বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ইসলামিক গল্প

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান zami (০ পয়েন্ট)

X প্রখ্যাত মুসলিম পর্যটক আল্লামা ইবনে বতুতা (রহ) বিখ্যাত ইতিহাসবিদ। তিনি সমগ্র দুনিয়া ভ্রমন করেছেন। তিনি তার সফরনামায় মালদ্বীপের উক্ত ঘটনা সম্পর্কে লিখেছেন যে, ভ্রমণ করতে করতে মালদ্বীপে পৌছলেন। দেখলেন, মালদ্বীপের প্রতিটি শহর-নগর আযানের মধুময় ধ্বনিতে মুখরিত। মালদ্বীপ ভুমি নামাযের সিজদায় আলোকিত। এ অবস্থা দেখে ইবনে বতুতা খুবই বিস্মিত হলেন। কারন তার জানা মতে, কোন ইসলাম প্রচারক মালদ্বীপে আসেনি। তাহলে এভাবে ইসলামের আলো ছড়ালো কিভাবে। ইবনে বতুতা তখন সেখানকার অধিবাসীদেরকে মালদ্বীপের মানুষের ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার কারন জিজ্ঞেস করলেন। তারা অতি আশ্চার্য জনক একটি ঘটনা শোনালেন। ঘটনাটি হলো- আরবের কোন এক বানিজ্য জাহাজ পূর্ব বিশ্বের দিকে যাত্রা করে যাচ্ছিল। ঘটনা চক্রে জাহাজটি তুমুল সমুদ্র জড়ে পতিত হয় । জাহাজের অভিযাত্রি সকলেই মারা যান। সেই মুসলিম যাত্রি দলের একজন মাত্র লোক কোন মতে এক কাষ্ঠ খন্ডকে অবলম্বন করে আল্লাহর রহমতে বেঁচে যান এবং দ্বীপেই আশ্রয় নেন। তিনি ছিলেন এক আরব যুবক এবং হাফেজে কুরআন। তার নাম হাফেজ আবুল বারাকাত। এই অচেনা অপরিচিত দ্বীপে কোথায় যাবেন তিনি? কে তাকে আশ্রয় দিবেন? এখানেতো তার কোন আত্মিয় স্বজন নেই! অবশেষে এ আরব যুবক এক বৃদ্ধার বাড়ীতে আশ্রয় নিলেন । যুবকটি জংগলে কাঠ কেটে তা বিক্রি করে জিবিকা নির্বাহ করতেন ।এভাবেই চলছিল তার জীবন। একদিন যুবকটি বাড়ীতে এসে দেখলে, বৃদ্ধা কাঁদছেন পাশে তার যুবতি মেয়ে কাঁদছেন। যুবকটি বলল আপনারা কাঁদছেন কেন? কি হয়েছে আপনাদের? বৃদ্ধা বললেন আজ আমার মেয়ে মারা যাবে। যুবক বললেন কেন? তিনি মারা যাবেন কেন? তিনিতো সুস্থ! বৃদ্ধ আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে বললেন, ঐ যে দেখুন মৃত্যু আমাদের সামনে। যুবক বাড়ীর সামনে তাকিয়ে দেখলেন রাজার সৈন্যরা দাড়ানো। যুবক বলল তারা কি আপনার মেয়েকে হত্যা করবে? বৃদ্ধা বললেন, না। ব্যপারটি তা নয়। রাজার সৈন্যরা আমার মেয়েকে নিয়ে যাবার জন্য এসেছে। কেননা, আমাদের এই দ্বীপে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট তারিখে এক সামুদ্রিক বিপদের উদ্ভব হয়। যার থেকে রক্ষা পাবার উপায় হলো, আমাদের দ্বীপ বাসীদের পক্ষ থেকে এক যুবতি মেয়েকে ঔদিন সূর্য ডোবার পর সমুদ্র উপকুলে একটি মন্দির আছে, সেখানে রেখে আসতে হয়। পরের দিন সকালে সরকারী লোকজন সমুদ্রের কিনারা থেকে