বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#জানি_দেখা_হবে
Imran khan
#Part_16
..
মা ধ্রুবর দিকে তাকালো। ধ্রুবর চোখদুটো ছলছল করছে পানিতে। দেরিতে হলেও এই প্রথম ধ্রুবর চোখে তারার জন্য কিছু দেখতে পাচ্ছে মা।
দিন গড়িয়ে যাচ্ছে। তারা এখনো আকাশদের বাসাতেই আছে। যদিও সে একবার বলেছিলো আলাদা বাসায় ভাড়া থাকতে, কিন্তু আকাশের মা সহ বাকিরা দেয়নি। কিছুদিন আগে আশাও এসেছিলো। তারার সাথে খুব ভাব জমিয়ে গেছে।
..
সন্ধ্যাবেলা,
তারা ছাদের এক কোনায় বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখের কোনে পানি জমে আছে তার। মনে তার হাজারো প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে। সারাটা জীবন কিভাবে পার করবে সে? ওর সন্তান যখন ওর বাবার পরিচয় জানতে চাইবে তখন কি জবাব দিবে নিজের সন্তানকে? জবাব দেওয়ার মতো আদৌ কি কোনো ভাষা থাকবে তখন? ও বাসার মানুষ যদি কখনো এই সন্তানের কথা জানতে পারে, তারা কি মেনে নিবে ওকে? কিভাবে মানবে? ওরা তো জানেই না ওর কথা।
এইরকম হাজার প্রশ্নের ভান্ডার মনের মাঝে চেপে বসে আছে তারা।
- এই সন্ধ্যাবেলায় এখানে বসে কি করছো?
আকাশের প্রশ্নে ধ্যান ভাংলো তারার। মুচকি হাসি দিয়ে বললো..
- আপনি কখন এলেন?
- মাত্রই। তোমাকে পেলাম না, মা বললো ছাদে আছো। তাই এখানেই চলে এলাম।
- আচ্ছা..
- কি আচ্ছা?
- কিছুনা।
- তুমি কি এতো ভাবো বলোতো?
- কেন? কিছু ভাবিনা তো।
- এই আকাশের চোখ থেকে ফাকি দেওয়া অসম্ভব। তবে আমি জানি তুমি কি ভাবো।
- কি জানেন আপনি?
- তুমি তোমার ওই খলনায়ক কে ভাবো।
- খলনায়ক কে?
- তোমার স্বামী।
স্বামীর কথা শুনে কিছুক্ষন চুপ থাকলো তারা। আকাশ বললো..
- চাচ্ছিলাম মুড অন করতে, দূর্ভাগ্যবশতঃ হয়ে গেলো মুফ অফ। কি যে করি..
- কিছু করতে হবেনা আপনাকে।
- তুমি কখনো প্রেম করেছো?
আকাশের কথায় হাসলো তারা। বললো..
- তার আর সুযোগ পেলাম কোথায়,, এইসবের আগেই তো বিয়ে হয়ে গেলো। যদিও আমার বিয়েটা একটা দুর্ঘটনা ছিলো।
- শখ আছে প্রেম করার? শখ থাকলে আমার সাথে করতে পারো।
তারা কপাল কুঁচকে তাকালো আকাশের দিকে। আকাশ জোরে হেসে দিয়ে বললো..
- আহ, ভয় পাচ্ছো কেন। প্রেমইতো করবে। আর কিছুতো না।
- আপনি প্রেম করেছেন?
- অনেক।
- অনেক মানে?
- মানে, যাকে যখন ভাললেগেছে প্রপোজ করেছি। যারা এক্সেপ্ট করেছে তাদের সাথেই কিছুদিন প্রেম করেছি। আর যারা এক্সেপ্ট করেনি, তাদের পিছু সহজে ছাড়িনি।
- বাহ, আপনি তো দেখছি সেই প্রেমিক পুরুষ।
- হ্যাঁ ..খুব। প্রেম করতে আমার খুব ভালোলাগে। তবে এখন আর করতে পারিনা। অফিসে যেতে হয়।
.
