঠে বললো তারা। পাশ থেকে চেয়ারটা টেনে বসলো আকাশ। আকাশের মুখটাও ঘন মেঘে ঢাকা। কাঁপাকাঁপা কন্ঠে আকাশ বললো - আজ আমার জন্য তোমার এই অবস্থা। আমার কারনেই তোমার এতোবড় ক্ষতি হয়ে গেলো। তারা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো.. - কি যে বলেন, ক্ষতি করতে যাবেন কেন? বরং আপনি আমার উপকারই করেছেন। - উপকার করেছি?? তোমার বাচ্চাটাকে মেরে ফেলেছি আমি আর তুমি কিনা বলছো উপকার করেছি? অবাক হয়ে বললো আকাশ। তারা বললো - আপনি মারতে যাবেন কেন? আমিই তো অসাবধান ছিলাম। আর তাছাড়া ও বেচেঁ থাকলে কিবা পরিচয়ে বড় হতো ও? বাবার কথা জিজ্ঞাসা করলে কি উত্তর দিতাম ওকে? মিথ্যা বলতাম? মিথ্যা বলাটা কি খুব ভালো হতো? তারচেয়ে এটাই ভালো হয়েছে। আকাশ কিছু বললো না। তারার চোখের দিকে তাকালো আকাশ। চোখদুটো ছলছল করছে ওর। সে চোখের পানিগুলো মুছে দিতে খুব ইচ্ছা করছে আকাশের। কিন্তু পারছেনা। . সারাদিন অনেক খোঁজাখুঁজি করে এই মাত্র বাসায় ফিরেছে ধ্রুব। কোথায় খুজেঁ পায়নি তারাকে। খুজতে খুজতে বেশ ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে ও। তাই ড্রেস চেঞ্জ না করেই সোফায় বসে পরলো হাত পা ছড়িয়ে। মা নিজের ঘরে ছিলো। ধ্রুবর আসার শব্দে বাইরে বেরিয়ে এলেন উনি। ধ্রুবকে এমন ছন্নছাড়া অবস্থায় দেখে বুকটা ফেটে যাচ্ছে উনার। তারার চিন্তায় ঠিকমতো খায়না ছেলেটা। মা ধ্রুবর কাছে গিয়ে ওর পাশে গিয়ে বসলো। মাকে দেখে বললো - তুমি কেন উঠে আসতে গেলে মা? মা এই কথার কোনো উত্তর না দিয়ে বললো.. - তারার কোনো খবর পেলি বাবা? - নাহ! একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো ধ্রুব। - হাত মুখ ধুয়ে আয়। ভাত খাবি। - খিদে নেই মা। তুমি খেয়েছো? - না খাইনি। আর খাবোওনা। বেশ রেগে গিয়ে ছেলেকে বললেন উনি। - রাগছো কেন মা? আর কতো রাত হয়ে গেছে এখনও খাওনি কেন? - জানিনা কেন খাইনি। আর তুই না খেলে এখন থেকে আমিও খাবোনা। আমার চোখের সামনে তুই এভাবে কষ্টে থাকবি আর আমি তা দেখেও বসে বসে খাবো, এটা হবেনা। এটা আমি পারবোনা। বলতে বলতে কেদে দিলেন মা। . ধ্রুব এক হাত দিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে বললো.. - এইরকম বলছো কেন মা? আর আমি কষ্টে আছি কোথায়? এটা কোনো কষ্টই না মা। এর চেয়ে বেশি কষ্ট আমি তারাকে দিয়েছি যে। ছলছল করছে ধ্রুবর চোখ। মা ছেলের চোখদুটো আচলে মুছতে মুছতে বললেন.. - তুই যা করেছিলি ভুল করেছিলি। তাই বলে এভাবে কষ্ট করবি। তুই তো নিজের ভুল বুঝেছিস বাবা। - ভুল বুঝেই বা কি করলাম মা। ওকে তো পাচ্ছিনা। কতো করে খোজছি , কতো জায়গায় খুঁজছি, কিন্তু সব জায়গাতেই ব্যর্থ হচ্ছি আমি। - বাবারে, কেউ হারিয়ে গেলে তাকে খোঁজে বের করা সহজ.. কিন্তু কেউ যদি নিজেই হারিয়ে থাকতে চায়,,, তাকে খোঁজে বের করা অনেক কঠিন। . ধ্রুব মায়ের