ঐ মেয়ের মৃত দেহ উদ্ধার করে আনে । প্রতিবারই লটারীর মাধ্যমে ‍নিরুপন করা হয়-কোন মেয়েকে পাঠানো হবে। এবার লটারীতে আমার মেয়ের নাম উঠেছে। তাই আজ রাতে তাকে সমুদ্র উপকুলে পাঠাতে হবে। সেখানে তার মৃত্যু অনিবার্য । যুবক বৃদ্ধার এমন বেদনাদায়ক কথা শুনে বললেন, আজ আপনার মেয়েকে সেখানে পাঠাতে পারবেননা । আজ রাতে আমি নিজেই সেখানে যাব। দেখি সেখানে কি হয়। প্রয়োজনে আপনার মেয়ের পরিবর্তে আমার জান দিয়ে দিব। এর পর যুবক বললেন রাজার সৈন্যরা যাতে ‍চিনতে না পারে, তাই আপনার মেয়ের পোশাক আমাকে পরিয়ে দিন। আমিই আজ তাদের সাথে যাব। উল্লেখ্য যে, যুবকের বয়স ‍ছিল খুবই কম। তাঁর দাড়ী গোফ কিছুই গজায়নি কাজেই মেয়ের বেশে তার ধরা পড়ার আশংকা ছিলোনা। বৃদ্ধা যুবকটিকে নির্ঘাত মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে ‍দিতে রাজি হচ্ছিলেননা। কিন্তু যুবকটি বুঝালেন যে তিনি মুসলমান। মুসলমানগন আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পায়না। আর জীবন মৃত্যু আল্লাহর হাতে। আল্লাহর হুকুম না হলে কেউ কাউকে মারতে পারেনা। তা ছাড়া ‍তিনি হাফেজে কুরআন। তাই তার বিশ্বাস আল কুরআনের বরকতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে হিফাজত করবেন। এভাবে যুবকটি বৃদ্ধাকে নানাভাবে বুঝালেন। শেষ পর্যন্ত যুবকটির অত্যাধিক পীড়াপীড়িতে বৃদ্ধা রাজী হলেন। অতঃপর রাজার সৈন্যরা তাকে সেখানে রেখে চলে এলো। যুবক সেখানে উত্তম রুপে অজু করে ইশার নামাজ আদায় করলেন । তারপর খোলা তলোয়ার সামনে রেখে সমুদ্রের ঢেউ দেখতে লাগলেন , এবং পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে লাগলেন। রাত গভীর হতে লাগল। চারিদিকে নিস্তব্ধতায় ছেয়ে গেল । প্রকৃতি নিদ্রার কোলে ঢলে পড়লো। শুধু মাত্র তিনটি প্রান জেগে রইল, যাদের চোখের নিদ্রা বিদুরিত হয়েছে। তাদের এক হলো আরব যুবক,যার চোখ ছিল সমুদ্রের দিকে আর বুকে ছিল ঈমানের বল। আরেক জন জাগ্রত ছিল সে ছিল গরীব বৃদ্ধা । উদার দিল আরব যুবকের চিন্তায় সে ছিল অস্থির। আর তৃতীয় যে প্রানটি জেগে রইল সে হল যুবতী কন্যা, যে আরবের যুবকের চিন্তায় অনবরত কেঁদেই চলছিল। হাফেজে কুরআন যুবকটি অন্ধকার রাতের এ নিথর পরিবেশে সমুদ্রের কিনারস্থ সেই ভয়ংকর মন্দিরে বসে অত্যন্ত হৃদয়স্পশী সুরে কুরআন তিলাওয়াত করে যাচ্ছিল। এ মহুর্তে সকল অপশক্তির মোকাবিলায় কুরআনই তার অমোঘ হাতিয়ার। হঠাৎ করে সমুদ্রে দিগন্ত থেকে বিশাল আকৃতির এক ভয়ংকর দৈত্যের উদয় হলো। দৈত্যটি ধীরে ধীরে সমুদ্রের কিনারার দিকে মন্দিরের অভিমুখে আসতে লাগল। মন্দিরের কাছাকাছি এসে দৈত্যটি থেমে গেল। যুবক কুরআন তিলাওয়াত করে যাচ্ছিলেন। কুরআন তিলাওয়াত করার কারনে দৈত্যটি সামনে অগ্রসর হতে পারল না। অবশেষে হার মানলো ভয়ংকর দৈত্যটি। সামান্য সময় অবস্থান করে দৈত্যটি যে পথে এসেছিল সে পথে ফিরে গেল। দৃশ্যের অন্তরালে মিলিয়ে গেল দৈত্যটি। সকাল হলো। সরকারি লোকজন মেয়েটির লাশ নেওয়ার জন্যে মন্দিরে এলো।