বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#জানি_দেখা_হবে
#Part_11
..
ধ্রুবর মা সোফায় বসে নিরবে কাঁদছে আর একা একাই বলছে..
- এতো ভালো ভালো না রে মা। এদিকে নিজের কপাল পুড়াচ্ছিস অন্যদিকে নিজের স্বামীর বাসর সাজাচ্ছিস। তুই কি দিয়ে তৈরি রে মা? কিভাবে সহ্য করছিস তুই এগুলো?
বাসর সাজানো প্রায় শেষ হয়ে গেছে। দরজাটা লক করে বাইরে বের হয়ে শাশুড়ির পাশে এসে বসলো তারা। কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো..
- কাঁদছেন কেন মা? আজ আপনার ছেলের বাসর রাত। আমার বোনের বাসর রাত। আমাদের তো খুশি থাকার কথা। কাদবেন না প্লিজ মা।
- আমার ছেলেটা বুঝতে পারলো না রে মা। ও হীরের টুকরো রেখে কাঁচের উপর মা দিচ্ছে। কখনো সুখী হবেনা এই মেয়েকে নিয়ে ও।
- এভাবে বলবেন না মা। ওরা সুখে থাকুক এটার আমার কাম্য।
তারাকে নিজের বুকে জড়ালো ধ্রুবর মা। মাথায় হাত রেখে বললো.
- দোয়া করি মা, এই অশুভ মেয়েটার ছায়া যেনো তোর উপর না পরে। তুই যেনো অনেক বড় হোস। অনেক বড়।
..
সারাদিন বাসায় ছিলানা ধ্রুব। রাত ১১ টায় বাসায় ফিরলো ও। তারা গিয়ে দরজাটা খোলে দিতেই ভিতরে ঢুকলো ধ্রুব। ভিতরে ঢুকে সামনে এগুতে নিলেই তারা পিছন থেকে বললো..
- ঘরে নতুন বউ রেখে কেউ এতো রাত করে বাইরে থাকে?
তারার কথায় দাড়ালো ধ্রুব। অবাক হয়ে বললো
- মানে?
- অনেক্ষন ধরে তুরিন আপনার অপেক্ষা করছে। কোথায় ছিলেন এতোক্ষন? যান , আগে ওর সাথে দেখা করে আসুন।
ধ্রুব তারার দিকে তাকিয়েই নিজের ঘরের দিকে এগুতে লাগলো। কেন যেনো তারার মুখটা খুব শুকনো লাগছে। ধ্রুব নিজের ঘরে যেতে নিলেই ধ্রুবকে থামিয়ে দিয়ে বললো..
- ও ঘরে না, এ ঘরটায় আছে তুরিন।
ধ্রুব আর কিছু বললো না। সোজা পাশের রুমটায় গিয়ে ঢুকলো। তুরিন শুয়ে আছে। তুরিনকে ডেকে বললো..
- তুরিন..
ধ্রুবর ডাকে তুরিন পাশ ফিরে তাকালো। কিন্তু উঠলো না। শুয়ে থেকেই বললো..
- কিছু বলবে?
- এখানে শুয়ে আছো কেন? আমাদের রুমে শুয়ে থাকতে।
এই কথায় তুরিন উঠে বসল। ন্যাকামো করে বলতে লাগলো..
- ও আমাকে ওই ঘরে ঢুকতে দিলে তো।
- কে ঢুকতে দেয়নি তোমাকে?
- কে আবার, তোমার আগের বউ।
- তারা তোমাকে রুমে ঢুকতে দেয়নি?? কিন্তু আজই তো বলেছিলাম ও ঘরে আমরা থাকবো।
- এখন দেখছো তো ও কেমন মেয়ে? তুমি বলার পরেও ও ঘরে আমাকে ঢুকতে দেয়নি। বরং ঘরটা লক করে রেখেছে।
- ঠিকআছে, আমি দেখছি। তুমি খেয়েছো?
- অনেক আগেই খেয়েছি।
- আচ্ছা, তুমি থাকো এখানে। আমি আসছি।
.
ধ্রুব বের হয়ে গেলো। তুরিন ডাইনিং এ খাবার সাজাচ্ছে। ধ্রুবকে বেরোতে দেখে বললো.
- খাবার রেডি করেছি। ফ্রেশ হয়ে আসুন।
- সবসময়ই তো রুমেই খাবার দাও। আজ এখানে কেন?
- আজ রুমে খাবার দেওয়া যাবেনা।
- কেন? রুমে দেওয়া যাবেনা কেন? তুরিনকেও ও রুমে ঢুকতে দাও নি। সমস্যা কি তোমার? সকালে কি বলেছিলাম মনে নেই তোমার?
- সব মনে আছে। আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন।
ধ্রুব আর কথা বাড়ালোনা। ফ্রেস হয়ে এসে খেতে বসলো। অর্ধেক খাওয়া হলে ধ্রুব তুরিনের দিকে তাকালো। শুকনো মুখটা দেখে বললো..
