বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হাজরে আসওয়াদ (هجر اسود) আরবী শব্দ। হাজর (هجر) অর্থ, পাথর এবং আসওয়াদ ( اسود ) অর্থ অধিক কালো। যা সাওদাতুন (سودة) থেকে এসেছে, সাওদাতুন অর্থ কালো। আর আসওয়াদ শব্দটি অধিক কালো অর্থে ব্যবহৃত। সুতরাং হাজরে আসওয়াদ অর্থ অধিক কালো পাথর। হজরে আসওয়াদ পাথরে চুমা খাওয়া ফরজ ওয়াজীব এমন কি সুন্নতও নয়। এটা নফল। কেউ হজরে আসওয়াদ পাথরে চুমা না খেলেও তার হজ্জ আদায় হয়ে যাবে। এই হজরে আসওয়াদ পাথরটা হযরত আদম আলাইহিস সাল্লাম জান্নাত থেকে নিয়ে এসেছেন বলে আমরা মুসলমানরা এই পাথরটাকে ভালবাসি। ব্যাস আর কিছু না। হাজরে আসাওয়াদকে চুম্বন করতে গিয়ে 'উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) এর উক্তি, "হে পাথর! আমি জানি তুমি একটি পাথর, তুমি কোন ক্ষতি বা উপকার করার সামর্থ রাখনা। যদি আমি রাসূল (স) -কে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম তাহলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না"। সা’ঈদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ‘উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে! আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিতরুপে জানি তুমি একটি পাথর, তুমি কারও কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। এরপর তিনি চুম্বন করলেন। [সহীহ বুখারি (ইফা), অধ্যায়ঃ ২২/ হজ্ব (হাজ্জ), হাদিস নাম্বার: 1510] অর্থ্যাৎ সাহাবীদের কাছেও এই হাজরে আসওয়াদ পাথর টার আলাদা কোন গুরুত্ব ছিল না। হাজরে আসওয়াদের মূল কাজ হচ্ছে কাবা ঘর তাওয়াফ করার সময় তাওয়াফের নিয়ত করে কাবার দিকে মুখ করে হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করে নিজের ডান দিকে চলতে থাকবে। তারপর আবার হাজরে আসওয়াদের দিকে আসলে এক তাওয়াফ পূর্ন হবে। অর্থ্যাৎ হাজরে আসওয়াদ কে কেন্দ্র করে কাবাঘরে ঘুরলে আপনার কয় তাওয়াফ পূর্ন হয়েছে তা আপনি বুঝতে পারবেন। কাবাঘরের ‘‘হাজরে আসওয়াদ’’ কোণ থেকে মসজিদে হারামের দেয়াল ঘেষে সবুজ বাতি দেয়া আছে। এ রেখা বরাবর থেকে তাওয়াফ শুরু করে আবার এখানে আসলে তাওয়াফের এক চক্র শেষ হবে। এভাবে ৭ চক্র পূর্ণ করতে হবে। তাই হাজরে আসওয়াদ পাথরে চুমু খাওয়া জরুরী কিছু না কিন্তু হাজরে আসওয়াদ পাথর কে কেন্দ্র করে তাওয়াফ শুরু করা হচ্ছে জরুরী। আর কিছুনা কিছুকে ধরেই তো তাওয়াফের হিসাব রাখতে হবে। হাজরে আসোয়াদ পাথর থেকে শুরু করে কাবা শরীফের চতুর্দিকে ৭ বার প্রদক্ষিণ করে মাকামে ইব্রাহীমে ২ রাকাত নামায পড়ার নামই কাবা শরীফে তাওয়াফ করা। মাকামে ইব্রাহিম মানে ইব্রাহীমের দাড়াবার স্থান। এই পাথরের উপরে দাড়িয়ে তিনি কাবাঘর মেরামত করেছিলেন বিধায় উনার পদদ্বয়ের চিহ্ন এতে আছে। মাকামে ইব্রাহিমের কথা আল কোরআনেই বলা আছে। - “ এতে রয়েছে মকামে ইব্রাহীমের মত প্রকৃষ্ট নিদর্শন। আর যে, লোক এর ভেতরে