দিকে তাকালো। মায়ের চোখেমুখে হাহাকার ভেসে আসছে। মুখটা মলিন হয়ে আছে মায়ের। না খেয়ে থাকার চিহ্ন ভেসে উঠেছে মায়ের মুখে। তাই মুখে হালকা হাসির রেখা টেনে মাকে বললো.. - এখন এইসব বাদ দাও মা। খুব খিদে পেয়েছে। চলো খাবো একসাথে। - চল বাবা। - বাবা কোথায় মা? - তোর বাবার শরীরটা ভালো লাগছেনা। তাই ঘুমিয়ে গেছে অনেক আগেই - কি হয়েছে বাবার? - বয়স হচ্ছে, কত কিছুই তো হবে এখন। .. তারাকে বাসায় আনা হয়েছে কিছুক্ষন আগে। খুব আলতো ভাবে ধরে ধীরে ধীরে তারাকে নিয়ে বাসায় ঢুকলো আকাশ। তারাকে আনতে মাও হসপিটালে যেতে চেয়েছিলো। কিন্তু আকাশ মানা করেছে। ওই আনতে পারবে। তাই মা আর যায়নি। তারাকে নিয়ে বাসায় ঢুকার সাথে সাথে আশা চিৎকার করে বললো.. - তারাপু, চলে এসেছো। তারা মুচকি হেসে সামনে এগুলো। বললো.. - হ্যাঁ বোন। - খুব ভালো হয়েছে। এই কয়টা দিন বাসায় বোর হচ্ছিলাম। তুমি ছিলেনা তাই। - আশা, মেয়েটা মাত্র এলো। আর তুই গল্প করা শুরু করলি। আগে ওকে বসতে দে। উপর থেকে বললো আকাশের মা। আশা আর আকাশ মিলে ধরে আস্তে করে সোফায় বসালো তারাকে। তারা বসতে পেরে যেনো বাচলো। এতোক্ষন খুব কষ্ট হচ্ছিলো। আকাশ আশাকে উদ্দেশ্য করে বললো.. - ওর জন্য এক কাপ কফি নিয়ে আয়। - না না, আমি এখন কফি খাবোনা । বাধা দিয়ে বললো তারা। - কি খাবে তাহলে? চা খাবে? তারা হাসলো। বললো.. - এখন কিছুই খাবোনা আমি। - আচ্ছা ঠিকআছে, যখন খেতে ইচ্ছা করবে ভাবীকে নয়তো আশাকে বলো। - আচ্ছা। .. রাতের খাবার খেয়ে সবাই ড্রয়িংরুমে বসে টিভি দেখছে। শুধু আকাশ ছটফট করছে। তারা রুমে কি করছে খুব জানতে ইচ্ছা করছে ওর। কিন্তু জানতে হলে তো ওর রুমে যেতে হবে। আর এখন সবার সামনে, স্পেশাল্লি মায়ের সামনে দিয়ে ওর রুমে যাওয়াটা ভালো দেখায় না। কি না কি ভাবে। যতোই সময় যাচ্ছে ওর ছটফট শুধু বাড়ছে। কি করবে বুঝতে পারছেনা ও। বারবার তারার রুমের দিকে চোখ যাচ্ছে ওর। ব্যাপারটা সীমা বুঝতে পেরে বললো.. - এমন করছো কেন আকাশ? কিছু হয়েছে? সীমার কথায় কিছুটা চমকে গিয়ে আকাশ বললো.. - কই, নাতো। আমার আবার কি হবে? সীমা কিছুটা আন্দাজ করতে পেরে বললো.. - আকাশ.. - হ্যাঁ ভাবী বলো। - বলছিলাম কি, আমরা সবাই তো এখানে,, ওদিকে অসুস্থ হয়ে পরে আছে তারা। একটু দেখে আসো তো ও কি করছে? কিছু লাগবে কিনা? কথাটা বলেই আকাশকে একটা চোখ মারলো সীমা। আকাশ একটা হিমালয় জয় করা হাসি দিয়ে বললো.. - এক্ষুনি যাচ্ছি ভাবী। . - তোর কষ্ট করে যেতে হবেনা। আমিই যাচ্ছি তারাপুর আছে। টিভি দেখা রেখে বললো আশা। মুহুর্তেই আকাশের হাসিমুখটা ঘন মেঘে ঢেকে গেলো। হতাশ চোখে সীমার দিকে তাকালো। সীমা কি যেনো ভেবে বললো.. - তোর যেতে হবেনা আশা। তুই গেলে তোর পছন্দের সিরিয়ালটা মিস করবি। - হ্যাঁ ঠিকই তো বলছে ভাবী। তোর যাওয়ার দরকার নেই। তুই বরং সিরিয়াল দেখ। - হোক