- খুব দুঃখ?
- এতোদিন দুঃখ ছিলো। তোমাকে দেখে ভেবেছিলাম তোমার সাথেও প্রেম করবো। কিন্তু ..
- কিন্তু কি? আমি বিবাহিত বলে?. আমি প্রেগন্যান্ট বলে?
- আরে নাহ।
- তাহলে?
- ভাবছি, তোমার বাবুটা হয়ে গেলে তারপর প্রেম করবো তোমার সাথে।
আকাশের কথায় কি বলবে কিছু বুঝতে পারছেনা তারা। তবে এটা বেশ বুঝতে পারছে যে ওর মনে কোনো খাদ নেই।
.
তুরিন ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে চলে গেলো। ও চলে যেতেই ধ্রুব ওর ফোনটা হাতে নিলো। ইদানিং তুরিনকে বেশ সন্দেহ হয় ধ্রুবর কাছে। কি করে এতো ফোনে। আর ওর ফোনটা ধ্রুবর কাছ থেকেও বেশ দুরে দুরে রাখে। কেন সেটা বুঝতে পারেনা ধ্রুব। লকটা পর্যন্ত জানা ছিলোনা ধ্রুবর। সেদিন লুকিয়ে দেখেছিলো কিভাবে লক টা খোলতে হয়।
ধ্রুব ফোনের লকটা খোলে গ্যালারিতে ঢুকলো। কিছুই পেলোনা। মেসেজে গিয়েও চেক করলো। সেখানেও কিছু নেই। শেষমেষ মেসেঞ্জারে গিয়েই চোখ আটকে গেলো একটা পার্টিসিপেট এ । আইডিটার নাম "Nmd Tushar Khan". মেসেজটা ওপেন করতেই বাজ পরলো ধ্রুবর মাথায়। প্রথম থেকে দেখতে লাগলো মেসেজগুলো .. যতোই দেখছে ততোই রক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে ওর। এক এক করে সবগুলো মেসেজ চেক করলো ধ্রুব। ধ্রুবকে যে ঠকানো হচ্ছে সেটা স্পষ্ট বুঝে গেছে ও। একটা মেসেজ দেখে চোখগুলো রক্তবর্ণ হয়ে গেলো ধ্রবর।
।
মেসেজে লেখা আছে,
"খুব শীঘ্রই ধ্রুবদের সমস্ত সম্পদ হাতিয়ে তোমার কাছে চলে আসবো।"
"কিভাবে কি করবে? "
"উকিলের সাথে আলাপ করেছি। উনাকে বলেছি সমস্ত ডকুমেন্ট তৈরি করতে। খুব শীঘ্রই ডকুমেন্ট গুলো চলে আসবে আমার কাছে। "
"কিন্তু ডকুমেন্ট হলেই তো হবেনা। সাইন করাতে হবেতো তাতে। ওরা কি সহজে কাজটা করে দিবে?
"সমস্যা তো একটু হবেই। ধ্রুবর নামে হলে তো সমস্যা হতোনা। ছলে বলে করিয়ে নিতাম। কিন্তু ওর বাবার নামে সবকিছু। সমস্যা নেই। আগে ডকুমেন্ট গুলো আসোক আমার হাতে.. পরে দুধের সাথে কিছু একটা মিশিয়ে সাইন করিয়ে নিবো।
" আচ্ছা সাবধানে সবকিছু করো। সবকিছু যেনো ঠিকঠাকভাবে হয়। ভুলে যেয়োনা, সম্পদগুলি আমার নামে করে দিতে পারলেই তোমাকে গ্রহণ করবো। তা নাহলে আমার জীবনে তোমার কোনো অস্তিত্বই থাকবেনা।
..