প্রবেশ করেছে, সে নিরাপত্তা লাভ করেছে। [ সূরা আল ইমরান আয়াত নং ৯৭ ] তাওয়াফ শেষ হলে মাকামে ইব্রাহীমে ২ রাকাত সালাত আদায় করতে হয়। তবে মাকামে ইব্রাহীমে স্পর্শ ও চুম্বন দেওয়া নিষেধ। কাবাঘরের ভিতরে শুধু হাজরে আসওয়াদ ছাড়া আর কোন কিছুতেই চুম্বন করা যাবে না। নব্যুয়তের পূর্বে নবীজির বয়স যখন ৩৫ বছর তখন অলীদ বিন মুগীরার নেতৃত্বে কাবা ঘরের সংস্কার সাধন করা হয়। তখন হাজরে আসওয়াদ পাথরের স্থানান্তর নিয়ে মক্কার বিভিন্ন গোত্রের মাঝে ঝগড়ার সূচনা হলে রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্ত্বে আরবের সব গোত্রপতিরা একসাথে হাজরে আসওয়াদ পাথর কাবা ঘরের দক্ষিণ পূর্ব কোণে স্থাপন করে। কাবাকে বামে রেখে তাওয়াফ শুরু করবেন। একবার তাওয়াফে একটি দাস মুক্ত করার সমান নেকী পাওয়া যায়। তাওয়াফে বিদা বা বিদায়ী তাওয়াফ অবশ্যই করতে হবে এবং এটা ওয়াজীব। তবে এই তাওয়াফে সাফা মারওয়া তে সাঈ ইত্যাদির প্রয়োজন নাই। শুধু নফল তাওয়াফের ন্যায় কাবা ঘরের চতুর্দিকে ৭ বার ঘুরে মাকামে ইব্রাহীমে ২ রাকাত সালাত আদায় করলেই চলবে। সূরা হজ্জের ২৯ নম্বর আয়াতে তাওয়াফে-যেয়ারত বা বিদায়ী তাওয়াফের কথা বলা হয়েছে, যা যিলহজ্জের দশ তারিখে কঙ্কর নিক্ষেপ ও কোরবানীর পর করা হয়। এই বিদায়ী তাওয়াফ করাও ফরজ। এই বিদায়ী তাওয়াফ করার পর এহরামের সব বিধান পূর্নতা লাভ করে এবং পূর্ন এহরাম খুলে যায়।
হজরে আসওয়াদ পাথরের ব্যাপারে আরেকটা রেওয়াত আছে যেখানে বলা হয়েছে হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সাল্লাম যখন কাবা ঘর নির্মান করছিলেন তখন একটি পাথর কম পরেছিল। হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সাল্লাম তখন ইসমাইল কে একটি পাথর সংগ্রহ করতে পাঠায়। কিন্তু হযরত ইসমাইল কোথাও থেকেও একটি পাথর জোগাড় করতে পারেন নাই। ঠিক সেই সময় জিবরাঈল আলাইহিস সাল্লাম জান্নাত থেকে একটি পাথর নিয়ে আসেন। আর সেই পাথর টাই হল হজরে আসওয়াদ। কাবা শরীফ হযরত আদম আলাইহিস সাল্লাম প্রথম নির্মান করলেও নুহ আলাইহিস সাল্লামের ঐ বন্যার সময় কাবা ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। তাই পরে হযরত ইব্রাহিম ও ইসমাঈল আবার সেটা পূননির্মান করেন।
আমরা মুসলমানরা কেন আরাফার ময়দানে অবস্থান করি ? কারন আরাফার ময়দানেই সম্মিলিতভাবে আদি পিতা আদম ও হাওয়ার তওবা কবুল হয়েছিল এবং উনাদের গোনাহ মাফ হয়েছিল। তাই হযরত আদমের এই স্মৃতির উদ্দেশ্যে আমরা আরাফার ময়দানে অবস্থান করি। হাদীসে বলা হয়েছে আরাফার ময়দানে সব হাজীর তওবা কবুল হয়। তাওয়াফ করা যেমন ফরজ ঠিক তেমনি আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাও ফরজ। আমরা সবাই জানি হযরত আদম আলাইহিস সাল্লাম কোন মূর্তি পূজারী ছিলেন না। এখন কেউ যদি বলে হযরত আদমের ন্যায় মুসলমানদের এই আরাফার অবস্থান হল প্যাগানিসম তাইলে তাকে মূর্খ ছাড়া আর কিই বা বলা যায় ?