এসে তারা হতভম্ব হয়ে গেল। সেখানে কোন লাশ নেই কোন মেয়েও নেই। তার পরিবর্তে এক মুসলিম যুবক রয়েছে। তারা রাজার দরবারে যুবককে নিয়ে এলো এবং যুবকটি রাজার নিকট সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। তখন রাজা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মেয়েকে ডেকে আনলেন । তারা রাজার কাছে ঘটনাটির সত্যায়ন করলেন। যুবকের মুখে সব কথা শুনে রাজা সীমাহীন প্রভাবিত হলেন। রাজা বললেন, হে যুবক! এত বড় বিপদের সামনে তুমি একাকী দাড়ালে কিভাবে? যুবক বললেন, আমি একা ছিলাম না আমার সাথে আমার আল্লাহ ছিলেন। আর আমার হাতিয়ার ছিল মহান আল্লাহর পবিত্র কুরআন। রাজা জিজ্ঞেস করলেন তুমি ভয় পাওনি কেন? যুবকটি বললেন, মুসলমান আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায়না। জীবন ও মৃত্যুর মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। এরপর রাজা বললেন আগামী বছর এভাবে একা থামতে পারবে? যুবক দৃঢ়তার সাথে উত্তর দিলেন, আল্লাহর হুকুমে একাই যেতে পারবো। তখন রাজা অতি উৎসাহিত হয়ে বলে উঠলেন, যদি তুমি পার, তাহলে আমরা সবাই ইসলামের সততার সামনে মাথা নত করবো। রাজার এ কথাকে সবাই সমর্থন করলো। এরপর পরবর্তী বছর নির্ধারিত তারিখের ঘটনা সবাই প্রত্যক্ষ করলো, যুবক তার সত্যতা প্রমান করলো। এ ঘটনার পর থেকে সে বিপদ মালদ্বীপে আর আসেনি । তখন রাজা ও তার দরবারের সবাই ইসলাম গ্রহন করেন। অতপর সেই রাজ্যের মানুষ দলে দলে ইসলাম গ্রহন করতে থাকে। প্রথম দিনেই পয়ষট্টি হাজার লোক মুসলমান হলেন এবং এ ধারা অব্যহত গতিতে চলতে থাকলো। সুবহানআল্লাহ। "নবীজির বিছানা" । হযরত উমর (রাgj একদিন রাসুলুল্লাহ (সাgj এর কাছে গেলেন। এবং দেখলেন রাসুলুল্লাহ (সাgj এর শরির মোবারকে চাটাইয়ের দাগ লেগে আছে। তখন হযরত উমর (রাgj কাঁদতে লাগলেন। রাসুলুল্লাহ (সাgj কান্নার কারণ জানতে চাইলেন। হযরত উমর (রাgj বললেন,আল্লাহর দুশমন রোম ও পারস্যের অধিপতিরা কত আরাম আয়েশে নিজেদের জীবন পরিচালনা করছে । অথচ দুজাহানের সরদার আল্লাহর প্রিয় হাবিবের অবস্তা হল এই যে, তাঁর শয়নকালের চাটাইয়ের উপর বিছানোর মত কোন কাপড় নাই। হযরত রাসুলুল্লাহ (সাgj তখন বললেন- তাদেরকে তো দুনিয়ার জীবনেই সকল