- তুমি খেয়েছো?
- আমি কখনো আপনার আগে খাইনি। অন্যদিকে তাকিয়ে বললো তারা।
ধ্রুব অবাক চোখে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে আবারও খাওয়া শুরু করলো। খাওয়া শেষে নিজের রুমের দিকে পা বাড়াতেই মনে হলো দরজাটা লক। আচমকাই মাথা গরম হয়ে গেলো ওর। চেচিয়ে ডাকতে লাগলো তারাকে। তারা এসে বললো
- কি হয়েছে?
- দরজাটা এখনো লক। মানা করেছিলাম বলে কি লক করে নিজের দখলে রাখবে মনে হয়?
- আস্তে কথা বলুন। বাবা মা ঘুমোচ্ছে। উঠে যাবে।
- উঠুক। উঠে দেখুক তাদের আদরের বউমা কতোটা স্বার্থপরায়ন। কতোটা হিংসুটে। মা বাবা উঠে দেখুক আমি আর তুরিন যেনো এই রুমে থাকতে না পারি তাই রুমটাই দখল করে রেখেছে।
তারা ছলছল চোখে তাকালো ধ্রুবর দিকে। বললো..
- আপনি তুরিনকে নিয়ে আসুন এখানে।
- কেন? সারারাত কি ওকে নিয়ে এখানে থাকবো?
তারা কিছু বললো না। ধ্রুবকে তুরিনকে আনতে পাঠিয়ে নিজে গিয়ে রুমটা খোললো।
.
রুমে ঢুকেই অবাক হয়ে গেলো ধ্রুব। অবাক হয়ে দেখছে পুরো ঘরটাকে। পুরোটা ঘর ফুল দিয়ে সাজানো। স্পেশালি খাটের চারপাশটা গোলাপ আর হাসনাহেনা দিয়ে সাজিয়েছে। খাটের সামনের দেওয়ালে সুন্দর করে লেখা.. ধ্রুব + তুরিন। নামের পাশে আবারও জুই ফুল দিয়ে সাজানো। ধ্রুব সবকিছু অবাক হয়ে দেখে তারার দিকে তাকালো। তারার চোখগুলো ছলছল করছে। ধ্রুব শান্ত গলায় বললো
- এগুলো তুমি করেছো?
- হ্যাঁ। অন্যদিকে ফিরে বললো তারা।
- এই জন্যই রুমটা লক করা ছিলো?
এই প্রশ্নে তারা কিছু বললোনা। কথা বললেই যেনো কেদে দিবে। তাই চুপ থাকলো।
পাশ থেকে তুরিন বাকা কন্ঠে বলে উঠলো..
- এতোগুলো বকশিশের কথা শুনলে কার না লোভ হয়? ওর ও হয়েছে। তাই এভাবে সাজিয়েছে।
তারা একবার তুরিনের দিকে তাকিয়ে বললো..
- টাকার লোভে যদি কেউ অন্যের স্বামীকে বিয়ে করতেও দ্বিধা করেনা, তাহলে আমি বাসর সাজিয়ে বেশি কিছু অন্যায় করিনি হয়তো।
তারার এই কথায় তুরিন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো। ধ্রবকে বললো
- দেখলে ধ্রুব, ও কিন্তু আমাকে কথাটা মীন করে বললো। আর তাও তোমার সামনে। তুমি কিছু বলবে নাকি?
- দেখো তারা, আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। খুবই ভালোবাসি। তুরিন ও আমাকে ভালোবাসে আর তাই আমাদের বিয়েটা হয়েছে। তোমার যদি এরপরও আমাকে আর ওকে নিয়ে কোনো সমস্যা থাকে তাহলে তুমি চলে যেতে পারো এখান থেকে। আমাদের কারো কোনো সমস্যা হবেনা। তারা ছলছল চোখে ধ্রুবর দিকে তাকালো। কিন্তু কিছু বললোনা। তখনই সেখান থেকে চলে গেলো পাশের রুমটাতে।
..
পাশের রুমটাতেই নিজের প্রাণপ্রিয় স্বামীর বাসর হচ্ছে নিজেরই ছোট বোনের সাথে। ভাবতেই বুকটা ফেটে যাচ্ছে তারার। একি কপাল নিয়ে জন্মেছে ও। মা কে হারিয়ে একা হয়ে গেছিলো তারা। ওর একাকিত্ব ঘুচনোর জন্য বাবা আরেকটা বিয়ে করলো। কিন্তু সেই বিয়ে নিজের বাবার থেকেও আলাদা করে দিয়েছে তারাকে। শেষে ঠাঁই পেলো মামার বাসায়। মামা নিজের বাবার থেকেও বেশি আদর করেছে তারাকে। মামী কখনো ভালো ব্যাবহার করেছে কখনো বা খারাপ। সেটা আমলে নেয়নি তারা। ভেবেছিলো বিয়ের পর হয়তো বন্দিপনা জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বামীকে নিয়ে সুখে থাকবে। কিন্তু সুখ যে সবার কপালে সয় না।
..