মিস, মিস হলে পরে নেটে দেখে নিবো। আর তাছাড়া, তুই ছেলে মানুষ, আপুর কিছু লাগলে তোকে তো লজ্জায় কিছু বলবেই না। - আশা তো ঠিকই বলছে আকাশ। ওই যাক, তোর যেয়ে কাজ নেই। টিভির দিকে তাকিয়েই মা বললেন। আশা চলে গেলো তারার রুমে। আকাশ আশাহত চোখে সীমার দিকে তাকালো। সীমা ইঙ্গিতে বুঝালো ওর কিছু করার নেই। . সীমার দিক থেকে চোখ সরিয়ে আশার যাওয়ার দিকে তাকালো আকাশ। ইচ্ছে করছে এখনই গিয়ে আশার মাথাটা ফাটিয়ে দেক, নয়তো নিজের মাথায় নিজেই হাতুড়ি পিটা করুক। তারার রুমে ঢুকে আশা দেখলো তারা চোখ বন্ধ করে বিছানায় হেলান দিয়ে শুয়ে আছে। চোখগুলো বন্ধ থাকলেও চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পরছে ওর। আশা বেশ বুঝতে পারলো ও কাঁদছে। এই মুহুর্তে আশা কি করবে বুঝতে পারছেনা। তাই আবারও নিচে ব্যাক করলো ও। আশাকে চলে আসতে দেখে আকাশ খানিকটা রাগী স্বরে বললো.. - চলে আসলি কেন? ওকে দেখা হয়ে গেছে? - তারাপু কাঁদছে। - কাঁদছে! অবাক হয়ে বললো আকাশ.. - ওমা সেকি, কাদছে কেন? (সীমা) - কেন কাঁদছে সেটা আমি কি জানি। - চলোতো আকাশ, দেখে আসি, ও কেন কাঁদছে? - হ্যাঁ ভাবী চলো। .. উপরে গিয়ে রুমে ঢুকার মুহুর্তেই আকাশের কানে ধরে টানলো সীমা। আকাশ ব্যথায় ওউ করতে লাগলে সীমা বললো.. - কতোদিন ধরে চলছে এইসব ? - কোনসব? না জানার ভান করে বললো আকাশ। - এইজে, তারাকে লাইন মারা। - কি বলছো ভাবী? তারাকে লাইন মারবো? তাও আমি? এই নানা, আমি এইসব করতেই পারিনা। - তাহলে তখন এইভাবে কিচিরমিচির করছিলে কেন? - কিচিরমিচির তো মানুষে করেনা, পাখি করে। - ফাইজলামো রাখো। ঠিক করে বলো, - কি বলবো? - তারাকে ভালোবাসিস? সীমার এমন কথায় আকাশ কিছুটা লজ্জা পেলেও বললো.. - ভালোলাগে ওকে। - ভীষণ? - হুম। . সীমা আগেই কিছুটা আন্দাজ করেছিলো আকাশের হাবভাব দেখে। তারাকেও তার ভীষণ ভালো লাগে। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। আকাশ খেয়াল করলো সীমা কি যেনো ভাবছে। তাই বললো.. - কি এতো ভাবছো ভাবী? আকাশের ডাকে ঘোর ভাংলো সীমার। বললো.. - তারা খুব ভালো একটা মেয়ে। ওকে আমারও খুব ভালো লাগে। কিন্তু ও যে বিবাহিত। - সে বিয়ের কোনো ভিত্তি নেই ভাবী। আর ওর সেই তথাকথিত হাজবেন্ড তো আরেকটা বিয়ে করে সুখেই আছে। তা নাহলে তো ওকে আর এভাবে বের করে দিতোনা তাইনা? - সে যাইহোক, এটা সহজ বিষয় না। যেভাবেই হোক, বিয়েটা তো হয়েছে। আর তাছাড়া ওর উপর দিয়ে যা ঝড় বয়ে যাচ্ছে, এইসবের পরে কি ও আবারও তোকে বিয়ে করতে রাজি হবে? - বিয়েটা অনেক পরের কথা ভাবী। আগে ওকে রাজী করানোটাই ফ্যাক্ট। যাইহোক, আগে ভিতরে চলো। দেখি ও কি করছে। - হুম চলো। . To be Continued .....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জানি দেখা হবে-১৮

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now