নিয়ামত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে আমাদের জন্য রয়েছে জান্নাতে সকল নিয়ামত । আমরা রাসুলুল্লাহ (সাgj এর ভালবাসার দাবি করি। অথচ আজ আমরা রোম ও পারস্যের অধিপতিদের মত কত আরাম আয়েশে নিজেদের জীবন পরিচালনা করছি। পারবো কি সেই জান্নাতের নিয়ামত উপভোগ করতে ? হে আল্লাহ আমাদেরকে নবিওয়ালা জীবন যাপনের তৌফিক দান করুন। আমিন । হাঁস ও বৃষ্টি -- একবার হযরত মূসা (আঃ) তূর পাহাড়ে যাচ্ছেন আল্লাহর সাথে কথা বলতে। পথিমধ্যে কতগুলি হাঁস ছিল। তারা হযরত মূসা (আঃ) কে বলল -হুজুর, বৃষ্টি না হওয়ার কারনে আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ খাবারে কষ্ট পাচ্ছি। আপনি দয়া করে আল্লাহ -তায়ালাকে জিজ্ঞেস করবেন কবে নাগাদ বৃষ্টি হবে। তাদের কথা অনুযায়ী মূসা (আঃ) আল্লাহকে হাঁসের কথা বলেন। জবাবে এলো তাদের বলবে ৪০ বছর পর বৃষ্টি হবে। হযরত মূসা (আঃ) ফিরে এসে ৪০ বছর পর বৃষ্টি হওয়ার কথা শোনালেন। শোনামাত্রই সবগুলি হাঁস বলল,আলহাদু লিল্লাহ। আর অমনি বৃষ্টি শুরু হল। হযরত মূসা আঃ আল্লাহকে বললেন- ইয়া আল্লাহ ৪০ বছর পর বৃষ্টি হবে অথচ ৪০ মিনিট না যেতেই বৃষ্টি শুরু হলো। এর রহস্য কি? আল্লাহ বলেন, আমি ঠিকই ৪০ বছর পর বৃষ্টি দিতাম কিন্তু তারা আমার ফয়সালার উপর রাজি হয়ে আলহামদু লিল্লাহ বলার কারনে আমি সাথে সাথে বৃষ্টি দিয়ে দিল। ছড়ির তরবারি দারুণ দুঃসাহসী এক অবাক পুরুষ। নাম উকাশা ইবনে মিহসান (রা)। সবাই তাকে ডাকে আবু মিহসান নামে। এই নামেই তিনি প্রসিদ্ধ। এই নামের তিনি পরিচিত। রাসূলও (সা) তাকে আদর করে কাছে ডাকেন আবু মিহসান বলে। রাসূলের (সা) ডাক! সে ডাকে মধু ঝরে। সে ডাকে শিশির ঝরে। আর কুলকুল করে বয়ে যায় আবু মিহসানের বুকের ভেতর আনন্দ ও খুশির কোমল ঝরণা ধারা। কেন বইবে না! রাসূল (সা) হলেণ মানুষের মধ্যে সেরা মানুষ। নবীদের মধ্যে সেরা ও শ্রেষ্ঠ নবী। সেই মহামানবের ডাক শুনে কার না হৃদয় আপ্লুত হয়? আবু মিহসানও আপ্লুত হলেন রাসূলের (সা) ভালোবাসায়। তাঁর অসীম মানবিকতায়। তখনও ইসলামে পালে লাগেনি সুবাতাস। তখনও মসৃণ হয়নি ইসলামের পথ। বরং সে পথে ছিল কাঁটা আর কাঁটা। বলা যায় বন্ধুর গিরিপথ। কঙ্কর ছিটানো। আঁকাবাঁকা। যার সাহসী তারাই কেবল সেই পথের যাত্রী হচ্ছেন। ধীরে ধীরে। এই সাহসীদের সহযাত্রী হলেন আবু মিহসান (রা)। তিনি ইসলাম কবুল করলেন। সাথে সাথে তার চারপাশে জ্বলে উঠলো বিরুদ্ধতার আগুন। হিংস্র দাবানল। তবুও তিনি সিদ্ধান্তে অনড়। অটল ঈমানের ওপর। ঠিক যেন হিমালয় পর্বত। ইসলাম গ্রহণের পর অনেকের মত তিনিও টিকতে পারলেন না মক্কায়। মক্কা তার জন্মভূমি। মক্কা তার প্রাণপ্রিয় আবাসভূমি। তবুও, সেই