ধ্রুব ফোনটা হাতে নিয়েই দাড়িয়ে আছে। যেই তুরিনকে সে এতোটা ভালোবাসে, সে তুরিনই কিনা তার সাথে ভালোবাসার নামে এতো বড় ছলনা করছে? ছিঃ ভাবতেও পারছেনা ধ্রুব। কিভাবে একটা মানুষ এতো জঘন্য হয়।
ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে ধ্রুবকে দেখে চমকে গেলো তুরিন। কারণ ওর হাতে যে ওরই ফোনটা। তুরিন বললো..
- তুমি তো অফিসে চলে গেছিলে। আবার ফিরে এলে যে?
- তোমার কোনো সমস্যা করে ফেললাম ফিরে এসে?
- না সমস্যা হবে কেন। ফোন দিয়ে কি করছো তুমি? দাওতো ফোনটা।
- ফোনে কোনো বিশেষ কিছু আছে নাকি? আমি দেখলে সমস্যা?
তুরিন তুতলাতে লাগলো। বললো
- কিক কি থাকবে ফোনে। কিছু নেই তো।
- সত্যিই কিছু নেই?
- কি হয়েছে তোমার আজ? এইসব বলছো কেন?
ধ্রুব গর্জে উঠলো। ফোনের মেসেজটা ওপেন করে ওর সামনে ধরে বললো
- এইসব কি?
তুরিনের মাথায় বাজ পরলো। কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছেনা তুরিন। এতো সাবধানে থাকার পরে ও এভাবে ধরা পরে যাবে ভাবতেও পারেনি তুরিন। এইবার কি বলবে ও।
ধ্রুব আবারও চিৎকার দিয়ে বললো..
- চুপ করে আছো কেন?
- এগুলো তো আমি মজা করছিলাম।
ধ্রুব আচমকায় তুরিনের গালে কতোগুলো থাপ্পড় দিলো। তুরিন জোরে কেদে দিয়ে বললো...
- তুমি আমাকে মারলে??
- হ্যাঁ মেরেছি। আরো মারবো। মারতে মারতে তোকে আমি মেরেই ফেলবো। চেচিয়ে বলতে লাগলো ধ্রুব। ধ্রুবর চিৎকারে মা বাবা তারাতাড়ি এলো ওদের রুমে। বাবা বলতে লাগলো..
- কি হয়েছে তোদের? এভাবে চিল্লাচিল্লি করছিস কেন?
মা বললো..
- কিরে, তুই এই বেলায় বাসায়? অফিস যাসনি? আর চিৎকার করছিস কেন? কি হয়েছে?
ধ্রুব কিছু বলছেনা। তুরিনের দিকে তাকিয়ে মা বললো..
- কিরে, তুরিন কাঁদছে কেন? কি হয়েছে ওর?
ধ্রুব শক্ত গলায় বললো..
- ও আমাকে ঠকিয়েছে মা। ও আমাকে ঠকিয়েছে।
- ঠকিয়েছে মানে? কি হয়েছে? অবাক হয়ে বললো ধ্রুবর বাবা।
ধ্রুব চিৎকার করে বলতে লাগলো..
- ও প্ল্যান করেছে একটা ছেলের সাথে, আমাদের সমস্ত কিছু ছল করে ওর নামে লিখে দিয়ে ওকে বিয়ে করবে।
..
মা অবাক হয়ে গেলো ধ্রুবর কথায়। এমনিতেই তুরিনকে ও সহ্য করতে পারেনা। তারউপর এইসব শুনে মাথায় গরম হয়ে গেলো উনার। বললো
- ধ্রুব এইসব কি বলছে তুরিন?
তুরিন কাঁদছে। ধ্রুব রেগে গিয়ে বললো..
- কেন আমার সাথে এমন করেছিস? কেন? আর ওই ছেলেটা কে?
তুরিন তবুও কিছু বলছেনা। ধ্রুব এগিয়ে গেলো তুরিনকে মারতে। ভয় পেয়ে গেলো তুরিন। ঢোক গিলতে গিলতে বললো..
