বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বগুড়ার সারিয়াকান্দি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে তখন দশম
শ্রেণিতে পড়ি। আমাদের গণিত ক্লাস নিতেন
আবদুর রশীদ স্যার। হাজিরা খাতা নিয়ে তিনি প্রতিদিন
১১টায় ক্লাসে ঢুকতেন। আমার আব্বাও ছিলেন
সেই একই স্কুলের শিক্ষক। বাবা একই স্কুলের
শিক্ষক হলে নানা বিপদ থাকে! তবে আমার ছিল
একটা বিপদ—ক্লাস ফাঁকি দিতে পারতাম না। আর অন্য
বিপদে আমাকে পড়তে হয়নি। কারণ, দশম শ্রেণি
পর্যন্ত আমার কোনো ক্লাসেই আব্বাকে
শিক্ষক হিসেবে পাইনি।
কোনো একটা দিন আবদুর রশীদ স্যার ছুটিতে
ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য একজন ক্লাস
নেবেন, এটাই স্বাভাবিক। ১১টায় ক্লাস নিতে
এলেনও, দেখি বদলি শিক্ষক হিসেবে আব্বা
এসেছেন।
এই প্রথম আব্বার ক্লাস করছি। হাজিরা খাতা খুলে
রোল নম্বর ধরে ডাকা শুরু করলেন। আমি বেশ
অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম। কীভাবে আব্বাকে
বলব ‘ইয়েস স্যার’! আমার রোল নম্বর ছিল দুই।
প্রস্তুতিরও সময় নেই! বন্ধুরাও পেয়ে
বসেছে। পাশে থেকে অনেকে বলা শুরু
করল, ‘পারবি বলতে! তার চেয়ে বল, ইয়েস
আব্বা।’
আমিও লজ্জা-সংকোচে কী বলব সিদ্ধান্ত নিতে
পারছিলাম না। আব্বা ডাকছেন ‘রোল নং ১’। কানে
ভেসে এল ‘ইয়েস স্যার’। ‘রোল নং ২’; আমি
দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বললাম ‘ইয়েস স্যার’।
এখন ভাবি, ছোটবেলায় সেদিন সংকোচ বোধ
করেছি, কীভাবে আব্বাকে স্যার বলব। তবে
আজ মনে হয়, বাবাকে ‘ইয়েস স্যার’ বলতে পারা
জীবনের একটা বড় প্রাপ্তি।
মো. জামিল সুলতান
শিক্ষক, হাবিপ্রবি, দিনাজপুর
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now