প্রিয় জন্মস্থঅন ছেড়ে তিনি হিজরত করলেন মদিনায়। পেছনে পড়ে রইলো স্মৃতিবাহী শৈশস ও কৈশোরের নগরী। চেনা-জানা আপনজন আর নিত্যকার হাঁটাচলার পথঘাট। তবুও তার মনে কষ্ট নেই। দুঃখ নেই। আছে কেবল এক অপার্থিব আনন্দ। সেটা আল্লাহকে খুশি করার আনন্দ। সেটা রাসূলকে (সা) কাছে পাবার তৃপ্তি। সেটা ইসলামের বিশাল আকাশের নিচে ঠাঁই করে নেবার খুশি। সেদিনের জন্য এই ধরনের ত্যাগ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ আল্লাহ, রাসূল (সা) ও ইসলামকে প্রাণের চেয়ে ভালোবাসলেই কেবল এমন ত্যাগ স্বীকার করা যায়। আবু মিহসানও তাই করলেন। এটাতো তুচ্ছ ত্যাগ তার কাছে। এর চেয়েও বড় কুরবানী তিনি করেছিলেন। ইসলামের জন্য। সে সবই তো এখন ইতিহাস হয়ে আছে। সোনালি ইতিহসা। বদর যুদ্ধ! সেই কঠিন যুদ্ধের ময়দানে অন্যান্য সাহাবীর সাথে আবু মিহসানও ছিলেন দুর্বার, দুঃসাহসী। তখন তো ছিল না যুদ্ধের অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র। হাতের তরবারি আর বর্শা- এ ধরনের অস্ত্রই সম্বল। কাফেরদের বিশাল বাহিনীর মুখোমুখি দুঃসাহসী সত্যের সৈনিক। সংখ্যায় তারা নগণ্য। সমরাস্ত্রও অপ্রতুল। কিন্তু বিশাল তাদের ঈমানী শক্তি। সেই শক্তি আল্লাহর দেয়া শক্তি। সেই শক্তি রাসূলের (সা) প্রতি ভালোবাসার শক্তি। সুতরাং তাদের আর কিসের পরওয়া? অন্যান্য বীর মুজাহিদদের সাথে সমান তালে যুদ্ধ করছেন আবু মিহসান। শত্রুর ব্যুহ ছিন্নভিন্ন করে এগিয়ে যাচ্ছেন ক্রমাগত সামনের দিকে। যুদ্ধ করতে করতেই হঠাৎ ভেঙ্গে গেল তার হাতের সেই বহু ব্যবহৃত তরবারিটি। এখন উপায়? যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পিঠটান দেবার কথা ভাবতেও পারেন না তিনি। আবার খালি হাতে যুদ্ধও তো সম্ভব নয়। কারণ এটা তো নয় মল্লযুদ্ধের ময়দান। কী করা যায়? ভাবছেন তিনি। তার অভিপ্রায় এবং আকুতি বুঝলেন দয়ার নবীজী (সা)। তিনি মুহূর্তেই আবু মিহসানের হাতে তুলে দিলেন একটি খেজুর ছড়ি। রাসূলের (সা) দেয়া সেই ছড়িটির আগা সুচালো করে তাই দিয়েই তিনি যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন বদরের প্রান্তরে। এবং যুদ্ধের শেষ সময় পর্যন্ত। বিস্ময়করই বটে! এটা কীভাবে সম্ভব হলো? আল্লাহ ও তাঁর রাসূলেল (স) আনুকূল্য পেলে কী না সম্ভব হয়! শুধু বদর যুদ্ধই নয়, উহুদ, খন্দকসহ সংঘটিত সকল যুদ্ধেই তিনি সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেছেন। এই সব যুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল অসীম। হিজরী সপ্তম সনের রবিউল আউয়াল। আবু মিহসানকে দায়িত্ব দেয়া হলা বনী আসাদের মূলোৎপাটনের জন্য। তিনি