- আর মেরোনা প্লিজ। আমি বলছি, সব বলছি।
এক এক করে সব বলতে লাগলো তুরিন
- আমি আর তুষার একে অপরকে ভালোবাসি। তোমার সাথে যখন বিয়েতে দেখা হলো তখন তোমার কথা বলেছিলাম ওর কাছে। ও যখন শুনলো তোমাদের বড় বিজনেস আছে তখন ও আমাকে তোমার সাথে প্রেমের অভিনয় করতে বললো যেনো তোমার কাছ থেকে টাকা হাতাতে পারি। এতোটুকু বলেই কাঁদতে লাগলো তুরিন। ধ্রুব কঠিন গলায় বলল..
- তারপর কি?
- ওর কথায় রাজি হয়ে আমিও তোমার সাথে প্রেমের নাটক করলাম। সবই ঠিক ছিলো, কিন্তু ঝামেলা হলো তখন যখন তোমার আর আমার বিয়ে ঠিক করে দিলো। আমিতো তুষারকে ভালোবাসি, তাই তোমাকে বিয়ে করতে চাইনি। কিন্তু তুষার বললো, তোমাকে বিয়ে করতে। বিয়ের দিন পার্লারে যখন নিয়ে যাচ্ছিলো তখন রাস্তাতেই সুযোগ বুঝে আমি পালিয়ে যাই তুষারের কাছে।
ধ্রুব আর ওর বাবা মা তুরিনের কথায় অবাক হওয়ার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেলো। ধ্রুব বলতে লাগলো..
- কিন্তু তুমি যে বলেছিলে তারা আর ওর বাবা তোমাকে থ্রেড করেছে বিয়েটা না করার জন্য?
- মিথ্যা বলেছিলাম। যেনো তারা তোমার জীবনে ঠাঁই না পায়। ও অনেক বুদ্ধিমতী। ভয় হচ্ছিলো আমার, ও যদি তোমার ধারে কাছে ঘেঁষে তাহলে আমি আমার উদ্দেশ্য পুরন করতে পারবোনা।
ধ্রুব কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছেনা। তারা সম্পুর্ন নির্দোষ। তাও বেচারিকে কতোই কষ্ট না দিয়েছে ধ্রুব। তাও এই বেইমান তুরিনের জন্য।
.
ধ্রুবর বাবা বললো.
- পালিয়েই যখন গিয়েছিলে তাহলে ওর জীবনটা নরক করার জন্য আবার ফিরে আসলে কেন?
তুরিন নিচের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো.
- আমি ভেবেছিলাম তুষারের কাছে গেলে ও আমাকে মেনে নিবে। যতোই হোক ভালোবাসি তো দুজন দুজনকে। কিন্তু নাহ, ও আমাকে ফিরিয়ে দিলো।
পরে দিশেহারা হয়ে মায়ের কাছে ফোন করলাম। তখন শুনলাম তোমার সাথে তারার বিয়ে হয়েছে। এমনিতেই ওকে আমি আর মা সহ্য করতে পারিনা। তারউপর আমার সাথে যার বিয়ে ঠিক হয়েছিলো তার সাথে ওর বিয়ে হয়ে গেছে!! মানতে পারছলাম না। তাই মা আর আমি দুজনে প্ল্যান করলাম কিভাবে তোমার জীবনে আসতে পারি। এরমধ্যে তুষারের সাথে আবারও যোগাযোগ হলো আমার। ও বললো.. তোমার সবকিছু যদি ওর নামে করে দিতে পারি, তাহলে ও আমাকে বিয়ে করবে। তাই...
.
তুরিনের সমস্ত কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরলো ধ্রুবর। কি বলছে এই মেয়ে এইসব? কিভাবে পারলো ওর জীবনটা নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলতে? বিনাদোষে তারাকেও শাস্তি দিলো ধ্রুব। এর কি আদৌ ক্ষমা পাবে সে?
.
To be Continued ....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now