সকাল ৯:০০ বেজে গেছে।
ধ্রুব আর তুরিন কেউই এখনো উঠেনি। তারা রান্নাবান্না শেষ করে টেবিল সাজাচ্ছে। এমন সময় বেরিয়ে এলো ধ্রুব। সদ্য গোসল করে এসেছে ও। তারা অনেক কষ্টে মনের কষ্ট চাপা দিয়ে মুখে হাসির রেখা টানলো। বললো
- আপনি একা যে, তুরিন কোথায়? খাবার রেডি করেছি তো।
ধ্রুব কিছুটা ইতস্তত বোধ করলো। তারা সেটা বুঝতে পেরে বললো
- কোনো সমস্যা হয়েছে কি?
- নাহ মানে, তুরিন এখানে খাবেনা। ওর খাবার টা রুমে নিয়ে যেতে এসেছি আমি।
- কেন? ও এখানে খাবেনা?
- নাহ, সবার সামনে খেতে ওর সমস্যা হবে।
- একি কথা, দুদিন হতে না হতেই এখনোই আলাদাভাবে খেতে চায় তোর বউ? পাশ থেকে বলে উঠলো ধ্রুবর মা।
- আহ মা, ও তো সবেমাত্র এসেছে। হয়তো লজ্জা পাচ্ছে। আমি খাবার রেডি করে দিচ্ছি। আপনি নিয়ে যান।
..
সারাদিন ঘর থেকে বের হয়নি তুরিন। ধ্রুব বাইরে গিয়েছিলো। কিছক্ষন আগেই ফিরেছে । ফিরেই রুমে গিয়ে ফ্যানটা ছেড়ে বসলো ও। তুরিন বিছানার এক কোনে বসে ফেইসবুকিং করছিলো। ধ্রুব গিয়ে এক পাশ থেকে তুরিনকে জরিয়ে ধরলো। তুরিন নড়লোনা। ধ্রুব শান্ত গলায় বলল..
- সারাদিন পর মাত্র ফিরলাম, আমার দিকে একবার তাকালেও না পর্যন্ত।
ধ্রুবর কথায় ফোনটা হাত থেকে রাখলো তুরিন। বললো
- sorry, ভুল হয়ে গেছে। ফেইসবুকিং করছিলাম তো।
- আমি পাশে থাকলে কিচ্ছু করবেনা Ok..
- ok, বলেই ধ্রুবকেও আলতোভাবে জরিয়ে ধরলো তারা।
হটাৎ ই তারা রুমে ঢুকে পরলো। ওদের এই অবস্থায় দেখে থমকে গেলো ও। তারাকে দুজনেই ভুত দেখার মতো চমকে গিয়ে দুজন দুজনকে ছেড়ে দিলো।
তুরিন রেগে গিয়ে বললো..
- কারো রুমে আসলে দরজায় নক করতে হয়, সেটা কি তোমার জানা নেই?
- বরের সাথে রোমান্স করতে গেলে দরজা লক করতে হয়, সেটা কি তোর জানা নেই? মুখের উপর ঠাস করে উত্তর দিয়ে দিলো তারা।
.
তারার এমন উত্তরে জলে যাচ্ছে তুরিন।
তারা বললো
- ভুল সময়ে আসার জন্য আমি দুঃখিত.। আমি যাচ্ছি। বলেই ফিরে যেতে গিয়েও আবার ঘুরে দাড়ালো তারা। ধ্রুবকে উদ্দেশ্য করে বললো..
- আপনি বাইরে থেকে এসেছেন তো, তাই আপনার কিছু লাগবে কিনা সেটাই জানতে এসেছিলাম। আসলে আমার মনেই ছিলোনা আপনার যে এখন আরেকটা বউ আছে। বহুদিনের অভ্যাস তো...
এতোটুকু বলে তারা আর দাড়ালো না। সোজা নিজের ঘরে চলে গেলো। চোখের কোনায় ওর পানি জমে গেছে। সেটা ধ্রুবর নজরে পরলোনা।
..
- দেখছো, কতোটা হিংসুটে মেয়ে ও?
- কে?
- কে আবার, ওই তারা। জানে তুমি এসেছো.. তাই ফন্দি করেই চলে এসেছে, যেনো তুমি আমাকে ভালোবাসতে না পারো।
- বাদ দাওনা, ও তো বলেছেই ভুল করে চলে এসেছে। আর আমাদের ও ভুল হয়েছে। দরজা লক না করে এভাবে জড়িয়ে ধরে বসে থাকা উচিত হয়নি।
- হয়েছে হয়েছে, ওর হয়ে আর উকালতি করতে হবে। এখন বলো, আমরা হানিমুনে যাবো কবে আর কোথায় যাবো?
- তুমিই বলো কোথায় যাবে?
..
To be Continued ......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now