দায়িত্ব পেয়েই তার চল্লিশজনের এক বাহিনী নিয়ে রওয়ানা হলেন। বনী আসাদের বসতি ছিল মদিনার পথে ‘গামার’ কূপের কাছেই। বনী আসাদের লোকেরা কীভাবে যেন খবর পেয়ে গেল যে, আসছেন! আসছেন দুঃসাহসী মিহসান তার বিশাল বাহিনী নিয়ে। ভয়ে তারা ঘাবড়ে গেল। মিহসানকে মুকাবিলা করার সাহস তাদের নেই। ফলে তারা পালিয়ে গেল। মিহসান সেখানে পৌঁছেই তাদেরকে পেলেন না। যুদ্ধের আগেই যুদ্ধ শেষ! হাসলেন মিহসান। ভাবলেন, মিথ্যার কোনো সাহস থাকে না। থাকে না কোনো চিরস্থায়ী শক্তি। কিন্তু সত্যের সাহস ও শক্তি অসীম। সত্যের সামনে কীভাবে দাঁড়াবে মিথ্যার বহর? আবু মিহসান তার বাহিনী নিয়ে ফিরে এলেন মদিনায়। সাথে করে আনলেন বনী আসাদের ফেলে যাওয়া পরিত্যক্ত দুশো উট ও কিছু ছাগল-বকরী। এর মধ্যে ইন্তেকাল করেছেন দয়ার নবীজী (সা)। এলো হিজরী ১২ সন। এই সময় খলিফা হযরত আবু বকর (রা) খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে নির্দেশ দেন ভন্ড নবী তুলাইহা আসাদীর বিদ্রোহ নির্মূলের জন্য। খালিদ তার বাহিনী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন। এই বাহিনীর দু’জন ছিলেন অগ্রসেনানী। একজন আবু মিহসান এবং অপরজন সাবিত ইবন আকরাম। দু’জনই চলছিলেন বাহিনীর আগে আগে। বুকে তাদের শঙ্কাহীন সাহসের ঢল। আকস্মিকভাবেই বেধে গেল যুদ্ধ। তুমুল যুদ্ধ। এক পর্যায়ে শহীদ হলেন সাবিত। আবু মিহসান তখন আরও তীব্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তুলাইহার ওপর। তাকে কাবও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তার আর্তচিৎকারে ছুটে এলো তার ভাই সালামা। পাপিষ্ঠ ঝাঁপিয়ে পড়লো আবু মিহসানের ওপর এবং সেই আক্রমণে তিনি শহীদ হলেন। শহীদ হলেন আবু মিহসান। শহীদ হলেন, কিন্তু তার মৃত্যু হয়নি। শহীদেরা কি মরেন কখনো? না, তারা জীবিত। সর্বদাই জীবিত। আবু মিহসানও বেঁচে আছেন, জেগে আছেন। জেগে আছেন ছড়ির তরবারিধারী সেই দুঃসাহসী স্বর্ণ ঈগল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ খুব সুন্দর একটি ইসলামিক শিক্ষণীয় গল্প
→ একটি শিক্ষণীয় ইসলামিক গল্প
→ ইসলামিক ভালোবাসার গল্প
→ অদ্বিতীয় এক ইসলামিক গল্প
→ ইসলামিক গল্প
→ শিক্ষামূলক গল্প তিন মুসাফির ও আটটি রুটি (ইসলামিক)
→ ইসলামিক গল্প
→ ইসলামিক গল্প
→ ইসলামিক গল্প
→ এক রাজার এক চাকর ছিল। ইসলামিক গল্প
→ এক বাদশার ঘটনা নিয়ে শিক্ষনীয় একটি ইসলামিক গল্প
→ ইসলামিক শিক্ষামূলক গল্প (শেষ পর্ব)
→ ইসলামিক শিক্ষামূলক গল্প (পর্ব-২)
→ ইসলামিক শিক্ষামূলক গল্প (পর্ব-১)
→ ইসলামিক শিক্ষামূলক গল্প (শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now