কাবাঘরই পৃথিবীতে বানানো সর্বপ্রথম ঘর। এই কথা আল কোরআনেই বলা আছে। “ নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম এই ঘর যা মানুষের জন্যে নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এ ঘর, যা মক্কায় অবস্থিত এবং সারা জাহানের মানুষের জন্য হেদায়েত ও বরকতময়।” [ সূরা আল ইমরান, আয়াত ৯৫ ] বায়হাকী বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ হযরত আদম আলাইহিস সাল্লাম ও বিবি হাওয়ার পৃথিবীতে আগমনের পর আল্লাহ সুবহানাতায়ালা জিবরাঈলের মাধ্যমে তাঁদেরকে কাবাগৃহ নির্মাণের আদেশ দেন। এ গৃহ নির্মিত হয়ে গেলে তাঁদেরকে তা তাওয়াফ করার আদেশ দেওয়া হয় এবং বলা হয়, আপনি সর্ব প্রথম মানব এবং এ গৃহ সর্বপ্রথম গৃহ- যা মানবমন্ডলীর জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। - ( ইবনে কাসীর ) অর্থ্যাৎ বুঝা গেল সর্বপ্রথম আদম আলাইহিস সাল্লাম কাবা ঘরের ভিত্তি স্থাপন করেন। আদম আলাইহিস সাল্লাম ও তৎপরিবর্তী পয়গম্বরগন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতেন। পরবর্তীকালে নূহ আলাইহিস সাল্লামের এর মহা প্লাবনে বায়তুল্লাহ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এরপর আল্লাহ সুবহানাতায়ালার নির্দেশে হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সাল্লাম কাবাঘর তৈরি করেন যার কথা আল কোরআনেই বলা আছে। - “ স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল কা’বাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। [ সূরা বাকারা, আয়াত -১২৭ ]
হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লামের মৃত্যুর পর উনার অনুসারীরা মূর্তি পূজায় ডুবে গিয়েছিল। কাবাঘরের ভিতরে এরা ৩৬০ টা মূর্তি এনেছিল। তাওয়াফ করার সময় মক্কার কাফেররা এই মূর্তি গুলিকে সেজদা দিত। তো এখন মক্কার কাফেরদের এই গুনাহর দায়ভার কি হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লামের উপর বর্তাবে ? কখনোই নয়। আমাদের সমাজেও অনেক মুসলমান কবর পূজা, মাজার পূজা, মাজারে সেজদা দেয়, মাজারে মানত করে। তাদের এই পাপের দায়ভার অবশ্যই নবীজির উপর বর্তাবে না বা তাদের এই হারাম কাজ করতে কখনোই রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দেয় নি। তাই এখন কেউ যদি বলে একশ্রেণীর মুসলমানরা মাজার পূজা কবর পূজা করে রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে তাইলে অবশ্যই তার এই কথাটা ভুল। তাই মক্কার কাফেরদের কোন শিরকপূর্ণ আমলদ্বারা কখনোই হজ্জ কোন মুশরিকদের ইবাদত হতে পারে না। কারন হজ্জের আমল শুরু হয়েছে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লামের মাধ্যমে। আর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম কোন প্যাগান বা মূর্তিপূজারী ছিলেন না। হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লামের হজ্জের আমলে কোন শিরকপূর্ন কাজ ছিল না। জাহেলিয়াতের যুগে কাফেররা উলঙ্গ হয়ে তাওয়াফ করত। মক্কা বিজয়ের পর রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবাঘর থেকে সব মূর্তি অপসারন করেন এবং সাহাবীদের কে শিরকমুক্ত হজ্জের আমল শিখান। এখানে শিক্ষণীয় ঘটনাটা হচ্ছে, পবিত্র জিনিষের অপবিত্র ব্যবহার হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তাই বলে, আমরা সেই পবিত্র জিনিষকে ত্যাগ করতে পারি না। যা পারি তা হচ্ছে তাকে শুদ্ধ করে তাকে স্বস্থানে স্থাপন করা। রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঠিক এই কাজটিই করেছিলেন। কাফেররা হজ্জের সময় যেই শিরকপূর্ন আমলগুলি করত রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা ঝেটিয়ে বিদায় করে দিয়েছিলেন। জাহেলিয়াতের যুগে হজ্জের সময় কাফেররা যে মূর্তি পূজা করত তা আল কোরআনেই বলা আছে। “ নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কা’বা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। “ [ সূরা বাকারা ১৫৮ নং আয়াত ]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now